• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,676 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব

মেজর ফারুক (অবঃ)

ভূমিকা

 

নির্দিষ্ট সীমান্ত একটি রাস্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্টের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম। সুনির্দিষ্ট সীমান্ত বিহীন কোন রাস্ট্রের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায়না। এজন্য একটি রাস্ট্রের পক্ষে – সীমান্ত চিহ্নিত করে তার যথাযথ সংরক্ষন যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী – সে সীমান্তের মধ্য দিয়ে যে কোন বহিঃশক্তির আগ্রাসন, অনুপ্রবেশ, অবাধ চলাচল, চোরাচালান, মানব পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রন করা।

 

সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভূখন্ডকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে স্বাধীন ভূমি হিসেবে লাভ করেছি।

https://i1.wp.com/newsleaks.in/wp-content/uploads/2011/05/Indo-Bangladesh-flag.jpg

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশের বেরুবাড়ী ছিটমহলটি সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হস্তান্তর করা হয়; বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তার ছিটমহল আংগরপোতা-দহগ্রামে যাবার জন্য ৩ বিঘা করিডোর হস্তান্তরের কথা ছিল; কিন্তু গত ৪০ বছরেও ভারত সেই ৩ বিঘা করিডোর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করেনি।

https://i0.wp.com/www.thedailystar.net/forum/2007/october/tin06.jpg

https://i2.wp.com/exclave.info/Tin-Bigha/tinbighamap.jpg

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেও সে চুক্তিকে অমান্য করা এবং প্রতিবেশী দেশের উপর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাকৃতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, কুটনৈতিক ইত্যাদি নানাবিধ বৈরী আচরন করে লক্ষ্যস্হ প্রতিবেশীকে তার নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল অবলম্বন – ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য চানক্য কুটনীতির বিষয় বলেই প্রতীয়মান।

 

আর ভৌগোলিকভাবে ৩ দিক থেকেই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত বিধায় ভারতের বৈরী আচরন ও আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশ।

 

সীমান্তে আগ্রাসন

 

সীমান্তে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সব বৈরী আচরণের শিকার হচ্ছে- তার কিছু উদাহরন হলোঃ

 

(১) সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী মানুষ হত্যা করা।

(২) সীমান্ত দিয়ে মাদক দ্রব্য ও বেআইনী অস্ত্র পাচার করা।

(৩) সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক চোরাচালান।

(৪) সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ করা।

(৫) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করা যেমন- রৌমারীতে তকালীন বিডিআর পোস্টে আক্রমন করা হয়েছিল।

(৬) বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি দখল করা।

(৭) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমায় জাগরিত তালপট্টি দীপ দখল করন।

(৮) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ভারতের অবৈধ দাবী উত্থাপন।

(৯) বছরে প্রায় ২২০০০ নারী ও শিশুকে পাচার করে তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে এবং কল-কারখানায় দাস হিসেবে ব্যবহার করা।

(১০) বেরুবারীর বদলে তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তর না করা-ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত স্বরুপ যে-সব কর্মকান্ড ভারত এ যাবত গ্রহণ করেছে সেগুলো হলোঃ

 

(১) ১৯৭১ সালেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে বাধ্য করে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষরে- যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা একটি সার্বভৌমত্বহীন রাস্ট্রে নামিয়ে আনা হয়।

 

(২) ১৯৭১ সালে ৯ মাস  ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লক্ষাধিক মুক্তিসেনা এবং পুরো জাতি যে সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতীক্ষা বরন করেছে তাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করার একক দাবীদার হিসেবে ভারত নিজেকে আবির্ভূত করে । কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে- বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং পুরো জাতি মিলে পাকিস্তানী বাহিনীকে পর্যুদস্ত না করলে এবং যৌথ বাহিনীকে সমর্থন না করলে – ভারত কোন দিনই পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারতো না।

 

(৩) মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের গোলামী চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাস্ট্র নীতি ভারতের উপর নির্ভরশীল করা হয়েছিল।

 

(৪) ভারত ১৯৭৫ সালের পর কাদেরীয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত হামলা পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছে।

 

(৫) ভারতের কোলকাতায় বসে ‘বঙ্গভুমি আন্দোলন’ নামক বাংলাদেশ বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ মিটিং মিছিল ও সভা–সমাবেশ করে, যাদের দাবী – বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে একটি হিন্দু রাস্ট্র গঠন করা।

 

(৬) ভারত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী চাকমা সন্ত্রাসীদেরকে দীর্ঘদিন যাবত অস্ত্র, গোলাবারুদ, রসদ, আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে সহায়তা করেছে। ভারতের মাটিতে বসে তারা আজো বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বাস্তবে এটি হলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রক্সি যুদ্ধ।

 

(৭)  ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী – ২০০০ সালের জানুয়ারীর প্রথম থেকে চলতি ২০১১ সালের আগষ্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভারত ৯৯৮ জনকে হত্যা, ৯৯৬ জনকে আহত,  ৯৫৭ জনকে অপহরন, ২২৬ জনকে গ্রেফতার এবং ১৪ জনকে ধর্ষণ করেছে।

 

(৮) ভারত বাংলাদেশকে কাঁটাতারের বেড়া দ্বারা ঘিরে ফেলে পৃথিবীর বৃহত্তম কারাগারে পরিণত করেছে।

 

(৯) ভারত বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে- যা বাংলাদেশের বৃহত্তম সিলেট অঞ্চলকে মরুভুমিতে পরিণত করবে।

 

(১০) ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি উজানে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকার গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার বিধান ছাড়াই গঙ্গা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কিন্তু এযাবত কোন বছরেই ভারত বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। এছাড়া, একসাথে ফারাক্কার সবগুলো গেইট খুলে দিয়ে প্রতি বছর বাংলাদেশে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করছে। ফারাক্কা বাঁধের কারনে বাংলাদেশের নদীতে নাব্যতা কমে অনেক নদী সরু খালে পরিনত হয়েছে; উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মরুকরণ,আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ।

 

(১১) ভারত হাসিনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশকে তার গোয়েন্দা বাহিনীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করেছে; বাংলাদেশের ভিতর থেকেই ‘র’ এর সদস্যরা এখন হরহামেশা মানুষ ধরে নিয়ে যায়।

 

(১২) ভারত ‘ব্যাগ ভরতি টাকা এবং মন্ত্রনা’ দিয়ে বাংলাদেশের গত নির্বাচন তথা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে বলে লন্ডনের ‘ইকোনোমিষ্ট’ পত্রিকা তথ্য বের করেছে।

 

(১৩) ভারত জেএমবি নামক উগ্রবাদী গোষ্ঠী তৈরীতে মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে তথাকথিত ইসলামী জঙ্গীদের দেশ হিসেবে বহিঃর্বিশ্বে উপস্থাপন করতে চায়।

(১৪) ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল বলে ভারতীয় লেখকেরাই এখন স্বীকার করছেন।

https://i0.wp.com/www.zyzyo.com/wp-content/uploads/2010/11/Research-and-Analysis-Wing-of-India.jpg

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'

(১৫) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী করিডোর সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভারত  ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং বাংলাদেশের সকল সেক্টরে অনুপ্রবেশের সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব দারুনভাবে ব্যাহত হবে।

 

(১৬) ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন এবং বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমিকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে তার সামরিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে- এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বুক চিড়ে তার সামরিক বহর চলাচলের জন্য করিডোর সুবিধা আদায় করেছে।

 

(১৭) বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হলেও সেসব হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আক্ষায়িত করার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রধান ঢাকায় বসে নছিহত করে গেছেন।

 

সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত আহবানঃ

 

ভারতের উপরোল্লেখিত আচরনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত আহবান জানানো জরুরীঃ

 

(ক) সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন, ধর্ষণ ইত্যাদি মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে শক্ত কুটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো এবং এসব অপরাধ বন্ধ না হলে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হওয়া;

https://i1.wp.com/www.shahidulnews.com/wp-content/uploads/2011/01/felani.jpg

(খ) সীমান্তে ভূমি দখল, সশস্ত্র আগ্রাসন এবং সামরিক স্থাপনা নির্মান থেকে ভারতকে বিরত রাখা এবং কোন ভূমি ভারতের কাছে হস্তান্তরকরণ থেকে বিরত থাকা;

 

(গ) বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পরিপন্থী করিডোর প্রদানের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসা;

 

(ঘ) গঙ্গা পানি চুক্তি অনুসারে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন, টিপাইমূখ বাঁধ নির্মানে ভারতকে বিরত রাখা, স্থল ও সমূদ্র সীমানায় ভারতকে অন্যায্য দাবী-দাওয়া তোলা থেকে বিরত রাখা এবং ফারাক্কা বাঁধের কারনে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া;

https://i0.wp.com/beaverdamsss.com/wp-content/uploads/2011/09/Tipaimukh-Dam.jpg

প্রস্তাবিত টিপাইমূখ বাঁধ

 https://i2.wp.com/www.globalwebpost.com/farooqm/writings/bangladesh/farakka/farakka.jpg

(ঙ) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭৪ সালে বেরুবাড়ী হস্তান্তরের বিনিময়ে ৩ বিঘা করিডোর সম্পূর্নভাবে বিনিময় করতে এবং তালপট্টি দ্বীপ ভারতের দখলমুক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন;

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/10/location.gif?w=226

(চ) সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধকরণ; এযাবত বিএসএফ এর হাতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা করন;

 

(ছ) ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে এবং চীনের সাথে ভারতের সম্ভাব্য কোন সামরিক সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা;

 

(জ) পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা দান থেকে বিরত থাকতে প্রতিবেশী রাস্ট্রের সাথে দক্ষ কুটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন;

 

(ঝ) তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিকে করিডোর প্রদানের সাথে সম্পরকিত না করা এবং ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রাখা;

 

(ঞ) পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সনাক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন এবং সীমান্তের ৮ কিঃ মিঃ এলাকা থেকে পুলিশ-র‍্যাব তুলে এনে সীমান্তকে আরো অরক্ষিত করা থেকে বিরত থাকা;

 

( ট) বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে ‘ব্যাগভরতি টাকা ও শলাপরামর্শ’ দিয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ভারতকে বিরত রাখা।

 

(ঠ) সদ্য স্বাক্ষরিত ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ অনুসারে বাংলাদেশের সকল সেক্টরে ভারতীয় অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টিকরন থেকে বিরত থাকা।

 

তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০১১।

ইমেইলঃ farukbd5@yahoo.com

//  

 

Bangladesh ‘Feared Attack’ From Burma: WikiLeaks

By JOSEPH ALLCHIN
https://i0.wp.com/www.shwe.org/wp-content/uploads/2011/03/Maritime-dispute-between-Bangladesh-and-Myanmar.jpg

Bangladeshi officials have said they expect a result in the arbitration over maritime boundaries in the Bay of Bengal by April, as a leaked US cable reveals that Dhaka was seeking US assistance after a Burmese military build-up stemming from the dispute.

“The arguments [over boundaries] will be held in two phases ending on 24 Sept and the ruling is expected in April,” Bangladeshi Foreign Minister Mijarul Quayes told Reuters on Sunday.

The initial complaint was submitted to the UN International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) in 2009, but the hearings did not commence till 5 September this year.

The dispute concerns a semi-submersible drilling platform owned by Swiss-US oil firm Transocean Inc, but was leased to South Korea’s Daewoo. Daewoo, along with their partner, Kogas, were given permission to explore for oil and gas in the disputed AD-7 offshore block by the Burmese authorities in 2008. The rig was escorted into the contested waters by the Burmese navy.

https://i2.wp.com/news.bbc.co.uk/media/images/45977000/jpg/_45977439_4bf8da0e-4fef-41c7-bef3-b09b652619c3.jpg

Several senior Burmese military officials are reported to have been arrested over the leaking of this photograph - appearing to show tunnels built in Burma with the help of North Korean experts for military purpose.

At the time news surfaced of a military build up on the shared land border but a recent cable released by Wikileaks indicates that the Bangladeshi government asked the US for help.

https://i0.wp.com/h4.abload.de/img/img.167836_tpxm.jpg

Bangladesh Army

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/09/myanmararmy.jpg?w=300

Burmese Military

“Army Chief General Moeen Uddin Ahmed asked the Ambassador [US] for assistance to assess the buildup, specifically requesting satellite imagery to assist the Bangladesh Army see the scope of the Burmese military presence and track further developments,” the cable, dated 18 December 2008, notes.

As a result of pressure at the time, the Daewoo rig, which was believed to have cost some $US400,000 per day, was moved out of the contested area. According to the cable’s source, “[Foreign Affairs advisor] Chowdhury claimed Daewoo had removed its rig in November solely because of pressure from the Korean Government.”

The cable further notes that the military build up was because “the Burmese Government was seeking revenge against Bangladesh for the offshore rig incident.”

https://i1.wp.com/www.bdnews24.com/nimage/125.jpg.jpg

The then Bangladesh Army Chief Gen. Moeen U Ahmed during his visit to Burma

The Bangladesh Army chief noted that the Burmese forces, who were believed to be 30 kilometres away from the border, “lived off the land”, and “reports from arriving refugees had underscored the increasing desperation of the under-funded Burmese soldiers”. It continued that the refugees’ “tales of treatment at the hands of Burmese soldiers reflected an increasingly frustrated Military.”

Bangladesh is desperate to secure energy supplies, and the nation’s state-owned oil company, Petrobangla, has signed deals with US oil company Conocco Philips to explore in its waters.

Source :

https://i1.wp.com/images.dvb.no/wp-content/themes/1044-thebeeb/images/masthead-v2.jpg

About the verdict on Colonel Taher trial

While giving the verdict on the legality of the punishment of Colonel Taher, the high-court bench of Justices Shamsuddin Chowdhury Manik and Zakir Hossain declared that the whole trial process was illegal and it was in fact a cold blooded murder of Taher by Late president Ziaur Rahman.

What high-court did to come to this conclusion? They interviewed one shoddy journalist character Lawrence lifshultz, who is a political follower of Taher’s communist doctrine. Other interviewed are also 1. Political opponents of Ziaur Rahman’s political platform 2. Supporters of ruling party who took it as their prime job to destroy Zia’s image 3. Political followers of Colonel Taher. Even the judges who delivered the justice, are publicly known nemesis of Ziaur Rahman’s ideology and are former leaders of socialist political platform based on Taher’s doctrine. And this is probably the first court proceeding in Bangladesh history where an witness could simply deliver his opinion via e mail to a third person. There was no ‘balai’ of oath taking, cross examination etc.

Before we go further into what these two judges did and what their judgment means, lets see what Taher in fact did back in early 70s.

1. Taher revolted against the then Awami League government of Sheikh Mijibur Rahman and formed and led an armed force called ” Gonobahinee”. Thousands and thousands of Awami League activists, leaders as well as general people were killed by the armed force. Any literature describing Mujib era Bangladesh will give testimony of the atrocities of Taher’s Gonobahinee.

2. While all other sector commanders were being promoted in the army as Brigadier/ Major General and who in turn helped rebuild the army, Taher was sacked from Bangladesh army by Mujib Government. ( It is unclear what Shamsuddin Chowdhury Manik had to say about this cold blooded sacking of ‘war hero’ Taher).

3. Many sources, well informed of the political military dynamics of 1975, say that it was Taher who was more likely to kill Mujib and there was an invisible race among Taher’s group and Faruq Rashids group in who would kill Mujib first. After hearing of the massacre of 15th August, most observers’ first suspicion was on Taher.

4. Taking the advantage of unstable situation of Bangladesh, Taher’s forces ( a select group of armed anti state forces including Taher’s brother Bahar) attacked Indian High Commission in Dhaka in an attempt to kill India’s high commissioner in Dhaka, Mr Samar Sen. Although Samar Sen survived with bullet wounds in his back, Police force guarding India’s high Commission shot and killed four members of Taher forces ( Including Taher brother Bahar).

5. About his 7th November coup this is what Taher himself said to the court that tried him,

In the above statement Taher comes down hard upon Major General Khaled Mosharraf. He also probably acknowledge being involved in his killing when he says that ‘when these cowards was begging for their lives on bent knees?’ Who were begging for their lives to him?

6. About 7th November he clearly claims that he conducted the coup and overthrew a government. He says this in the following statement,

The same judiciary which is all gung ho in coming down upon Ziaur Rahman for grabbing power by martial law, the same court which keeps on declaring power takeover by coups illegal every other day and takes yet another bite at Ziaur Rahman, suddenly has a change of heart in exonerating Taher’s military takeover that ultimately put Ziaur Rahman in power.

7. Taher clearly states that he requested martial law and he wanted Zia to be CMLA of the martial law and Zia declines to be CMLA.


8. What Taher really wanted to do?

In the above statement made to the court, he explains that he wanted to dismantle the tradition armed forces of Bangladesh and created a revolutionary forces. How many of our new generation Taher followers know what Taher’s plans meant? Do Justices Manik and Zakir know of Khmer Rouge of Cambodia? Do they know the history what Pol Pot did to the country in the name of peoples’ army run revolution of production? ( If anyone disagrees with above, we sure can have a lengthy academic discussion on the meaning of scientific socialism.)

Or in more recent history, would Nepalese military dismantle to pave the way for the Maoists to take over as peoples’ army?

9. The violent coup/ communist indoctrinated uprising that Taher staged, caused the lives of at least sixty members of armed forces ( Officers and their family). Among those killed included war hero, war time K force leader Khaled Mosharraf, war hero Col ATM Haider, war hero Col Saiful Huda. All of them were killed at the then military garrison at Sher e Bangla Nagar. Sher e Bangla Nagar happened to be the HQ of the rebel forces led by Taher. None of these war heroes were killed in a matter of minutes. They were all arrested, kept in the garrison at least nearly a day before being killed. It is impossible to believe that Taher was not aware of these high profile killings by his forces. But for the sake of debate, if one agrees that Taher was not aware of those killings, can Taher absolve himself of the responsibility of the murder of Khaled Mosharraf and 60 other? On many occasions, he claimed that he staged the mutiny. How can the leader of a mutiny can be exempted of the atrocities caused by a mutiny? Judge Manik et el are so passionate about correcting history, what about trial of the killers of Khaled Mosharraf and sixty others? One name comes again and again in relation to murder of Khaled/ Haider. i.e. Captain Jalil. Did our high-court bothered to summon Captain Jalil and ask him some question?

10. Pilkhana is fresh in our memory. The atrocities committed by BDR sepoys are despicable. A massacre was committed, rapes, loots, arson were indiscriminate. Bodies were burnt and buried in mass graves. Is there any scope of letting the leader of these crimes go unpunished citing technicality of law or lack of law? When murders/ killings are committed, the state has every right to hand maximal punishment to the killers. If Taher can be exonerated for staging a Pilkhana style violent fatal uprising, then on what logic the state can punish Pilkhana uprising leaders? In other words, if Pilkhana mutiny leader DAD Touhid is punished for his crimes, why can Taher not be punished?

11. There is a propaganda that Taher’s was a secret trial. In fact it was exactly the opposite.

Even Col Taher spoke for hours after hours. He was seen frequently misbehaving with the judge of the court.

12. Using high judiciary for partisan point scoring and distorting history is one of the gravest crimes against the state one can think of. One can certainly allege that Judge Manik and Zakir are doing exactly the same thing and then shutting everyone’s mouth by scaring them of contempt of court.

[The Bangla excerpts are purely Taher’s side of the story as these are taken from the website of Taher Shongshod. On a side note, one of Judges of High Court, Justice Ruhul Kuddus Babu is still the general secretary of the Songshod. The judge delivering the verdict was a long time leader of the socialist party Taher helped form ]

Source : http://rumiahmed.wordpress.com/2011/03/22/the-crimes-of-col-taher-and-pilkhana-trial/

Revolt By Bangladesh Rifles, It’s Security And Strategic Implications For Bangladesh

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

Bangladesh Rifles, the first line of defense

The relationship between Awami League and the Bangladesh army has never been cordial
https://i2.wp.com/www.crwflags.com/fotw/images/b/bd%7Dbal.gif

The BDR mutiny may be the case of a teamwork between a foreign external intelligence agency (RAW ) and some political elements (the ruling party Awami League ) within the country to set the stage for the departure of the army officers from Bangladesh Rifles to weaken it and to tarnish the image of the army before the whole nation to break their morale.

https://i2.wp.com/www.ethikana.com/gallery/bangabandhu_files/bangabandhu01_big.jpg

The then government's suppressive and discriminatory policies to neglect, humiliate and alienate the armed forces, ultimately led to the assassination of Sheikh Mujibur Rahman

https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/graphics/flags/large/in-lgflag.gif

India’s abortive misadventure inside Bangladesh territory in 2001 forced them to reorganize their security policy vis a vis Bangladesh and emphasize the need to search for new avenues to play larger role in the matters related to defense of Bangladesh and neutralize Chinese influence on our defense forces.

Since the independence, Bangladesh Rifles, the first line of defense, have been combating smuggling, human trafficking, drug trafficking and other illegal activities along the border and have made supreme sacrifices to protect the lives and properties of the people from enemy invasion with great courage and valor. Bangladesh Rifles have earned worldwide recognition for its determination, patriotism, and professionalism when they successfully repelled a large invasion by Indian border security force at Roumari point in 2001. Despite its performance and patriotism, the members of Bangladesh Rifles got little attention from the successive governments to alleviate the problem of poor pay and benefit structures allowed for them. Nevertheless, they continued to discharge their duties with utmost sincerity and took part in all nation building activities maintaining professionalism and discipline. On 25 th Feb, 2009 , the nation was shocked at the news that some BDR members had revolted and killed many officers who were on deputation from Bangladesh army to protest against poor pay and benefit structures and alleged corruption by the late Director General. The mutineers asked the government to implement a set of demands on a priority basis to address the problems of the members of Bangladesh Rifles. Some of these demands are as follows: 1 . withdrawing army officers from all command posts of BDR and recruiting new officers from BCS cadres 2 . allowing full rationing for BDR members 3 . sending BDR personnel to U.N. peacekeeping missions 4 . revamping salary structures and promotion procedures 5 . allowing defense allowances for BDR members 6 . procuring more transportation vehicles to guard the long porous border with India and Myanmar 7 . increasing the quality of food and 8 . improving educational and medical facilities for the family members of soldiers Because of defense strategy and lack of manpower, it will not be possible to withdraw army officers from the command posts of BDR, but the rest of the demands deserve due consideration because these are logical and should have been given to the BDR members a long time ago for they put their lives in danger to safeguard the frontiers of the country. It is, therefore, hoped that the government will take appropriate measures to remove the grievances of BDR members to stop the occurrences of similar incidents in the future. Now, let us examine whether there are any political motivations behind this unfortunate incident that shocked the entire nation. Indo-Awami nexus to weaken BDR and to defame the army The relationship between Awami League and the  Bangladesh army has never been cordial because of latter’s security outlook that anticipates no security threat from India and considers defense expenditures as needless. A few clauses of the 25 year friendship treaty that virtually eliminated Bangladesh’s sovereign right to seek assistance from other friendly nations to expand and modernize its armed forces and the subsequent step motherly attitude of the government and the formation of Rakkhi Bahini had cerated widespread resentment among the army officers. Instead of taking appropriate measures to remove the legitimate grievances of the army officers, the then government continued with their suppressive and discriminatory policies to neglect, humiliate and alienate the armed forces, which ultimately led to the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman along with most of his family members at the hands of a few young army officers. Awami League has never forgotten the incident nor forgiven the armed forces for the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and left no stone unturned to avenge the incident in 1975 by creating divisions in the armed forces through various political machinations. After the political change in 1 /11 , the military backed government had thrown many Awami League leaders into jail for their alleged involvement in financial scandal and abuse of power, which, many believe, has caused further deterioration in the relationship between the armed forces and Awami League. After the elections, Awami League’s virulent verbal attack on the army for its role in 1 / 11 is a testament to the fact that they wanted to weaken the army so that the latter could never repeat a 1 /11 like situation to bring about political changes in the country. India has its own agenda to diminish our defense capability because it needs a subservient military in Bangladesh to easily establish total domination on 4096 km Indo-Bangla border and use our defense and intelligence resources to its advantage to quell ongoing insurgencies in its North East region. India’s abortive misadventure inside Bangladesh territory in 2001 forced them to reorganize their security policy vis a vis Bangladesh and emphasize the need to search for new avenues to play larger role in the matters related to defense of Bangladesh and neutralize Chinese influence on our defense forces. This could only be accomplished through active cooperation from a friendly government at the helm of power in creating tension within our defense forces to break their morale and making it imperative for Bangladesh to seek Indian help in reorganizing the defense system of the country. So, the BDR mutiny may be the case of a teamwork between a foreign external intelligence agency (read  RAW ) and some political elements (read  Awami League ) within the country to set the stage for the departure of the army officers from Bangladesh Rifles to weaken it and to tarnish the image of the army before the whole nation to break their morale. The assertion that some local political elements and India are working together to weaken the security systems of Bangladesh may be true because the government’s quick decision to grant general amnesty to all rebellious members of Bangladesh Rifles without assessing the ground reality and to not allow any military action to quell the rebellion, which gave the mutineers enough time to put forth a set of demands and flee in groups from the BDR headquarters seem a preplanned strategy to instigate a rebellion, break the chain of command, kill large number of officers, and ensure safe exit for mutineers. If the local and foreign conspirators who planned, directed, and implemented the rebellion are not identified and the rebellious members of BDR who broke the chain command are not brought to justice such occurrences of rebellion may be repeated in other security forces to destabilize the entire nation and to create a situation for external powers to intervene in the name of peacekeeping.

http://newsbd71.blogspot.com/2011/03/revolt-by-bangladesh-rifles-its.html

Book Review : Origins of the Bangladesh Army

Title : ORIGINS OF THE BANGLADESH ARMY

Author : Sabir Abdus Samee

Category : New (Academic)

First Published : May 2010

Publishers : Bornali Book Center

Type of book : Historical / Political / Military History

General Subject Matter : History of the Bangladesh Army

Price : Taka 120.00

ISBN : 978-984-645-056-9

This is the first book on the history of the Bangladesh Army. If you are interested about Bangladeshi history, politics and Bangladesh Army, you will enjoy this book.

“Origins of the Bangladesh Army” is available in the following places:

Boi Bichitra
House No- 141, Road-12,
Block-E, Banani
Dhaka

Boi Bichitra
Rupayon Golden Age
Gulshan-2
Dhaka

Shotabdi
Prokashoni
491/1 Mogbazar, Wireless Rail Gate
Dhaka-1217

You can ask any salesperson to give you a copy, if you do not find the book in display.

If you have any problem in finding the book, you can contact the author at sabir_samee@yahoo.co.uk

Book Review

http://www.botomul.com/ad_file/ad_file~2112.jpg

Origins of the Bangladesh Army by Sabir Abdus Samee

Amalia Macris

Sabir Abdus Samee’s work Origins of the Bangladesh Army brings a new take on historical and political events, as seen through his eyes and interpreted by him. As the son of a Bangladeshi army officer, he spent his childhood in Bangladeshi cantonments. It is clearly a topic close to his heart that he has tried to bring more light to for outsiders.

The book is divided into five chronological parts starting from 1757 with the Legacy left from the British Raj, followed by the Pakistani years (1947 – 1971) and the war of Independence which took place in 1971 and saw the foundation of the Bangladesh Army. The book continues with the subsequent victory that came in the same year and ends with the Bangladesh Army after Independence (1972 to present). Through this account the author has tried to bring out the truth and challenge views of intellectuals and politicians regarding the Bangladesh Army. Full of references to other sources and quotes from politicians and Army Officials that add colour and dimension to the text Origins of the Bangladesh Army tells the story of those who fought for the Army, those who were sacrificed and those who were victorious. The role of the Bangladeshi media is also analysed in this book, examining the political affiliations of each source and their portrayal of events.

This is a book suitable for anyone who has an interest in military books and reading about historical facts, or for someone carrying out research on the history of Bangladesh to present date. Books on the topic do exist but a Western point of view is often presented, it is therefore interesting and useful to have a book in English giving a Bangladeshi’s perspective of events.

Amalia Macris is a Communication Consultant and Writer. She lives in Cyprus.

You can reach the Author at :

BANGLADESH ARMY (FaceBook)


পিলখানা হত্যাকান্ডঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ভারতীয় ষড়যন্ত্র [অধ্যায়-২]

[১ম খন্ড] -এর পর

৩. ঘটনা-পরবর্তী ভারতীয় প্রতিক্রিয়া

বিডিআর হেডকোর্য়াটারে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরপরই ভারতীয় রাষ্ট্র সংশি−ষ্ট ব্যক্তিবর্গের উক্তি থেকে শুরু করে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি এবং সে দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরগুলো যে কোন ব্যক্তিকে উদ্বিগ্ন করার জন্য যথেষ্টনির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে।

৩.১ ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোভাব বলে দেয় যে তারা এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে:

#ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/pranabmukherjee.jpg?w=300

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

#“…এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি একাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে”। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নেতাদের বৈঠকে একথা বলেন, যা আউট লুক-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়।

https://i2.wp.com/omsnewsbd.com/wp-content/uploads/2011/02/1278693921031.jpg

শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষা করার প্রয়োজন কেন ভারতের? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ২৫ফেব্রুয়ারীর ঘটনার পর বিডিআর এর যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ভারত শেখ হাসিনার মাধ্যমে করাতে চায়। এমনকি সম্ভব হলে তারা নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সংস্কারও করতে চাইবে।

৩.২ ভারতের সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। এই প্রস্তুতি সম্পর্কে মিডিয়ায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

https://i2.wp.com/www.mysarkarinaukri.com/files/images/Logo%20-%20Indian%20Army%20-%201.jpg

বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো

১.ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজী দৈনিক Hindustan Times এ গত ২ মার্চ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। পত্রিকাটি জানায় যে, বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী (আইএএফ) IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। আসামের জোরহাটে অবস্থিত ভারতের সবচাইতে বড় বিমান ঘাটিকে এই সহায়তা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

২.বিএসএফ এর একজন ডাইরেক্টর জেনারেলের উক্তি থেকেও ভারতের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গত ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এই সঙ্কট (শুরু) হবার পর, আমরা ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত আমাদের সকল সৈন্যদল ও অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/bsf_logo.gif?w=289

ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছিল

৩.বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানা যায় ঘটনার পরপরই সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্যের পাশাপাশি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ব্লাকক্যাট মোতায়েন করে। একই সাথে সমস্ত সীমান্ত জুড়ে রেডএলার্ট জারি করে।

৪.ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছে

স্বাভাবতই প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিডিআর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহকে ঘিরে ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্রের এতো প্রস্তুতি কেন। আর যাই হোক এই বিদ্রোহ কোনভাবেই ভারতের জন্য নিরাপত্তা হুমকি ছিলো না। আর তাছাড়া যে বিদ্রোহের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা (প্রধানমন্ত্রীর সংসদে প্রদত্ত ভাষ্য অনুযায়ী) প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, যে জন্য তারা সেনা অফিসারদের রক্ষায় দ্রুত সামরিক অভিযানে না গিয়ে ৩৬ ঘন্টা যাবত হত্যাকারীদের সাথে একের পর এক বৈঠক করে ধীর স্থিরতার সাথে রাজনৈতিকভাবে সামরিক বিদ্রোহ দমন করলেন, সেই বিদ্রোহের গুরুত্ব বা ভয়াবহতা ভারত সরকারই বা কিভাবে বুঝে  ফেললো ? এছাড়া এ দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যে কোন বিদ্রোহ দমনে এ দেশীয় দক্ষ সেনাবাহিনীই যথেষ্ট, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তাহলে, ভারতের মিশন কী? বাংলাদেশের বর্তমান বন্ধু সরকারকে রক্ষা করা? বাংলাদেশের সরকারকে রক্ষা করবে ভারতীয় বাহিনী। কেন? আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নেই?  নাকি প্রধানমন্ত্রী তাদের বিশ্বাস করেন না?

৩.৩ ভারতের মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

২৭ ফেব্রুয়ারীর পূর্ব পর্যন্ত এদেশের জনগণও পুরোপুরিভাবে তথাকথিত এই বিদ্রোহের আসল রূপ বুঝতে পারেনি। অথচ পুরো সময়ে ভারতীয় মিডিয়া ছিল অত্যন্ত তৎপর:

https://i2.wp.com/news.xinhuanet.com/english/2009-02/27/xin_232020627170629681248.jpg

আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো?

১.বিডিআর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তার নিহত হবার সংবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল এনডিটিভিতেই সর্বপ্রথম প্রচার করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ঘন ঘন বিডিআর হেডকোর্য়াটারে যাতায়াত করে হত্যাকারীদের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করেও যেখানে গণহত্যার খবর পায়নি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো? তাহলে কি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা বিডিআর হেডকোর্য়াটারের ভেতরে অবস্থান করছিলো?

২.ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী ভারতের বিখ্যাত ম্যাগাজিন আউটলুকে বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৩.ঘটনার পরপরই ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ায় বিডিআরকে একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বাহিনী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪.আর আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ এর মত পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আক্রমণ করে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রচার করেছে। এমনকি বিডিআর-এর ঘটনায় জঙ্গী কানেকশন ভারতীয় মিডিয়াই প্রথম আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে একই ধরণের কথা আমরা এদেশের মন্ত্রীদের মুখে শুনতে পাই।

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৪. সরকারের ভূমিকা

৪.১ ফেব্রুয়ারী ২৫-২৬

পরিস্থিতির বিশ্লে−ষণ থেকে বুঝা যায় ঘটনার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেএতো বড় ঘটনার পরিকল্পনা চলছিল আর সরকার তা জানে না, একথা মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশি−ষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কেন শুরুতেই অনভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে যারা কতিপয় বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? অথচ তারা সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সরকার কি উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলো? যে ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তারা দেড় দিন ধরে লাশ গুম, ব্যাপক লুটতরাজ ও সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের উপর নির্যাতন করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকালে বিডিআর সদর দপ্তরের আশেপাশের লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রকৃতপক্ষে কি ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়নি? সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে? যেসব বিদেশী নাগরিক আইডিসহ ধরা পড়েছিল, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল কেন? বিমানে করে কারা পালালো? দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তারা এই রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তাদের এই সব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

https://i0.wp.com/barta24.net/uploads/editoruploads/sahara-khatun-on-mobile-phone.jpg

সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে?

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বললেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট…”।

https://i2.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2010/11/21/2010-11-21__fro22.jpg

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট...” এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেনারেল অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন।

লে. জে. শওকত অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন। একই ধরণের কথা আরো অনেকেই বলেছেন। তাহলে আধা ঘন্টার সামরিক সমাধানের পরিবর্তে ৩৬ ঘন্টার তথাকথিত রাজনৈতিক সমাধান হলো কেন? এর আগে জনাবা সাহারা খাতুন ও নানক সাহেব কয়টি বিদ্রোহ দমন করেছেন? ধানমন্ডির এমপি তাপস সাহেব মিডিয়ায় বললেন, ‘চমক আছে’! কী চমক? বাষট্টি সেনা কর্মকর্তার লাশ? নাকি সকল হত্যাকারীর পলায়ন! এখানে আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন যে বিদ্রোহের সংবাদ জানার পর তিনি সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করে জেনেছেন সেনাবাহিনী আসতে দুই ঘন্টা লাগবে? কোনটা সত্য? আধা ঘন্টা না দুই ঘন্টা? রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নাকি ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকিয়েছেন। আসলে কি তাই? প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে ১৪ জন মিটিং করেছিল, তারা সবাই কি গ্রেফতার হয়েছে? তাদের তালিকা কোথায়? অনেকে বলেছে সরকার দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এর তুলনা করা যেতে পারে এভাবে – অপারেশন সাকসেস্‌ ফুল, কিন্তু রোগী মারা গিয়েছে। বাস্তবতা হলো বিদ্রোহ দমন করা যেত, দমন করা হয়নি। সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচানো যেত, বাঁচানো হয়নি।

আমরা বীর সেনা কর্মকর্তা হারালাম, বিডিআরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংস হলো, হত্যাকারীরা পালালো -এইসব কারণেই সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

৪.২ ঘটনা পরবর্তী সরকারের ভূমিকা

যে মন্ত্রী তথাকথিত বিদ্রোহীদের সাথে দর কষাকষি করেছে সে জাতির সামনে বলেছেন যে, বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পিছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং এই ষড়যন্ত্র বাস্ত বায়নের জন্য লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি সকল তদন্ত শুরু হবার আগেই এবং ঘটনার দুই দিনের মাথায় প্রকাশ্য সমাবেশে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে তবে কি তিনি আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতেন। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এখন সরকার ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের কথা বলে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিডিআরের ঘটনায় বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা অসংলগ্নতায় পরিপূর্ণ এবং বাস্তব ঘটনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। যেমন তিনি বলেছেন সরকারকে বিব্রত করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে অথচ জনগণের কাছে পরিষ্কার যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, সকাল ১১টার মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এটা জেনে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দু’দুবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহের পিছনে বৈধ কারণ রয়েছে

https://i0.wp.com/neawamileague.com/elements/joy.jpg

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়

যেভাবে তথাকথিত বিদ্রোহীরা প্রথম দিন টিভি ক্যামরার সামনে এসে তাদের দাবী দাওয়ার কথা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছিল, একই প্রক্রিয়াই সজীব জয় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন

ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসেছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও বৃটেন বাংলাদেশের ঘটনার তদন্ত করবে। অথচ এই মার্কিন-বৃটিশরা সারা বিশ্বে মুসলিম নিধনে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, এরা সবাই সরকারকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে এই বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার সাথে সংশি−ষ্ট ভারত ও ভারতের এদেশীয় দোসরদের ভূমিকার দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে।

সরকার মিডিয়াকে দায়িত্বশীল আচরণের কথা বলে এখন সত্য প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের একটি অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছে যাওয়ায় সরকার ঐ ওয়েব সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। হিযবুত তাহ্‌রীর, বাংলাদেশ এই ঘটনার বিশে−ষণ করে ভারতকে দায়ী করায় ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করায় সরকার ৩১ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। জনগণ এমনকি সেনা অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কিছুই হয়না আর রাষ্ট্র রক্ষার জন্য রাজপথে নামলে হয় মামলা আর হয়রানি!

সরকার জনগণের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে দায়িত্বশীল হতে বলছে, অথচ তারা অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা দেখেছি সরকারের স্তাবকেরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছে, জঙ্গিবাদকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, এমনকি সরকারের বয়স মাত্র পঞ্চাশ দিন ইত্যাদি বলে ঘটনার দায়দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তদন্ত কমিটির কোন রিপোর্ট প্রকাশ না হতেই সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও মিডিয়া জঙ্গী গোষ্ঠীদেরকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা শুরু করেছে। আবার একই মন্ত্রী পরবর্তীতে বলছে যে জঙ্গীরা ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীও এই ঘটনার সাথে জড়িত।

যেখানে ভারতে কিছু ঘটলেই ভারত সরকার পাশ্ববর্তী দেশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে, সেখানে সরকার পরিকল্পনা করেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেণের উপসংহারে এসে আমরা বলতে পারি যে এই তথাকথিত বিদ্রোহ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যার সাথে ভারত এবং সরকারের ভিতরে ও বাইরের ভারতীয় দোসর শক্তিসমূহ সংশি−ষ্ট। সেনাবাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের হত্যাযজ্ঞে লাভবান হবে মুশরিক শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের দোসররা। বিভিন্ন দাবির আড়ালে বিডিআর এর চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড থেকে বিডিআরকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনক্‌শা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়বে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা-বিডিআর এর যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অথবা বাংলাদেশ রাইফেল্‌স এর যে কোন দুর্বলতা অথবা এই দুই প্রতিরক্ষা বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারত। ……..(চলবে)

 

রূপগঞ্জের সেনা আবাসিক প্রকল্পের ঘটনাঃ একটি স্বাথর্ন্বেষী মহল জড়িত

ফেরদৌস রহমান

স্বাথর্ন্বেষী মহলের প্ররোচনায় মহলবিশেষ কর্তৃক উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রেক্ষিতে গত অক্টোবর মাসে সেনাসদস্যদের ফিরে আসতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাস্তবায়নাধীন ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’ হতে। সেনাসদস্যদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চলতি বছরের প্রথমদিকে পূর্বাচলসংলগ্ন এলাকায় ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’ নামের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

সভ্য সমাজের যে কোন নাগরিকের জন্য আবাসন ব্যবস্থা খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪২ অনুযায়ী সমপত্তি অর্জনের অধিকার যে কোন নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছর সরকারের অনুমোদনক্রমে সেনাসদস্যদের অথর্ায়নে ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’-এর কাজ শুরম্নু হয়। সে মোতাবেক প্রকল্প এলাকায় জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সড়ক, ব্রিজ, পার্ক, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টারসহ সকল নাগরিক সুবিধা সংবলিত বিশ্বমানের একটি উপশহর গড়ে তোলার সিদ্ধানত্ম গৃহীত হয়। তখন হতে দেশের প্রচলিত সকল আইনকানুন মোতাবেক সেনাবাহিনী সদরদফতর কর্তৃক গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের কাজ শুরম্নু হয়প্রকল্পে অনত্মভর্ুক্ত সেনাসদস্যবৃন্দকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নিকট নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হয়েছে এবং ওই অর্থ জমা দিতে যেয়ে অনেক সদস্যকেই ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়।

শুরম্ন থেকেই বাজারমূল্যে সরাসরি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয়ের কার্যক্রম চলে আসছিল। বরং সেনাসদস্যরা বাজারমূল্যের চেয়ে জমির মালিককে বেশি দাম প্রদান করেছে। উলেস্নখ্য, ওই এলাকায় সেনাসদস্যদের আগমনের পূর্বে বিঘা প্রতি জমির বিক্রি মূল্য ছিল কমবেশি দশ লাখ টাকা। সেনাসদস্যরা সেই জমির দাম প্রদান করেছে সতেরো লাখ টাকা।

তবে গত কয়েক মাস যাবত একটি কুচক্রীমহল কর্তৃক আবাসিক প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের পথে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ স্থানীয় জনগণের কাছে বিভিন্নভাবে সেনাবাহিনী এবং ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’-এর বিরূদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়প্রকল্প এলাকার জনগণের জমি সেনাবাহিনী জোর করে দখল করে নেবে অথবা প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করবে এমন বক্তব্য দিয়ে কুচক্রীমহল স্থানীয় জনগণকে প্ররোচিত করে। যদিও জমি ক্রয় সংক্রানত্ম বিষয় নিয়ে প্রকৃত জমির মালিকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তাই এ প্রসঙ্গে ভুল ধারণার অবসানের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একাধিকবার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।

কিন্তু এই সকল পদক্ষেপ অতিক্রম করে কুচক্রীমহলটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি প্রকল্প অফিসে ঢুকে অফিস তছনছ করে, সেনাসদস্যদের ওপর চড়াও হয় এবং এমনকি সেনাসদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। দলটি গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিভিন্ন অবস্থানে সড়ক অবরোধ করে, যা এক পযর্ায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

সেনাসদস্যবৃন্দ যখন কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা করছিল তখন উচ্ছৃঙ্খল দলটি নিকটবতর্ী সেনাক্যামপে হামলা চালায়। একই সময় পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয় যে, কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে সেনাক্যামপে আটক রাখা হয়েছে, যা পরবতর্ী সময়ে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও উচ্ছৃঙ্খল দলটি বেপরোয়াভাবে বেশকিছু গাড়ি ভাংচুর করে। ফলশ্রম্নতিতে পুরো এলাকায় এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হয়। এই সময় কয়েকজন সেনাসদস্যও আহত হন। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, চিকিৎসার জন্য আহতদের নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণেও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ বাধা প্রদান করে। সেনাসদস্যবৃন্দ অত্যনত্ম ধৈর্যসহকারে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরবতর্ীতে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সামরিক এবং বেসামরিক উভয় আহতদেরই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরো সমঝোতার স্বার্থে সেনা কর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলাকা থেকে সকল অস্থায়ী স্থাপনা প্রত্যাহার করে নেবার সিদ্ধানত্ম নেয়। তবুও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ কিছু সময়ের জন্য সেনাসদস্যদের প্রায় অবরম্নদ্ধ করে রাখে। দুপুরের পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করে নেবার ঠিক পর মুহূর্তে উচ্ছৃঙ্খল জনতা প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত পরিত্যক্ত ঘোষিত অস্থায়ী সেনাক্যামপের ওপর চড়াও হয় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। উচ্ছৃঙ্খল জনতা সেনাসদস্যদের ফেলে যাওয়া আসবাবপত্র এবং অন্যান্য মাল এমনকি ক্যামপের টিন পর্যনত্ম লুট করে নিয়ে যায়।

উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, সেনাবাহিনী এবং ওই আবাসিক প্রকল্পের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বিদ্বেষমূলক এবং ভীতিকর অপপ্রচার ছড়িয়ে এলাকার জনগণকে প্ররোচিতকারী কুচক্রীমহলটিই সহিংস ঘটনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। উলেস্নখ্য, সেনাসদস্যদের অথর্ায়নে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে আবাসিক প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের সঙ্গে জমি অধিগ্রহের কোন প্রশ্নই ওঠে না। তবু এমন অপপ্রচার চালিয়ে মহলটি স্থানীয় জনগণকে বিভ্রানত্ম করেছে।

পরবতর্ী সময়ে গুজব ছড়ানো হয় যে, ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে তিন যুবককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি যুবকদের সেনাসদস্য কর্তৃক অপহরণ করা হয়েছে বলে মহলটি ইঙ্গিত প্রদান করতে থাকে, যদিও মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী সহিংস ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছে যে, সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টারে করে এলাকা ত্যাগ করেছে এবং সে সময় সেখানে সমবেত অসংখ্য লোকের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাউকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া ছিল অসম্ভব।

সমপ্রতি কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে (এনজিও) সেনা আবাসিক প্রকল্পের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। তবে ঢাকা মহানগরীতে অপরিকল্পিত নগরায়ন ঘটানোর মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যসত্ম করার জন্য সর্বাধিক দায়ী হাউজিং কোমপানিগুলোর বিরম্নদ্ধে অবস্থান পরিলক্ষিত না হওয়ায় এনজিওসমূহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সেনাবাহিনী হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের প্রতীক। সেনাসদস্যদেরও অধিকার আছে যথাযথ বিধি মোতাবেক জমি ক্রয়ের, যাতে অবসর গ্রহণের পর তাঁরা বাড়ি তৈরি করে পরিবারপরিজন নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে পারে। তাছাড়া হাউজিং কোমপানির মতো জমি কিনে তাঁরা ব্যবসা করছে না।

আইনকে তার নিজস্ব গতি ও পথে চলতে দিতে হবে এবং সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। সেনাসদস্যরাও এই জাতির সনত্মান এবং কোনভাবেই বাসস্থান সংক্রানত্ম সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।

Source : Daily Janakantha

%d bloggers like this: