• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 321,396 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

ব্যারেন্ট সাগরের কান্না

লিখেছেনঃ _জু ন_

শুভরাত্রি প্রিয়তমা মারিয়া,

জান আমার, কেমন আছো বলোতো আমাকে ছেড়ে!! মনে হয় ভালোই আছো !! না না দুষ্টুমী করলাম তোমার সাথে। আমি জানি আমাকে ছেড়ে তুমি এক মুহুর্তও ভালো থাকতে পারো না।

তারপর কি খবর, সব ভালোতো? আগে বলো তো আমার দুচোখের দুটি তারা পাশা আর মাশা কেমন আছে? ওরা তো এখন ঘুমিয়ে গেছে তাই না!! তুমি বোলো অনেক মিস করি ওদের। কেমন করে যে আমার চোখের আড়ালে বড় হয়ে যাচ্ছে বুঝতেই পারছিনা । ওদের আমার অনেক আদর দিও। আর তোমার জন্য রইলো একটু খানি! কি রাগ করলে নাকি !! নাহ্‌ তোমার জন্যও অনে…ক অনেক আদর।
আমি জানি মারিয়া তুমি এখন আমার মতই আমার কথা ভাবছো বসে বসে। আমার সামরিক পোশাক পরা যে ছবিটা আমাদের বিছানার সাইড টেবিলে রাখা আছে ওটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছো, তাই না ! মন খারাপ কোরো না, মহড়া শেষে আমি খুব শীঘ্রই তোমাদের কাছে ফিরে আসবো।

শোনো আমরা এখন আছি ব্যারেন্ট সাগরে, ঐ যে যার আগে নাম ছিল মুরমন্সক সাগর। রাশিয়ার উত্তরে আর্কেটিক সাগরের কাছে। আমাদের রাশিয়ান নৌবাহীনি নর্দান ফ্লিটের নৌ মহড়ায় যোগ দিতে এসেছি আমরা । না না চিন্তা কোরো না। ভয়ের কিছু নেই। এটা তো আর যুদ্ধ না। মনে রেখো তুমি একজন কমান্ডারের বৌ। তুমি হবে সাহসী।

https://i2.wp.com/russiatrek.org/images/photo/kursk-city-architecture.jpg

বর্তমান কুরস্ক শহর

http://02varvara.files.wordpress.com/2010/07/01-k141-kursk-03-e1280080740629.jpg?w=1000

সাবমেরিন কে - ১৪১ কুরস্ক এখন শুধুই অতীত

তাছাড়া আমাদের এই বিশাল অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার পাওয়ারে চালানো ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনের নামটিও কিন্ত ভারী সুন্দর। রাশিয়ার কুরস্ক শহর যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নৌ যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৪৩ সনে। সেই কুরস্ক শহরের নামে এই সাবমেরিন, \’কে – ১৪১ কুরস্ক\’। ন্যাটোর ভাষায় যার নাম অস্কার ২য়। একশ চুয়ান্ন মিটার লম্বা,আর চারতালা সমান উচু এই সাবমেরিনে চালানোর জন্য দুটো পারমানবিক চুল্লি, দুটো স্টিম টারবাইন আর সাত ব্লেডের দুটো টারবাইন আছে চিন্তা করতে পারো কি শক্তিশালী আমাদের \’কুরস্ক\’।

এত বড় সাবমেরিন এর আগে আর কখোনো তৈরী হয়নি । নিকেল, ক্রোম আর স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরী অত্যন্ত মজবুত এই সাবমেরিন মনে রেখো তোমার স্বামী চোখ বুজেই চালাতে পারে।

মারুশা প্রিয়া আমার, তোমার গর্বিত হওয়া উচিৎ যে তুমি পৃথিবী বিখ্যাত একজন নৌ সেনাপতি এবং অস্কার ক্লাস সাবমেরিন ‘কুরস্কের’ অধিনায়কের স্ত্রী।

তুমি হয়তো জানো সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতনের আগে স্নায়ু যুদ্ধের সময় ডিজাইন করা এই সাবমেরিনটি বিরানব্বই সালে তৈরী হয়ে চুরানব্বই সালের ডিসেম্বরে কমিশন পায়। অর্থাৎ রাশিয়ান নৌ বহরে যোগদান করে। তোমার মনে আছে কসোভো যুদ্ধের সময়ও আমি কুরস্কের অধিনায়ক হয়ে ভুমধ্যসাগরে আমেরিকান নৌ বাহীনির সিক্সথ ফ্লিটকে সাফল্যের সাথে অনুসরন করি। মনে রেখো প্রিয়তমা তোমার স্বামী একজন বিখ্যাত নৌ সেনাপতি।

এখন অনেক কাজ বাকি আছে । কাল মহড়া শুরু হবে ভোর থেকে । ঘুম তো আর হবেনা, তবে তুমি ঘুমিয়ে পড়ো লক্ষীটি আর আমাকে নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখো। কাল আবার লিখবো। তারপর ফিরে এসে একদিন তোমার হাতে হাতেই এ চিঠি পৌছে দেবো।

ইতি তোমারই পাভেল।

১১ই অগাস্ট ২০০০

মাগো,

কেমন আছো মা? আমি অনেক ভালো আছি।

আমার জন্য তুমি একটুও চিন্তা করবে না বলে দিলাম। আমি আর এখন তোমার ছোট্ট পেত্রুশা নই , অনেক বড় হয়েছি, আঠারো বছর বয়স আমার। এখন থেকে তোমার সব ভাবনা আমার উপর ছেড়ে দাও, অনেক ভেবেছো।

মা মনে আছে বাবা মারা গিয়েছে সেই কত বছর হলো। তুমি তো আমাকে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিলে। একবারও তো নিজের দিকে চাইলে না। আমি ফিরে এসেই এবার তোমাকে মস্কো নিয়ে আসবো। তোমার আর একা একা গ্রামে থাকা লাগবেনা। আমি জানি তুমি তোমার ঐ প্রিয় বান্ধবী ইয়েলেনা খালাকে ছেড়ে আসতে চাইবেনা। তবে এবার এসে কিছুদিন ছুটি নিয়ে তোমার কাছে থাকবো ।

মা আমি এখন যে সাবমেরিনে আছি এটাতে থাকা সৌভাগ্যের ব্যাপার। এত বড় সাবমেরিন আর নেই। আমরা মোট অফিসার আর জুনিয়ার ক্রু মিলে একশ আঠারো জন আছি। তাদের অনেকের সাথে আমার খুব ভালো বন্ধু।অবসরে আমরা অনেক মজা করি।

খাওয়া দাওয়া নিয়ে তুমি একটুও চিন্তা কোরো না মা। এখানে অনেক ভালো ভালো খাবার আছে। তবে তাজা শাক সব্জী নেই আর সব্জীতো আমি পছন্দও করি না তুমি তো জানোই।

মা কাল সকালেই শুরু হবে আমাদের মহড়া। অনেক কাজ বাকী আছে। এরই ফাকে বসে তোমাকে লিখলাম। কমান্ডিং অফিসার দেখলে খুব রাগ হবে। ভীষন মনে পড়ছে তোমার কথা তাই লিখলাম।

ইতি তোমার আদরের পিওতর।

১১ই অগাস্ট ২০০০

নাস্তাশিয়া আমার আদরের নাস্তিয়া, প্রেয়সী আমার।

কেমন আছো বলোতো আমার লক্ষীটি ?

আমি জানিনা তোমার কেমন লাগছে কিন্ত তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে যা আমি লিখে বোঝাতে পারবো না। এবার ভালো করে তোমার সাথে দেখা করা বা কথা বলার ও সুযোগ পাইনি, এত ব্যাস্ত ছিলাম।

এবার এসেই কিন্ত তোমার বাবা মা র কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেবো আর কোনো কথা নেই। অনেক দিন হয়েছে আমাদের পরিচয়, এবার স্থির হয়ে বসতে হবে দুজন বুঝেছো। এসব নিয়ে আমি অনেক ভাবি যখন কোনো কাজ থাকে না।

https://i0.wp.com/lh4.ggpht.com/_cTaLGgz4Ru8/RpMugPkUffI/AAAAAAAABS8/bs2hjgnFZDQ/Kuznetsov.jpg

রাশিয়ান নর্দান ফ্লিটের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ

আমার জন্য একটুও ভেবো না সোনা। কারন আমাদের যে কমান্ডার উনি সাবমেরিন চালানোর ব্যাপারে খুবই দক্ষ একজন অফিসার। তাছাড়া আমরা তো আর যুদ্ধ করছিনা। কাল আমাদের মহড়ায় আমরা শুধু দুটো ডামী টর্পেডো ছুড়ে মারবো আমাদের নর্দান ফ্লিটের কিরভ ক্লাস যুদ্ধ জাহাজ পিওতর ভেলিকির দিকে। সব কিছু ঠিক ঠাক আছে কি না পরীক্ষা করে দেখার জন্য।

জানো নাস্তিয়া আমাদের সাবমেরিনে কিন্ত অনেক দ্রুতগতিতে চলতে পারে, পানির নীচে এর গতি প্রতি ঘন্টায় ৩২ নটস অর্থাৎ ৩৭ মাইল আর পানির উপর ১৬ নটস অর্থাৎ ১৮ মাইল। আর তিনশ থেকে পাঁচশ মিটার সমুদ্রের গভীরে নামতে পারে। ভাবতে পারো তুমি! এটা তে অংশগ্রহন করতে পেরে তোমার প্রিয়তম অনেক গর্বিত।

আজ এখানে শেষ করি। বোঝোই তো কাল থেকে মহড়া, কত রকম প্রস্ততি, কত্ত ঝামেলা, এরই মাঝে আর থাকতে না পেরে তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম । ভালো থেকো প্রিয়া আমার, অনেক আদর জেনো। কাল আবার সময় পেলে লিখবো।

ইতি তোমার প্রিয়তম ভাসিলি।

সুপ্রভাত মারুশকা প্রিয়া আমার,

‘অনেক অনেক আদর আর চুমু তোমার দুচোখের পাতায়। ঘুম ভেঙ্গেছি কি ! মনে হয়না, এখন তো ভোর ৫টা মাত্র। জানি সারারাত আমার কথা ভেবে ভেবে একটু আগেই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছো।

আর একটু পর থেকেই কিন্ত শুরু হবে আমাদের আসল কাজ, লক্ষীটি বুঝতে পারছো তো সবার দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে ?

আমার অফিসার আর জুনিয়র ক্রু রা ছাড়াও হেড কোয়ার্টার থেকেও আরো পাঁচজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজ আমাদের সাথে নৌ মহড়ায় অংশগ্রহন করছে।

মারিয়া, তুমিতো ভালো করেই জানো সাফল্য সবার সাথে ভাগ করে নিতে হয়, কিন্ত ব্যর্থতার দায়িত্ব শুধু একা আমারই, কারণ আমি যে অধিনায়ক। প্রার্থনা কোরো যেনো তোমার স্বামী আজ সাফল্যের সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারে।

কাজ শুরু করার আগেই কেন জানি তোমাকে বলতে ভীষন ইচ্ছে করলো, আমি অনেক মিস করছি তোমাকে, তোমার সান্নিধ্যকে …

সব কাজ শেষ করে আবার লিখবো কেমন …অনেক অনেক ভালো থেকো…

পাশা মাশা কে আমার আদর দিও’…

১১. ৫০ ১২ ই অগাস্ট ২০০০

‘নাস্তাশিয়া প্রিয়া আমার,

কি ভয়ংকর এক পরিস্থিতিতে বসে তোমাকে এই চিঠিটি লিখছি তা তুমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে কি না জানি না। কেন জানি বারবার মনে হচ্ছে এটাই তোমার কাছে লেখা আমার শেষ চিঠি।

https://i1.wp.com/img256.imageshack.us/img256/2346/threerussianflagships02.jpg

রাশিয়ান নর্দান ফ্লিটের কিরভ ক্লাস যুদ্ধ জাহাজ পিওতর ভেলিকি

নাস্তিয়া তুমিতো জানোই আজ ভোর থেকে আমাদের নৌ মহড়া শুরু হয়েছে। এখানকার সময় ঠিক সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে কমান্ডারের নির্দেশে আমাদের দায়িত্বরত অফিসার প্রথম টর্পেডোটা ছুড়ে মারলো যুদ্ধ জাহাজ ভেলিকির উদ্দেশ্যে।

কিন্ত বুঝতে পারলাম না কেন জানি সেটা লক্ষ্য বস্তুকে আঘাত না করে টিউবের মধ্যেই প্রচন্ডভাবে বিস্ফোরিত হয়ে আমাদের সাবমেরিনের প্রথম অংশটিকে উড়িয়ে নিয়ে গেল নাস্তু। আর সেই সাথে উড়িয়ে নিয়ে গেলো আমাদের সাতজন অফিসারকেও।

ধারনা করছি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড জালানী ব্যাবহার করা টর্পেডোটা তে সম্ভবত মরচে ধরে লিক হয়ে গ্যাস জমেছিল। না হলে তো এমন হবার কথা না!

এর পর মুহুর্তেই এসি আর কারেন্টের তার দিয়ে বিসাক্ত গ্যাস এসে পাশের চেম্বারের নেতৃত্বে থাকা ৩৬ জন সিনিয়র অফিসার কে অচেতন করে তোলে। এতে আমাদের জীবন বাচানোর জন্য যে জরুরি ঘন্টা বাজানোর দরকার ছিল তা আর বাজাতে পারেনি তারা। এগুলো কিন্ত খুব দ্রুত ঘটছিল নাস্তু ।

এর ২ মিনিট পরই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে আমাদের সাবমেরিনটি সমুদ্রের বুকে সজোরে আছড়ে পরলো। তাতে সবগুলো টর্পেডো এক সাথে বিস্ফোরিত হয়ে ৩৩ ইন্চি পুরু ‘কুরস্কে’র গায়ে বিশাল এক গর্তের সৃষ্টি করলো।আর সেখান দিয়ে সেকেন্ডের মধ্যে ব্যারেন্ট সাগরের হীম শীতল ৯০.০০০ লিটার পানি একবারে ঢুকে চার নং কম্পার্টমেন্ট পর্যন্ত ধ্বংস করে ফেল্লো।

আমাদের কমান্ডার এবং হেড কোয়ার্টারের ৫ জন সিনিয়র অফিসার সহ ঐ রুমগুলোয় যারা যারা ছিল তারা সবাই মুহুর্তের মধ্যেই মারা গেছে নাস্তিয়া।

তুমিতো জানো আমাদের এক একটা কম্পার্টমেন্ট আলাদা আলাদা এবং শক্ত ভাবে লাগানোর সিস্টেম আছে। যার জন্য ৬ থেকে ৯ নং কম্পার্টমেন্ট পর্যন্ত অক্ষত আছে আর আমরা মোট ২৩ জন এই ধাক্কা সামলে এখনো বেঁচে আছি।

জানো ভয়ংকর সেই বিস্ফোরনের সাথে সাথে আমাদের পারমানবিক চুল্লী দুটো অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেছে। আর সাথে সাথে নিভে গেছে বাতি আর বন্ধ হয়ে গেছে অক্সিজেন তৈরী আর সরবরাহের সব ব্যবস্থা।

জানিনা আমাদের ভাগ্যে কি আছে। তোমার সাথে ঘর বাঁধার আশা যেনো ক্রমশই আস্তে আস্তে সুদুরে মিলিয়ে যাচ্ছে নাস্তিয়া প্রিয়া আমার।

তুমি হয়তো ভাববে আমি কি করে এগুলো লিখছি ! এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে আমি হাতড়ে হাতড়ে অনেক কষ্টে অনুভব করে করে লিখে যাচ্ছি শুধু এটুকু আশায় যদি কখনো তোমার হাতে চিঠিটা পরে!

তুমি কি জানো নাস্তু দুর্ঘটনায় পড়লে তা জানানো আর জায়গাটি চেনানোর জন্য যে বয়া ছেড়ে দেয়ার নিয়ম, সেটাও এখন আর কাজ করছেনা। কি দুর্ভাগ্য আমাদের! সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে আমাদের বাঁচার আশা এখন শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ। পানির উপরে যারা আছে তারা মনে হয় বুঝতেই পারছেনা আমরা কি ভয়ংকর বিপদে পড়েছি। বিস্ফোরনের শব্দ শুনে হয়তো এটাই ভাববে ডেপথ চার্জ করছি।

নাস্তিয়া প্রেয়সী আমার আর লিখতে পারছিনা। প্রার্থনা করো তোমার ভাসিলি যেন তোমার কাছে জীবিত ফিরে আসে। আর যদি না আসি তবে এটুকু শুধু জেনে রেখো সে তোমাকে তার জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসতো’ ….

১১.৫৫ ১২ই অগাস্ট ২০০০

মাগো, লক্ষী মা আমার,

‘কেমন আছো মা, ভালোতো? কিন্ত মাগো তোমার পেত্রুশা যে ভালো নেই । সংক্ষেপে লিখছি এই চিঠি। জানিনা আর কখোনো তোমাকে চিঠি লিখা হবে কি না! মা আমাদের সাবমেরিন ভয়ংকর এক দুর্ঘটনায় পড়েছে। কিভাবে কি হয়েছে কিছুই জানি না।

এখন আমরা ১১৮ জনের মধ্যে বেঁচে আছি মাত্র ২৩ জন, বাকী সবাই মারা গেছে। । একবারে শেষ রুমটায় বাইরে থেকে সাহায্যের আশায় অন্ধকারে জরুরী দরজার কাছে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছি। একজন ক্যপ্টেন লেফটেনেন্ট আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কেউ বলছে আমরা দরজা খুলে এক জন এক জন করে ঐ পথ দিয়ে বের হয়ে হীম শীতল সাগরের বুকে ভেসে উঠি। মাত্রই তো ১০০ মিটার নীচে। কিন্ত বলোতো ঐ ঠান্ডা পানিতে তৎক্ষনাৎ সাহায্য না পেলে আমরা কি বেঁচে থাকবো! কেউ সাহস করছেনা এই রিস্ক নিতে। নিশ্চয় কেউ না কেউ আসবেই সাহায্য করতে কি বলো ! তাছাড়া দরজাটা খোলা যাবে কি না তাও বোঝা যাচ্ছেনা!

বেশ অনেক্ষন হলো অপেক্ষা করছি, বাতাসেও অক্সিজেন কমে আসছে। পাশের রুম থেকে চুইয়ে পড়া পানি এসে কোমর পর্যন্ত হয়ে গেছে।

মা এখনও পর্যন্ত তো বাইরে থেকে কেউ এসে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে না! নাকি হয়তো কেউ জানেই না আমাদের এই বিপদের কথা! কিছুই বুঝতে পারছিনা।

বিশেষ এক রকম কার্টিজ জ্বালিয়ে অক্সিজেন তৈরী করছি, কিন্ত এ ভাবে আর কতক্ষন, দুই ঘন্টার মত হয়ে গেলো। ভয়, হতাশা আর আতংকে সারা শরীর জমে আসছে, তারপরও লিখে যাচ্ছি। কে জানে এই হয়তো তোমার কাছে লেখা তোমার আদরের পেত্রুশার শেষ চিঠি।

মাগো তোমার মনে আছে শীতের সময় যখন চারিদিক বরফে ঢেকে যেত তখন আমি গরম চুল্লির তাক থেকে নামতেই চাইতাম না। তুমি কত কষ্ট করে বাইরে থেকে পানি আনতে, দোকানে যেতে।

মা বেঁচে আসলে তোমাকে আর কখনো কিচ্ছু করতে দেবো না। তোমার পেত্রুশা তোমাকে অনেক জ্বালিয়েছে, অনেক কষ্ট দিয়েছে। আর যদি বেঁচে না ফিরি তাকে ক্ষমা করে দিও মা।

একি একজনের হাত থেকে অক্সিজেন তৈরীর কার্টিজ পরে গিয়ে পানিতে আগুন জ্বলে উঠলো ! সেই আগুন তো পানির উপরে থাকা সব অক্সিজেন শুষে নিচ্ছে। কি হবে এখন! দম বন্ধ হয়ে আসছে সবার।

নিকষ কালো কবরের মত অন্ধকারে সবার কান্নাকাটি আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসছে। মাগো আমার ভয়ার্ত, ফ্যাকাশে, ঠান্ডা মুখটায় এমন গরম লাগছে কেন ? এটা কি তোমার উষ্ণ হাতের ছোঁয়া ! ভারি ভালোলাগছে এই উষ্ণতা ! কোথা থেকে আসলো বলোতো’…

শেষ হয়ে আসা অক্সিজেন থেকে গভীর এক শ্বাস টেনে পাগলের মত তাড়াতাড়ি পেত্রুশা গালে হাত বুলিয়ে দেখে, নাহ্‌ মায়ের হাত নয়, এটা তারই চোখ থেকে বের হয়ে আসা অসহায় নোনা গরম জলের ধারা গাল বেয়ে ফোটায় ফোটায় গড়িয়ে পড়ে মিশে যাচ্ছে কুরস্কের খোলে জমতে থাকা ব্যারন্ট সাগরের ঠান্ডা নোনা পানিতে …

ব্যারেন্ট সাগরের একশ মিটার নীচে সেই হতভাগ্য সাবমেরিন ‘কুরস্ক’ দুর্ঘটনা সাড়া পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও সেই আবেদন পৌছেনি সে দেশের রাস্ট্রপতির কানে। কারণ তিনি তো তখন কৃ্ষ্ণ সাগরের তীরে অবকাশ যাপন কেন্দ্রে শার্টের হাতা গুটিয়ে বারবিকিউ তৈরীতে ব্যস্ত ।

এই ঘটনার পরপরই বৃটেন এবং নরওয়ে সাহায্য করতে চাইলেও সামরিক গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে উনি তা গ্রহন করতে রাজী হন নি। মানুষের জীবনের চেয়েও যা ছিল তাঁর কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন।

সেই হতভাগ্য ১১৮ জন নাবিকের মা বাবা স্ত্রী সন্তানের আহাজারি, কান্নাকাটি ও তাকে পাঁচ দিনের আগে টেনে আনতে পারেনি রাজধানীতে, দেওয়াতে পারেনি কোন বিবৃতি, বিদেশী সাহায্য নেয়ার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি কারো করুন আর্তনাদ বা আকুতি।

https://i0.wp.com/www.aerospaceweb.org/question/weapons/submarine/kursk-wreck.jpg

কুরস্কের ধ্বংসাবশেষ

দীর্ঘ এক বছর পর একটি ডাচ কোম্পানী ‘কুরস্ক’ কে ব্যারেন্ট সমুদ্রের তল থেকে উদ্ধার করে। ডুবুরীরা জরুরী দরজা খুলে দেখতে পায় সেই নয় নম্বর কম্পার্টমেন্টের দরজার কাছে আর অর্ধ ডুবন্ত রুমের পানির মধ্যে ভেসে থাকা ২৩ জন হতভাগ্য নাবিকের মৃতদেহ যারা হয়তো উদ্ধারের আশায় সেখানে জড়ো হয়েছিল।

http://a3.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/382705_252834344779849_144708565592428_689888_1747134688_n.jpg

একজন ক্যপ্টেন লেফটেনেন্টের গায়ে লেগে থাকা একটি ভেজা চিরকুট পাওয়া গিয়ে ছিল যাতে লেখা ছিল,

‘অন্ধকারে অনুভব করে করে লিখছি, যদি কারো হাতে পরে সে আশায়। আমাদের বেচে থাকার আশা শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ, যারা যারা এখনও বেচে আছে তাদের নাম লিখে রাখছি’।

জানিনা তবে কেন জানি আমার মনে হয় আজও সেখানে মাছ ধরা জেলেদের কানে সমুদ্রের বাতাসের সাথে ফিসফিসিয়ে মিশে আসে বিদ্ধস্ত ‘কুরস্কে’ আটকে পড়া ২৩ জন অসহায় হতাশ নাবিকের করুন চাপা কান্না আর শেষ দীর্ঘশ্বাস।

লেখা সমস্ত চিঠিগুলোই আমার কল্পিত, মনে হয়েছিল তারা যদি কেউ লিখতো তবে এমনটি লিখতো হয়তো।

পরবর্তীতে ‘কুরস্ক’ দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা যে বিশ্লেষন করেছেন চিঠির মধ্যে উল্লেখ করা টেকনিকাল বিষয়গুলো সেগুলো উপর ভিত্তি করেই লেখা।

মুলসূত্রঃ

https://i1.wp.com/www.choturmatrik.com/themes/analytic/images/banner/megh-novl-Hemanto.jpg

দেশ ও ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় বাংলাদেশী সিনেমা ‘ব্ল্যাক’

মুহাম্মদ আমিনুল হক

বিতর্কিত লেখক ও সাংবাদিক সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী দেশ ও ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় এবার তৈরী করছেন ব্ল্যাক (Black) নামে একটি সিনেমা। যার মাধ্যমে তিনি শরীয়া আইন, জিহাদ, বোরখা, পাথর ছুঁড়ে মারা, বহু বিবাহ, বাল্য বিবাহ ও শিরচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামের বিরুদ্ধে দেশ বিদেশে জনমত তৈরী করতে চাচ্ছেন। ব্ল্যাক সিনেমার প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে কথা বলার আগে এ ছবির নির্মাতা সম্পর্কে কিছু তথ্য জাতিকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করছি।

https://i1.wp.com/www.ishr.org/uploads/RTEmagicC_Bangladesch-Shoaib_Choudhury-durdesh.net.jpg.jpg

বিতর্কিত লেখক ও সাংবাদিক সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী দেশ ও ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় এবার তৈরী করছেন ব্ল্যাক (Black) নামে একটি সিনেমা

https://i0.wp.com/www.weeklyblitz.net/images/logo.gif

''Weekly Blitz' এর মাধ্যমেই সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী তার ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করতে থাকেন

https://i2.wp.com/www.follow-islam.com/wp-content/uploads/2011/07/Jihad-In-Islam3.jpg

বিশেষকরে ইসলামের অন্যতম বিধান জিহাদের বিরুদ্ধে বিষোদগারমূলক বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর সাপ্তাহিক পত্রিকাটি মানুষের কাছে ইসলাম বিরোধী পত্রিকা (Anti-Islamic Newspaper) হিসেবে পরিচিতি পায়

‘Weekly Blitz’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী বেশ পরিচিত। ”Weekly Blitz’ এর মাধ্যমেই তিনি তার ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করতে থাকেন। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের বিরুদ্ধে তার লেখনীতে কখনো ছেদ পড়েনি। বিশেষকরে ইসলামের অন্যতম বিধান জিহাদের বিরুদ্ধে বিষোদগারমূলক বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে তার সাপ্তাহিক পত্রিকাটি মানুষের কাছে ইসলাম বিরোধী পত্রিকা (Anti-Islamic Newspaper) হিসেবে পরিচিতি পায়।

তিনি ১৯৮৯ সনে সাংবাদিকতা শুরু করেন সোভিয়েট ইউনিয়নের ’তাস’ (TASS) নিউজ এজেন্সিতে। ১৯৯১ সনে তিনি ইটার তাস (Iter-Tass) নিউজ এজেন্সির বাংলাদেশ শাখার প্রধান সংবাদদাতা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পর বিভিন্ন দেশে ইটার তাসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ১৯৯৬ সনে ওখান থেকে চাকুরী ছেড়ে বাংলাদেশে প্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ২১শে টিভি প্রতিষ্ঠা করেন। তখনকার সময়ে একুশে টিভিও ইসলাম বিরোধী টিভি হিসেবে পরিচিতি পায়। বাংলা ও ইংরেজীতে তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে ২০০৭ সালে প্রকাশিত হওয়া একটি বইয়ের শিরোণাম হচ্ছে- “Injustice & Jihad” (অবিচার এবং জিহাদ)। বইয়ের নাম দিয়েই অনুধাবন করা যায় ইসলাম নিয়ে তার কত জ্বালাপোড়া! বইটি ২০০৮ সালে Non Sono Colpevole নামে ইতালিয়ান ভাষায়ও প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সনে Inside Madrassa (মাদরাসার অভ্যন্তরে) নামক বইটি প্রকাশিত হয়। উক্ত বইয়ের মাধ্যমে তিনি মাদরাসার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে বিষোদগার করেন।

তিনি বাংলাদেশে ইসরাইল ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম গঠন করেন। বাংলাদেশে আল-কায়েদা সংগঠনের বিস্তার সম্পর্কে তিনি অনেক আজগুবি লেখাও উপহার দেন। তার লেখনীতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসরাইল বিরোধীদের মনোভাব সম্পর্কেও তথ্য উঠে আসে। ইসলাম বিদ্বেষী এই বাম সাংবাদিকের আসল বন্ধু হচ্ছে- ইসরাইল ও তার দোসররা। এদেশে চৌধুরী সাহেব নিন্দিত হলেও ইসলাম বিরোধী শক্তি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং দিচ্ছে। ২০০৫ সনে PEN USA তাকে মুক্ত লেখনীর জন্য পুরুস্কৃত করে। ২০০৬ সনের মে মাসে American Jewish Committee তাকে পুরুস্কৃত করতে চাইলে তৎকালীন সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে বাধা প্রদান করে। ২০০৭ সনে তাকে Prince Albert of Monaco এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

https://i0.wp.com/www.darkgovernment.com/news/wp-content/uploads/2009/02/mossad-seal.jpg

ইসরাইলের একান্ত দোসর শোয়েব চৌধুরীকে ইসরাইল-মোসাদ কানেকশন ও দেশ বিরোধী তৎপরতার দায়ে ২৯ নভেম্বর ২০০৩ সনে তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর (বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর) থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ১ ডিসেম্বর ২০০৩ তেলআবিবে অনুষ্ঠিতব্য এক কনফারেন্সে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন। বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তার লাগেজে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্বলিত অনেক ডকুমেন্ট ও সিডি উদ্ধার করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার ও আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত নানান ভৌতিক তথ্যও ছিল তাতে। তার গ্রেফতার সম্পর্কিত খবর পরের দিন ইংরেজী পত্রিকা Daily Star পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়।

Man with ‘Mosad links’ held at ZIA শিরোনামের খবরে বলা হয় :

A man was arrested at Zia International Airport yesterday morning on his way to Tel Aviv for his alleged Mossad connection. A leader of Bangladesh chapter of ‘Iflaq’, a Haifa-based organisation, Salauddin Shoib Chowdhury was carrying compact discs (CD‘s) and papers containing write-ups on some sensitive issues including ‘minority repression and the al Qaeda network in Bangladesh’, police said. Shoaib was managing director of the planned Inquilab Television until he was sacked last year…….

এরপর চৌধুরী সাহেব একাধারে ১৭ মাস জেল খাটেন। চৌধুরী সাহেব কিছুদিন ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি ইনকিলাব টিভি প্রতিষ্ঠা করার জন্যও কাজ করেছেন। তিনি ইনকিলাব টিভির এম.ডি হিসেবে নিযুক্ত হন। ইনকিলাব টিভিতে তার প্রায় এক মিলিয়ন টাকার মোট ৩০% শেয়ার ছিল বলে দাবী করেন। ইনকিলাব পত্রিকা যখন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির পক্ষে কাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেও ইনকিলাব টিভির সর্বোচ্চ পদে ঘাপটি মেরে ছিল দেশ ও জাতির শত্রু এবং ইসরাইলের এ চর! এ ঘটনা থেকে কি বি.এন.পি. ও ইসলামী সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো শিক্ষা নেবে?

https://i2.wp.com/www.dailyinqilab.com/images/name.gif

১৯৬৫ সনে সিলেটে জন্ম নেয়া এ নরাধম, পাপিষ্ট, দেশদ্রোহী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও নির্বিঘ্নে তাদের কলুষিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এবার তারা তৈরী করতে যাচ্ছে ব্ল্যাক (Black) নামে একটি সিরিজ সিনেমা। যা তার ভাষ্যমতে, এ বছরের এপ্রিল মাসে (১৪১৮ বাংলা নববর্ষে) পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামকে বিশ্ববাসীর কাছে বিকৃতভাবে তুলে ধরা। বাংলা ভাষায় সিনেমাটি নির্মাণ করা হলেও ইংরেজী, হিন্দি, উর্দূ ও ফ্রেন্স ভাষায় এর সাব টাইটেল লিখে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়া হয়েছে। ছবিতে নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন মডেল কন্যা শতাব্দি।

https://i1.wp.com/www.washingtonbanglaradio.com/images03/bengali-actress-shatabdi.jpg

ব্ল্যাক ছবিতে নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন মডেল কন্যা শতাব্দি

ছবিটি নিয়ে নায়িকা শতাব্দি বলেন:

“ছবির স্ক্রিপ্টে খুবই ভালো লেগেছে আমাকে। শোয়েব চৌধুরী ও তার দলের মত আন্তর্জাতিক মানের টিমের সাথে কাজ করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের”।

ছবিতে গান গেয়েছেন সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা, আগুন, এস.আই টুটুল, অনিমা ডি কস্তা ও ফকির শাহাবুদ্দিন।

কী আছে এই সিনেমায়?

শান্তিগ্রাম বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম। পয়ত্রিশ বছর আগে এখানে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের লোকজন বেশ শান্তিতে বসবাস করত। কিন্তু কয়েক দশক থেকে পুরো গ্রামে ইসলাম পন্থীদের ইসলামী কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদ মাদরাসার হুজুরদের প্রভাব দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরা নিজেরাই শরীয়া আইন চালু করে জনগণের জীবন যাত্রা বিভীষিকাময় করে তুলেছে। মোল্লারা গ্রামের পুরুষদের একাধিক বিবাহে উৎসাহ দিচ্ছে। এভাবে একাধিক স্ত্রী যাদের আছে তারা সেইসব স্ত্রীদের সাথে দাসীর মতো আচরণ করছে এবং সেই একাধিক স্ত্রীদের কৃষিকাজসহ নানা কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু যখন কোন মহিলা অসুস্থ হচ্ছে, তখন তাকে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এই অজুহাতে যে হাসপাতালগুলো শয়তানের আড্ডাখানা যেখানে নারী-পুরুষ পর্দা ছাড়াই অবাধে মেলামেশা করে। গ্রামে মোল্লা ও মাতব্বরদের সমন্বয়ে শরীয়া কমিটি করে দোররা মারাসহ বিভিন্ন শারীরিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে নিয়মিত। এই গ্রামেই বাস করে কিছু বাউল সম্প্রদায়ের লোক। এরা মূলত: হিন্দু ও সূফী মুসলিম গোত্রের মানুষ। বাউলরা ধর্মের সম্প্রীতির বাণী শুনাতো। গ্রামের উগ্র ইসলামপন্থীদের প্রভাবে তাদের জীবনেও নেমে আসে বিভীষিকা। মোল্লারা তাদের আল্টিমেটাম দেয়, হয় মুসলিম হও না হয় এই এলাকা ত্যাগ কর। এদিকে গ্রামে ইসলামী এনজিওদের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পায়। তারা হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের জন্য আর্থিক প্রলোভন দেয়, ঋণ দেয়। তাতে কাজ না হলে ইসলাম গ্রহণ করতে চাপ দেয়। এতেও কাজ না হলে ঐসব অমুসলিম পরিবারের যুবক-যুবতীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে। এভাবে একদিন দেখা যায় যে, গ্রামটি অমুসলিমশূন্য হয়ে গেল। ব্ল্যাক সিনেমায় দেখানো হচ্ছে কিভাবে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া শরীয়া আইন মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে সাথে সাথে সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়কে নির্মূল করছে।

https://i2.wp.com/www.weeklyblitz.net/pics/1170.jpg

শোয়েব চৌধুরীর এই সিরিজ সিনেমাটি যে দেশ ও ইসলাম বিরোধী ভয়ানক প্রোপাগান্ডার অংশ, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ও মুসলিম জনগোষ্ঠিকে হেয় করার জন্য এই জঘন্য ঘৃণ্য প্রচেষ্টা। ইসলাম সম্পর্কে যার বিন্দুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান নেই তার দ্বারা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা কূপমণ্ডুকতার শামিল। তিনি ডাহা মিথ্যা কথা দিয়ে এ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। যে সমস্ত তথ্য এ সিনেমাটিতে দেয়া হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

গত ১২ জানুয়ারী ওয়াশিংটন বাংলা রেডিওতে শোয়েব চৌধুরী তার নির্মিতব্য ব্ল্যাক সিনেমা নিয়ে যে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন তাও মিথ্যা দিয়ে ভরা। তিনি বলেন,

“A secular government came to power in the year 2008 but things really didn’t change much at Bangladesh. Every year almost sixteen thousand Hindu Women in Bangladesh are kidnapped and converted to Islam forcefully. The numbers have not changed in the year 2011 also”.

অর্থাৎ-

“২০০৮ সনে বাংলাদেশে সেক্যুলার সরকার ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ অবস্থার বাস্তবিক কোন পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশে প্রত্যেক বছর প্রায় ১৬ হাজার হিন্দু মহিলা অপহৃত হয় এবং তারা বাধ্য হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ২০১১ তে এসেও এই সংখ্যা কমেনি মোটেও”।

এর চেয়ে জঘন্য মিথ্যাচার আর কি হতে পারে! সেক্যুলার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পরিবর্তনের নামে ইসলাম ধ্বংসের মহোৎসবকে আড়াল করা কিংবা এর মাত্রা আরও বৃদ্ধির জন্যই কি তার এ আয়োজন? শোয়েব চৌধুরী কি নির্দিষ্ট করে ঐ প্রত্যেক বছর অপহৃত হওয়া এবং বাধ্য হয়ে মুসলিম হয়ে যাওয়া হিন্দু মহিলার নাম বলতে পারবেন? তারা কোন গ্রামের এবং কোন বাপের সন্তান তার তথ্য কি চৌধুরীর কাছে আছে? বিশ্ব বিখ্যাত পপশিল্পী ক্যাট স্টিভেন (ইউসুফ ইসলাম), টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা লরা বুথসহ উন্নত বিশ্বের লাখো লাখো অমুসলিমকে কোন বাংলাদেশী মুসলিমরা ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করছে?

তিনি এরকম আজগুবি আরো অনেক কথা বলেছেন। তিনি বলেন:

The oppression of the religious minorities at Bangladesh continues unabated. There were many incidents of attacks on the Hindu mandirs during the Durga puja, this year. None were reported and the governments at Bangladesh is least bothered to take up the causes for minorities.

তিনি সাক্ষাৎকারে আশা প্রকাশ করে বলেন:

The purpose of making the film is not at all commercial but to make people aware of what happens with the woman; once she is abducted and converted. The girl’s family is not aware of what the girl goes through after kidnapping. The film tries to answer this and in the process make people aware of the evil of this practice and the suffering of humanity.

শয়তানের ভালো কথার মধ্যে যেরকম শয়তানীতে ভরপুর থাকে; কল্যাণের কিছু থাকে না, তেমনি শোয়েব চৌধুরীও তার দোসরদের নিয়ে বাংলাদেশ ও এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্ম নিয়ে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ধর্মদ্রোহী এই কুলাঙ্গারের চোখের সামনে শত শত মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড হলেও তা তার চোখকে স্পর্শ করে না। ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠী যে অবর্ণনীয় দু:খ-কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে তা নিয়ে তিনি কি কোনদিন ভেবেছেন? সভ্যতার এই চরম উৎকর্ষের যুগে গুজরাটে কয়েক হাজার মুসলিমকে পুড়িয়ে মারলেও চৌধুরীদের রক্ত পিপাসা মেটে না, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশকে আরেক গুজরাট বানাতে চান। বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াকে অসাম্প্রদায়িক(?) চৌধুরী সাহেব কী বলবেন? কাশ্মীর, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, ইরাকে প্রতিদিন শতশত নর-নারী যে নির্মমতার শিকার হয় তা কি এই বিকৃত মস্তিস্কওয়ালা বিপথগামী সাংবাদিককে কখনো ব্যাথিত করে? জারজ রাষ্ট্র ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনী নাগরিকদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে, নারীদের ধর্ষণ করে, শান্তির জনপদকে অশান্ত করে, অবরোধ করে ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নষ্ট করে তখন তা নিয়ে চৌধুরী সাহেব সিনেমা তৈরী করেন না কেন? বসনিয়া, কসোভোর কসাইদের নিয়ে তার কেন মাথা ব্যথা নেই? ইসলামবিরোধীচক্র বিশেষত ইসরাইলের পালকপুত্রের কাছে ওগুলো কোন অন্যায় নয়। ওগুলোর বিরুদ্ধে বললেতো আর প্রভূদের থেকে ভিক্ষা পাওয়া যাবে না!

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে কারা উপজাতীয়দের খ্রীষ্টান বানায় তা সবাই জানে। শুধু তাই নয় অনেক এনজিওর বিরুদ্ধে সারা বাংলাদেশে মুসলমান বালক-বালিকাদেরকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ আছে। স্কুলে বালক-বালিকাদের চোখ বন্ধ করে চকলেট দিয়ে আবার চোখ খোলার পরে জিজ্ঞেস করা হয় কে এই চকলেট দিল? সবাই যখন উত্তর দেয় ম্যাডাম দিয়েছে; তখন তাদেরকে চোখ বুজে আল্লাহর কাছে চকলেট চাইতে বলা হয় এবং চকলেট না পাওয়া গেলে বলা হয় আল্লাহ বলতে কিছু নেই। কিন্তু এসব দৃশ্যকে এড়িয়ে গিয়ে ইসলামী এনজিওর বিরুদ্ধে সর্বৈব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে যে সিনেমা বানানো হলো তা এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করবে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ম্যাসেজ যাবে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ অন্যরাষ্ট্রগুলো আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হবে। চৌধুরী সাহেব জিহাদের কি বোঝেন? জিহাদ মানে যুদ্ধ ও হত্যা নয়। জিহাদ অর্থ হচ্ছে- জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মুসলিমকে ইসলামের উপর টিকে থাকার চেষ্টা করা। নফস, শয়তান ও তাগুতের বিপক্ষে সত্যের পক্ষে অটল থাকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার নাম জিহাদ। জিহাদ হচ্ছে- ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জান মাল ও সবকিছু দিয়ে একান্ত চেষ্টা করা। হিজাব নারীর অলংকার। এটি নারীকে শোয়েব চৌধুরীর মত শয়তানদের কু-দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। হিজাব কখনো নারীর কোন অধিকারকে ক্ষুন্ন করে না। তবে হ্যাঁ হিজাব চৌধুরী সাহেবদের মতো ভোগবাদীদের লাম্পট্যকে বাধাগ্রস্থ করে।

ইসলাম পুরুষের চরিত্রকে পবিত্র রাখার জন্য বিবাহের ব্যবস্থা করেছে। প্রয়োজন হলে শর্ত সাপেক্ষে একসাথে চারটি বিয়ের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। তবে ইসলামের শর্ত মেনে একসাথে চারজন স্ত্রী ঘরে রাখা মোটামুটি অসম্ভব। শোয়েব চৌধুরী মূলত: বহু বিবাহের নামে ইসলামের বিবাহ নামক পবিত্র প্রথাকে বিলোপ করার চেষ্টা করছেন। ঘরে বৈধ বৌ থাকলে যে অবাধে নাইট ক্লাবে গমন, বহু নারীর সংস্পর্শ পাওয়া খুব কঠিন তা তিনি ভালো করে জানেন বিধায় বিবাহ উচ্ছেদের এই পরিকল্পনা। তার আরেক দোস্ত তসলিমা নাসরিন তার এক বইতে চৌধুরীর মতো বাবার বয়সী প্রগতিশীল পুরুষদের মহৎ(?) চরিত্রের বয়ান লিখে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের আরেক দিকপাল তার মেয়ের বান্ধবীর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে সকল লাজ লজ্জা ফেলে বিয়েই করে ফেললেন। আরেক বিখ্যাত বৃদ্ধ কবির (এখন মরহুম) কাছে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাত যাপন করার আবদার করতেন এবং তা তিনি ফেলতে পারতেন না তার মহত্বের গুণে। শোয়েব চৌধুরী কি বলতে পারবেন বাংলাদেশের কোন কোন মোল্লা একাধিক স্ত্রী রেখে তাদেরকে দিয়ে কৃষি কাজ করান? কোন মোল্লার বউ চিকিৎসার অভাবে ঘরে বসে মারা গেছেন? অবশ্য অভাবগ্রস্থ সাধারণ বাংলাদেশীদের অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে পারেন, সেটি কোন বিশেষ গেষ্ঠির জন্য নির্দিষ্ট নয়। তিনি যে কাল্পনিক শান্তিগ্রামের কথা বলেছেন সে রকম কি কোন বাস্তবিক গ্রামের অস্তিত্ব এদেশে আছে?

বাংলাদেশে আবহমান কাল ধরে হিন্দু, খ্রীষ্টান, উপজাতি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে মুসলমানদের যে সদ্ভাব বিদ্যমান আছে তার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। এদেশে উপজাতির জন্য সরকারীভাবে কোটা পদ্ধতি চালু আছে। হিন্দুরা এদেশে মন্ত্রিত্ব করছে, এম.পি হচ্ছে। পুলিশ অফিসার, ডিসি, এসপিসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে হিন্দুদের উপস্থিতি কম নয়। বরং কখনো কখনো তাদের ভাব দেখলে মনে হয় না তারা এদেশে সংখ্যালঘু। তারপরও শোয়েব চৌধুরীর হিন্দুদের নিয়ে যে এত উদ্বেগ তার পিছনে রহস্য কি? তিনি শুধু সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলে সংখ্যাগুরু নির্যাতনের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মিশর, তিওনিসিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুগের পর যুগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠি সেক্যুলার শক্তির দ্বারা নির্যাতিত হলেও ওদিকে তাকানোর সুযোগ চৌধুরীর নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হলেও বাংলাদেশেও আজ কী ঘটছে? গুটিকয়েক নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীদের ক্ষমতার দাপটে ইসলামী চেতনা, ইসলামী শিক্ষা, ইসলামী রাজনীতি ও ইসলামী সংগঠন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিশ্বাস ও চেতনার প্রতীক মাহমুদুর রহমানরা আজ বন্দীশালায় ধুকেধুকে মরছে, আর তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সাংবাদিক তৌহিদী জনতার চোখে ধুলা দিয়ে বাংলাদেশে বসেই ইসলামের বিরুদ্ধে ছবি নির্মাণ করে তামাশা দেখছে! এরা মূলত সংখ্যালঘুর দোহাই তুলে সংখ্যাগরিষ্ঠকে নির্মূলের আয়োজন করছে। পরিসংখ্যান বলছে, যে এলাকায় মাদরাসা বেশী সেই এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বেশী। সে এলাকায় তুলনামূলকভাবে অপরাধ সংঘটিত কম হয়। সারাদেশে এত ইভটিজিং, নারী-ধর্ষণ, এসিড সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতন কারা করছে? ঐসব ঘটনায় কয়জন মাদরাসার ছাত্র জড়িত? রেকর্ড বলছে মাদরাসার ছাত্ররা এসব কাজে জড়িত নেই বললেই চলে। তারপরও মাদরাসার বিরুদ্ধে এত বিষোদগার কেন? কারণও সবার জানা। হান্টিংটনের গবেষণায় আগামী শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমান। অতএব বিভিন্ন ছলনায় এদেরকে নির্মূল করা চাই। বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিধন করতে তথাকথিত মুসলিম সহযোদ্ধাদের বিকল্প নেই। শোয়েব চৌধুরীরাতো ঐ দলেরই গর্বিত সদস্য।

যাইহোক ব্ল্যাক ছবিতে শোয়েব চৌধুরী যে বিষয়গুলোর অবতারণা করেছেন তার সাথে বিচ্ছিন্ন দু একটি ঘটনা ছাড়া বাস্তবতার কোন মিল নেই। শুধুমাত্র বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন বিবেকহীন নির্বোধ দিয়েই এরকম বাস্তবতা বিবর্জিত দেশ ও ইসলাম বিরোধী ছবি নির্মাণ করা সম্ভব। গত ১লা বৈশাখ তিনি ছবিটি মুক্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় জনতাকে তার এই হীন প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে হবে। দেশ ও ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ তারা যেন এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্ল্যাক সিনেমাকে নিষিদ্ধ করে দেশ ও ইসলামের ভাবমূর্তি রক্ষায় এগিয়ে আসেন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

 

 http://www.sonarbangladesh.com/articles/MuhammadAminulHaque
 

সূত্রঃ

https://i0.wp.com/www.sonarbangladesh.com/images/sbheader_village_sun.jpg

 

বিজয়ের মাসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে চলবে ভারতীয় ছবি

বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘এ যে ভারি রঙ্গ যাদু, এ যে ভারি রঙ্গ’, রঙ্গ নয়তো কী ! বেছে বেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি মুক্তি চুড়ান্ত করা হলো? একে তো স্যাটেলাইটের কল্যাণে বোকা বাক্সে অবাধে দেখানো হচ্ছে ভারতীয় ছবি। এবার ধুঁকতে থাকা চলচ্চিত্র শিল্পকে বিজাতীয় করার আকাঙ্খায় প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রদর্শণের পাঁয়তারা, তাও মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই।

সকল যুক্তি-আপত্তি তুচ্ছ করে চলতি বছরের জুলাইতে আইনের ফাঁক দিয়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শনের জন্য আমদানি করা হয় তিনটি ভারতীয় ছবি। ‘জোর’, ‘সংগ্রাম’ ও ‘বদলা’ নামের এ তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি বেশ কয়েকদিন আগে পেয়েছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ডিসেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে ছবি তিনটি একে একে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এইসব ছবির আমদানীকারক ও এজেন্টরা ভারতীয় ছবিগুলো মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে এখন শেষ মুহূর্তের কথাবার্তা বলছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোরের অভিজাত কয়েকটি সিনেমা হলে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বাংলা ছবি ‘জোর’ মুক্তি দেওয়ার জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ছবি প্রদর্শণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমদানীকারক ও পরিবেশকরা আরো ৯টি ভারতীয় ছবি আমদানীর প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। একই আইনের আওতায় অনাপত্তি পত্র পাওয়ার যোগ্য বলিউডের সুপারহিট ছবিগুলোর মধ্যে আছে দিলওয়ালা দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, কাভি খুশি কাভি গম, কাভি আল বিদা না কেহনা, মাই নেম ইজ খান, ওম শান্তি ওম, থ্রি ইডিয়টস ও দাবাং।

ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রদর্শনের ব্যাপারে শোনা যায়, নানা মুনির নানা মত। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেখে নেওয়া যাক, প্রায় ৩৯ বছর পর কোন প্রক্রিয়ায় ছবিগুলো দেশে এসেছে এবং প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ভারতীয় ছবি আমদানী হলো

Flim

দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থ রক্ষায় স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ভারতীয ছবি প্রবেশের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি নীতিমালার বাধা নিষেধ তুলে নেয়। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দেশীয় চলচ্চিত্রের পরিচালক-প্রযোজক ও শিল্পী-কলাকুশলীরা প্রবল আপত্তি জানান এবং আন্দোলন গড়ে তোলেন। চলচ্চিত্রশিল্পী, কলাকুশলী ও  নির্মাতাদের এই আপত্তির মুখে সরকার ভারতীয় ছবি আমদানির ওপর পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে।

সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমদানিকারক ও প্রদর্শকরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে উল্লেখিত সময় যেসব ছবি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়, সেসব ছবিকে তথ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দেয়। এই অনাপত্তিপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানী করা হয়। পরবর্তীতে ছবি তিনটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর এখন এগুলো মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগেই ঋণপত্র খোলার অজুহাত দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আরো ৯টি ভারতীয় ছবি আমদানীর।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন শুরু থেকেই ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে হুশিয়ারী জানানো হয়েছে, যেসব সিনেমা হলে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন করবে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে এসব সিনেমা হলে বাংলাদেশী ছবি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদশর্নের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ। কিছুদিন আগে এই পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা সবসময় সুবিধাভোগী। তাঁরা কখনোই লোকসান দেন না। একটি ছবির ব্যবসা খারাপ হলেও তাদের কোনো লোকসান দিতে হয় না। অথচ প্রযোজক লোকসান দিয়েও ছবি তৈরি করেন। সেখানে প্রদর্শকেরা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র আনতে চান।

পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য

বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রর্দশনের জন্য ভারতীয় ছবি আমদানী প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এসব আলোচনা-সমালোচনা থেকে নির্বাচিত কিছু উক্তি তুলে ধরা হলো।

‘বাংলাদেশের ছবির প্রযোজকরা বলেছেন, ভারতীয় ছবি বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ছবির বারোটা বেজে যাবে। প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারব না। আইন করে আমাদের প্রতিযোগিতার বাইরে রাখতে হবে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও আমাদের প্রটেকশন দিয়েছেন, ইত্যাদি। সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট বলে যে কথাটি আছে আমাদের দেশে চিত্র নির্মাতা সেটা জানেন না। এই দেশের আইন হলো আনফিটকে সারভাইভ করার সুযোগ দেওয়া। এরচেয়ে হাস্যকর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না।’ –কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ

‘ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র আমাদের দেশে আসা মানে, আমাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি আছে, সেটুকুও শেষ হয়ে যাওয়া।’ – নায়করাজ রাজ্জাক

‘পাকিস্তানে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের ফলে সে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প রুগ্ন হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সুযোগ দেয়া এ দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা হবে আরো করুণ। আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের অস্তিত্ব হবে হুমকির সম্মুখিন।’ – চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম

‘এদেশে বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে এফডিসি নির্মাণ করেছিলেন, সেটাও আর থাকবে না।’ – নায়ক আলমগীর

‘দুই দেশের মধ্যে একটা বিনিময়চুক্তি হতে পারে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে তারা বাংলা ছবি নেবে, তবেই আমরা তাদের দেশ থেকে বাংলা ছবি আনতে পারি। হয়তো সেখানে বছরে কয়েকটি হিন্দি ভালো ছবি আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে চলচ্চিত্র বিনিময়ে অবশ্যই ভারসাম্য থাকতে হবে।’ – চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম

‘সেন্সর পাওয়া ছবিগুলো প্রদর্শনে কোনো আইনগত বাধা নেই। শিগগিরই আমরা ভারতীয় ছবির প্রদর্শনী শুরু করতে পারব। বন্ধ হওয়া প্রেক্ষাগৃহগুলো আবারও চালু হবে।’ – চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কেএমআর মঞ্জুর

‘সিনেমা হলের ট্যাক্স, বিদ্যুৎ খরচ, স্টাফদের বেতন এবং অন্যান্য খরচ হিসেব করলে এখন কোনোভাবেই সিনেমা হল মালিকরা ব্যবসা করতে পারছেন না। কালেভদ্রে দু’একটি সিনেমা ব্যবসা করলেও এতে সিনেমা হল বাঁচবে না। সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করার জন্য নতুন করে সিনেমা হল মালিক লগ্নি করতে চান না। এমনিতে লোকসান, তারপর আবার লগ্নি? সরকার সিনেমা হলের ট্যাক্স কমালে হয়তো কিছুটা সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু সরকার ট্যাক্স কমানোর পক্ষে কোনো আশ্বাস দেয়নি। যে কারণে সিনেমা হলকে বাঁচাতে আমরা ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রদর্শনের পক্ষে।’
চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির নেতা ও সিনেমা হল মালিক সফর আলী ভূঁইয়া

‘দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলের প্রজেক্টর মেশিন খারাপ। জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে করে প্রিন্টেরও ক্ষতি হচ্ছে। পর্দা পরিষ্কার করা হয় না বলে ছবি ঘোলা দেখা যায়। সাউন্ড সিস্টেমের কোনো উন্নতি হয়। সিনেমা হল মালিকরা কোনো রকমে দায়সারাভাবে সিনেমা প্রদর্শন করছেন। সাধারণ দর্শক না বুঝে আমাদের গালমন্দ করছে। একই সিনেমা আপনি পূরবী বা আনারকলিতে দেখে যদি মধুমিতা বা বলাকায় আবার দেখেন তাহলে পার্থক্যটি সহজেই বোঝা যাবে। পারিবারিক দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হল মালিকদেরই কোনো উদ্যোগ নেই। শুধু সিনেমার মানের দোহাই দেয়া হচ্ছে!’  – পরিচালক ও পরিচালক সমিতির মহাসচিব এফ আই মানিক

অবস্থা পর্যবেক্ষণ

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করছেন, উল্লেখিত  ভারতীয় ছবিগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের বিষয়টি একধরণের পর্যবেক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা দেখতে চাচ্ছে, ভারতীয় ছবিগুলো কীভাবে গ্রহণ করে বাংলাদেশের দর্শকেরা। যদি ছবিগুলো বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখে, তবে আমদানিকারক আর পরিবেশকরা এটি নিয়মিত রাখতে গ্রহণ করবেন জোর পদক্ষেপ। নির্মাতা-পরিচালক- শিল্পী পরিবেশকরা মনে করছেন, বড় মাছ যেমন ছোট মাছ গিলে খায়, তেমনি ভারতীয় ছবিও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হলে তা ধ্বংশ করে দিবে দেশীয় চলচ্চিত্রকে। কারণ বিনিয়োগ আর বাজার, দু দিক থেকেই ভারতীয় ছবির ধারে কাছে নেই আমাদের চলচ্চিত্র। এ এক অসম প্রতিযোগিতা।

টেস্ট কেস হিসেবে হলেও বিজয়ের মাসে কেনো প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি মুক্তি দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নটিই এখন জোড়ালো হয়ে ওঠেছে। একইভাবে যদি ভাষা আন্দোলনের মাস আগামী ফেব্রুয়ারিতে যদি প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি ছবি মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে জাতীয় চেতনা বলে থাকলোটা কী!

সূত্রঃ  https://i1.wp.com/www.banglanews24.com/images/common/logo-bn.gif

In A Hotel In New York…? Never Shown In American Media!!

Story behind the stories…

IRANIAN PRESIDENT MEETING ORTHODOX JEWS !!

How America Planned For An Attack On BRITAIN In 1930 With Bombing Raids And Chemical Weapons

  • Emerging world power feared British reaction to its ambitions
  • Plan Red was code for massive war with British Empire
  • Top-secret document once regarded as ‘most sensitive on Earth’
  • $57m allocated for building secret airfields on Canadian border – to launch attack on British land forces based there

By DAVID GERRIE

Details of an amazing American military plan for an attack to wipe out a major part of the British Army  are today revealed for the first time.

In 1930, a mere nine years before the outbreak of World War Two, America drew up proposals specifically aimed at eliminating all British land forces in Canada and the North Atlantic, thus destroying Britain’s trading ability and bringing the country to its knees.

Previously unparalleled troop movements were launched as an overture to an invasion of Canada, which was to include massive bombing raids on key industrial targets and the use of chemical weapons, the latter signed off at the highest level by none other than the legendary General Douglas MacArthur.

The plans, revealed in a Channel 5 documentary, were one of a number of military contingency plans drawn up against a number of potential enemies, including the Caribbean islands and China. There was even one to combat an internal uprising within the United States.

In the end there was no question of President Franklin D. Roosevelt subscribing to what was known as War Plan Red. Instead the two countries became the firmest of allies during WW2, an occasionally strained alliance that continues to this day.

Still, it is fascinating that there were enough people inside the American political and military establishment who thought that such a war was feasible.

While outside of America, both Churchill and Hitler also thought it a possibility during the 30s – a time of deep economic and political uncertainty.

In 1930, a mere nine years before the outbreak of World War Two, America drew up a terrifying plan specifically aimed at eliminating all British land forces in Canada and the North Atlantic, thus destroying Britain’s trading ability and bringing our country to its knees.

 

The top-secret papers seen here – once regarded as the most sensitive on Earth – were found buried deep within the American National Archives in Washington, D.C.

The highly classified files reveal that huge pushes were to be made into the Caribbean and West Coast to block any British retaliation from either Europe, India or Australia.

 

In 1931, the U.S. government even authorised record-breaking transatlantic flying hero and known Nazi sympathiser Charles A. Lindbergh to be sent covertly as a spy to the west shore of Hudson Bay to investigate the possibility of using sea-planes for warfare and seek out points of low resistance as potential bridgeheads.

In 1931, the U.S. government authorised transatlantic flying hero and known Nazi sympathiser Charles Lindbergh to be sent covertly as a spy to the west shore of Hudson BayIn 1931, the U.S. authorised flying hero and known Nazi sympathiser Charles Lindbergh to be sent as a spy to Hudson Bay to look into using sea-planes for warfare and seek out points of low resistance as potential bridgeheads.

Four years later, the U.S. Congress authorised $57million to be allocated for the building of three secret airfields on the U.S. side of the Canadian border, with grassed-over landing strips to hide their real purpose.

All governments make ‘worst case scenario’ contingency plans which are kept under wraps from the public. These documents were unearthed buried deep within the American National Archives in Washington, D.C. – a top-secret document once regarded as the most sensitive on earth.

It was in 1930, that America first wrote a plan for war with ‘The Red Empire’ – its most dangerous empire.

But America’s foe in this war was not Russia or Japan or even the burgeoning Nazi Germany.

Plan Red was code for an apocalyptic war with Britain and all her dominions.

After the 1918 Armistice and throughout the 1920s, America’s historic anti-British feelings handed down from the 19th century were running dangerously high due to our owing the U.S. £9billion for their intervention in The Great War.

British feeling against America was known to be reciprocal.

By the 1930s, America saw the disturbing sight of homegrown Nazi sympathisers marching down New York’s Park Avenue to converge on a pro-Hitler rally in Madison Square Garden.

Across the Atlantic, Britain had the largest empire in the world, not to mention the most powerful navy.

Against this backdrop, some Americans saw their nation emerging as a potential world leader and knew only too well how Britain had dealt with such upstarts in the past – it went to war and quashed them.

Now, America saw itself as the underdog in a similar scenario.

In 1935, America staged its largest-ever military manoeuvres, moving troops to and installing munitions dumps at Fort Drum, half an hour away from the eastern Canadian border.

By the 1930s, America saw the disturbing sight of homegrown Nazi sympathisers marching down New York's Park Avenue to converge on a pro-Hitler rally in Madison Square GardenBy the 1930s, America saw the disturbing sight of homegrown Nazi sympathisers marching down New York’s Park Avenue to converge on a pro-Hitler rally in Madison Square Garden

It was from here the initial attack on British citizens would be launched, with Halifax, Nova Scotia, its first target.

‘This would have meant six million troops fighting on America’s eastern seaboard,’ says Peter Carlson, editor of American History magazine.

WAR PLAN RED, GREEN, PURPLE

During the 1920s and 30s, the U.S. devised several colour-coded war plans to deal with potential adversaries.

Many of these war games were submitted to the Military Information Division by officers working in their own time.

Among the contingency plans developed were:

Orange: War against Japan

Green: Against Mexico

Purple: South America

White: Domestic uprising

Black: Germany

Grey: Caribbean republics

Yellow: China

Brown: Philippines

Not surprisingly, many of these were hypothetical exercises – and provided only broad strategic outlines.

However, the planning was considered by the military to be good practice for its personnel.

‘It would have been like Verdun,’ alluding to the brutal conflict between German and French troops in 1916 which resulted in a death toll of 306,000.

Even Winston Churchill said while people regarded a war with the U.S. as inconceivable, it was not.

‘America felt Britain had thrown it under the bus in order to stay top dog,’ says Professor Mike Vlahos, of the U.S. Naval War College.

‘The U.S. was forced to contemplate any measure to keep Britain at bay.’

Even Hitler thought such a war was inevitable, but astonishingly wanted Britain to win, believing that to be the best outcome for Germany, since the UK could then join his forces to attack the U.S.

‘You have to remember the U.S. was born out of a revolutionary struggle against Britain in 1776,’ says Dr. John H. Maurer, of the U.S. Naval War College.

Using available blueprints for this war, modern-day military and naval experts now believe the most likely outcome of such a conflict would have been a massive naval battle in the North Atlantic with very few actual deaths, but ending with Britain handing Canada over to the U.S. in order to preserve our vital trade routes.

However, on June 15, 1939, the same year as the German invasion of Poland, an internal U.S. memo states these plans for an invasion were ‘wholly inapplicable’, but nevertheless ‘should be retained’ for the future.

This is now seen as the dawn of and prime reason behind the ‘special relationship’ between our two countries.

Huge troop movements were launched as an overture to an invasion of CanadaHuge troop movements were launched as an overture to an invasion of Canada, which was to include bombing raids on industrial targets and the use of chemical weapons – the latter signed off by the legendary General Douglas MacArthur, left (file picture)

 

Isolationism, prosperity and decline: America after WWI

As close allies in numerous conflicts, Britain and America have long enjoyed a ‘special relationship’.

Stemming from Churchill and Roosevelt, it has since flourished – from Thatcher and Reagan, and Clinton and Blair, to the Queen and Obama.

We know now that FDR ultimately rejected an invasion of Britain as ‘wholly inapplicable’.

But just how special was that relationship in the decade leading up to WWII?

By the start of the 1920s, the American economy was booming.

The ‘Roaring Twenties’ was an age of increased consumer spending and mass production.

But after the First World War, U.S. public opinion was becoming increasingly isolationist.

This was reflected in its refusal to join the League of Nations, whose principal mission was to maintain world peace.

U.S. foreign policy continued to cut itself off from the rest of the world during that period by imposing tariffs on imports to protect domestic manufacturers.

After a decade of prosperity and optimism, America was thrown into despair when the stock market crashed in October 1929 - marking the start of the Great DepressionThese children were part of a squatter community, known bitterly as ‘Hoovervilles’ because of the President’s inability to even admit to the existence of a national crisis after the stock market crash in 1929

And its liberal approach to immigration was also changing.

Millions of people, mainly from Europe, had previously been welcomed to America in search of a better life.

But by 1921, quotas were introduced and, by 1929, only 150,000 immigrants per year were allowed in.

After a decade of prosperity and optimism, America was thrown into despair when the stock market crashed in October 1929 – marking the start of the Great Depression.

The ensuing economic hardship and mass unemployment sealed the fate of President Herbert Hoover’s re-election – and Franklin D Roosevelt stormed to victory in March 1933.

He was faced with an economy on the brink of collapse: banks had been shut in 32 states, and some 17million people had been thrown out of work — almost a third of the adult workforce.

And the reality of a worldwide economic depression and the need for increased attention to domestic problems only served to bolster the idea that the U.S. should isolate itself from troubling events in Europe.

When Franklin D Roosevelt was elected as President in 1933, he was faced with an economy on the brink of collapseWhen Franklin D Roosevelt was elected as President in 1933, he was faced with an economy on the brink of collapse. Banks had been shut in 32 states, and some 17 million people had been thrown out of work

However, this view was at odds with FDR’s vision.

He realised the necessity for the U.S. to participate more actively in international affairs – but isolationist sentiment remained high in Congress.

In 1933, President Roosevelt proposed a Congressional measure that would have granted him the right to consult with other nations to place pressure on aggressors in international conflicts.

The bill faced strong opposition from leading isolationists in Congress.

As tensions rose in Europe over the rise of the Nazis, Congress brought in a set of Neutrality Acts to stop  America becoming entangled in external conflicts.

Although Roosevelt was not in favour of the policy, he acquiesced as he still needed Congressional support for his New Deal programmes, which were designed to bring the country out of the Depression.

By 1937, the situation in Europe was growing worse and the second Sino-Japanese War began in Asia.

In a speech, he compared international aggression to a disease that other nations must work to ‘quarantine’.

But still, Americans were not willing to risk their lives for peace abroad – even when war broke out in Europe in 1939.

A slow shift in public opinion saw limited U.S. aid to the Allies.

And then the Japanese attack on Pear Harbor in December 1941 changed everything.

Source: PakAlert Press

How To Detect A 2-Way Mirror?

https://i1.wp.com/lh5.ggpht.com/v4vblog/SPp14W-BtFI/AAAAAAAABkU/f5ZBEVC9nnk/two-way-mirror.jpg

When we visit toilets, bathrooms, hotel rooms, changing rooms, etc., How many of you know for sure that the seemingly ordinary mirror hanging on the wall is a real mirror, or actually a 2-way mirror I.e., they can see you, but you can’t see them. There have been many cases of people installing 2-way mirrors in female changing rooms or bathroom or bedrooms.

It is very difficult to positively identify the surface by just looking at it. So, how do we determine with any amount of certainty what type of Mirror we are looking at?

Conduct This Simple Test:

Place the tip of your fingernail against the reflective surface and if there is a GAP between your fingernail and the image of the nail, then it is a GENUINE mirror.

However, if your fingernail DIRECTLY TOUCHES the image of your nail, then BEWARE, IT IS A 2-WAY MIRROR! (There may be someone seeing you from the other side). So remember, every time you see a mirror, do the “fingernail test.” It doesn’t cost you anything. It is simple to do.

This is a really good thing to do. The reason there is a gap on a real mirror, is because the silver is on the back of the mirror UNDER the glass.

Whereas with a two-way mirror, the silver is on the surface. Keep it in mind! Make sure and check every time you enter in hotel rooms.

Share this with your sisters, wife, daughters, friends, colleagues, etc.

Pass this message to all your friends in the Contacts.

How to Detect Hidden Camera in Trial Room?

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/09/mini_spy_cam_hand_500_16150-300x300.jpg?w=300

Step 1: In front of the trial room take your mobile and make sure that mobile can make calls.

Step 2: Then enter into the trail room, take your mobile and make a call!

If u can’t make a call……!!!! There is a hidden camera……

This is due to the interference of fiber optic cable during the signal transfer.

Please forward this to your friends to educate this issue to the public. To prevent our innocent ladies from HIDDEN CAMERA………..

Inside Scoop: Shot Down Black-Op Seals Won’t Be Talking Now

Every single SEAL Team 6 member who was involved in the ‘assassination’ of Usama bin Laden, is dead. They were killed when the Boeing Chinook helicopter in which they were flying crashed in Afghanistan & among the 31 American military personnel who were killed. The official story is that the Taliban shot down the chopper. But they were assassinated by the govt. !!

by Julius Sequerra

31 American military personnel were killed when the Boeing Chinook helicopter in which they were flying crashed in Afghanistan.

Of the thirty-one killed, twenty were members of SEAL Team 6.

https://i2.wp.com/www.mediabistro.com/fishbowlny/files/2011/05/team-6.jpg

More importantly, I’ve been reliably informed (by a retired Colonel, US Army intel) that these very same operatives were the men who allegedly killed Usama bin Laden recently in Abbottabad.  [NB: Seal Team 6 is an ultra-elite group of “black” operatives who exist outside military protocol, engage in operations that are at the highest level of classification, and often outside the bounds of international law.]

The official story is that the Taliban shot down the chopper. I have my doubts (as do many others far more savvy than yours truly).

[Remember Pat Tillman, the Pro Football star who forsook a megabuck contract and volunteered to go fight in Afghanistan in the heat of the post-9/11 patriotic frenzy? The official story is that Tillman was killed in a friendly-fire incident. According to reports from several US military personnel (a few of whom I know), Pat Tillman was assassinated by his own government. Reportedly, Tillman, the quintessential poster-boy for military recruitment, was waking up to the 9/11 lie, and was beginning to get a little too loose-lipped for his own good. Word traveled up the chain fast. Three bullets to the head fired at close range killed him. Friendly-fire indeed.]

“We are never deceived; we deceive ourselves.” – Goethe

Usama’s “recent death” brings to mind photos that made international headlines during the Iraq invasion.

Remember that iconic image of cheering Iraqis helping bring down the statue of Saddam? A Marine I know told me he had a friend who was actually there, on the ground, in that town square. Evidently, there were no more than 50 Iraqis in that “cheering crowd” — and virtually all of them were paid to participate in the photo shoot. [Did you happen to notice there was only one tightly cropped shot from just one camera angle? The rest of the square was virtually empty, save for US military personnel and equipment.]

Then there was that other classic shot, of a bearded and bedraggled Saddam crawling out of a hole with his hands pathetically held up in the air in a gesture of utter defeat. Remember that one?

Again, rigged. I’m personally acquainted with a former Marine who knows one of the guys who actually helped stage that sordid affair.

Truth is, Saddam was finally cornered in the home of one of his friends, and he fought valiantly to the last bullet. He was eventually nabbed, mussed up further (he apparently didn’t look great to begin), physically forced into the hole, and dirt thrown on him for good measure to ensure a Hollywood-grade image. That photo’s singular intent was to demoralize the Iraqi populace by showing their leader cowering in abject defeat.

Usama bin Laden’s REAL Death

It is generally known by military insiders (and others who look to alternative sources for their news) that Usama bin Laden died of natural causes in 2001. He had just returned to Pakistan from Dubai following medical treatment at the American Hospital.

As early as March, 2000, Asia Week expressed concern for bin Laden’s health, describing a serious medical problem that could put his life in danger because of “a kidney infection that is propagating itself to the liver and requires specialized treatment.”

Having taken off from Quetta in Pakistan, bin Laden arrived in Dubai and was transferred to the American Hospital. He was accompanied by his personal physician and a ‘faithful lieutenant’ (possibly al-Zawahiri). Usama was admitted to the well-respected urology department run by Dr. Terry Callaway, an American gallstone and infertility specialist.

Bin Laden was checked into one of the hospital’s VIP suites. While there, he received visits from many members of his family as well as prominent Saudis and Emiratis. During the hospital stay, the local CIA agent, known to many in Dubai, was seen taking the main elevator of the hospital to bin Laden’s floor.

A few days later, the CIA man bragged to a few friends about having visited bin Laden. Reliable sources report that on July 15th, the day after bin Laden returned to Quetta, the CIA agent was recalled to headquarters.  [NB: Contacts between the CIA and bin Laden began in 1979 when, as a representative of his family’s business, he began recruiting volunteers for the Afghan resistance against the Soviet Red Army.]

The LAST ‘Death’ of bin Laden

What the world has been told about the recent “Death of Usama bin Laden” is pitiful and laughably absurd (especially the parts about no forensic tests having been performed, and the body quickly dumped into the sea. That last doctored photo was the clincher).

Truth is, bin Laden’s bin dead a long time.

The charade in Abbottabad was one massive a psyop to provide soothing peace of mind for the American public subject to full-throttle media propaganda, while continuing, unabatedly, one of the greatest, deadliest, and most expensive hoaxes of all time: 9/11 and “The War on Terror.”

http://therearenosunglasses.files.wordpress.com/2011/08/nato_0.jpg?w=510

Now they are legend

And now, every single SEAL Team 6 member who was involved in the ‘assassination’ psyop is dead.

Incidentally, I had to smile when I saw one particularly amusing headline re Usama’s latest death, in the US publication Business Insider: “Meet The ‘Seal Team 6’, The Bad-Asses Who Killed Osama Bin Laden”

Well, all those hapless ‘bad asses’ are now dead.

And dead men don’t talk.

Source:

Dhaka-Delhi Ties: ‘Imposed Treaties’ Cannot Bring Peace, Security

M. Shahidul Islam


The lopsided treaty of Versailles that was imposed upon Germany at the conclusion of the First World War brought Hitler to power and sparked another Great War two decades later. Likewise, the 25- year treaty of friendship which Delhi foisted upon Dhaka at the conclusion of the 1971 Indo-Pak war is liable for much of the bloody turmoil that had pulverized Bangladesh in the late 1970s, and continues to do so until now.

https://i2.wp.com/cdn1.beeffco.com/files/poll-images/normal/manmohan-singh_2187.jpg

At least four different uneven treaties/agreements are being prepared for signing during the Indian PM Manmohan Singh's upcoming visit to Dhaka on September 6-7

It was only recently that Dhaka and Delhi have begun to look eye ball to eye ball. Yet, as if the lessons of history were meant to be brushed aside as nonsense, Bangladesh is once again turning into a satellite state. At least four different uneven treaties/agreements are being prepared for signing during the Indian PM Manmohan Singh’s upcoming visit to Dhaka on September 6-7. Excepting the Teesta water sharing agreement, of which little in specific is known as yet, all other agreements are uneven and detrimental to regional peace and stability.

Too much, too fast

Especially the transit deal has moved too fast, despite its onerous geopolitical and economic ramifications. The persistent brinkmanship since it first demanded in 2009 a slew of concessions from Dhaka have finally compelled Bangladesh to capitulate to unreasonable and unfair Indian demands.
While moving with a break-neck speed to secure transit/corridor through Bangladesh, Delhi has also decided to flood our streets with otherwise not-export-worthy Indian vehicles and locomotives, and, to make us energy dependent by finalizing a handful of power connectivity schemes.
Foreign Minister Dipu Moni said on July 18 that Bangladesh and India have taken a “political decision” on transit (read corridor) for India and a number of protocols regarding the transit would be finalized before the Indian PM’s scheduled visit to Bangladesh on September 6-7, which, Moni said, ‘are expected to be signed.’

Power & transportation

That message received a glowing reception in Delhi. The same day, Delhi gave mandate to its state-run power producers-NTPC and its appendix the Vidyut Vypar Nigam Ltd. (NVVN) – the mandate to export 250 MW of power to Bangladesh. “We are going to export 250 MW to Bangladesh from the 15 per cent unallocated power we have, and will develop 1,320 MW at Khulna,” NTPC Chairman and Managing Director, Arup Roy Choudhury, said on the sidelines of an energy seminar.

This particular move seems too hypocritical and unrealistic due to over 400 million Indian consumers still having no access to electricity; a fact that should have compelled Delhi to focus on providing electricity to its own people first before moving aggressively to set up transmission lines with Bangladesh under a dubious pact signed in July 2010 between the Power Grid Corporation of India Ltd and the BPDB of Bangladesh. This power connectivity is expected to be commissioned by early 2013, at a cost of US$ 190 million (around Rs 907 crore).

Already knee-deep into our telecommunication and RMG sectors with over $2 billion stakes, the Indian dash to overtake the transportation and the power sectors is as alarming as is the transit deal.

Yet, finance minister AMA Muhith disclosed last week that his government would spend $960 million of the $1 billion loan committed by the Indian Exim Bank to procure from India 300 double-decker buses, 50 single-decker, 50 articulated, 50 flat wagons, 180 oil tankers and a host of other vehicles and locomotives, in phases.

All these procurements remind one of the sordid memories created by the Indian Maruti taxicab procurement scam of 1998-2000, all those vehicles finding their places in junkyards in less than five years time. This time, the loans must be paid irrespective of the quality of the merchandise provided by India. More loans also mean more tax burden on ordinary people.

Diplomatic shamble

That’s not all. The Bangladesh ambassador in Kathmandu, Neem Chandra Bhowmik, was found by the Nepalese authorities to have indulged in a range of non-diplomatic activities, prompting the Nepalese foreign ministry to urge Dhaka for his immediate withdrawal from the Himalayan kingdom. One source said, some of the allegations against Bhowmik involved spying on behalf of India, something the Maoist-dominated Nepalese elites found utterly reprehensible, undiplomatic and damaging to their national interest. “Dhaka has launched an investigation to verify those allegations,” according to the source.

https://i2.wp.com/www.ittefaq.tv/Pic/Profneemchandrabhowmik.jpg

Neem Chandra Bhowmik involved spying on behalf of India

A former teacher of the Dhaka University, Bhowmik has been a leading stalwart in the Hindu-Buddhist-Christian Association of Bangladesh prior to his hand-picked, mysterious nomination in 2009 to serve as Bangladesh’s High Commissioner in Nepal. The army-backed caretaker regime once arrested and imprisoned him for stirring trouble between soldiers and students in August 2007.

If that was not enough, another hand-picked émigré academician cum diplomat had caused further embarrassment to the government by meeting last week with the exiled Tibetan leader, Dalai Lama, in New York. Dr. A.K. Abdul Momen, who too was chosen as a blue-eyed buddy of the PM to become Bangladesh’s Permanent Representative to the UN, did not even bother to ponder how his meeting with the Tibetan exiled leader would throw a deadly spanner on Bangladesh’s long-held one-China policy.

Free transit

For too long, an agile and doggedly arrogant pro-Indian cabal has showcased the transit deal as a cash cow for Bangladesh. Now, weeks before the deal is set to be inked and wrapped, the economic gains seem negative when the cost of maintaining and securing the infrastructure is subtracted from whatever may be levied as transit royalty from the ferrying Indian vehicles. Besides, not only our limited road infrastructures will be overcrowded-and the venomous wrath of secessionist forces of Indian north east, the Chinese anger notwithstanding, will be drawn into-there is no other tangible quid pro quo laced with the deal. Compare this with how diplomacy got conducted in the past. Soon after the partition of India in 1947, Nehru wrote to Jinnah seeking transit facilities from the Chittagong port to the Indian North Eastern states. Jinnah replied, “Excellency, this request can be honoured in a mutually beneficial manner. Please allow Pakistan to ferry goods from the Karachi port to East Pakistan via India.” Nehru never responded to that counter-offer.

Border dispute

That old-fashioned Indian bluff is called once again due to Delhi showing no intention of resolving the outstanding border demarcation issues with Bangladesh. The euphoria expressed on July 14 by Kamal Uddin Ahmed, a Bangladesh government official involved in the bilateral survey of population living in adverse possessions in both countries, that the so-called head count survey by 125 surveyors from both the countries would be completed in 7 days to prepare ground for the boundary dispute settlement during the Indian PM’s Dhaka visit, has turned sour within days.

On July 17, survey at the Mehgalaya-Bangladesh border had to be abandoned due to what the state-controlled Press Trust of India (PTI) said “difference of opinion between the two sides regarding the location of the international border.” Of course there is difference of opinion, but how long this stalemate can linger?

The decision to jointly verify the enclave population was taken last September and a Joint Boundary Working Group (JBWG) was created to resolve disputes along the Dibirhaor, Sripur, Tamabil, Sonarhat, Bichnakandi, Protappur and Lalakhal in Sylhet, abutting Meghalaya. Other enclaves slated for the survey and demarcation abut the Cooch Behar and Jalpaiguri districts of West Bengal, and, some are along the Kurigram, Nilphamari, Lalmonirhaat and Pachagarh districts of Bangladesh. The survey on hold, no deal on border dispute settlement is expected sooner.

Bitter past

That Delhi is reluctant to settle this combustive matter became clear from other indications. Indian officials claim the population of 111 Indian enclaves is around 100,400 while the 51 Bangladeshi enclaves inside India have 44,000 residents only. Bangladesh, on the other hand, claims it has 55 enclaves inside India and the population of those enclaves is about 150,000 to 300,000. The two nations share over 4,000 km of border, of which about 6.1 km was thought to have remained un-demarcated. Upon closer look, over 15 km of border is found un-demarcated.

Besides, according to Bangladeshi officials, 7,000 acres of Bangladeshi land is inside India and only 3,500 acres of Indian land inside Bangladesh, which India claims to be 17,000 acres. From these wide variations, one can deduce the prospect of additional danger, unless some agreements are arrived at sooner.

That notwithstanding, the tactic being applied by Delhi is reminiscent of what it did in the 1970s. Dhaka and Delhi signed a land border agreement in 1974 and Dhaka expeditiously executed, ratified and handed over the Tin Bigha corridor to India, in return for the Indian commitment to hand over Berubari to Bangladesh. But Delhi never bothered to return Berubari to Bangladesh.
Thus the border demarcation issue remained on the ice, and, for four decades, the residents of Berubari and other enclaves, who are virtually stateless refugees, crossed the international border every day for cultivation and other chores by enduring strict official formalities enforced by the Indian border security personnel.

Things turned further painful when, since 2003, India started to encircle Bangladesh by constructing barbed wire fencing at a cost of $ 3 billion, and, the killing and maiming of thousands of Bangladeshis by the BSF continued unabated. Faced with such hard facts, how Dhaka can concede to unreasonable pressures from Delhi is beyond a sane person’s comprehension.

In politics, permanent interest is more important than cosmetic friendship cloaked under a deceptive blend of hoodwink, guile and blackmailing. There are proxy wars in the Indian North East and they must conclude through political means. If the US can conciliate with the Taliban, Delhi should do the same with the ULFA and the others. Only then a transit through Bangladesh will be risk free.

A Nation Who Can Not Count Their Dead Is A Dead Nation

It is pathetic to live with totally unfounded figures. Three millions gives us a count of 11,111 persons dead per day in a nine month period. Not only that, the statistics comes out to be 50 people dead through the actions of each occupying forces.

https://i0.wp.com/img3.allvoices.com/thumbs/image/609/480/60371046-mujib-rahman.jpg

Sheikh Mujibur Rahman

Serajur Rahman, retired deputy head, BBC Bengali Service, London, expressed his surprise and horror at Mujib‘s figure of 3 million Bangladeshi war dead. In a letter to the Guardian, UK, on 24 May 2011, he stated that he mentioned to Mujib, on 8 January 1972, the figure of three lakh (three hundred thousand) as their (BBC’s?) estimate of the death toll in 1971 war, but Mujib in an interview with David Frost, mentioned the figure to be 3 million, which may be a mistranslation or a confusion.  

(However, there are people who think that the figure of 3 million was prompted to Mujib by India. Even after 40 years of the war, there has been no national or international field investigation to determine the death toll figure. Even if it is done now, it has to be done objectively, without political bias and with no scopes for distortions. The published figures, so far, vary greatly. The Hamoodur Rahman commission of Pakistan put the figure as low as 26,000 civilian casualties, whereas published books vary with figures between 200,000 and 3 million.)

https://i0.wp.com/sonarbangladesh.com/blog/uploads/prantic201106091307643729_SirajurRahman$.jpg

Serajur Rahman’s letter to the Guardian, UK, is as follows: 
(Please click to read)

 

https://i0.wp.com/static.guim.co.uk/static/c68161ce73a4b10edc6f70d985ad3df9978299c1/zones/news/images/logo.gif

 

Source : Bangladeshi-Americans Living in New England

 

%d bloggers like this: