• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,721 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

পিলখানা হত্যাকান্ডঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ভারতীয় ষড়যন্ত্র [অধ্যায়-২]

[১ম খন্ড] -এর পর

৩. ঘটনা-পরবর্তী ভারতীয় প্রতিক্রিয়া

বিডিআর হেডকোর্য়াটারে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরপরই ভারতীয় রাষ্ট্র সংশি−ষ্ট ব্যক্তিবর্গের উক্তি থেকে শুরু করে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি এবং সে দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরগুলো যে কোন ব্যক্তিকে উদ্বিগ্ন করার জন্য যথেষ্টনির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে।

৩.১ ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোভাব বলে দেয় যে তারা এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে:

#ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/pranabmukherjee.jpg?w=300

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

#“…এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি একাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে”। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নেতাদের বৈঠকে একথা বলেন, যা আউট লুক-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়।

https://i2.wp.com/omsnewsbd.com/wp-content/uploads/2011/02/1278693921031.jpg

শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষা করার প্রয়োজন কেন ভারতের? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ২৫ফেব্রুয়ারীর ঘটনার পর বিডিআর এর যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ভারত শেখ হাসিনার মাধ্যমে করাতে চায়। এমনকি সম্ভব হলে তারা নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সংস্কারও করতে চাইবে।

৩.২ ভারতের সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। এই প্রস্তুতি সম্পর্কে মিডিয়ায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

https://i2.wp.com/www.mysarkarinaukri.com/files/images/Logo%20-%20Indian%20Army%20-%201.jpg

বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো

১.ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজী দৈনিক Hindustan Times এ গত ২ মার্চ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। পত্রিকাটি জানায় যে, বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী (আইএএফ) IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। আসামের জোরহাটে অবস্থিত ভারতের সবচাইতে বড় বিমান ঘাটিকে এই সহায়তা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

২.বিএসএফ এর একজন ডাইরেক্টর জেনারেলের উক্তি থেকেও ভারতের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গত ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এই সঙ্কট (শুরু) হবার পর, আমরা ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত আমাদের সকল সৈন্যদল ও অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/bsf_logo.gif?w=289

ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছিল

৩.বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানা যায় ঘটনার পরপরই সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্যের পাশাপাশি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ব্লাকক্যাট মোতায়েন করে। একই সাথে সমস্ত সীমান্ত জুড়ে রেডএলার্ট জারি করে।

৪.ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছে

স্বাভাবতই প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিডিআর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহকে ঘিরে ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্রের এতো প্রস্তুতি কেন। আর যাই হোক এই বিদ্রোহ কোনভাবেই ভারতের জন্য নিরাপত্তা হুমকি ছিলো না। আর তাছাড়া যে বিদ্রোহের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা (প্রধানমন্ত্রীর সংসদে প্রদত্ত ভাষ্য অনুযায়ী) প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, যে জন্য তারা সেনা অফিসারদের রক্ষায় দ্রুত সামরিক অভিযানে না গিয়ে ৩৬ ঘন্টা যাবত হত্যাকারীদের সাথে একের পর এক বৈঠক করে ধীর স্থিরতার সাথে রাজনৈতিকভাবে সামরিক বিদ্রোহ দমন করলেন, সেই বিদ্রোহের গুরুত্ব বা ভয়াবহতা ভারত সরকারই বা কিভাবে বুঝে  ফেললো ? এছাড়া এ দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যে কোন বিদ্রোহ দমনে এ দেশীয় দক্ষ সেনাবাহিনীই যথেষ্ট, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তাহলে, ভারতের মিশন কী? বাংলাদেশের বর্তমান বন্ধু সরকারকে রক্ষা করা? বাংলাদেশের সরকারকে রক্ষা করবে ভারতীয় বাহিনী। কেন? আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নেই?  নাকি প্রধানমন্ত্রী তাদের বিশ্বাস করেন না?

৩.৩ ভারতের মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

২৭ ফেব্রুয়ারীর পূর্ব পর্যন্ত এদেশের জনগণও পুরোপুরিভাবে তথাকথিত এই বিদ্রোহের আসল রূপ বুঝতে পারেনি। অথচ পুরো সময়ে ভারতীয় মিডিয়া ছিল অত্যন্ত তৎপর:

https://i2.wp.com/news.xinhuanet.com/english/2009-02/27/xin_232020627170629681248.jpg

আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো?

১.বিডিআর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তার নিহত হবার সংবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল এনডিটিভিতেই সর্বপ্রথম প্রচার করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ঘন ঘন বিডিআর হেডকোর্য়াটারে যাতায়াত করে হত্যাকারীদের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করেও যেখানে গণহত্যার খবর পায়নি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো? তাহলে কি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা বিডিআর হেডকোর্য়াটারের ভেতরে অবস্থান করছিলো?

২.ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী ভারতের বিখ্যাত ম্যাগাজিন আউটলুকে বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৩.ঘটনার পরপরই ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ায় বিডিআরকে একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বাহিনী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪.আর আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ এর মত পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আক্রমণ করে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রচার করেছে। এমনকি বিডিআর-এর ঘটনায় জঙ্গী কানেকশন ভারতীয় মিডিয়াই প্রথম আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে একই ধরণের কথা আমরা এদেশের মন্ত্রীদের মুখে শুনতে পাই।

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৪. সরকারের ভূমিকা

৪.১ ফেব্রুয়ারী ২৫-২৬

পরিস্থিতির বিশ্লে−ষণ থেকে বুঝা যায় ঘটনার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেএতো বড় ঘটনার পরিকল্পনা চলছিল আর সরকার তা জানে না, একথা মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশি−ষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কেন শুরুতেই অনভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে যারা কতিপয় বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? অথচ তারা সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সরকার কি উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলো? যে ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তারা দেড় দিন ধরে লাশ গুম, ব্যাপক লুটতরাজ ও সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের উপর নির্যাতন করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকালে বিডিআর সদর দপ্তরের আশেপাশের লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রকৃতপক্ষে কি ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়নি? সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে? যেসব বিদেশী নাগরিক আইডিসহ ধরা পড়েছিল, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল কেন? বিমানে করে কারা পালালো? দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তারা এই রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তাদের এই সব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

https://i0.wp.com/barta24.net/uploads/editoruploads/sahara-khatun-on-mobile-phone.jpg

সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে?

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বললেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট…”।

https://i2.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2010/11/21/2010-11-21__fro22.jpg

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট...” এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেনারেল অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন।

লে. জে. শওকত অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন। একই ধরণের কথা আরো অনেকেই বলেছেন। তাহলে আধা ঘন্টার সামরিক সমাধানের পরিবর্তে ৩৬ ঘন্টার তথাকথিত রাজনৈতিক সমাধান হলো কেন? এর আগে জনাবা সাহারা খাতুন ও নানক সাহেব কয়টি বিদ্রোহ দমন করেছেন? ধানমন্ডির এমপি তাপস সাহেব মিডিয়ায় বললেন, ‘চমক আছে’! কী চমক? বাষট্টি সেনা কর্মকর্তার লাশ? নাকি সকল হত্যাকারীর পলায়ন! এখানে আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন যে বিদ্রোহের সংবাদ জানার পর তিনি সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করে জেনেছেন সেনাবাহিনী আসতে দুই ঘন্টা লাগবে? কোনটা সত্য? আধা ঘন্টা না দুই ঘন্টা? রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নাকি ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকিয়েছেন। আসলে কি তাই? প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে ১৪ জন মিটিং করেছিল, তারা সবাই কি গ্রেফতার হয়েছে? তাদের তালিকা কোথায়? অনেকে বলেছে সরকার দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এর তুলনা করা যেতে পারে এভাবে – অপারেশন সাকসেস্‌ ফুল, কিন্তু রোগী মারা গিয়েছে। বাস্তবতা হলো বিদ্রোহ দমন করা যেত, দমন করা হয়নি। সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচানো যেত, বাঁচানো হয়নি।

আমরা বীর সেনা কর্মকর্তা হারালাম, বিডিআরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংস হলো, হত্যাকারীরা পালালো -এইসব কারণেই সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

৪.২ ঘটনা পরবর্তী সরকারের ভূমিকা

যে মন্ত্রী তথাকথিত বিদ্রোহীদের সাথে দর কষাকষি করেছে সে জাতির সামনে বলেছেন যে, বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পিছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং এই ষড়যন্ত্র বাস্ত বায়নের জন্য লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি সকল তদন্ত শুরু হবার আগেই এবং ঘটনার দুই দিনের মাথায় প্রকাশ্য সমাবেশে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে তবে কি তিনি আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতেন। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এখন সরকার ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের কথা বলে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিডিআরের ঘটনায় বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা অসংলগ্নতায় পরিপূর্ণ এবং বাস্তব ঘটনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। যেমন তিনি বলেছেন সরকারকে বিব্রত করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে অথচ জনগণের কাছে পরিষ্কার যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, সকাল ১১টার মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এটা জেনে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দু’দুবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহের পিছনে বৈধ কারণ রয়েছে

https://i0.wp.com/neawamileague.com/elements/joy.jpg

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়

যেভাবে তথাকথিত বিদ্রোহীরা প্রথম দিন টিভি ক্যামরার সামনে এসে তাদের দাবী দাওয়ার কথা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছিল, একই প্রক্রিয়াই সজীব জয় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন

ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসেছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও বৃটেন বাংলাদেশের ঘটনার তদন্ত করবে। অথচ এই মার্কিন-বৃটিশরা সারা বিশ্বে মুসলিম নিধনে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, এরা সবাই সরকারকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে এই বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার সাথে সংশি−ষ্ট ভারত ও ভারতের এদেশীয় দোসরদের ভূমিকার দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে।

সরকার মিডিয়াকে দায়িত্বশীল আচরণের কথা বলে এখন সত্য প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের একটি অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছে যাওয়ায় সরকার ঐ ওয়েব সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। হিযবুত তাহ্‌রীর, বাংলাদেশ এই ঘটনার বিশে−ষণ করে ভারতকে দায়ী করায় ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করায় সরকার ৩১ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। জনগণ এমনকি সেনা অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কিছুই হয়না আর রাষ্ট্র রক্ষার জন্য রাজপথে নামলে হয় মামলা আর হয়রানি!

সরকার জনগণের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে দায়িত্বশীল হতে বলছে, অথচ তারা অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা দেখেছি সরকারের স্তাবকেরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছে, জঙ্গিবাদকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, এমনকি সরকারের বয়স মাত্র পঞ্চাশ দিন ইত্যাদি বলে ঘটনার দায়দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তদন্ত কমিটির কোন রিপোর্ট প্রকাশ না হতেই সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও মিডিয়া জঙ্গী গোষ্ঠীদেরকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা শুরু করেছে। আবার একই মন্ত্রী পরবর্তীতে বলছে যে জঙ্গীরা ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীও এই ঘটনার সাথে জড়িত।

যেখানে ভারতে কিছু ঘটলেই ভারত সরকার পাশ্ববর্তী দেশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে, সেখানে সরকার পরিকল্পনা করেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেণের উপসংহারে এসে আমরা বলতে পারি যে এই তথাকথিত বিদ্রোহ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যার সাথে ভারত এবং সরকারের ভিতরে ও বাইরের ভারতীয় দোসর শক্তিসমূহ সংশি−ষ্ট। সেনাবাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের হত্যাযজ্ঞে লাভবান হবে মুশরিক শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের দোসররা। বিভিন্ন দাবির আড়ালে বিডিআর এর চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড থেকে বিডিআরকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনক্‌শা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়বে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা-বিডিআর এর যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অথবা বাংলাদেশ রাইফেল্‌স এর যে কোন দুর্বলতা অথবা এই দুই প্রতিরক্ষা বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারত। ……..(চলবে)

 

পিলখানা হত্যাকান্ডঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ভারতীয় ষড়যন্ত্র [অধ্যায়-১]

184686_203377896344888_169748906374454_855995_6571003_n.jpg

১. সূচনা

বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনা, বিশেষ করে পরিকল্পিতভাবে সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংস হত্যাকান্ডে দেশবাসী মর্মাহত ও বিক্ষুদ্ধ। আমরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সকলের রূহের মাগফেরাত কামনা করি ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নিরস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা, স্ত্রী ও সন্তানদের নির্যাতন ও হত্যা, গর্ভবতী মাকে খুন, লাশ পোড়ানো ও গণকবর তৈরী ইত্যাদি পৈশাচিক কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। গত ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকান্ড নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। পরবর্তীতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলে সরকারের মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়। এরপর আবার সরকারের এক মন্ত্রীকে গঠিত কমিটিগুলোর সমন্বয়কারী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়, যার উদ্দেশ্য তদন্ত কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সত্যকে আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের অবশ্য স্মরণ আছে অতীতে কোন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে কখনোই প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়নি, হলেও দেশবাসী তা জানতে পারেনি। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীরা সবসময় আড়ালেই থেকে গেছে। তবুও আমরা দাবি করব জঘন্য এ হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের মুখোশও উম্মোচন করতে হবে।

ইতিমধ্যে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’, আইএসআই, বিএনপি-জামায়াত জোট, জেএমবি, ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ইত্যাদি বহু নাম মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতির এই চরম দুর্দিনেও আমরা ক্ষমতাসীন সরকারকে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত আচরণ করতে দেখছি। প্রধানমন্ত্রী এবং তার একনিষ্ঠ সমর্থকরা যেভাবে কোনরকম দলিল-প্রমাণ ছাড়াই আক্রমণাত্মক কথার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিসমূহকে দায়ী করছে তাতে মনে হচ্ছে, সরকার প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতে অথবা যেনতেনভাবে দায় মুক্ত হতে চায়।


২. ঘটনার বিশেষণ – সন্দেহের তালিকার শীর্ষে ভারত

২.১ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

পিলখানা ষড়যন্ত্রের মূল রহস্য উদঘাটন করতে হলে প্রথমে সমগ্র বিষয়টিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে। দেশের অস্তিত্ব বিরোধী এতো বড় একটি ষড়যন্ত্রের পেছনে বাইরের শক্তির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব সমপ্রতি বিশ্ব রাজনীতির স্পটলাইট মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দক্ষিণ এশিয়াতে স্থাপন করেছে। এজন্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ভারতের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত ও চীনের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের গভীরে সামরিক ঘাঁটি তৈরী করতে (যাকে তারা এখন বলছে বঙ্গোপসাগরে নৌ-টহল দেয়া) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি তাঁবেদার সরকার বসাতে চেষ্টা করছে, যে তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ইদানীং পরস্পরের মিত্রশক্তিতে পরিণত হলেও দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে ভারতের আছে নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা। বস্তুতঃ ভারত এই উপমহাদেশে নিজেকে চালকের আসনে দেখতে চায়, আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চায় এবং এ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যেই নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান, মিয়ানমার কিংবা বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলোকে ক্রমশঃ ভারতের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়ার রয়েছে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

আধিপত্যবাদী এই নীতি থেকেই ভারত সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে অস্থিতিশীল দেখতে চায়, পরিণত করতে চায় ব্যর্থ রাষ্ট্রে। যেন ভুটানের মতো বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও নেপালও রাষ্ট্র হিসাবে ব্যর্থতার গ−ানি কাঁধে নিয়ে একসময় ভারতের অর্ন্তভূক্ত হয়ে যায়। এ লক্ষ্যে ভারত সবসময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নানারকম অপতৎপরতা বা অপপ্রচার। বিগত বেশ ক’বছর যাবত বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসাবে ব্যর্থ প্রমাণ করতেও চলছে একই রকম অপতৎপরতা। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করতে সেনাবাহিনীর ইমেজ নষ্ট করারও চেষ্টা চালানো হয়েছে বিভিন্নভাবে। এই প্রসঙ্গে গত ১৯নভেম্বর ২০০৮ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো কর্তৃক লিখিত ও Harvard International Review নামক পত্রিকায় প্রকাশিত Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধের সারমর্ম উলে−খ করা যেতে পারে। ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ এর নির্বাচনের পূর্বে লিখিত এই নিবন্ধে জয় বলেছে ÒThe Islamists cleverly began growing their numbers within the Army by training for the Army Entrance Exams at madrassas.Ó অর্থাৎ সেনাবাহিনীতে চালাকি করে মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকে পড়ছে; এটা হচ্ছে মাদ্রাসা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। তিনি ঐ নিবন্ধে এ সম্পর্কে অসংখ্য তথ্য (তথাকথিত) উপস্থাপন করেছিলেন যার কোন সূত্র উলে−খ করা ছিল না। সেনাবাহিনীর ইসলামীকরণ ঠেকানোর জন্য তিনি Toward Renewal: A Secular Plan শিরোনামে অনেক কিছুর মাঝে সেনাবাহিনী পূনর্গঠনের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেছিলেন। এছাড়াও ভারতের এ দেশীয় দালালরা বিভিন্ন টকশো বা সভা-সেমিনারে এ দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করেছে এবং জনগণ ও সেনাবাহিনীর মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

শক্তিশালী নেতৃত্ব, শাসনব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে তা হবে ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির জন্য হুমকি স্বরুপ কারণ, তাহলে অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্য তা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং তারাও ভারতের প্রভাববলয় থেকে বের হয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। পরিণতিতে ভারতের ‘অখন্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরক্ষণেই কংগ্রেস সভাপতি আচার্য কৃপানলি বলেছিলেন : Neither the Congress nor the nation has given up its claim of United India’ -কংগ্রেস কিংবা জাতি অখন্ড ভারতের দাবি পরিত্যাগ করেনি। ভারতের তৎকালীন প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল−ভ ভাই প্যাটেল বলেছিলেন : ‘Sooner than later, we shall again be united in common allegiance to our nation.’ অর্থাৎ অতি সত্বর আমরা জাতি হিসেবে আবার একীভূত হব। ল্যাবি কলিন্স ও ডমিনিক লেপিয়ার লেখা বই মাউন্ট ব্যাটেন অ্যান্ড দ্য পার্টিশন অব ইন্ডিয়া-য় বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলার তখনকার দাবির বিরুদ্ধে হিন্দু মহাসভার আপত্তি সমর্থন করেছিলেন পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু। এ প্রসঙ্গে মাউন্ট ব্যাটেন উলে−খ করেন: Pundit Neheru has stated that he would not agree to Bengal being independent… In his opinion, East Bengal was likely to be a great embarrassment to Pakistan. Presumably, Pundit Neheru considered East Bengal was bound sooner or later to rejoin India.’ অর্থাৎ পন্ডিত নেহেরু বলেছেন যে তিনি স্বাধীন বাংলা মেনে নেবেন না। … তার মতে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। পন্ডিত নেহেরু মনে করতেন যে পূর্ব বাংলা এক সময় ভারতের সাথে যোগ দিবে। এখানে ইন্ডিয়া ডকট্রিনের প্রতিফলন রয়েছে। ইন্ডিয়া ডকট্রিনের সারকথা হচ্ছে – দক্ষিণ এশিয়া হচ্ছে একটা স্ট্র্যাটেজিক ইউনিট, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে; আর ভারতই এ অঞ্চলের জন্য একটি আঞ্চলিক নীতি প্রণয়নের অধিকার রাখে। আমরা শুনেছি গুজরাল ডকট্রিনের কথাও – ভারত তার স্বার্থের প্রতি আঘাত সৃষ্টিকারী যেকোনো দেশের ওপর আক্রমণ চালানোর অধিকারও রাখে।

২.২ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক আচরণ

এ দেশের বামঘরানা ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতির মানুষেরা কোন এক রহস্যজনক কারণে ভারতের ব্যাপারে অত্যন্ত রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই গত ৩৮ বছর যাবত বাংলাদেশের প্রতি ভারতের তীব্র শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব ও চরম বিমাতাসুলভ আচরণের পরও তারা সকল ক্ষেত্রে ভারতকে ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকার বাইরে রাখেন। প্রয়োজনে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে হলেও তারা ভারতমাতার স্তুতি গাওয়াকেই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও ভারত প্রেমিক বুদ্ধিজীবি ভারতমাতার পায়ে জীবন উৎসর্গ করতে চান। মেনে নিতে চান ভারতের সকল অন্যায় ও অযৌক্তিক দাবী-দাওয়া। কিংবা, ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসনমূলক কার্যকলাপকে দেখেন মাতৃসুলভ স্নেহের দৃষ্টিতে। গত ৩৮ বছরে বাংলাদেশের সাথে ভারত যে বন্ধুপ্রতিম (?) আচরণ করেছে তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

১.প্রায় ৪ হাজার কি.মি. দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের ভূমিকা আগ্রাসনমূলক। বিএসএফ গড়ে প্রতি তিনদিনে একজন করে বাংলাদেশী হত্যা করছে বলে তথ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এদের বেশীর ভাগই নিরীহ গ্রামবাসী। এমনকি ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নিরীহ গ্রামবাসীদের সম্পদ লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্য কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

২.আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত সীমান্তে দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া তৈরী অব্যাহত রেখেছে।

৩.মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করলেও, বাংলাদেশ এখনো তিনবিঘা করিডোর ফেরত পায়নি। উপরন্তু, এ সব অঞ্চলের মানুষেরা স্বধীন দেশের নাগরিক হয়েও গত ৩৮ বছর যাবত উম্মুক্ত জেলখানায় বন্দী হিসাবে দিন কাটাচ্ছে।

৪.বাংলাদেশের সীমানায় জেগে উঠা তালপট্টি দ্বীপকে ভারত জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। নীলফামারী, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো এদেশের হাজার হাজার একর জমি ভারতের দখলে রয়েছে।

৫.আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভারত আমাদেরকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখী বাঁধসহ উজানে আরও ডজন খানেক বাঁধ দিয়ে এদেশকে পুরোপুরি মরুভূমি করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ভারতের ‘আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতিতে ডেকে আনবে চরম বিপর্যয়। কমে যাবে নদীর নাব্যতা, মিঠা পানির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাবে, আর্সেনিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে এবং ক্রমশ: বাংলাদেশের বিশাল এলাকা পরিণত হবে ধূ ধূ মরুভূমিতে।

৬.চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ভারত এদেশে মাদক, জালমুদ্রাসহ ভারতীয় বিভিন্ন নিম্নমানের সামগ্রী ঠেলে দিচ্ছে। আর, অপরদিকে এদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে তেল ও সার। বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত রির্পোট থেকে জানা যায়, পিলখানা ট্রাজেডির পর সীমান্তে বিডিআরের অনুপস্থিতির সুযোগে এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সার ভারত ও মিয়ানমারে পাচার হয়ে গেছে। আর দেশে প্রবেশ করেছে মাদকসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ভারতীয় সামগ্রী।

৭.ভারত সবসময়ই এদেশীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। নানাভাবে উস্‌কে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে। ২০০৭ সালের ১৭ আগষ্ট সিরিজ বোমা হামলার সাথেও ভারতের সংশি−ষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সেইসাথে জেএমবি নেতাদের বহুবার ভারত যাওয়া আসার প্রমাণ মিলেছে।

৮.খোদ ভারতের মাটিতেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় ‘নিখিল বঙ্গ সংঙ্ঘের’ ব্যানারে চলছে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র। সমপ্রতি কলকাতার বঙ্গসেনারা এদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক একটি প্রবাসী বঙ্গভূমি সরকার গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাদের শে−াগান ছিল ‘বঙ্গভূমির দখল চাই’। তারা ভারত সরকারের চোখের সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই হীন অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

৯.বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য ভারত দীর্ঘ এই সীমান্ত অঞ্চলে অসংখ্য ফেনসিডিলের কারখানা তৈরী করেছে এবং অবৈধ উপায়ে তা বাংলাদেশে পাচার করছে। ফলে মাদকের মরণনেশায় ধ্বংস হচ্ছে এ দেশের যুবসমাজ।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশের বিরুদ্ধে ভারতের এত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার পরও বিগত ৩৮ বছর ক্ষমতাসীন প্রতিটি সরকার ভারতকে বন্ধুর মর্যাদায় আসীন করে তার প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি  করেছে। শুধু তাই নয়, তারা বিভিন্ন সময় ভারতকে এদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে।

২.৩ সন্দেহের তালিকার শীর্ষে ভারত কেন?

বর্তমান সরকার ও তাদের ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন – ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করবে না, কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়; যারা বর্তমান সরকারকে হটাতে চায় তারাই এসব করেছে; এসবের পিছনে জঙ্গিরাও থাকতে পারে – তাদের এসব কথার কোন ভিত্তি নেই:

প্রথমত: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। অতীতেও ভারত এই প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের ‘অখন্ড ভারত’ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক শক্তির মর্যাদা লাভের পথ সুগম হয়।

দ্বিতীয়ত: মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সবসময়ই ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সবেচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী। এখানেও লাভবান একমাত্র ভারত। যেসব মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের মত সেনা কর্মকর্তা তৈরী করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। উপরন্তু এই সেনা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বিডিআর ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যে সন্দেহ এবং ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হবে, তার দীর্ঘ মেয়াদী সুবিধাও যাবে ভারতের পকেটে।

তৃতীয়ত: দেশের সীমান্ত অরক্ষিত হলে সবচেয়ে সুবিধা হবে ভারতের। ভারত এ সুযোগে অনেক পুশ ইন করবে, যার মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, ভারতীয় মটর সাইকেল এবং কিছু মানুষ, যারা কোন ঘটনা ঘটাবার অপেক্ষায় থাকবে। অন্যদিকে বিডিআরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিডিআরকে তার পূর্বের শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। ……..

Source : http://www.facebook.com/notes/we-are-muslims-in-bangladesh/pilkhana-hottakando-government-and-indian-conspiracypart-1/167677773283764

Remembering Pilkhana Massacre

Source : BLiTZ

by Salah Uddin Shoaib Choudhury

Click To Enlarge

February 25 is just a week ahead! On this day in 2009, just a month after Bangladesh Awami League formed government, anti-army revolt broke out inside the Head Quarters of Bangladesh Riffles [now Bangladesh Border Guards]. At least 73 army officers were brutally murdered during this mutiny, while a large number of family members of the army officers were humiliated, assaulted and violated by the renegades. Right after the incident, a number of officers expressed their anger in presence of the Prime Minister at the Sena Kunja meeting. They demanded neutral and prompt investigation as well punishment of the culprits.


বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-৫ম খন্ড

Source : Nagorik Blog

আজকের পর্ব লেখার আগে কয়েকটা কথা বলতে চাই। আমি আগেই বলেছি আমি এই লেখাটা অন লাইনে শুধু নাগরিকব্লগেই প্রকাশ করছি, অন্য কোনো ব্লগে করিনি। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য আমার এই লেখাটি অনেকেই নিজের নামে সুন্দর করে প্রকাশ করে যাছে আমার লেখার লিঙ্ক রেফারেন্স ও নাম ব্যাতীত। এরকম একটি লেখা আমি আমার বর্ণমালা নামক একটি সাইটে দেখতে পাই। লেখকের নাম ডার্ক জাস্টিস। তিনি আমার লেখা কোনোরূপ রিকগ্নেশন ছাড়াই এই সিরিজের ২য় পর্ব তার নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। আমি এই লেখা দেখতে পেয়ে আমারবর্ণমালা ব্লগের কর্তৃপক্ষকে জানাই। কিন্তু আজ কয়েকদিন হয়ে গেলো আমার চিঠির ও প্রতিবাদের কোনোরকমের প্রতিউত্তর পাইনি। আমি বুঝতে পারছিনা এটা কিভাবে সম্ভব। একটা লেখার সাইট বানিয়ে বসে আছে এবং তাদের নাকের ডগা দিয়ে এতবড় অন্যায় করছে তা ধরিয়ে দেওয়ার পরেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। এই ব্যাপারে আমি নাগরিকব্লগের হস্তক্ষেপ কি কামনা করতে পারি? যেহেতু আমি আপনাদের এখানে ছাড়া আর কোনো অন লাইন ফোরামে লেখাটা প্রকাশ করি নাই, সেহেতু আমার বর্ণমালা ব্লগের এমন চৌর্যবৃত্তিমূলক কাজের জন্য আপনারা কি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন? দয়া করে আমাকে ই-মেইলে জানাবেন।

এই লেখার ১ম২য়৩য়৪র্খ খন্ডের পর-

তাদের এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় এলপিআর থেকে আব্দুল কাহহার আকন্দকে ফিরিয়ে এনে সিআইডির তদন্ত টিমের প্রধান করা হয়; যিনি প্রধানমন্ত্রীর একজন চেনা সমর্থক বলে পরিচিত। দু’দশক আগে একদল তরুণ সামারিক কর্মকর্তা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর পিতার হত্যাকান্ডের এফআইআর তদন্তে তার সাফল্য তেমনটি ছিল না। বিগত সাধারণ নির্বাচনে একটি আসনে প্রার্থিতার জন্য তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন তবে এলপিআর এ থাকার কারণে তিনি দাড়াতে পারেননি । তাই স্পষ্টতঃই তার দলীয় আনুগত্য ও তদন্তকারী হিসাবে অলৌকিক দক্ষতা প্রদর্শনকে অস্বীকার করার জো নেই; পিলখানা হত্যাযজ্ঞে তার দায়িত্ব ছিল সহজ; যাতে সামরিক তদন্তের পা্রমাণ্য আলামত থেকে বেরিয়ে আসা সকল গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করা যায়।

সরকারের এ সকল পূর্বনির্ধারিত নীতি ও খেলার কারণে সামরিক তদন্ত সংস্থা তেমন কোন সঠিক কাজ করতে পারেনি। তারা কেবল সম্মানজনক একটি কাজ করতে পেরেছে যে, প্রতিবাদ করে অবসরে যাওয়া। তবে তা করলে দেশ আরও গভীর সঙ্কটে নিপতিত হত এবং তদন্ত সংস্থার সদস্যরা হেরে যেত যেখানে তাদের অনেক ক্ষমতাধর সহকর্মী সমর্থনের দোষে দুষ্ট ছিল তদন্ত বোর্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ( কিউএমজি জিএইচকিউ) তার সততা ও নিষ্ঠার জন্য পরিচিত আবার তিনি বেশ সাবধানী ব্যক্তি। তাই আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে, জাহাঙ্গীর ও তার বোর্ড সদস্যরা যেমনটি উচিৎ ছিল তেমনটি ঘাটতে যাননি। এমনকি যখন প্রতিবেদনটি আমাদের কাছে দেয়াও অনিশ্চিত ছিল।

ব্যক্তিগতভাবে আমার মতে সত্য ও প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে জাহাঙ্গীর ও তার বোর্ড সদস্যদের ব্যর্থতার জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে; কারণ আমরা সেনা কর্মকর্তারা দেশ ও জাতির পক্ষে শপথ নিয়ে কাজ করি। তাই প্রয়োজনে আমরা চরম ত্যাগ স্বীকার করে থাকি। আমার ভয় হয়, আমরা আমাদের শত্রুর মোকাবেলায় আগ্রহী না হলে আমাদের জাতির কি দশা হয় কে জানে।
৪. পুরস্কার আব্দুল কাহহার আকন্দ ও তার সিআইডির তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সামরিক ট্রাইবুনাল ছাড়া হয়ত এক দু’জন বিডিআরের বিচার হবে; তাদের কয়েকজনের ফাসীও হতে পারে । তবে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ও সংঘটনে জড়িত রাঘব বোয়ালরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হয়ত ধরাছোয়ার বাইরেই থেকে যাবে। এ ্ অপরাধে প্রধানমন্ত্রী, তার পুত্র জড়িত সহযোগীদেও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আত্ম- রক্ষণাত্মক হওয়া উচিৎ ছিল। পিলখানা হত্যাকান্ডের বিদেশী প্ররোচকদের বাংলাদেশী হোতাদেও বিচার থেকে রক্ষা একটি ব্যবহারিক কাজ ছিল। /তারা তাদের খেলা শেষ করতে নয় বরং হত্যাকান্ডকে ু্সকে দিয়েছিল। অবশ্য এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রধানমন্ত্রী, তার পুত্র ও এ অপরাধে জড়িতদেও উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কিনা তা জানতে কোন আপত্তি ছিল না। অন্যথায় তার সম্মত না হলে প্রথম অবস্থানে তার বিদেশী প্ররোচকদের উদ্দেশ্য কি ছিল?

যেহেতু ভারতীয় র’ ছিল প্রধান প্ররোচক, বিদেশী প্ররোচকদের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে আমি প্রথমেই পিলখানা হত্যাকান্ডে তাদের উদ্দেশ্য দিয়ে শুরু করব। র’ এর উদ্দেশ্য বিবেচনায় পাঠককে বিডিআরকে ধ্বংস করার কথা ভুললে চলবে না, যাতে তা এমনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে যাতে ভারতীয় বিএসএফের সুবিধা হয়। বিদ্রোহের সময় প্রধানমন্ত্রীর তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় ওয়ার্ল্ড প্রেসকে বলেছেন সেনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে তার দরকার ছিল। তবে বিদ্রোহীদের চাহিদার বিবেচনায় সুস্পষ্ট ছিল যে, দুর্নীতির কারণে নয় তবে তাদের বৈষয়িক লাভের জন্য যাতে অবৈধ উপার্জনের সাথে পেশাগত উধর্্ব পদ লাভ হতে পারে। আরও স্পষ্ট যে, শেষোক্ত চাহিদার পরিবর্তনে যা ছিল বিদ্রোহীদের সবচেযে জোরালে দাবী যে বিডিআরের কমান্ড থেকে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার যা প্ররোচকদেও দ্বারা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল যে, মই্নুল ইসলামের মাধ্যমে দেশ পনর্বর্িক্রি করা। তাহলে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, বিদ্রোহের নেপথ্যেও কুশীলবদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, সেনা কর্মকতর্া ছাড়া আমাদের দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পুনর্গঠন। এ দাবী জোরালো তথা সোচ্চার করতে তাদের সহকর্মীরা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ নেবার চেয়ে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় , তাদের স্ত্রী ও কন্যাদেও অত্যাচার করা হয। প্রশ্ন হচ্ছে, কার জন্য বা কার স্বার্থে?

যেহেতু ভারতীয় র’ ছিল প্রধান প্ররোচক, বিদেশী প্ররোচকদের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে আমি প্রথমেই পিলখানা হত্যাকান্ডে তাদের উদ্দেশ্য দিয়ে শুরু করব। র’ এর উদ্দেশ্য বিবেচনায় পাঠককে বিডিআরকে ধ্বংস করার কথা ভুললে চলবে না, যাতে তা এমনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে যাতে ভারতীয় বিএসএফের সুবিধা হয়। বিদ্রোহের সময় প্রধানমন্ত্রীর তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় ওয়ার্ল্ড প্রেসকে বলেছেন সেনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে তার দরকার ছিল। তবে বিদ্রোহীদের চাহিদার বিবেচনায় সুস্পষ্ট ছিল যে, দুর্নীতির কারণে নয় তবে তাদের বৈষয়িক লাভের জন্য যাতে অবৈধ উপার্জনের সাথে পেশাগত উধর্্ব পদ লাভ হতে পারে। আরও স্পষ্ট যে, শেষোক্ত চাহিদার পরিবর্তনে যা ছিল বিদ্রোহীদের সবচেযে জোরালে দাবী যে বিডিআরের কমান্ড থেকে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার যা প্ররোচকদেও দ্বারা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল যে, মই্নুল ইসলামের মাধ্যমে দেশ পনর্বির্ ক্রি করা। তাহলে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, বিদ্রোহের নেপথ্যেও কুশীলবদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, সেনা কর্মকতর্া ছাড়া আমাদের দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পুনর্গঠন। এ দাবী জোরালো তথা সোচ্চার করতে তাদের সহকর্মীরা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ নেবার চেয়ে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় , তাদের স্ত্রী ও কন্যাদেও অত্যাচার করা হয। প্রশ্ন হচ্ছে, কার জন্য বা কার স্বার্থে?

বিডিআর কর্মকান্ড সম্পর্কে ওয়াকিফহাল যে কেউ জানে যে, আমাদের এ আধা- সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে:

(১) সীমান্তে চোরাচালান নিরোধ এবং
(২) আন্তর্জাতিক সীমান্তে যে- কোন প্রতিবেশী দেশের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ।

এ দুটো প্রাথমিক দায়িত্বের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়টিতে যথাক্রমে আনসার ও সেনাবাহিনী সহায়তা করে থাকে এবং উভয় কাজে তাদেরকেই সম্মুখ সারি রক্ষর দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরবর্তী দায়িত্বেও জন্য প্রোথমিকভাবে শুরু থেকেই সেনাবাহিনী কমান্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিডিআর কোন ব্যতিক্রম নয়। সেনা কর্মকর্তারা ঘনিষ্ঠ শত্রু বিএসএফকেও কমান্ড করে থাকে।
এ ধরনের বিন্যাসের সুবিধা চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়, কোন বাংলাদেশী কি কখনও শুনেছে যে বিএসএফের ভেতওে বা বাইরে তার কমান্ড অবস্থানে কোন পরিবর্তনের কথা উচ্চারণ করেছে? কেউ যদি এর প্রত্যুত্তরে বলে যে, আমাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতা নির্বিশেষে আমরা ভারতীয় উদাহরণকে অনুসরণ করতে আগ্রহী নয়, পাঠককে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, যখনই বিডিআর বিএসএফ দ্বারা আক্রান্ত বা বা পার্বত্য এলাকায় শান্তিবাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয় , কমান্ডিং অফিসারের অনুপস্থিতিতে প্রায়শই তারা তাদের অস্ত্র ফেলে পালিয়ে আসে। অন্যদিকে সেনা কর্মকর্তাদের কমান্ডে তারা ঠিকই শক্ত হাতে যুদ্ধ করে থাকে। এ কথার সত্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় লোকদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে তারা একই কথা বলবে।

কেউ এ সত্যকে এখনও মানতে না চাইলে পদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যাতে ২০০১ সালে বিডিআর জওয়ানরা সেনা কর্মকর্তাদের কমান্ডে যুদ্ধ করেছিল এবং বিএসএফকে বিতাড়িত করতে সঙ্ম হয়েছিল যারা কিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তওে বিডিআর ক্যাম্প দখল করতে এসেছিল। উভয় ঘটনায় আগ্রাসীরা কেবল বিতাড়িত হয়নি অনেক আক্রমণকারী প্রাণও হারিযেছিল। পরবর্তী ঘটনায় চারজন সেনা কর্মতকর্তা- একজন মেজর ও তিনজন ক্যাপ্টেনসহ বিডিআরের জওয়ানরা বি্েসএফকে তাড়ি য়ে দিতে পেরেছিল। পদুয়া ও রৌমারীর ঘটনায় যথাক্রমে ১৫ ও ১৫০ জন বিএসএফ জওয়ান নিহত হয়েছিল। রৌমারীতে ১২৮ টি মৃতদেহ স্থানীয় বিএসএফের কাছে হস্তান্তও করা হয়’ অবশিষ্ট ২২ টি মৃতদেহ ঢাকা থেকে ফেরৎ প্রদান করা হয় যা টিভি ক্যামেরায় পরিষ্কাররূপে দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এখনো ইটিভির সুপন রায়ের উপস্থাপনা মনে আছে।

এ সকল মোকাবেলায় বিডিআর জওয়ানদের তৎপরতার পার্থক্য হচ্ছে যে সেনা কর্মকর্তাদেও কমান্ড ছাড়া আমাদের আধা-সামরিক বাহিনী আমাদের সীমান্ত রক্ষায় পারঙ্গম নয়, বিদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নিকট থেকে যেমন। এমন নয় যে বিডিআর জওয়ানদের সাহসের কোন ঘাটতি রয়েছে। তবে কমান্ডিং অফিসারদের নির্দেশে আক্রমণ সংগঠিত করার কৌশল ও দক্ষতা রয়েছে তাছাড়া যুদ্ধকে।সত্রের নেতৃত্বেও একটি বিষয় রয়েছে । বেসামরিক কর্মকর্তাদেও নিকট থেকে তার প্রত্যাশা বাতুলতা ছাড়া কিছু নয়। এ প্রস্তাবের অসারতা বুঝতে স্বীকার করতে অন্য একটি ঘটনা বিবেচনা করতে হবে। আমাদেও সীমান্তে যদি কোন সংগঠিত আক্রমণের আশঙ্কা ব্যতিরেকে কোন সামর্থ ছাড়াই তারা দাড়াতে পারত, তারা আনসার বাহিনীর হত যা আমাদের ইতোমধ্যেই রয়েছে। তাহলে কেন আনসারদেরকে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োগ করা হচ্ছে না? সেনাকর্মকর্তাদের কমান্ড ছাড়া আনসার বাহিনী্ তার যথাযোগ্য কিন্তু দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকরা প্রকাশ্যে তেমন প্রস্তাব দেবে না; কারন তাতে তাদের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাবে। এমনকি আমাদেও দেশের যারা দূরহ ইসু্যতে আগ্রহী নয়; তারাও এমন প্রস্তাবকে চরম ধোঁকাবাজি বলেই গণ্য করবে বস্তুত: আমাদেও ঘুমন্ত জাতিকে সুখ নিদ্রায় বিভোর রাখার জন্যে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকরা তদেও বিদেশী প্রভূদেও সহায়তায় আনসার এর মত একটি দন্ত বিহীন অনুজীব বাহিনী আমাদেও সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত করার অপচেষ্টা চালায়। আমাদের নূতন বিডিআরের ডিজির যুক্তি অনুসরণ করলে তা বিদ্রোহীদেও সকল কুকীর্তি মুছে যায়।

এখানে জিজ্ঞাস্য হচ্ছে: কেন র’ বাংলাদেশকে একটি দন্তহীন সীমান্ত রক্ষী বাহিনী হিসাবে পেতে চায়? তাদের হীন উদ্দেশ্য একটি নয়, একাধিক। ২০০১ সালের পদুয়া ও রৌমারীর মত অনেক ঘটনায় সেরকম উদ্দেশ্য বা মতলব দেখা যায়। সিলেট সীমান্তের ৫০০ একর আয়তনবিশিষ্ট পদুয়া ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক মুক্তিবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হলে মুক্তিবাহিনী চলে গেলে ক্যাম্প খালি হলে পরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিকট থেকে বিএসএফ তার দখল নেয় এবং তাদের দখলে রাখে। অনেকবার পতাকা বৈঠকে বিএসএফ তা ফেরৎ দেবার কথা বলেছে তবে বরাবরের মতই তারা তাদের কথা রাখেনি। ২০০১ সালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান আমাদের স্থানীয় বিডিআরের কমান্ডারকে পদুয়া থেকে বিএসএফকে বিতাড়নের নির্দেশ দেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে আলোচনাক্রমেই তিনি এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিডিআরের ডিজির পরিকল্পনা অনুমোদনের পূর্বে নাসিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনা করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছু না বলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেন। তার অবিরোধিতাকে নাসিম তার অনুমোদেনের সম্মতি হিসাবে বিবেচনা করে ফজলুর রহমানকে অগ্রসর হতে বলেন। সে অনুসারে চাপ প্রয়োগে পদুয়া থেকে বিএসএফকে বিতাড়নে করা হয়েছিল এবং তাদের জীবিত ও মৃত সৈন্যদেরকে ফেরৎ প্রদান করা হয়েছিল। তাদের অবৈধ দখল পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে কিছুদিন পরে বিএসএফ বিপুল সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রৌমারী আক্রমণ করে। ভারতীয় সামরিক শক্তির বিস্ময়ে হতবাক করে আক্রমণকারীরা পুরোপুরি পরাস্ত হয়। প্রতি আক্রমণে সিও সংগঠিত করেন এবং বিএসএফ কর্মকর্তাদেও হতবাক করেন। স্থানীয় জনগণ বর্ষা ও অস্ত্র নিয়ে অনেক পলায়নপর অনুপ্রবেশকারীকে খুুন করেছিল। আগেই যেমন বলেছি রৌমারীতে তারা ১৫০ জনকে হারায় যেখানে পদুয়ায় ১৫ জন মারা পড়ে। ভারতের এই শিক।ষাটি বেশ পরিষ্কার ছিল। সেনা কর্মকর্তাদেও কমান্ডে বিডিআর জওয়ানদেও পুশওভার করা যাবে না কাজেই দুর্বল করতে হবে।

আশ্চর্যেরও বিষয় ছিল যে, চরম আত্মত্যাগের জন্য যাদেরকে সম্মানের পরিবর্তে তাদের ডিজি আমাদের দেশের সীমান্তেও কথা ভাবছেন। তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভারতীয় প্রতিপক্ষকে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশ ও পদুয়া ফেরৎ দেবার কথা বলেন, আইনানুগভাবে কোন নির্বাহীই যা পারেন না। তাছাড়া, তিনি বিডিআর কমান্ড থেকে ফজলুর রহমানকে প্রত্যাহার করে বিডিআরের অপারেশনের জিএসও ১ লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজানুর বর্তমানে র্যাবের কর্নেল ও ডিজি কে রৌমারি অপারেশনের কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এটাই কি দেশের সীমান্ত রক।ষায় যথাযোগ্য দায়িত্ব পালনকারী সেনা কর্মর্তার পুরস্কার, যার জন্য তারা কমিশনের সামনে শপথ গ্রহণ করেছিলেন?

To be Continued-

বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-৪র্থ খন্ড

Source : Nagorik Blog

এই লেখার ১ম২য়৩য় খন্ডের পর- এই জঘন্য হত্যাকান্ড যখন চলছিল তখন মীর্জা আজমকে অনবরত বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্ট ভাবে কর্ণেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং গুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ জ্ঞাপন করে। কর্ণেল গুলজারকে ঐরুপ বীভৎসভাবে হত্যা করার জন্যে মির্জা আজমের নির্দেশের পিছনে কারন ছিল তার বোনের স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহণ করা। কর্ণেল গুলজার তখন, র্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন। তার নেতৃত্বে মির্জা আজমের বোনের স্বামী জেএমবির প্রধান আবদুর রহমানকে তার গোপন আসত্দানায় র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। কর্ণেল গুলজার ইতিহাসে সিলেট আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাড়াকরা বাড়ী থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও কর্ণেল গুলজার যুবলীগ প্রেসিডেন্ট নানক ও জেনারেল সেক্রেটারী আযমের ব্যক্তিগত আক্রোশের মুখে ছিল উল্লেখ্য যে আওয়ামীলীগ আহুত হরতালের সময় প্রথমবারের মত বাংলাদেশে হরতালে গান পাউডার ব্যবহার করে হোটেল শেরাটনের সনি্নকটে ১১ জন যাত্রীসমেত একটি বিআরটিসি বাস জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার সাথে নানক ও আযমের সম্পৃক্তির প্রমানাদি কর্ণেল গুলজার প্রতিষ্টা করে। শেখ হাসিনা তখন যুবলীগের এই দুই নেতাকে এই মর্মে নির্দেশ জ্ঞাপন করে যে ‘হয় সরকারী ক্ষমতার নিকট বশ্যতা স্বীকার করো; না হলে রাজপথ জনগনের রক্ত রঞ্জিত করে দাও।’ ২০০৮ সালে র্যাবের কাছে আটক থাকার সময় শেখ সেলিম বাস জ্বালানোর সে লোমহর্ষক কাহিনী কর্ণেল গুলজারের নিকট ব্যাক্ত করেন এবং ঘটনা্র সাথে নানক ও আযমের সরাসরি সম্পৃক্তির কথা গুলজারকে জানান। শেখ সেলিমের সে স্বীকারোক্তির অডিও টেপ ইউটিউব এ প্রচার করা হয়। গুলজারকে অমন বীভৎস মৃত্যু ঘটানোর মধ্য দিয়ে নানক আযমরা কেবল যে প্রতিশোধই গ্রহন করেছিল তাই নয় তাদের সেই ঔদ্ধত বাংলাদেশে সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবেও প্রতিষ্টা লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাড়ীতে বিকেলের দোদুল্যমান বৈঠক যখন চলছিল তখন নানক লাউড স্পীকার এ পীলখানা বিডিআর সদর দফতরের তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থানকারী সকল শহরবাসীকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নেবার নির্দেশ প্রদান করে। পরে রাতের দিকে বিডিআর সদর দফতরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ দরকার ছিল ভাড়াটে ও স্থানীয় হত্যাকারীরা যাতে নিরাপদে সরে যেতে পারে। তোরাব আলী ও তার ছেলে অবৈধ অস্ত্রের ডিলার, সন্ত্রাসী লেদার লিটন এর মাধ্যমে বেসামরিক পোষাক পরিচ্ছেদ সরবরাহ সহ হত্যাকারীদের পালিয়ে যাবার খরচাদি প্রদান করা হয়। উক্ত লিটনকে র্যাব এর আটকাবস্থা থেকে তাপস ও নানকের হসত্দক্ষেপে জানুয়ারী মাসে মুক্ত করা হয়। ঐ দিন রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোট যোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয়া হয়। এই পারাপারে হাজী সেলিমের সহায়তায় তার সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করা হয়। হাজী সেলিম এই কাজে পুরোপুরি সমন্বয় সাধনের দ্বায়িত্ব পালন করে। হাজী সেলিমের লোকজন সেই সময় স্থানীয় লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। ঢাকার একটি টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোটে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয় যে বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু কিছু রাজনৈতিক কর্মী তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

হাজী সেলিম ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে যা বিদেশী ভাড়াটে খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক এটা জানার পর সে এন এস আইকে এই মর্মে অবহিত করে যে পীলখানায় কোন ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগ রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ জড়িত। ষড়যন্ত্রের নীল নকশামত উক্ত সাংবাদিককে এনএসআই থেকে বলা হয় যে তিনি যেন আর কারো সাথে বিষয়টা নিয়ে আলাপ আলোচনা না করেন। বিষয়টির সত্যাসত্য যাচাই বা তদনত্দ না করে এনএসআই গোটা বিষয়টি চাপিয়ে যায়।

পরের দিন সকালে সদর দফতরের কিছু বাসাবাড়ী থেকে উদ্ধার করতে ভাগ্যাহত অফিসারদের পরিবার পরিজনকে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মীর্জা আযম এই মর্মে সতর্ক করে দেয় যে তারা যেনো কেেেনা অবস্থাতেই সংবাদ মাধ্যমকে কিছু না বলে কেননা তখনও তাদের স্বামীরা বিদ্রোহীদের হাতে আটক আছে। নতুন করে এই ধরনের ভয়-ভীতি আতংক ভাগ্যাহতদের পরিবার পরিজনের মনে ঢুকিয়ে দেয়া এবং তার সাথে কিছু আশার সংমিশ্রন ঘটানোর পিছনে সেই দু’ব্যক্তির লক্ষ্য ছিল।

(১) পীলখানার অভ্যনত্দরে বর্বর হত্যাকান্ডের পাশাপাশি পরিবার পরিজনদের নির্যাতন, ধর্ষন সহ অন্যান্য অপরাধের খবর যেন দেশবাসী খুব সত্বর জানতে না পারে।

(২) এটা নিশ্চিত করা যে সেনা অভিযান যেন না করা হয় এবং মৃতদেহগুলো সরিয়ে ফেলা সহ রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের সকল চিহ্ন মুছে ফেলার জন্যে যেন প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পাওয়া যায়।

২৬ তারিখ রাতেও নানকের নির্দেশে পীলখানায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। সেই সময় সকল ধরনের প্রমাণাদি নিশ্চিহ্ন করার জন্যে হত্যা করা সেনা অফিসারদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা সহ হত্যার প্রমানাদি মুছে ফেলার কাজে বিডিআর এর হিন্দু জওয়ানদের নিয়োজিত করা হয়। বর্তমানে আটকাবস্থাধীন মনোরঞ্জন নামে এক হিন্দু জওয়ান ঐ কাজে জড়িত ছিল।হিন্দু জওয়ানদের এই জন্যই এই কাজে নিয়োগ করা হয় তেমন আশংকায় যে মুসলমান জওয়ানরা লাশ পুরে ফেলার ব্যাপারটা নাও মানতে পারে। এই রাতে সব কিছু ধুয়ে মুছে সাফ করা সহ বাকী বিদ্রোহীরা নিরাপদে সড়ে পড়ে। সব পরিকল্পনা অতি সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা হয়।

অপরাধ ঢেকে ফেলা দুইদিন পরে তথা ২৭ তারিখে সরকারী সন্ধানকারী দলকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্সযোগে নিহত ও আহতদের পারাপার করতে দেখা যায়। কিন্তু বিডিআর এর প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে ৩ দিন ধরে অপেৰমান বিডিআর এর নিকট আত্নীয় স্বজনদের কাউকেও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কিংবা ভেতর থেকেও কাউকেও বের হতে দেয়া হয়নি। এমন অবস্থা বজায় রাখার মধ্যেও যে অন্য কোন লক্ষ্য লুকায়িত থাকতে পারে এটা শোকাতুর ও হতভাগ্য লোকদের বুঝার কোন উপায় ছিলনা। এটা তাদের নিকট যৌক্তিক বলেই মনে হয়েছে যে ভাগ্যাহত মৃত ব আহতদের যথাযথভাবে সরিয়ে না ফেলা পর্যনত্দ এবং হত্যাকারীদের ধরতে তলস্নাশী অভিযান ও হত্যাকান্ডের প্রমাণাদি সংগ্রহ না হওয়া পর্যনত্দ বধ্যভূমি এলাকায় সাধারনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকাই শ্রেয়। এতবড় ধ্বংসযজ্ঞের পিছনে যে সরকার ও সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পযর্ায়ের কর্মকর্তা জড়িত এটা কারোর পক্ষে আঁচ করা সম্ভব হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআর ইউনিট সমুহ বিদ্যমান উত্তেজনার জন্য সাধারন্যে উদ্বিগ্নভাব স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হতে পারে।

আসলে সেই সময়ও নিঃসন্দেহ জনগণ এটা বুঝতে পারেনি যে সরকার ও সেনাবাহিনীর উচ্চ মহল যারা এমনিতেই একটা বিশেষ সুবিধাভোগী এবং যারা তাদের সেই অবস্থার সুযোগে জাতির সাথে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সেই বিশ্বাসঘাতকতাকে বেমালুম চাপিয়ে রাখার জন্যই ২৭ তারিখও তারা তৎপর থাকে। এই বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য প্রয়োজনছিল গোটা ষড়যন্ত্র বাসত্দবায়নের চাইতে আরও নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর পদক্ষেপ। একই দিন অর্থাৎ ২৭ শে ফেব্রুয়ারী যখন দ্বিতীয় গণকবর আবিস্কারের মধ্যদিয়ে বিদ্রোহীদের নৃশংস মহা অপরাধের মানচিত্র প্রমানিত হতে শুরু করে তখন নানক ডিজিএফআই এর ডাইরেকটর (সিআইবি) ব্রিগেডিআর জেনারেল মামুন খালেদকে এই মর্মে পরামর্শ দেয় যে প্রচার মাধ্যমকে না জানিয়ে কোন রুপ রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান ব্যতিরেকই যেন নিহতদের বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত লাশ অবিলম্বে আত্নীয়স্বজনদের নিকট হসত্দানত্দর করা হয়। নানকের সেই প্রতারনাপূর্ন পরামর্শের কথা সেই সময় উপস্থিত অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি। এমন পরামর্শে ইনি্জিনিয়ারিং কোরের এক অফিসারতো রাগের মাথায় রীতিমত নানককে আক্রমন করতেও সচেষ্ট হয়। অন্য সেনা কর্মকর্তারা তাকে অবশ্য নিবৃত্ত করে। পরিস্থিতি আরও অগি্নশর্মা হয়ে উঠতে পারার আশংকায় নানক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অপেক্ষমান বিডিআর এর নতুন ডিজি বিগ্রেডিআর জেনারেল মঈনুল ইসলামও জেনারেল হেড কোয়াটার এ বসে বসে এই ষড়যন্ত্রের বাকী নীল নকশা বাসত্দবায়নে তৎপর হয়ে উঠে। তিনি পীলখানার ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্য সেনাবাহিনীর একদল অফিসারকে একটি বৈঠকে জড় করেন। তিনি তাদেরকে বলেন যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও সেনাপ্রধান সম্পূনভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। না হলে সেনাবাহিনীর এত জন অফিসার এমনভাবে নিহত হতোনা।

তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে কিছু কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত সেনা অফিসাররা যখন তাদের মতামত উপস্থাপন করতে শুরু করে তখন তিনি তাদেরকে তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে তার নিকট প্রদানের কথা বলে এই মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন যে তিনি তাদের বক্তব্য সেনাবাহিনীর উচ্চ মহলে পেশ করবেন। তিনি সেইসব মতামত অবিকলভাবে তখন সিজিএম পদে কর্মরত লে: জে: আমিনুল করিম এর নিকট দাখিল করে এবং তাদের সাথে সেনাপ্রধানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানায়। মঈনুল পরের দিন সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত সেনা প্রধানের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট অফিসারদেরকে ………..তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের পরামর্শ জ্ঞাপন করে। সেই বৈঠকে অফিসাররা সেনাপ্রধানের মুখের উপর তার কঠোর সমালোচনা করলে বৈঠকে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সেনা নিরাপত্তা ইউনিট এর সহায়তায় আতংকগ্রসত্দ সেনাপ্রধান সভা স্থল ত্যাগ করে। সে বৈঠকের পর পরই পূর্ব নির্ধারিত জানাযায় অংশপ্রহনের জন্যে সেনাপ্রধানকে তার পরিচ্ছেদ বদল করতে আসতে হয়। পরিহাসের বিষয় হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ সেনা অফিসারদের উত্তেজিত করার দায়ে মঈনুল এর বদলে দায়ী করা হয় আমিনুল করিমকে। তাকে অবিলম্বে চাকুরী থেকে বরখাসত্দ করা হয়। একজন সম্মানীয় দেশপ্রেমিককে সেনাবাহিনী থেকে হটিয়ে মঈনুল বিডিআর পুনর্গঠনে তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে মশগুল হয়ে পড়েন।

সরকারের বিরুদ্ধে সেনা অফিসারদের উস্কিয়ে দেয়ার কল্পিত ষড়যন্ত্রের তদনত্দের সাথে মইনুল করিমকে জড়ানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভ্যনত্দরে সক্রিয় বিদ্রোহের হোতাদের যোগসাজসে সরকার আরও একটি ঘটনাকে সঙ্গোপন করে রাখে। ঘটনাটি ছিল ঐ দিন উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ পীলখানায় হত্যাযজ্ঞে নিয়োজিত বিদেশী কিলারদের অতি নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে ১৮ই ফেব্রুয়ারী থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারী পর্যনত্দ সোহেলকে তার অফিস কিংবা জনসমুক্ষে দেখা যায়নি। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে এই মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে ২৫ ও ২৬ শে ফেব্রুয়ারী সে তার পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিল। এটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। সে ১৮ই ফেব্রুআরী গোপনে ভারত সফরে যায় এবং দুই বা তিন দিন পর সে ফিরে এসে পরিকল্পনা মোতাবেক ২৫ তারিখ রাতে বিদেশী ভাড়াটে খুনীদের বিমানযোগে নিরাপদে বিদেশে পার করে দেয়ার কাজে সহায়তা করে। ২৮ তারিখ সন্ধায় সেনাবাহিনীর একটি পরিবহন হেলিকপ্টারে করে সোহেল তাজ সিলেট যায় এবং সে রাতেই ওসমানী বিমান বন্দর থেকে একটি বেসামরিক বিমানে সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। সেনাবাহিনীর লে: ক: শহীদ সে হেলিকপ্টার চালায় যে কিছুদিন পর নিহত হয়। সে ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম সহ একটি রহস্যময় হেলিকপ্টার দূর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের সনি্নকটে তারা নিহত হয়। হেলিকপ্টার বিধসত্দ হওয়ার ঘটনাটি ছিল নাশকতামূলক। সোহেল তাজ এর দুষ্কর্ম গোপন রাখতে নিরাপরাধ শহীদকেই কেবল হত্যা করা হলোনা; সেই সাথে হত্যা করা হলো আরো একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে।
পরবর্তীতে ডিজিএফআই এর ব্রিগেডিআর জেনারেল মামুন খালেদকে দায়িত্ব দেয়া হয় সেই সব অফিসারের তালিকা প্রনয়নের জন্য যারা সেনাকুঞ্জের বৈঠকে সেনাপ্রধানের সামনে দাড়ীয়ে অভিযোগ জানানোর সাহস দেখিয়েছিল। এমন ৫০ জন অদ্ভূত অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়; যাদের অনেককে ইতিমধ্যে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে আর বাকীদের ঢাকার বাইরে গুরুত্বহীন পদ সমূহে বদলী করা হয়।

পীলখানা হত্যাযজ্ঞ থেকে যে কয়েকজন নিরাপদে বেরিয়ে আসে তাদের মধ্যে ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: ক: শামস একজন এবং তাকেই কেবলমাত্র টেলিভিশনে উপস্থাপন করা হয় এবং সাধারন্যে তিনি আকস্মাৎ একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মিডিয়া সমুহে তিনি তার ভাই ভাগ্যাহত অফিসারদের হত্যাকান্ড ও তাদের অত্যাচার যন্ত্রনা সম্পর্কে কেবল গীত গেয়েই ক্ষানত্দ হলেন না; তিনি বলে দিলেন যে সকল অফিসারকে ২৫ তারিখ সকাল ১১টার মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার চাক্ষুস বর্ণনা প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান কতৃক সেনা হসত্দক্ষেপ ছাড়া বিদ্রোহ দমনের গৃহীত নীতির যৌক্তিকতা নিরুপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ সেনা অফিসাররাতো ১১টার মধ্যেই নিহত হয়ে যায়। অতএব তার পর বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনী এগিয়ে গেলে আরো কিছু জীবন হানী ও রক্তপাত ছাড়া আর কি হতো? এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাাঙ্গাতরা বিদ্রোহ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহিত বুদ্ধিদ্বীপ্ত সিদ্ধানত্দের প্রশংশাস সারা দেশকে মাতোয়ারা করার জজবায় মেতে উঠে। প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান কর্ণেল শামস এর প্রদত্ত ভাষ্যের ঋন খুব দ্রুতই পরিাশোধ করে। তাকে এলিট এস এফ এফ এ বদলী করা হয়।
বিদ্রোহ সম্পর্কে গঠিত সেনা তদনত্দ টীম শুরু থেকেই বিদ্রোহের ভিন্ন চিত্র পেতে শুরম্ন করে। তারা এটা বের করে ফেলে যে পীলখানা বিদ্রোহীদের মূল উৎস কর্ণেল শামস এর ৪৪ ব্যাটালিয়ান এবং উক্ত ব্যাটালিয়ানের কোন কমান্ডিং অফিসারকে তথা কর্ণেল শামস মেজর মাহাবুব এবং মেজর ইসতিয়াক কে হত্যা করা হয়নি।

কিংবা তদের অফিসও অন্যান্য নিহত অফিসারের অফিস এর ন্যায় লন্ড ভন্ড করা হয়নি। তদনত্দে আরও গুরুতর যে তথ্য ফাস হলো তা হচ্ছে মিনিট কয়েক পূর্বে বিডিআর এর ৫ নং গেট এর সনি্নকটে কর্ণেল শামস কে একদল বিডিআর সেনাকে কি যেনো ব্রিফিং করতে দেখা যায়। যখন কেউ একজন চিৎকার দিয়ে উঠে যে অফিসাররা সৈনিক থেকে আলাদা হয়ে যাও তখন সে খুব তাড়াতাড়ি তার ব্রীফিং সমাপ্ত করে দ্রুত সরে পড়ে। ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ানের গ্রেফতার কৃত বিদ্রোহীদের কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদে এই মর্মে উল্লেখ করেছে যে বিদ্রোহ পরিকল্পনার ব্যাপারে কর্ণেল শামসকে জিজ্ঞাসা করা হোক। তারা পরিকল্পনার কথা কিছুই জানেনা বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। সেনা তদনত্দ বোর্ড এই ব্যাপারে কর্ণেল শামসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চাইলে প্রধানমন্ত্রির অফিস সে অনুমতি প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করে।
আবার বিডিআর এর যোগাযোগ ইউনিট এর কোন অফিসারও নিহত হয়নি। এর অধিনায়ক কর্ণেল কমরুজ্জামানকেউ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনা তদনত্দ বোর্ডের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর অফিস প্রত্যাখান করে।

সেনা তদনত্দের প্রাথমিক পর্যায়ে র্যাবের নিম্ন পদস্থ অফিসাররা যখন বিদ্রোহের আগে পরের সন্দেহভাজনদের ফোন কল রেকর্ড পরীক্ষা শুরু করে তখন এমন অনেক তথ্য তারা লাভ করে যার মধ্যে বিডিআর হত্যাযজ্ঞের সাথে আওয়ামীলীগ নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। আওয়ামীলীগ নেতা তোরাব আলী বিদ্রোহের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিদেশে কারো সাথে তাদের পরিচয় গোপন করে ব্রিগেডিআর জেনারেল হাসান নাসির এর বেনামে বহু চিঠি অনেক সেনা কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করে। এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে হাসান নাসিরকে খুব দ্রুতই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। নিয়মিত যোগাযোগ করতো কিংবা সরকার সাহায্য না করায় বিদেশের সে ফোন ও তার সাথে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও হদিস বের করা সেনা তদনত্দ বোর্ডের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এমনিতর ঘটনা সমুহের অন্যতম একটি উল্লেখ্য ঘটনা হচ্ছে ২৪ শে ফেব্রম্নয়ারী ফোনে ডিএ ডি তৌহিদের সাথে নানকের ২০৪ মিনিটের কথোপকোথন। এই কথোপকোথন ও নানকের আরো কিছু দোষনীয় কার্জকর্মের প্রমাণ পওয়া যায় এবং ২৫শে মার্চ রাতে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন পীলখানায় অস্ত্র সংবরণ নাটক মঞ্চস্থ করছিল তখন নানক কি করছিল তা জানার জন্য নানককে সেনা তদনত্দ বোর্ড জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে নানক তা থেকে বাঁচার জন্যে হটাৎ বুকের ব্যথার ভান করে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তী হয়। এবং দ্রুত সেখান থেকে সিঙ্গাপুর চলে যায়। হত্যাযজ্ঞের দিন কয়েকপর ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব মেনন এক অনির্ধারিত সফরে ঢাকায় আগমন করে এবং জরুরী ভাবে প্রধানমন্ত্রী ও সেনা প্রধানের সাথে গোপন শলা পরামর্শে মিলিত হয়। এদিকে সেনা তদনত্দ বোর্ড ঘটনা তদনত্দে নানকের সাথে কথা বলা দরকার এটা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখান করেন। শুধু তাই নয় ব্রিগেডিআর জেনারেল হাসান নাসির যিনি সেনাতদনত্দ বোর্ডের সদস্য ছিল এবং তিনি নানককে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল বিধায় তাকে সেনা তদনত্দ টীম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। নানক যখন জানতে পরলো যে তাকে জিজ্ঞাসা বাদ না করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে এবং তাকে আইনের উর্দ্ধে রাখা হবে তখনই সে দেশে ফিরে আসে। আর অত্যনত্দ পরিশ্রমী ও দ্বায়িত্ববান অফিসার নাসিরকে প্রতিহিংসার শিকার হতে হলো।

র্যাবের আরেকটি কল রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল মুকিম সরকার (সিও ২৫ রাইফেল ব্যাটেলিয়ন, পঞ্চগড়) যিনি পিলখানায় দরবারে যোগ দিয়েছিলেন এবং অক্ষতভাব বেচে গিয়েছিলেন, তাকে ২৫ তারিখ রাত সাড়ে ন’টায় সুবেদার মেজরকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ” আমাদের নির্দেশ হলো সৈনিকদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। যারা পালিয়ে গেছে তো গেছে– আপনারা ডিএডি সাহেবকে নিয়ে ভাল থাকেন; আর কোন বাহিনী যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারে । ডিএডি সাহেবকে এনাদের সাথে কথা বলতে বলবেন–। ” যা ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসাবে তাপসের ঘোষণার কিছু পরে হয়েছিল। স্পষ্টভাবেই সরকার এ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল; তবে সে কোন আদেশ দিয়েছিল? ঘটনা হচ্ছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামস্ ও কামরুজ্জামানের মত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার অক্ষত ছিল বলে বোঝা যায়।

তাদের প্রাথমিক তদন্তকালে ভাড়াটে বিদেশী খুনীরা যে জাল ইউনিফর্ম পরিধান শেষে ফেলে গিয়েছিল তার প্রস্তুকতকারী দর্জি ও দর্জির দোকান র্যাবের কর্মকর্তারা খুজে পেয়েছিল। সে সকল খুনীদের পিলখানা থেকে পলায়নে ও এয়ারপোর্টে যাবার কাজে ব্যবহৃত এমবুলেন্স ও মাইক্রোবাস সম্পর্কে তারা তথ্য নিতে পারত। মাইক্রেবাসগুলোতে ভূয়া নম্বর প্লেট ছিল এবং সেগুলোর চালক ও মালিকদের খুজে বের করা কঠিন ছিল। তবে নিদেনপক্ষে তারা এ ঘটনা বুঝতে দিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের একজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সামাল দিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মেডিকেল ক্লিনিক থেকে এমবুলেন্স সরবরাহ প্রশ্নসাপেক্ষ ছিল।
পিলখানা হত্যাকান্ডের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করলে ডিজি ডিজিএফআইয়ের ফজলে আকবর ব্যক্তিগত ব্রিফিংয়ে ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা বাদ দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর জন্য তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দানের কথা জানান। কিছু জুনিয়র কর্মকর্তা গুঞ্জন করতে থাকেন, যারা বিরোধী বলে চিহ্নিত তাদেরকে দু্রত ডিজিএফআই থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়; বাকীদের কাছে সংবাদটি অক্ষুণ্ন থাকে। মার্চের শুরু থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুন খালেদের নেতৃত্বে ডিজিএফআই টিম সকল টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন যাতে অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে আসতে না পারে।

র্যাবের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মজিদ এবং মেজর হামিদ বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার দৃঢ় প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন। মজিদকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল এম.পির ঘনিষ্ট আত্মীয় মেজর আজিমকে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক করা হয়েছিল, একইসাথে হামিদকে র্যাব থেকে বদলী করা হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়ে আজিম, যিনি পরবর্তী পদে পদোন্নতি লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত ছিলেন, মেজর আতিককে পিলখানা হত্যাকান্ডের সাথে জেএমবি, বিএনপি অথবা অন্য কোন সামরিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেন। তাছাড়া মজিদ ও হামিদের সংগৃহীত সকল অবৈধ রূপে প্রতীয়মাণ আলামত তিনি ধ্বংস করে ফেলেন।

সে সময়ে নানকের উপরস্থ এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রকাশ্যে বিদ্রোহের সাথে জেএমবি বা কোন স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের যোগসাজশের প্রমাণ না পাওয়ার জন্য আর্মি তদন্ত বোর্ডকে তিরস্কার করেন। আজিমের নেতৃত্বে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা মোকদ্দমাটি অনুসরণ করতে থাকে। হঠাৎ মাওলানা আব্দুস সোবহানকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে র্যাবের হেফাজতে রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রী যাকে তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান দু্রত দাবী করেন যে, বিদ্রোহে কিছু ইসলামী সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে। আজিমের পরিকল্পনা ছিল মাওলানা সোবহানকে চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা জবানবন্দি নেয়া যে, হত্যাকান্ডে ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত রয়েছে। সে সময় ঢাকার একটি দৈনিকে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্ত্রীর দাবীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি ছিল যথার্থ; যাতে হত্যাকান্ডে সাথে ইসলামী জঙ্গীর জড়িত থাকার বিষয়টি সরকারকে পরিত্যাগ করতে বলা হয়। তখন আব্দুস সোবহানকে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পরে কয়েকজন দলীয় সদস্য নিয়ে সে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে সরকারের সাথে সংহতি প্রকাশের ঘোষণা দেন।

TO BE CONTINUED…

বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-৩য় খন্ড

Source : Nagorik Blog

১ম খন্ড ২য় খন্ডের পর-সমগ্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় অতি বিস্ময়কর চালাকী ও নিষ্ঠুরতার সাথে। বাংলাদেশকে দীর্ঘসময় ধরে এহেন ভ্রাতৃঘাতী ঘটনার বেদনাদায়ক মর্মবেদনায় ভুগতে হবে। আমাদের ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বসাকুল্যে সেনাবাহিনীর ৫৫ জন অফিসার শহীদ হয়। তাদের মধ্যে সবাই যুদ্ধে নিহত হয়নি; কেউ কেউ সড়ক দূর্ঘটনা সহ অন্যবিধ কারনেও মৃতু্যবরণ করে। সেনা বাহিনীর কোন সেক্টর কমান্ডার এই মৃতু্য তালিকায় ছিল না। অথচ বিডিআর বিদ্রোহে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হত্যা করা হলো ২ জন মেজর জেনারেল, ২ জন ব্রিগেডিআর জেনারেল, ১৬ জন কর্ণেল, ১০ জন লেন্ট্যানান্ট কর্ণেল, ২৩ জন মেজর, ২ জন ক্যাপ্টেন, মেডিক্যাল কোরের ৩ জন অফিসার। বিদ্রোহে উপস্থিত সেনা অফিসারদের দুই তৃতীয়াংশই নিহত হলো। এই পৈশাচিক উপখ্যানের সূদুরপ্রসারী পরিণতি নিয়ে ভাববার আগে দেখা যাক বাংলাদেশী ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের সাঙ্গাতরা কে কিভাবে এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটনে ভূমিকা রেখেছে।

২৪শে ফেব্রম্নয়ারী রাত ১০টা থেকে ১১ টার মধ্যে ঢাকার ঝিকাতলাস্ত একটি ফিলিং ষ্টেশনের মালিক আতাউর তার মোবাইল থেকে বিডিআর এর ডিজিকে একটি ফোন করে বিডিআর এর ডিজি শাকিলকে এই মর্মে জানায় যে, স্যার আপনাকে কালকে পীলখানায় মেরে ফেলবে। আপনি কালকের অনুষ্ঠানে যাবেননা্ তার এই ফোন কল, র্যাব হেড কোয়াটার আড়িপেতে শুনে এবং কিছু সময়ের মধ্যে আতাউরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর তাকে অবশ্য ছেড়ে দেয়া হয়। র্যাব এবং এডিজি কর্ণেল রেজা নুর অনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য টিএফআই সেলকে প্রদান করে। এতদসত্বেও আমার জানা মতে এমন একটি তথ্য কোন তদনত্দ রিপোটেই উল্লেখ করা হয়নি। এটা মেনে রীতিমত অবিশ্বাস্য যে টি এফ আই সেল এমন একটি গুরম্নত্বপূর্ন তথ্য ধর্তব্যের মধ্যে তথা তাদের বিবেচনায় আনেনি। কিভাবে এমন একটি তাৎপর্যময় তথ্য গোপন করা হলো তা নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও এটা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় যে, কোন একটি ফন্দি-ফিকির করে সেই তথ্যটিকে চাপিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা দেখব যে সরকারের ভিতর থেকে কিভাবে এমনি ধরনের ছল-চাতুরী পূর্ন ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে অপরাধীদের রক্ষা ও দেশকে প্রতারিত করা হয়েছে।

২৫ তারিখ সকাল পৌনে নয়টার সময় গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই এই মর্মে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পীলখানায় বিদ্রোহ শুরু হবে। একই তথ্য সেনাবাহিনী প্রধানকেও দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী কোনরম্নপ পাল্টা ব্যবস্থা প্রহন করেনি। সেনাপ্রধানও বিষয়টাতে নীরবতা অবলম্বন করে। তাদের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নিবৃত্ত থাকা ও নীরবতা অবলম্বন থেকে এটা ষ্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে বিদ্রোহ পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়িত হবার ব্যাপারে তারা আগ্রহী ছিলেন। পীলখানায় বিদ্রোহের শুরুতেই বিডিআর এর ডিজি প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান ও ডিজিএফআই এর ডিজিকে ফোন করলে তারা অবিলম্বে তাকে সাহায্য করার অঙ্গীকার করে। কর্ণেল গুলজার (?) সেনাবাহিনীর সিজিএস এবং ডিএমও’র সাথে কথা বলে এবং র্যাব-২ এর কমান্ডিং অফিসার লে: ক: জামান এর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী প্রেরনের অনুরোধ জানায়। তারা বিডিআর এর ডিজির সাথে ধোঁকাবাজি করে এবং ঢাকা সেক্টরের কমান্ডার মজিব ৩৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে: কর্ণেল এনায়েত ও লে: কর্ণেল বদরুল ও অন্যান্য সিনিয়র অফিসারদের তাদেও ইউনিট এ গিয়ে জওয়ানদের শানত্দ করার নির্দেশ জ্ঞাপন করে।

বিডিআর এর মহাপরিচালক যদিও জানতো যে একটা গন্ডগোল হবে; কিন্তু এটা যদি জানতো যে তাদেরকে উপর মহলের প্রদত্ত আশ্বাস হবে স্রেফ ধোঁকাবাজি এবং তাদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হবে তাহলে অবশ্যই তারা ভিন্ন ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সচেষ্ট হতো। তাদের মধ্যে অনেক নাম করা কমান্ডো অফিসার ছিল। তারা সহজেই কিছু এসএমজি ছিনিয়ে নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পাল্টা আক্রমন চালিয়ে বিদ্রোহ সর্বাত্বকভাবে দমন করতে না পারলেও অনত্দত বিদ্রোহীদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতো। ভাগ্যাহত অফিসারদের অনেকের স্ত্রী বিদ্রোহ শুরু হলে সেনা প্রধান মঈনের স্ত্রীকে সাহায্যের জন্যে ফোন করলে মঈনের স্ত্রী এ মর্মে ফোনে বকবকনো করতে থাকেন যে, ইনকামিং কল তিনি কিছুই শুনতে পারছেননা। তার এই চাতুর্যপূর্ণ ভূমিকা থেকে এটা আরো একটু বুঝা যায় যে বিদ্রোহে তার স্বামীর ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক।

সকাল সাড়ে দশটায় র্যাব ১০ এর অফিসাররা পীলখানার ৫নং গেট সংলগ্ন নিচু উচ্চতার দেয়ালের নিকটে পেঁৗছে যে দেয়াল দ্বারা সনি্নহিত বেসামরিক এলাকা থেকে বিডিআর সদর দফতরকে আলাদা করা হয়েছে। ঐ জায়গাটা ছিল বিদ্রোহ দমনে ঝটিকা অভিযান শুরু করে সদর দফতরকে মুক্ত করার সবচাইতে উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু সাড়ে এগারটার দিকে র্যাব এর এডিজি কর্ণেল রেজা নূর র্যাব-১০ অফিসারদের অধিনায়ককে পীলখানা থেকে ৩ মাইল দূরে বেড়ী বাঁধ এলাকায় গিয়ে অবস্থান গ্রহনের নির্দেশ জ্ঞাপন করে। এটা স্বভাবতই জিজ্ঞাস্য যে কার নির্দেশে কিংবা পরামর্শে এবং কেন কর্ণেল রেজা সে নির্দেশ প্রদান করেছিল? বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে তদনত্দ কর্যক্রমে এই সব দিক মোটেই আমলে নেয়া হয়নি। কর্ণেল রেজা নূর এর চাচাতো ভাই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সহকারী বাহউদ্দীন নাসিম। সে কারনে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনে। যথাসম্ভব হয় প্রধানমন্ত্রী নিজে অথবা তাঁর ঘনিষ্ট মহলের কেউ রেজা নূরকে দিয়ে ঐ কাজটি করিয়ে থাকবে। র্যাব -১০ কে ওখান থেকে সরিয়ে নেয়ায় বিদ্রোহ পরিকল্পনা বাসত্দবায়নে অনেক অনুকুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঐ পথ দিয়েই বিদ্রোহীরা সদর দফতরের অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে তার আওয়ামীলীগের কমিশনার তোরাব আলীর বাসভবনে স্থানানত্দর করে যা ছাত্রলীগের ক্যাডারদের মধ্যে বিতরন করা হয় এবং তার চাইতেও বড় সুবিধা যে সে পথ দিয়ে বিডিআর এর হত্যাকারীরা নিরাপদে হাজারীবাগ ও ঝিকাতলা এলাকা দিয়ে বিনা বাধায় পালিয়ে যায়। র্যাব-১০ এর মোতায়েনকে পুন বিন্যস্থ করা ছিল স্পষ্টতই বিদ্রোহীদের অনুকুলে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আরো উল্লেখ্য যে, র্যাব ১০ এর পাশাপাশি র্যাব ২ এবং ৩ কে ধানমন্ডি এলাকায় মোতায়েন করা হলেও তাদেরকে দিয়ে বিদ্রোহ দমনে কোন উদ্যেগই নেয়া হয়নি। তাদেরকে নড়চড়হীন করে রাখা হয়।

বিডিআর এর ডিজি নিহত হয় সকাল সাড়ে দশটায়। ভারতীয় টিভি চ্যানেল ‘চবি্বশ ঘন্টা’ বিষ্ময়করভাবে অতি অল্পসময়ের মধ্যে বিডিআর ডিজি ও তার স্ত্রী নিহত হবার সংবাদপ্রচার করে সকাল এগারটায়। ভারতের আর একটি চ্যানেল এনডি টিভি সংবাদ শিরোনামে দেখায় ১২টার সময় এবং আরও সংবাদ প্রচার করে ১২.১৫ মি: এর সময়ে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সংবাদ চাপা রাখা হয় ২৬ তারিখ অপরাহ্ন পর্যনত্দ। অথচ কর্ণেল মজিব ও লে: ক: এনায়েত এর লাশ উদ্ধার করা হয় ২৫ তারিখ বিকেল আড়াইটার সময়। এদিকে বিকেল ৩.৩০মি: এর সময় বাংলাদেশের মিডিয়া ঘটা করে নানক কতর্ৃক নিয়ে আসা ১৪ জন বিডিআর বিদ্রোহীর সাথে চা বিস্কুট খেতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারী বাসভবনে বৈঠক করার খবর প্রচার করা হয়। উক্ত সভা চলে ১৫০ মিনিট। মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী একটি টেলিফোন কল রিসিভ করার পর তিনি বিডিআর বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদলকে বলেন, তোমরাতো বিডিআর এর ডিজিকে মেরে ফেলেছো, এই সময় বিডিআর এর ডিএডি তৌহিদ বলে উঠে যে, তাহলে সম্ভবত ডিজি মারা গেছেন এটা রীতিমত অবিশ্বাস্য যে তখন পর্যনত্দ প্রধানমন্ত্রী ও তার মেহমান হিসাবে আসা বিদ্রোহীরা জানতোনা বিডিআর এর ডিজির হত্যাকান্ডের খবর অথচ সকাল ১১ টা থেকে ভারতীয় টেলিভিশনের পর্দায় বিডিআর কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ডের খবর অবিরত প্রচার করা হচ্ছিল আর ইতিমধ্যে সমগ্র রাজধানীতে এটা নিয়ে ব্যপক আলাপ আলোচনা হচ্ছিল অথবা এটা কি সত্যিই বিশ্বাস করা যায় যে বিদ্রোহীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তেমন জিজ্ঞাসা নিতানত্দই উদাসীনতা বশত করা হয়েছিল? সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর তেমন অজ্ঞতাসূলভ (?) জিজ্ঞাসার মধ্যে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধি দলের জন্য একটি বার্তা নিহিত ছিল।

উক্ত ফোন কলের বার্তা লাভের পরও বিদ্রোহীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে এটা স্পষ্টতই মনে হয় যে আসলে তেমন কোন ঘটনাই তথা হত্যাকান্ড বা রক্তপাত তখন পর্যনত্দ ঘটেনি। সভার বাকী সময় অতি শানত্দভাবে কেটে গেলেও একবারের জন্যও প্রধানমন্ত্রী ডিজির স্ত্রী ও তাদের ছেলে মেয়ে ও অন্যান্য অফিসার ও তাদের ছেলে মেয়েদের ভাগ্য সম্পর্কে কোন খোঁজ খবর নেয়নি। অথবা সে তাদের নিরাপত্তা বিধানের কোন আহবানও বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাখেননি। অথচ দরবার হলে হত্যাকান্ড শুরুর পর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে নিয়োজিত ন্যাশনাল মনিটরিং সেল থেকে অফিসারদের পরিবার পরিজনদের নির্যাতনের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বহু বার জানানো হয়। সেনা প্রধানকে বিডিআর বিদ্রোহীদের সাথে বাইরের লোকজনের কথাবার্তার বিষয়ে জানানো হয়। কিভাবে বিদ্রোহীরা অফিসারদের হত্যা করছে এবং তাদের পরিবার পরিবার পরিজনদের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে সেই সব কথাবার্তায় তার বিবরণ শুনা যায়। সেনাপ্রধান এহেন বর্বরতা মোকাবেলা করার মত কোন পদক্ষেপ গ্রহনের বদলে ন্যাশনাল মনিটরিং সেল এর অফিসারদের শানত্দ থাকার এবং কোনরুপ আবেগ তাড়িত হতে নিবৃত্ত থাকার নির্দেশ জ্ঞাপন করেন।

বিদ্রোহের সাতে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মৌন সম্মতির সাথে সঙ্গতি রেখে বিডিআর হত্যাকারীদের জন্য সাধারন ক্ষমা ঘোষনা ও তাদের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়। রাত নেমে আসার সাথে সাথে আত্মতৃপ্তিতে বলিয়ান বিডিআর বিদ্রোহীদের প্রতিনিধি দল নানককে সাথে নিয়ে বিডিআর সদর দফতরে প্রত্যাবর্তন করেন। নানক একজন সাহসী নেতা ও বিদ্রোহীদের কাজকে সমর্থন জ্ঞাপনে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে বিদ্রোহীদের দ্বারা সমাদৃত হন। কিছু সময় পরই সাংসদ তাপস সংবাদ মাধ্যমকে জানায় যে ডি এডি তৌহিদ এখন থেকে বিডিআর এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নাতির এমন ঘোষনা টিভির পর্দায় ভাসতে থাকে হত্যাকারী ও তাদের দুষ্কর্মের সহায়তাকারীরা বুঝতে পারলো যে সেনা অভিযানের আশংকা দূরীভূত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে তাপস বিডিআর সদর দপ্তরের অভ্যনত্দরে গিয়ে বিদ্রোহেিদর সবকিছু ধুয়েমুছে সাফ করে ফেলার নির্দেশ জ্ঞাপন করে। কার্যক্ষেত্রে এটা ছিল হত্যাকান্ডের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা। সেই লাইসেন্স সে অর্থহীন ছিলনা পরবর্তীতে তা সবাই বুঝতে পারে।

দরবার হলের একটি টয়লেট এ কর্ণেল এমদাদ জীবিত ছিলেন। সেখানে সে জোহর এর নামায আদায়ের পর তার স্ত্রীরর সাথে মোবাইলে কথা বলেন। রংপুরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আফতাব তার সহকর্মী একজন ব্রিগেডিয়ার ও দুইজন কর্ণেল এর নিকট বিকেল সাড়ে চারটার সময় এই মর্মে তিনটি এসএমএস প্রেরণ করেন যে আমি দরবার হলে বেঁচে আছি। আমাদের দয়া করে বাচাঁও। গুরম্নতর ভাবে আহত মেজর মোসাদ্দেকের অতি উদ্বেগজনক ও অব্যাহত ফোন কল এ তাঁকে বাঁচানোর আশ্বাস প্রদান করা হলেও কার্যক্ষেত্রে কিছুই করা হয়নি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে সে সাড়ে ৫টার দিকে ইনত্দেকাল করে। সেনা অফিসারদের বাচাঁনোর কোন উদ্যোগই গ্রহন করা হয়নি। তাদেরকে বাঁচানোর দ্বায়িত্ব যাদের ছিল তারা অন্যদের পৃষ্টপোষকতায় ব্যাসত্দ ছিল।
সন্ধ্যা রাত্রির দিকে পীলখানা থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে আহতদের স্থানানত্দরের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এটা ছিল একটা বাহানা। ঐ এ্যাম্বুলেন্স এ করে ভাড়াটে খুনীদের বধ্যভূমি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পীলখানা থেকে এ্যাম্বুলেন্স এ বের করে তাদেরকে পূর্ব নির্ধারিত পয়েন্ট এ অপেক্ষমান মাইক্রোবাসে উঠিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ বিমানের বিজি০৫৯ নং বিমানে তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গনত্দব্যে পেঁৗছিয়ে দেয়া হয়।
ঐ দিন বিকেলে পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ পীলখানা থেকে তার সদ্য বিবাহিত কন্যাকে উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। সে পীলখানা প্রবেশের জন্য কয়েকবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু তার প্রার্থনা না মঞ্জুর করা হয়। বিক্ষুদ্ধ আইজি মরীয়া হয়ে একাই যাওয়ার সিদ্ধানত্দ গ্রহন করে। এমতাবস্থায় সাহারা অস্ত্র সমর্পন ও অফিসারদের পরিবার পরিজনদের উদ্ধারের নাটক শুরু করে। সাহারা কেবলমাত্র ওটোশী ভবন থেকে আইজির কন্যা ও বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রে জড়িত কর্ণেল কামরুজ্জামানের স্ত্রী ও মিসেস আকবরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এমনকি উক্ত ভবনের দোতালার উপরে তিনি যাননি। উক্ত ভবনের উপরের দিকে অবস্থানকারীরা সহ অন্যান্য আবাসিক ভবনের সবাইকে তাদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়।

সাহারা খাতুন পীলখানা ত্যাগ করার পর পরই কর্ণেল আফতাবকে হত্যা করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আগমনে তার মনে হয়তো এই বিশ্বাস হয়েছিল যে বিদ্রোহের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তাই তিনি তার গোপন স্থান থেকে বের হয়ে এসে তার স্ত্রী ও কন্যার সাথে সাক্ষাত করতে যায়। সে জানতো যে তারা অফিসারস মেসে আছে। কোয়াটার গার্ড অভিমুখে যাওয়ার পথেই তাকে গুলি করা হয়। কর্ণেল রেজাকে হত্যা করা হয় রাত ৩টার পরে। সাহারা খাতুনের প্রত্যাবর্তনের পর কর্ণেল এলাহীকেও হত্যা করা হয়। সে একটি ম্যানহোলে পালিয়ে ছিল। সেখান থেকে বের হলেই তাকে হত্যা করা হয়। এই ভাবে বেশ কয়েকজন অফিসারকে রাতে হত্যা করা হয়। সরকার প্রধান ও নিজেদের সেনাপ্রধানের বিশ্বাসঘাতকতায় জাতীর নিরাপত্তা বিধানে নিবেদিতপ্রাণ এইসব অফিসারদের জীবন প্রদীপ অতি অল্প সময়ে নিভে যায়। সেনাবাহিনীতে কর্মরত তাদের অসহায় ও অবমানিত সহকর্মীদের পক্ষে তাদের বাঁচানোর কোন ফুরসতই ছিলনা।

To be continued-

বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-২য় খন্ড

Source : Nagorik Blog

১ম খন্ডের পর- স্থানীয় এম.পি. হবার সুবাদে তাপসের সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল; নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি জড়িত হয়েছিলেন। তাপসের ঢাকা- ১২ আসনে প্রায় ৫,০০০ বিডিআর ভোটারকে নিবন্ধিত করা হয়েছিল। বিডিআরের কুশীলবরা সাবেক বিডিআর হাবিলদার ও ঢাকার ঢাকা- ১২ আসনের অন্তর্ভুক্ত ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি তোরাব আলীর মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখত। তারা তাপসকে নিশ্চয়তা দিয়েছিল ঢাকা- ১২ আসনে নৌকা জিতবে এবং সকল বিডিআর ভোটার তাকে ভোট দিবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সেই সময়ে যখন খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার চেয়ে জনসভায় অনেক বেশী দর্শক শ্রোতার সমাগম হত, ৫,০০০ ভোট মানে অনভিজ্ঞ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে অনেক যিনি প্রখ্যাত আইনজীবী ও বর্তমান এম.পি. খোন্দকার মাহবুব উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করেছিলেন। তার বিনিময়ে বিডিআর প্রতিনিধিরা তাদের দাবী পূরণ করতে চেয়েছিল যাতে তা্পস সম্মত হন। বিদ্রোহের পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত করা হয়, তাপস সম্মতি দেন যে, তিনি বিডিআর জওয়ানদেরকে সহায়তা যোগাবেন যাতে তারা বিদ্রোহে নিরাপদ থাকে তথা তাদের দাবী আদায় করা যায়। শেখ পরিবারের সদস্য এবং শেখ ফজলুল হক মণি, যিনি পচাত্তরের পনেরই আগস্ট তারিখে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের অভূ্যত্থানে নিহত হয়েছিলেন এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যার বিরূপ ধারণা ছিল, তার পিতৃহীন পুত্র হবার কারণে সে এমনটি করতে পেরেছিলেন। বিদো্রহ ও হত্যাযজ্ঞের পূর্বে সবশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২৪ তারিখে সন্ধ্যায় তোরাব আলীর বাড়িতে; একই্ রাত্রে তাপসের ধানমন্ডির বাড়িতে প্রায় ২৪ জন বিডিআর খুনী তাদের চূড়ান্ত শপথ গ্রহণ করে।

এ গুপ্ত পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী, তার চাচাতো ভাই তথা তাপসের চাচা শেখ সেলিম এম.পি, আব্দুল জলিল এম.পি. নানক, তাপস, সোহেল তাজ, মির্জা আজম, হাজী সেলিম, মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট অন্য কয়েকজন সদস্যের জ্ঞাত ছিল। ১৩ তারিখ শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় অন্ততঃ একটি বৈঠক হয়েছিল; বনানীর বাসিন্দা সোহেল তাজ সেখানে যোগ দিয়েছিলেন; এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ সোহেল তাজের দায়িত্ব স্থির করা হয়েছিল। অকারণে শেখ সেলিম ২৫ ও ২৬ তারিখে বাসার বাইরে রাতযাপন করেননি।

আলমগীর, নানক ও আজম বরাবরই সেনা কর্মকর্তাদেও ধ্বংস করার পক্ষে ছিলেন। তারা যখন প্রধানমন্ত্রীর নিকট পরিকল্পনা উত্থাপন করেন তখন তিনি প্রথমত সম্পূর্ণভাবে গণহত্যার ব্যাপাওে দ্বিধাম্বিত্#৮২০৬; ছিলেন। তবে তিনি ভয়াবহ বিদ্রোহের সপ্তাহখানেক পূর্বে ডিজি, তার স্ত্রী ও কর্নেল মুজিবকে ( সেক্টর কমান্ডার , ঢাকা) অপসারণের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। ১২ এপ্রিল গ্রেফতারকৃত বিডিআর কুশীলবদের জিজ্ঞাসাবাদে টিএফআই সেলে র্যাবের কর্মকর্তারা এ সকল তথ্য উদ্বৃত করেন এবং পরে তার সত্যতা প্রমাণ করেন। তারা আরও জানতে পারেন যে, ডিজি, তার স্ত্রী আকস্মিক গুলিতে মারা গেলে জেনারেল মইনকে আবেগায়িত না হতে বলা হয়েছিল; তার মৌনতা এ প্রস্তাব মানা ও অনুমোদনে সায় দিয়েছিল। ডিজি ও তার স্ত্রীকে হত্যায় ফাঁদে আটকে পড়া জেনারেলের অনুমোদন দানের যথেষ্ট কারণ ছিল; কারণ তাতে অবৈধ অর্থ উপার্জনে চোরাচালানের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় তার অংশীদারের মৃতু্য। তখন কেউ ঐ অপরাধের সাথে তাকে ও তার স্ত্রীকে জড়াতে পারবেনা। ডিএডি তৌহিদ, জলিল ও হাবিবসহ বিডিআরের প্রধান হোতারা ২ নং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানত।

পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ ধ্বংস নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীর কবীর নানকের দায়িত্ব ছিল অন্যদিকে ফজলে নূর তাপসের দায়িত্ব ছিল হাজারীবাগ ও ঝিগাতলা এলাকা দিয়ে বিডিআর খুনীদের পলায়ন নিশ্চিত করা। তাপসের সাথে নানকের বাড়তি দায়িত্ব ছিল ২৫ তারিখ রাতে ভাড়াকরা খুনীদের এমবুলেন্সে করে নিরাপদে যেতে দেয়া এবং ২৬ তারিখের মধ্যে সকল খুনীর পলায়ন নিশ্চিত করা। তাদের এয়াপোর্টে যাবার পথে খুনীদেরকে মাইক্রোবাসে স্থানান্তর করা হবে। তাদের মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ পলায়নে নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সোহেল তাজের। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল দেরী হলে প্রয়োজনে এ উদ্দেশ্যে বিজি ০৪৯ ফ্লাইট ব্যবহার করা হবে।

২নং পরিকল্পনার সাফল্য নিহিত ছিল-

১.সেনাবাহিনীকে কোন সামরিক সমাধানে নিবৃত্ত করতে সরকারের সক্ষমতা এবং ;
২. পীলখানা হত্যাযজ্ঞের প্রমাণাদি যত বেশী সম্ভব নিশ্চিহ্ন করে ফেলা

এ জন্যই নানককে দায়িত্ব দেয়া হয়। ঠান্ডা মাথায় হত্যাকান্ড সংঘটনের জন্য নানক সুবিদিত যে জরম্নরী অবস্থাকালীন সময়ে ভারতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপদ হাউস এর অন্যতম মেহমান ছিল। তাকে ২৫ তারিখ দুপুর থেকে পীলখানার অভ্যনত্দরের সামগ্রিক কমান্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়; যা স্থানীয় সরকারের মন্ত্রনালয়ের ডেপুটি মন্ত্রী হিসেবে তার দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। নানক এটা নিশ্চিত করেছিল যে বিদ্রোহে নিহত সেনা অফিসারদের লাশ ২৫ ও ২৬ তারিখের রাতে গণকবরে পুতে ফেলা ও দরবার হলকে ধুয়ে মুছে সাফ করা, যাতে হত্যাযজ্ঞের কোন চিহ্ন না থাকে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে সেনাপ্রধানের নিকট থেকে সামরিক বাহিনীকে বিদ্রোহ দমনে তৎপর করা ছিল সবার প্রত্যাশা। তার সেই ব্যার্থতার প্রেৰিতে বিদ্রোহের পরবর্তী পরিকল্পনা আাঁটা হয় বিদ্রোহ প্রশমনে সম্ভাব্য সামরিক কর্মকর্তাদের চাকুরীচ্যুত করে বিডিআর এর সমসত্দ ফাঁড়ি গুলোতে সেখানকার সেনা অফিসারদের হত্যা করা। এটা বাসত্দবায়িত হলে সরকার দেশে যুদ্ধাবস্থা ঘোষনা করতো আর সেই সুবাদে আকাশ পথে বাংলাদেশে ভারতীয় সেনা অবতরণ শুরম্ন করতো। এই লক্ষ্য সাধনেই সরকারের প্রতি আনর্ত্দজাতিক সহমর্মীতা অর্জনে হাসিনার পুত্র জয় ২৬ তারিখ সকালে আনর্ত্দজাতিক মিডিয়াকে এই মর্মে অবগত করায় যে বিদ্রোহের পিছনে সেনা অফিসারদের দূনর্ীতিই দায়ী।

বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা যাতে যথাযথ লক্ষ্য হাসিলে সর্বাত্মকভাবে তৎপর হয় তার জন্য ফেব্রুআরীর শুরু থেকে শেষ পর্যনত্দ প্রায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি সেনা অফিসারকে হত্যার জন্য ৪ লক্ষ্য টাকার এ্রনাম নির্ধারন করা হয়। রিং লীডারদের অর্থের পরিমাণ ছিল আরও অনেক বেশী। হত্যাকারীদের সাথে অতি উৎসাহী হয়ে যারা পরবর্তীতে হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত হয় তাদেরকে বিদ্রোহের বা ধ্বংস যজ্ঞের আগে পরে অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদাণ করা হয়নি। পরিকল্পনা -১ এর সাথে সম্পৃক্তরা এমপি তাপস এর মাধ্যমে আর ডি এ ডি’র অনুগতরা নানকের চ্যানেলের মাধ্যমে সংগঠিত হয়। সোহেল তাজ ও জয় ভাড়া করা খুনীদের অর্থ প্রদান করে। হত্যাযজ্ঞ সংঘটনে প্রথম দিকে কিছু আগাম অর্থ দুবাইয়ের হোটেল বাব-আল-শামস এ প্রদান করা হয়।

পরিকল্পনার মধ্যে সম্ভাব্য আপদকালীন পরিস্থিতি তথা যদি সেনাবাহিনীকে পীলখানা বিদ্রোহ দমনের কাজে নিবৃত্ত করা না যায় কিংবা যদি ঘটনার সাথে আওয়ামীলীগের সম্পৃক্তি জনাজানি হয়ে যায় তাহলে কি করতে হবে তাও আগাম পরিকল্পনা করে রাখা হয়। পরিকল্পনা ছিল যদি শেখ হাসিনা সেনা অভিযান বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী ভারতে এস ও এস বার্তা প্রেরণ করবে এবং তার প্রেক্ষিতে আকাশ পথে ভারতীয় সেনা অভিযান চালানো হবে। আর তেমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের বিডিআর ইউনিট সমুহ ভয়াবহ অভিযান চালিয়ে পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। তখন বহিবিশ্ব দেখবে যে বাংলাদেশ এ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে অতএব সে অবস্থায় তারা হাসিনা সরকারকে বাঁচানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ প্রহণ করবে।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রনব মুখার্জী ঘোষণা দেন যে শেখ হাসিনা ও তার সরকার বিপর্যসত্দ অবস্থায় পতিত হলে সেই সরকারের সহযোগিতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এগিয়ে আসবে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সূত্র মতে সেই সময় আসামের জোরাট বিমান ঘাটিতে বড় ও মাঝারি ধরনের এয়ারফোর্স বিমান সহ প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়। অবশ্য কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতা বলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিদ্রোহের শুরুতে এমন ভবিষ্যত বাণী করেছিল তার বর্ণনা প্রনব বাবু প্রদন করেনি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমও এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেনি। বিদ্রোহীরা কিন্তু সরকার উৎখাতের কোন কথাই বলতে গেলে প্রদান করেনি। বিদ্রোহ অকার্যকর করার আশংকা বিদ্রোহীরা করেছিল কেবলমাত্র সেনাঅভিযান দিয়ে। বস্তুত: বিদ্রোহ অকার্যকর হবার আশংকা যে ভারত করেছিল তার প্রমানই হচ্ছে তাদের উপরিউলি্লখিত সামরিক প্রস্তুতি। যদি সামরিক অভিযান বন্ধ না করা যেতো তাহলে আপদকালীন পরিকল্পনা ছিল তেমন অবস্থায় সেনাপ্রধান সহ সামরিক অভিযানের কমান্ডে নিয়োজিত জেনারেলদের অবিলম্বে অপসারন করা এবং সেনাপ্রধানকে অপসারনপূর্বক তাকে সরকারী নির্দেশ অমান্য করা সহ জরুরী অবস্থাকালীন সময়ের বিভিন্ন অপরাধের জন্যে বিচারের কাঠগড়ায় নিক্ষেপ করা হতো। তেমন ধরনের বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারের ধামাধরা সাংবাদিকদের দিয়ে এই মর্মে এক ভয়াবহ ক্যাম্পেইন চালানো হতো যে, সেনা কর্মকর্তারা আইনগত ও একটি বৈধ সরকারের নিষেধাজ্ঞা যৌক্তিক দাবী দাওয়া উত্থাপনও অমান্য করে অসংখ্য বিডিআর জওয়ানকে হত্যা করে যা সরকারের ভারমুর্তিই ক্ষুন্ন করা নয়; সরকারের পতন ঘটানোর অপচেষ্টাতেও সিক্ত হয়। এই ধরনের ক্যাম্পেইন চালানোর জন্য ৫ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়।

এর পাশাপাশি সেনা অভিযানের ও হত্যাযজ্ঞের সাথে জেএমবি, জামাত ও বিএনপির যোগসাজসের কল্পিত কাহিনী উক্ত ক্যাম্পেইনে তুলে ধরা হতো। এই ক্যাম্পেইনকে মজবুত করার জন্য সরকারের পক্ষে সহায়ক কর্মকর্তাদের র্যাব, ডিজিএফআই, পুলিশ সহ সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠান সমুহকে নিয়োগ করা হতো। সম্ভাব্য তেমন আপদকালীন অবস্থায় যাতে হাসিনা সরকার পার পেয়ে যায় তার জন্য অনভিজ্ঞ সাহেরা খাতুনকে গুরম্নত্বপূর্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিদ্রোহ ঘটানোর হোতাদের হোটেল ইম্পেরিয়াল ব্যবহার করতে দেয়া হয় যে হোটেলের মালিক হচ্ছে সাহারা খাতুনের এক ভাই। ঐ হোটেলে ষড়যন্ত্র বাসত্দবায়নের বহু গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটা ছিল সাহারা খাতুনের জন্য এক ফাঁদ। যদি ভুলক্রমে কোনভাবে বিদ্রোহের সাথে সরকারের সম্পৃক্ততার কথা জানাজানি হয়ে যায় তাহলে বলির পাঁঠা বানানো হতো এই সাহেরা খাতুনকে। তাকে অপসারন করে সোহেল তাজকে বসানো হতো পূর্ন মন্ত্রীতে।
আপদকালীন পরিকল্পনা সহ ১ ও ২ পরিকল্পনা মোতাবেকই পীলখানা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। কেউ পছন্দ না করলেও এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে পরিকল্পনাকারীরা তাদের পরিকল্পনা বাসত্দবায়নে একেবারে নির্ভুল ছিল।

to be continued…

%d bloggers like this: