• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 314,020 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব

মেজর ফারুক (অবঃ)

ভূমিকা

 

নির্দিষ্ট সীমান্ত একটি রাস্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্টের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম। সুনির্দিষ্ট সীমান্ত বিহীন কোন রাস্ট্রের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায়না। এজন্য একটি রাস্ট্রের পক্ষে – সীমান্ত চিহ্নিত করে তার যথাযথ সংরক্ষন যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী – সে সীমান্তের মধ্য দিয়ে যে কোন বহিঃশক্তির আগ্রাসন, অনুপ্রবেশ, অবাধ চলাচল, চোরাচালান, মানব পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রন করা।

 

সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভূখন্ডকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে স্বাধীন ভূমি হিসেবে লাভ করেছি।

https://i1.wp.com/newsleaks.in/wp-content/uploads/2011/05/Indo-Bangladesh-flag.jpg

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশের বেরুবাড়ী ছিটমহলটি সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হস্তান্তর করা হয়; বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তার ছিটমহল আংগরপোতা-দহগ্রামে যাবার জন্য ৩ বিঘা করিডোর হস্তান্তরের কথা ছিল; কিন্তু গত ৪০ বছরেও ভারত সেই ৩ বিঘা করিডোর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করেনি।

https://i0.wp.com/www.thedailystar.net/forum/2007/october/tin06.jpg

https://i2.wp.com/exclave.info/Tin-Bigha/tinbighamap.jpg

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেও সে চুক্তিকে অমান্য করা এবং প্রতিবেশী দেশের উপর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাকৃতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, কুটনৈতিক ইত্যাদি নানাবিধ বৈরী আচরন করে লক্ষ্যস্হ প্রতিবেশীকে তার নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল অবলম্বন – ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য চানক্য কুটনীতির বিষয় বলেই প্রতীয়মান।

 

আর ভৌগোলিকভাবে ৩ দিক থেকেই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত বিধায় ভারতের বৈরী আচরন ও আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশ।

 

সীমান্তে আগ্রাসন

 

সীমান্তে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সব বৈরী আচরণের শিকার হচ্ছে- তার কিছু উদাহরন হলোঃ

 

(১) সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী মানুষ হত্যা করা।

(২) সীমান্ত দিয়ে মাদক দ্রব্য ও বেআইনী অস্ত্র পাচার করা।

(৩) সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক চোরাচালান।

(৪) সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ করা।

(৫) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করা যেমন- রৌমারীতে তকালীন বিডিআর পোস্টে আক্রমন করা হয়েছিল।

(৬) বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি দখল করা।

(৭) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমায় জাগরিত তালপট্টি দীপ দখল করন।

(৮) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ভারতের অবৈধ দাবী উত্থাপন।

(৯) বছরে প্রায় ২২০০০ নারী ও শিশুকে পাচার করে তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে এবং কল-কারখানায় দাস হিসেবে ব্যবহার করা।

(১০) বেরুবারীর বদলে তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তর না করা-ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত স্বরুপ যে-সব কর্মকান্ড ভারত এ যাবত গ্রহণ করেছে সেগুলো হলোঃ

 

(১) ১৯৭১ সালেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে বাধ্য করে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষরে- যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা একটি সার্বভৌমত্বহীন রাস্ট্রে নামিয়ে আনা হয়।

 

(২) ১৯৭১ সালে ৯ মাস  ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লক্ষাধিক মুক্তিসেনা এবং পুরো জাতি যে সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতীক্ষা বরন করেছে তাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করার একক দাবীদার হিসেবে ভারত নিজেকে আবির্ভূত করে । কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে- বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং পুরো জাতি মিলে পাকিস্তানী বাহিনীকে পর্যুদস্ত না করলে এবং যৌথ বাহিনীকে সমর্থন না করলে – ভারত কোন দিনই পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারতো না।

 

(৩) মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের গোলামী চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাস্ট্র নীতি ভারতের উপর নির্ভরশীল করা হয়েছিল।

 

(৪) ভারত ১৯৭৫ সালের পর কাদেরীয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত হামলা পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছে।

 

(৫) ভারতের কোলকাতায় বসে ‘বঙ্গভুমি আন্দোলন’ নামক বাংলাদেশ বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ মিটিং মিছিল ও সভা–সমাবেশ করে, যাদের দাবী – বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে একটি হিন্দু রাস্ট্র গঠন করা।

 

(৬) ভারত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী চাকমা সন্ত্রাসীদেরকে দীর্ঘদিন যাবত অস্ত্র, গোলাবারুদ, রসদ, আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে সহায়তা করেছে। ভারতের মাটিতে বসে তারা আজো বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বাস্তবে এটি হলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রক্সি যুদ্ধ।

 

(৭)  ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী – ২০০০ সালের জানুয়ারীর প্রথম থেকে চলতি ২০১১ সালের আগষ্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভারত ৯৯৮ জনকে হত্যা, ৯৯৬ জনকে আহত,  ৯৫৭ জনকে অপহরন, ২২৬ জনকে গ্রেফতার এবং ১৪ জনকে ধর্ষণ করেছে।

 

(৮) ভারত বাংলাদেশকে কাঁটাতারের বেড়া দ্বারা ঘিরে ফেলে পৃথিবীর বৃহত্তম কারাগারে পরিণত করেছে।

 

(৯) ভারত বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে- যা বাংলাদেশের বৃহত্তম সিলেট অঞ্চলকে মরুভুমিতে পরিণত করবে।

 

(১০) ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি উজানে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকার গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার বিধান ছাড়াই গঙ্গা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কিন্তু এযাবত কোন বছরেই ভারত বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। এছাড়া, একসাথে ফারাক্কার সবগুলো গেইট খুলে দিয়ে প্রতি বছর বাংলাদেশে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করছে। ফারাক্কা বাঁধের কারনে বাংলাদেশের নদীতে নাব্যতা কমে অনেক নদী সরু খালে পরিনত হয়েছে; উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মরুকরণ,আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ।

 

(১১) ভারত হাসিনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশকে তার গোয়েন্দা বাহিনীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করেছে; বাংলাদেশের ভিতর থেকেই ‘র’ এর সদস্যরা এখন হরহামেশা মানুষ ধরে নিয়ে যায়।

 

(১২) ভারত ‘ব্যাগ ভরতি টাকা এবং মন্ত্রনা’ দিয়ে বাংলাদেশের গত নির্বাচন তথা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে বলে লন্ডনের ‘ইকোনোমিষ্ট’ পত্রিকা তথ্য বের করেছে।

 

(১৩) ভারত জেএমবি নামক উগ্রবাদী গোষ্ঠী তৈরীতে মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে তথাকথিত ইসলামী জঙ্গীদের দেশ হিসেবে বহিঃর্বিশ্বে উপস্থাপন করতে চায়।

(১৪) ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল বলে ভারতীয় লেখকেরাই এখন স্বীকার করছেন।

https://i0.wp.com/www.zyzyo.com/wp-content/uploads/2010/11/Research-and-Analysis-Wing-of-India.jpg

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'

(১৫) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী করিডোর সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভারত  ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং বাংলাদেশের সকল সেক্টরে অনুপ্রবেশের সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব দারুনভাবে ব্যাহত হবে।

 

(১৬) ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন এবং বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমিকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে তার সামরিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে- এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বুক চিড়ে তার সামরিক বহর চলাচলের জন্য করিডোর সুবিধা আদায় করেছে।

 

(১৭) বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হলেও সেসব হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আক্ষায়িত করার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রধান ঢাকায় বসে নছিহত করে গেছেন।

 

সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত আহবানঃ

 

ভারতের উপরোল্লেখিত আচরনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত আহবান জানানো জরুরীঃ

 

(ক) সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন, ধর্ষণ ইত্যাদি মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে শক্ত কুটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো এবং এসব অপরাধ বন্ধ না হলে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হওয়া;

https://i1.wp.com/www.shahidulnews.com/wp-content/uploads/2011/01/felani.jpg

(খ) সীমান্তে ভূমি দখল, সশস্ত্র আগ্রাসন এবং সামরিক স্থাপনা নির্মান থেকে ভারতকে বিরত রাখা এবং কোন ভূমি ভারতের কাছে হস্তান্তরকরণ থেকে বিরত থাকা;

 

(গ) বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পরিপন্থী করিডোর প্রদানের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসা;

 

(ঘ) গঙ্গা পানি চুক্তি অনুসারে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন, টিপাইমূখ বাঁধ নির্মানে ভারতকে বিরত রাখা, স্থল ও সমূদ্র সীমানায় ভারতকে অন্যায্য দাবী-দাওয়া তোলা থেকে বিরত রাখা এবং ফারাক্কা বাঁধের কারনে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া;

https://i0.wp.com/beaverdamsss.com/wp-content/uploads/2011/09/Tipaimukh-Dam.jpg

প্রস্তাবিত টিপাইমূখ বাঁধ

 https://i2.wp.com/www.globalwebpost.com/farooqm/writings/bangladesh/farakka/farakka.jpg

(ঙ) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭৪ সালে বেরুবাড়ী হস্তান্তরের বিনিময়ে ৩ বিঘা করিডোর সম্পূর্নভাবে বিনিময় করতে এবং তালপট্টি দ্বীপ ভারতের দখলমুক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন;

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/10/location.gif?w=226

(চ) সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধকরণ; এযাবত বিএসএফ এর হাতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা করন;

 

(ছ) ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে এবং চীনের সাথে ভারতের সম্ভাব্য কোন সামরিক সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা;

 

(জ) পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা দান থেকে বিরত থাকতে প্রতিবেশী রাস্ট্রের সাথে দক্ষ কুটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন;

 

(ঝ) তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিকে করিডোর প্রদানের সাথে সম্পরকিত না করা এবং ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রাখা;

 

(ঞ) পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সনাক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন এবং সীমান্তের ৮ কিঃ মিঃ এলাকা থেকে পুলিশ-র‍্যাব তুলে এনে সীমান্তকে আরো অরক্ষিত করা থেকে বিরত থাকা;

 

( ট) বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে ‘ব্যাগভরতি টাকা ও শলাপরামর্শ’ দিয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ভারতকে বিরত রাখা।

 

(ঠ) সদ্য স্বাক্ষরিত ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ অনুসারে বাংলাদেশের সকল সেক্টরে ভারতীয় অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টিকরন থেকে বিরত থাকা।

 

তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০১১।

ইমেইলঃ farukbd5@yahoo.com

//  

 

About the verdict on Colonel Taher trial

While giving the verdict on the legality of the punishment of Colonel Taher, the high-court bench of Justices Shamsuddin Chowdhury Manik and Zakir Hossain declared that the whole trial process was illegal and it was in fact a cold blooded murder of Taher by Late president Ziaur Rahman.

What high-court did to come to this conclusion? They interviewed one shoddy journalist character Lawrence lifshultz, who is a political follower of Taher’s communist doctrine. Other interviewed are also 1. Political opponents of Ziaur Rahman’s political platform 2. Supporters of ruling party who took it as their prime job to destroy Zia’s image 3. Political followers of Colonel Taher. Even the judges who delivered the justice, are publicly known nemesis of Ziaur Rahman’s ideology and are former leaders of socialist political platform based on Taher’s doctrine. And this is probably the first court proceeding in Bangladesh history where an witness could simply deliver his opinion via e mail to a third person. There was no ‘balai’ of oath taking, cross examination etc.

Before we go further into what these two judges did and what their judgment means, lets see what Taher in fact did back in early 70s.

1. Taher revolted against the then Awami League government of Sheikh Mijibur Rahman and formed and led an armed force called ” Gonobahinee”. Thousands and thousands of Awami League activists, leaders as well as general people were killed by the armed force. Any literature describing Mujib era Bangladesh will give testimony of the atrocities of Taher’s Gonobahinee.

2. While all other sector commanders were being promoted in the army as Brigadier/ Major General and who in turn helped rebuild the army, Taher was sacked from Bangladesh army by Mujib Government. ( It is unclear what Shamsuddin Chowdhury Manik had to say about this cold blooded sacking of ‘war hero’ Taher).

3. Many sources, well informed of the political military dynamics of 1975, say that it was Taher who was more likely to kill Mujib and there was an invisible race among Taher’s group and Faruq Rashids group in who would kill Mujib first. After hearing of the massacre of 15th August, most observers’ first suspicion was on Taher.

4. Taking the advantage of unstable situation of Bangladesh, Taher’s forces ( a select group of armed anti state forces including Taher’s brother Bahar) attacked Indian High Commission in Dhaka in an attempt to kill India’s high commissioner in Dhaka, Mr Samar Sen. Although Samar Sen survived with bullet wounds in his back, Police force guarding India’s high Commission shot and killed four members of Taher forces ( Including Taher brother Bahar).

5. About his 7th November coup this is what Taher himself said to the court that tried him,

In the above statement Taher comes down hard upon Major General Khaled Mosharraf. He also probably acknowledge being involved in his killing when he says that ‘when these cowards was begging for their lives on bent knees?’ Who were begging for their lives to him?

6. About 7th November he clearly claims that he conducted the coup and overthrew a government. He says this in the following statement,

The same judiciary which is all gung ho in coming down upon Ziaur Rahman for grabbing power by martial law, the same court which keeps on declaring power takeover by coups illegal every other day and takes yet another bite at Ziaur Rahman, suddenly has a change of heart in exonerating Taher’s military takeover that ultimately put Ziaur Rahman in power.

7. Taher clearly states that he requested martial law and he wanted Zia to be CMLA of the martial law and Zia declines to be CMLA.


8. What Taher really wanted to do?

In the above statement made to the court, he explains that he wanted to dismantle the tradition armed forces of Bangladesh and created a revolutionary forces. How many of our new generation Taher followers know what Taher’s plans meant? Do Justices Manik and Zakir know of Khmer Rouge of Cambodia? Do they know the history what Pol Pot did to the country in the name of peoples’ army run revolution of production? ( If anyone disagrees with above, we sure can have a lengthy academic discussion on the meaning of scientific socialism.)

Or in more recent history, would Nepalese military dismantle to pave the way for the Maoists to take over as peoples’ army?

9. The violent coup/ communist indoctrinated uprising that Taher staged, caused the lives of at least sixty members of armed forces ( Officers and their family). Among those killed included war hero, war time K force leader Khaled Mosharraf, war hero Col ATM Haider, war hero Col Saiful Huda. All of them were killed at the then military garrison at Sher e Bangla Nagar. Sher e Bangla Nagar happened to be the HQ of the rebel forces led by Taher. None of these war heroes were killed in a matter of minutes. They were all arrested, kept in the garrison at least nearly a day before being killed. It is impossible to believe that Taher was not aware of these high profile killings by his forces. But for the sake of debate, if one agrees that Taher was not aware of those killings, can Taher absolve himself of the responsibility of the murder of Khaled Mosharraf and 60 other? On many occasions, he claimed that he staged the mutiny. How can the leader of a mutiny can be exempted of the atrocities caused by a mutiny? Judge Manik et el are so passionate about correcting history, what about trial of the killers of Khaled Mosharraf and sixty others? One name comes again and again in relation to murder of Khaled/ Haider. i.e. Captain Jalil. Did our high-court bothered to summon Captain Jalil and ask him some question?

10. Pilkhana is fresh in our memory. The atrocities committed by BDR sepoys are despicable. A massacre was committed, rapes, loots, arson were indiscriminate. Bodies were burnt and buried in mass graves. Is there any scope of letting the leader of these crimes go unpunished citing technicality of law or lack of law? When murders/ killings are committed, the state has every right to hand maximal punishment to the killers. If Taher can be exonerated for staging a Pilkhana style violent fatal uprising, then on what logic the state can punish Pilkhana uprising leaders? In other words, if Pilkhana mutiny leader DAD Touhid is punished for his crimes, why can Taher not be punished?

11. There is a propaganda that Taher’s was a secret trial. In fact it was exactly the opposite.

Even Col Taher spoke for hours after hours. He was seen frequently misbehaving with the judge of the court.

12. Using high judiciary for partisan point scoring and distorting history is one of the gravest crimes against the state one can think of. One can certainly allege that Judge Manik and Zakir are doing exactly the same thing and then shutting everyone’s mouth by scaring them of contempt of court.

[The Bangla excerpts are purely Taher’s side of the story as these are taken from the website of Taher Shongshod. On a side note, one of Judges of High Court, Justice Ruhul Kuddus Babu is still the general secretary of the Songshod. The judge delivering the verdict was a long time leader of the socialist party Taher helped form ]

Source : http://rumiahmed.wordpress.com/2011/03/22/the-crimes-of-col-taher-and-pilkhana-trial/

Revolt By Bangladesh Rifles, It’s Security And Strategic Implications For Bangladesh

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

Bangladesh Rifles, the first line of defense

The relationship between Awami League and the Bangladesh army has never been cordial
https://i2.wp.com/www.crwflags.com/fotw/images/b/bd%7Dbal.gif

The BDR mutiny may be the case of a teamwork between a foreign external intelligence agency (RAW ) and some political elements (the ruling party Awami League ) within the country to set the stage for the departure of the army officers from Bangladesh Rifles to weaken it and to tarnish the image of the army before the whole nation to break their morale.

https://i2.wp.com/www.ethikana.com/gallery/bangabandhu_files/bangabandhu01_big.jpg

The then government's suppressive and discriminatory policies to neglect, humiliate and alienate the armed forces, ultimately led to the assassination of Sheikh Mujibur Rahman

https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/graphics/flags/large/in-lgflag.gif

India’s abortive misadventure inside Bangladesh territory in 2001 forced them to reorganize their security policy vis a vis Bangladesh and emphasize the need to search for new avenues to play larger role in the matters related to defense of Bangladesh and neutralize Chinese influence on our defense forces.

Since the independence, Bangladesh Rifles, the first line of defense, have been combating smuggling, human trafficking, drug trafficking and other illegal activities along the border and have made supreme sacrifices to protect the lives and properties of the people from enemy invasion with great courage and valor. Bangladesh Rifles have earned worldwide recognition for its determination, patriotism, and professionalism when they successfully repelled a large invasion by Indian border security force at Roumari point in 2001. Despite its performance and patriotism, the members of Bangladesh Rifles got little attention from the successive governments to alleviate the problem of poor pay and benefit structures allowed for them. Nevertheless, they continued to discharge their duties with utmost sincerity and took part in all nation building activities maintaining professionalism and discipline. On 25 th Feb, 2009 , the nation was shocked at the news that some BDR members had revolted and killed many officers who were on deputation from Bangladesh army to protest against poor pay and benefit structures and alleged corruption by the late Director General. The mutineers asked the government to implement a set of demands on a priority basis to address the problems of the members of Bangladesh Rifles. Some of these demands are as follows: 1 . withdrawing army officers from all command posts of BDR and recruiting new officers from BCS cadres 2 . allowing full rationing for BDR members 3 . sending BDR personnel to U.N. peacekeeping missions 4 . revamping salary structures and promotion procedures 5 . allowing defense allowances for BDR members 6 . procuring more transportation vehicles to guard the long porous border with India and Myanmar 7 . increasing the quality of food and 8 . improving educational and medical facilities for the family members of soldiers Because of defense strategy and lack of manpower, it will not be possible to withdraw army officers from the command posts of BDR, but the rest of the demands deserve due consideration because these are logical and should have been given to the BDR members a long time ago for they put their lives in danger to safeguard the frontiers of the country. It is, therefore, hoped that the government will take appropriate measures to remove the grievances of BDR members to stop the occurrences of similar incidents in the future. Now, let us examine whether there are any political motivations behind this unfortunate incident that shocked the entire nation. Indo-Awami nexus to weaken BDR and to defame the army The relationship between Awami League and the  Bangladesh army has never been cordial because of latter’s security outlook that anticipates no security threat from India and considers defense expenditures as needless. A few clauses of the 25 year friendship treaty that virtually eliminated Bangladesh’s sovereign right to seek assistance from other friendly nations to expand and modernize its armed forces and the subsequent step motherly attitude of the government and the formation of Rakkhi Bahini had cerated widespread resentment among the army officers. Instead of taking appropriate measures to remove the legitimate grievances of the army officers, the then government continued with their suppressive and discriminatory policies to neglect, humiliate and alienate the armed forces, which ultimately led to the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman along with most of his family members at the hands of a few young army officers. Awami League has never forgotten the incident nor forgiven the armed forces for the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and left no stone unturned to avenge the incident in 1975 by creating divisions in the armed forces through various political machinations. After the political change in 1 /11 , the military backed government had thrown many Awami League leaders into jail for their alleged involvement in financial scandal and abuse of power, which, many believe, has caused further deterioration in the relationship between the armed forces and Awami League. After the elections, Awami League’s virulent verbal attack on the army for its role in 1 / 11 is a testament to the fact that they wanted to weaken the army so that the latter could never repeat a 1 /11 like situation to bring about political changes in the country. India has its own agenda to diminish our defense capability because it needs a subservient military in Bangladesh to easily establish total domination on 4096 km Indo-Bangla border and use our defense and intelligence resources to its advantage to quell ongoing insurgencies in its North East region. India’s abortive misadventure inside Bangladesh territory in 2001 forced them to reorganize their security policy vis a vis Bangladesh and emphasize the need to search for new avenues to play larger role in the matters related to defense of Bangladesh and neutralize Chinese influence on our defense forces. This could only be accomplished through active cooperation from a friendly government at the helm of power in creating tension within our defense forces to break their morale and making it imperative for Bangladesh to seek Indian help in reorganizing the defense system of the country. So, the BDR mutiny may be the case of a teamwork between a foreign external intelligence agency (read  RAW ) and some political elements (read  Awami League ) within the country to set the stage for the departure of the army officers from Bangladesh Rifles to weaken it and to tarnish the image of the army before the whole nation to break their morale. The assertion that some local political elements and India are working together to weaken the security systems of Bangladesh may be true because the government’s quick decision to grant general amnesty to all rebellious members of Bangladesh Rifles without assessing the ground reality and to not allow any military action to quell the rebellion, which gave the mutineers enough time to put forth a set of demands and flee in groups from the BDR headquarters seem a preplanned strategy to instigate a rebellion, break the chain of command, kill large number of officers, and ensure safe exit for mutineers. If the local and foreign conspirators who planned, directed, and implemented the rebellion are not identified and the rebellious members of BDR who broke the chain command are not brought to justice such occurrences of rebellion may be repeated in other security forces to destabilize the entire nation and to create a situation for external powers to intervene in the name of peacekeeping.

http://newsbd71.blogspot.com/2011/03/revolt-by-bangladesh-rifles-its.html

মিল-অমিলঃ তারেক-জয়

Written by: শামস মোহাম্মদ

বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সম্প্র্রতি জাতির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান এবং পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ ওয়াজেদ মিয়া ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতি থেকে একসাথে মাইনাস করার চক্রান্ত চলছে। আর এ বিতর্ক ডালপালা বিস্তার করেছে দেশ হতে দেশান্তরে। সম্প্রতি মার্কিন মুল্লুকে এসে সরকারের আরেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার ঘোষণা করেছেন, ‌‌’বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র চাঁদের মত পবিত্র’। আজকের নিবন্ধ এ আলোচনার মধ্যে রাখার চেষ্টা করব।

তারেক আর জয়। বাংলাদেশের দুই রাজনৈতিক পরিবারের এ উত্তরাধিকারদের মধ্যে মিল-অমিল খুঁজে বেড়ান অনেকেই। আসলেই কি এরা একে অপরের তুল্য নাকি প্রতিপক্ষ। স্বল্প পরিসরে ও কষ্টে এটা নির্ণয় করার চেষ্টায় কতটুকু কেষ্ট মিলবে সেটা বিচারের ভার পাঠকদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।

প্রথমেই আসা যাক দুজনের পারিবারিক একটি মিল নিয়ে। আর তা হলো- দুজনেরই মা একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, হয়েছেন জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা, আর দেশের দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং একমাত্র কান্ডারী। – – – –

এরপরে আসা যাক, তারেক ও জয়ের রাজনীতি নিয়ে। তারেক রহমান রাজনীতিতে এসেছেন ১৯৯২ সালে গাবতলী বিএনপি-র প্রাথমিক সদস্য থেকে, এর পরে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য; ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার মা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সারাদেশে নির্বাচনী সফর করে রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জন; ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনে চেয়ারপার্সনের জন্য তথ্য ও গবেষণা সেল স্থাপন করে তথ্য-উপাত্ত-কৌশল দিয়ে দলকে সহায়তা করেন, যার বদৌলতে সে নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্টতা লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপরে গ্রামে-গঞ্জে সফর করে রাজনৈতিক সংশ্লেষ, উপজেলা সম্মেলন, বিভাগীয় সম্মেলন, ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন, তৃণমূল সম্মেলন, ছাত্রদল পূনর্গঠন ও মূলদলের কর্মকান্ড জোরদার ও ডাটাবেজ তৈরী সহ ব্যাপক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিএনপির স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ করে ২০০২ সালে। সর্বশেষে গত ৮ ডিসেম্বর ২০০৯ জাতীয় কাউন্সিলে দলীয় কাউন্সিলারদের ভোটে তারেক নির্বাচিত হন দলের ২য় কান্ডারী- সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে।


অন্যদিকে জয়ের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দলীয়ভাবে তেমন কিছু জানা যায় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, কাউকে মাইনাস করতে হলে আগে তো তাকে প্লাস হতে হবে। তবে ওয়েবসাইটের কল্যাণে জয়ের কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও দৃশ্যমান। World Economic Forum-এর Young Global Leaders Nominees-2007 ব্রোশিওরে Wazed Sajib Joy (Name), Awami League (company), Member (position), Bangladesh (country), Political (stake holder) থেকে এটি পরিস্কার দৃশ্যমান, সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসাবেই বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেছেন। এমনকি এ ফোরামে তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডার কোম্পানী হিসাবে তুলে ধরেছেন, এর জন্য দলীয় অনুমতি লাভ করুন বা নাই করুন। তাছাড়া বছর কয়েক আগে স্বস্ত্রীক ঢাকায় এলে জিয়া বিমানবন্দর থেকে শোভাযাত্রাসহ স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানাদিতে তার সরব উপস্থিতিকে যে কেউ তারেকের পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা বলে চালিয়ে দিতে পারে। এর বাইরে ১৯৯৬-২০০১ সালের ক্ষমতাকালে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ দূতাবাসের বেতন-যানবাহন নিয়ে উপদেষ্টার কাজও করেছেন কিছুকাল। অনেকের কাছে জয়ের সে সময়কার বিজনেস কার্ড পাওয়া যাবে বলেই বিশ্বাস। অবশ্য চলতি রাজত্বে সজীব ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, যা পরে সংশোধন করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসাবে এখনও কর্মরত। …………………..

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে ঢাকায় প্রথম সফরে সজীব ওয়াজেদ ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক করে দেশের উন্নয়নে তার আগ্রহ ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই কাজ তারেক রহমান করেছেন অনেকবার। তাছাড়া গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বাংলাদেশের ভিশন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে সজীব ওয়াজেদ সরকারি উপস্থাপনা করেছেন। এছাড়া কার্ল সিভাক্কোর সাথে `Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণা করে দেখতে পেয়েছেন বাংলাদেশে আগের চেয়ে ৩০% বেশী মাদ্রাসার ছাত্র সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়েছে, যাতে তার উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তারেক রহমানও তার মায়ের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট, মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে দেখে এসেছেন। এরপরে বিল গেটসও বাংলাদেশে গেছেন, সেখানে তাদের সাথে দেখা এবং কথাও হয়েছে।
২৩ মে ২০০৯ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার পুত্র ববি কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কিছু সাংবাদিকের সাথে বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘন্টার বৈঠকে সরকারের কর্মকাণ্ডে সংবাদপত্র ও রেডিও-টেলিভিশনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। কিভাবে প্রচার মাধ্যমে সরকারের বেশি বেশি খবর প্রকাশ করা যায় এবং কিভাবে সরকারবিরোধী খবর প্রচার বন্ধ করা যায় সেসব বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস সেকশনের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। একই রকমভাবে তারেক রহমানও বিভিন্ন জুনিয়র মন্ত্রীদের সাথে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছেন, রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়েছেন।


এবার আসা যাক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে।

১৯৭৫ সালে জয়ের নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান নিহত হবার পরে সজীব ওয়াজেদ মায়ের সাথে জার্মানী-লন্ডন হয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ হতে গ্রাজুয়েশন করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্সে গ্রাজুয়েশন করেন, এবং পরে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে মাষ্টার্স করেন। তবে নিজেকে আইটি প্রফেশনাল পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন জয়। তার পুরো জীবন ও শিক্ষা লাভ ঘটেছে বাংলাদেশের বাইরে। ভারতে অধ্যয়নকালে এক শিখ নারীর সাথে প্রণয় ঘটিত রটনা রয়েছে বেশ। তবে পরে Richard D Loomis এর সাবেক স্ত্রী মার্কিন এটর্নী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ার নামে জনৈক ভিনধর্মের নারীর পাণি গ্রহণ করেছেন ২০০২ সালে।

অন্যদিকে তারেক রহমান বাংলাদেশেই আজীবন কাটিয়েছেন। রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করে আদমজী ক্যান্টনমেন্টে কলেজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেন। ১৯৯৪ সালে সাবেক নৌবাহিনী প্রধান, ডিসিএমএলএ ও সাবেক মন্ত্রী রিয়ার এডমিরাল এম এ খানের কন্যা ডাঃ যুবাইদা খানকে বিবাহ করেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ২টি মামলায় চার্জ গঠন হয়েছিল সে আমলে। এনবিআরের করা ট্যাক্স ফাঁকির মামলার বিচার শুরুর আগেই স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া দিনকাল প্রকাশনা লিমিটেডের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল সংক্রান্ত মামলা খারিজ (কোয়াশ) করেছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা কোয়াশ করার আবেদনে গত অক্টোবরে সরকারকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়। চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ৮ টি মামলার সবগুলোতেই উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন, সেই সাথে মামলাগুলো স্থগিতও করেছেন উচ্চ আদালত। এসব চাঁদাবাজির মামলাগুলোর মধ্যে তিনটিতে তাকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ২০০৭ সালের ৮ মার্চ গুলশান থানায়। ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আমিন আহমেদ ভূইয়া ১ কোটি টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগে এ মামলা করেন। মামলা করার আগের রাতেই তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার গুলশান থানায় চাঁদাবাজির দ্বিতীয় মামলা দায়ের করেন মার্শাল ডিস্টিলারিজের মালিক হারুন ফেরদৌস। এ মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৮০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় মামলাটি হয় কেরানীগঞ্জ থানায় গরু ব্যবসায়ী জনৈক আদম আলীর আবেদনে। এ মামলায় কোকো-৩ লঞ্চ দিয়ে ১৩টি গরু ডুবিয়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। গুলশান থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যবসায়ী আবু শাহেদ সালেহের করা মামলা, ধানমন্ডি থানায় ৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ঠিকাদার মীর জহির হোসেনের করা মামলা এবং ব্যবসায়ী খান মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিনের কাছ থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলা। এ মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে তারেক রহমানের সহযোগী আসামি করা হয়েছে। বাকী মামলাগুলো হলো- বসুন্ধরা গ্রুপের সাব্বির হত্যা মামলা ২১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ, যা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়। এ ছাড়াও মামুনের সঙ্গে তারেক রহমানকে যৌথভাবে আসামি করা হয়েছে যেসব মামলায় সেগুলো হলো- চীনের হারবিন পাওয়ার কোম্পানির বাংলাদেশের প্রতিনিধি খাদিজা ইসলাম ৫ কোটি টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগে মামলা। জাপান-বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধানের কাছ থেকে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে মামুন। ২০০৭ সালের বছরের ৫ জুন ঢাকার শাহবাগ থানায় এ মামলা করা হয়। সবগুলো মামলাই এখন উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সজীব ওয়াজেদ জয়ও যুক্তরাষ্ট্রে নানাবিধ আইন লঙ্ঘন ও অনৈতিক কাজে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছেন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হন। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্যঃ

২০০৮: ভার্জিনিয়া কোর্টে OPER UNINSPECTED VEHICLE অপরাধে সজিব ওয়াজেদের বিচার হয়।

কোর্ট রেকর্ডঃ State of Virginia Criminal Detail Defendant Name WAZED, SAJEEB AHMED
Date of Birth Jul 27 1971
Sex M Race
A Court Falls Church GD & JDR Case Number 610GT0800799400
Document Number Disposition Code NP
Offense Date Oct 3 2008 Arrest Date
Filing Date Oct 6 2008
Disposition Date Nov 19 2008
I Charge OPER UNINSPECTED VEHICLE Code Section A.46.2-1157


২০ মে ২০০৪ আরলিংটন কাউন্টিতে আইন ভঙ্গের অপরাধে সজীব ওয়াজেদকে শাস্তি দেয়া হয়।

২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল ভার্জিনিয়ার রাপহ্যানোক কাউন্টিতে জয় আটক হন এবং দন্ডিত হন।

১৯ মার্চ ২০০০ ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টিতে আবার গ্রেফতার হন তিনি।
এবারো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে        ৩০ দিনের জেল, ১২ মাস প্রবেশন, ৪০০ ডলার জরিমানা করা হয়।

কোর্ট রেকর্ডঃ State of Virginia Criminal
Detail Defendant Name WAZED,SAJEEB AHMED
Date of Birth Jul 27 1971 Sex M Race W
Court Hanover Circuit Case Number 085CR0000017400
Document Number Disposition Code G
Offense Date Feb 6 2000 Feb 6 2000 Filing Date Mar 10 2000 Disposition Date May 8 2000 Def. Status RECKLESS DRIVING 100/65 Code Section A.46.2-862


৬ ফেব্রুয়ারী ২০০০ জয় ভার্জিনিয়ার হ্যানোভার কাউন্টিতে আটক হন এবং রাডার ডিটেক্টরসহ বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত হন।
কোর্ট রেকর্ডঃ

Defendant Name WAZED, SAJEEB AHMED
Date of Birth Jul 27 1971
Sex M Race W
Court Hanover Circuit Case Number 085CR0000017400
Document Number Disposition Code G
Offense Date Feb 6 2000 – Arrest Date.

১৪ জুন ১৯৯৮ জয় টোসের টরেন্টো কাউন্টিতে গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ১২০ দিন কারাবাস, দুই বছরের প্রোবেশন ও ৫০০ ডলার জরিমানা করে।
কোর্ট রেকর্ডঃ
ID No. 6091439
Date of Birth Jul 27 1971
Type Code, Individual ID No. 5703475
DPS ID No. 06101867,
TRN ID No. 12452324
Date of Arrest Jun 14 1998
Sequence Code A Tracking Incident Number 0209195886
Arresting Agency ARLINGTON PD
Offense Code 54040009
Offense Description DRIVING WHILE INTOXICATED Level and Degree of Offense MISDEMEANOR – CLASS B Statute Citation of Disposed COUNTY CRIMINAL COURT 6 FORT WORTH Court Offense 54040009
Court Disposition CONVICTED.


দুজনের লেখাপড়ার বিষয় নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। জয়ের ভাষায় `I have a Bachelor of Science with a triple major in Physics, Mathematics and Computer Science from St. Joseph’s College, an affiliate of Bangalore University. I am also a graduate of the University of Texas in Arlington, Texas with a Bachelor of Science in Computer Engineering. I am currently back in school, working towards a Masters in Public Administration at the John F. Kennedy School of Government at Harvard University.

জয়ের এই পড়ালেখার পেছনে তার অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনার দাবী করে। পকেটের পয়সায় যারা বিদেশে পড়াশুনা করেন তাদের প্রতি বছর টিউশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি যোগাতে অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় ভ্যাকেশনে ও টার্ম টাইমে। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র টেক্সাস, হার্ভার্ড, ব্যাঙ্গালোর থেকে ডিগ্রী নিচ্ছেন এটা যেমন গর্বের কথা তেমনি ভাবনার বিষয়- এত খরচের টাকা আসে কোত্থেকে? টেক্সাস ও হার্ভার্ডের একটা খরচের হিসাব বের করা যাক। টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মোটামুটি খরচ প্রতি বছর ১৩৫২০-২৪৬০৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৯-১৭ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে হার্ভাডের এমসি/এমপিএ প্রোগামে এক বছরের খরচ ৭৬৪১১ মার্কিন ডলার [Tuition $37576 + Summer Session $6611+ Activity Fee $150+ Emergency on campus health services Fee $1,126+ Health/Hospital Insurance (BC/BS) $1714+ Room and Board $21530+ Personal/Travel $5,266+ Books and Supplies $2,438= Total (Direct and Indirect Costs) $76,411. যা প্রায় ৫২ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ গ্রাজুয়েজন ও মাষ্টার্স মিলিয়ে খরচ বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকার মত হবে।

২০০১-২০০৬ সময়ে শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন, মন্ত্রীর সমপরিমাণ বেতন পেতেন। বাংলাদেশে একজন মন্ত্রীর বেতন ৩২,০০০ টাকা মিনিষ্টার্স প্রিভিলেজ এ্যাক্ট ২০০৫ অনুযায়ী। ডঃ ওয়াজেদ মিয়াও একজন নামকরা পরমাণু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনিও উপার্জনক্ষম ছিলেন। দুজনের উপার্জন থেকে পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে কত সাশ্রয় করা সম্ভব? ওয়াজেদ সাহেব মৃত্যুকালে ৩০ লাখ টাকা রেখে গেছেন, যা একজন সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সদুপায়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। জয়ের হার্ভার্ডের গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়কার মন্তব্য শুনে এটা পরিস্কার বোঝা যায়, ঐসময়ে তার কোন কাজ ছিলো না। বাংলা পত্রিকার সাথে আলাপকালে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‍”আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল হার্ভার্ড থেকে আমি গ্রাজুয়েশন করি। তাঁর এই স্বপ্ন পূরণে সফল হতে পেরে ধন্য মনে করছি। এছাড়াও আরো অনেক কিছুই করার আছে। তার সবটাই চেষ্টা করবো পূরণ করতে। তিনি বলেন, আমি এখন চাকুরী খুঁজছি। যে কোন প্রাইভেট কোম্পানীতে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতে চাই। এজন্য আবেদন পাঠাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায়। এজন্য তিনি দেশবাসীর দোয়া প্রার্থী বলে জানান।” আরেকটি ব্যাপার এখানে গূরুত্বপূর্ণ যে, এটর্নী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ারকে জয় বিয়ে করেছেন ২০০২ এর ২৬শে অক্টোবর। সেক্ষেত্রে যদি যুক্তির খাতিরে ধরে নেয়া যায় তার স্ত্রী তাকে অর্থ সাহায্য করেছেন তাতেও বৃহদ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে উল্লিখিত অর্থের অর্থের সংস্থান পরিস্কার হয় না। ২০০৮ সালের নির্বাচনকালে জয়ের মাতা শেখ হাসিনা তার সম্পত্তির যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে ৩,৬৫,০২,৯০৪ টাকার সম্পদের বিপরীতে ২০০৭-০৮ বছরে পারিবারিক খরচ ছিল ২ লাখ টাকা। এতে করে শেখ হাসিনার স্থায়ী সম্পত্তি ও অপারপর হিসেব বিবেচনা করেও জয়ের এ সব শিক্ষাখরচের অর্থের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পরে পরিবারের আর্থিক সঙ্গতির কথা বিবেচনা করে ৩১শে মার্চ ১৯৮২ এক সরকারী প্রজ্ঞাপনমূলে তারেক ও আরাফাত দুইভাইয়ের পড়াশুনার ব্যয়ভারের জন্য বাংলাদেশ সরকার এককালীন ১০ লাখ টাকা মঞ্জুর করে।

এবার কার কত সম্পদ এবং এর উৎস কি তা নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক। সজীব ওয়াজেদ জয় ইকোনোমিক ফোরামের ইয়ং গ্লোবাল লিডার ২০০৭ প্রোফাইলে তার সম্পদ ডিকেয়ার করেন তা এ রকম, ‘Wazed, Sajeeb YGL 2007 Member, Awami League, Bangladesh, Bangladesh: Sajib Wazed Joy is a member of the Awami League, the oldest and largest political party in Bangladesh. He currently manages the communication and lobbying efforts of the Awami League in Washington, D.C., working directly with the US Administration. Previously, he served under the former Prime Minister of Bangladesh, Sheikh Hasina. After moving to the US, he founded Mvion Inc., a startup company through which he developed prototype software and raised US$ 8 million in venture capital. Mvion eventually brought in revenues of approximately US$ 2,00,000 per month and was evaluated at US$ 80-90 million. Sajib also founded the Bongobondhu Foundation of US, which provides basic healthcare and immigration assistance to needy expatriate Bangladeshis in the US. He also raises funds for its sister organization, the Bongobondhu Trust in Bangladesh, and promotes democracy and human rights issues there in partnership with the US Administration.’ অর্থাৎ, জয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমান বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৪৪-৬১২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে তার আয় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তহবিল যোগাড় করে থাকেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদও গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছিলেন, ২০০৭ সনে সজিব ওয়াজেদ জয় কিভাবে গ্লোবাল এওয়ার্ড পেল তা তদন্ত করলে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি প্রকাশ পাবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয় ৫শত কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেন মর্মে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। লসএঞ্জেলেস টেক্সাসে জয় একাধিক কোম্পানি গঠন করেছিলেন যা বর্তমানে ক্লোজ করে রাখা হয়েছে। জনাব গিয়াস আহমেদ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ওয়াল্ড ইকোনোমি ফোরামে জয় বার্ষিক ৯০ মিলিয়ন ডলার ইনকাম দেখিয়ে সত্যায়নপত্র জমা দিয়েছেন।

পত্রিকান্তরে জয়ের যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্ণনা পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ
টেক্সাস ভিত্তিক ইনফোলিংক ইন্টারন্যাশনাল (নভেম্বর ৯৮ থেকে মার্চ ২০০১)
নোভা বিডি ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি (মে ৯৮ থেকে আগস্ট ২০০১)
টাইকো কমিউনিকেশন ইউএসএ-র সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি।
২০০৫ সালের মার্চে তিনি জয় ওয়াজেদ কনসাল্টিং ও সিম গোবাল সার্ভিস নামে আরো দুটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দুই কোম্পানির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ও লেনদেন তখন ঘোষনা করা হয়েছিল ৬১ হাজার ও ৩৫ হাজার ডলার।
২০০৬ সালের ১২ মে নিজের নামে ৩৮১৭ বেলম্যানর, ফলস চার্চ ভার্জিনিয়ায় ১০ লাখ ডলার দামের একটি বাড়ি কিনেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জয় ও তার স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন আর একটি বাড়ি ৭ লাখ ৪৯ হাজার ডলার দিয়ে কিনেছিলেন।

এছাড়া সজীব আহমেদ ওয়াজেদের ঠিকানা সম্পর্কে গুগল সার্চে পাওয়া তথ্যগুলো নিম্নরূপ। এ থেকেও জয়ের বাড়িঘর সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

SAJEEB A WAZED Check for Email Address Google
912 TWIN CREEK DR
Neighborhood & Property Report Record Created: 05/2001
DESOTO, TX 75115 Confirm Current Phone & Address
Background Check on SAJEEB A WAZED

SAJEEB A WAZED Born 1971 Check for Email Address Google
4823 MARTIN ST Neighborhood & Property Report Record Created: Unknown
ALEXANDRIA, VA 22312 Confirm Current Phone & Address
Background Check on SAJEEB A WAZED

SAJEEB A WAZED Born 1971 Check for Email Address Google
5907 HIGHDALE CIR Neighborhood & Property Report Record Created: 07/2003
ALEXANDRIA, VA 22310 Confirm Current Phone & Address

অন্যদিকে তারেক রহমান নব্বইয়ের দশক থেকে জাহাজ ও ডান্ডি ডায়িং ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন, পরে দিনকাল পত্রিকাটি পরিচালনা করেন কয়েক বছর। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিনি মইনুল রোডের বাড়ির এক তৃতীয়াংশের মালিক। এ ছাড়া সব মিলিয়ে তারেক ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন দুদকে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৭ লক্ষ টাকার হিসাব বহির্ভুত সম্পদ গোপন করার, এই টাকা তারেক রহমানের স্ত্রী তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে এফডিআর করেছিলেন বলে ঘোষনা করেছেন। কিন্তু এর যথাযথ ট্যাক্স দেয়া হয়নি অভিযোগ এনে এটাকে অবৈধ সম্পদ গন্য করে মামলা করা হয়।

অন্যদিকে জয় ২০০৯ সালে বসুন্ধরার কর্নধার শাহআলম শতকোটি টাকার বিনিময়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছেন- এটা পত্রিকান্তরে প্রকাশ। জড়িতদের কেউ কেউ ঘটনার সাথে তেমন জড়িত নন মর্মে দাবী করলেও জয়ের পক্ষ থেকে এ পযন্ত কোন প্রতিবাদ আসে নি।

হাওয়া ভবনের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এবারে কথা বলা যাক। ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি সরকার উৎখাতের জন্য ট্রামকার্ডের ঘোষনা দেন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আবদুল জলিল। এর ১০ দিন আগে ২১ শে এপ্রিল আওয়ামীলীগ হাওয়া ভবনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে হাওয়া ভবন ঘেরাও কর্মসূচী দেয়। এ ঘটনার ঠিক ৩ দিন আগে আওয়ামীলীগের অভিযোগের সমর্থনে তারেক রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রীদের নিয়ে একটি দরখাস্ত তদন্তের জন্য ৫টি মন্ত্রণালয়ে পত্র দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সচিব নূরুল ইসলাম। একটি বেনামী দরখাস্তের ওপর ভিত্তি করে এ পত্রটি আবদুল জলিলের ট্রামকার্ডে রসদ হিসাবে সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয়, যদিও পরে সরকারী তদন্তে ওই সকল অভিযোগ ভূয়া হিসেবে প্রমানিত হয়। চাঁদাবাজি ও মুদ্রাপাচারের অভিযোগ করা হয় বন্ধু মামুনের বিরুদ্ধে এবং প্রচারের সময় তারেককে জড়িত করা হয় এতে। কিন্তু তারেক রহমান বিদেশে কোথাও কোনো সম্পদ লুকিয়েছেন- এরূপ প্রমানভিত্তিক কোনো তথ্য সরকারের কোনো কতৃপক্ষ অদ্যাবধি হাজির করতে পারেনি। এর প্রেক্ষিতে হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক দুর্নীতির রটনা সম্পর্কে ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক নিজ নামে লিখেছেন, হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির কেন্দ্র হিসেবে উল্রেখ করা এবং সেটা প্রতিষ্ঠিত করার একটি চেষ্টা ২০০১ সালের নির্বাচনের কিছুকাল পর থেকেই লক্ষ্য করা গেছে। হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্টদের ২০০১ সালের নির্বাচনে ভূমিকা এবং বিপুল সফলতা হাওয়া ভবনকে টার্গেট হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্ট অনেকের সামাজিক প্রভাব এবং দ্রুত বর্ধিত বিত্ত-বৈভব ও বাণিজ্যিক সাফল্য হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে মেনে নিতে অনেক সরল মানুষকেও উৎসাহিত করে।

প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক এলাহী চৌধুরীকে নিয়ে ঠিক একই রকমের দুর্নীতির অভিযোগ উঠে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে। পেট্রোবাংলার প্যাডে লিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে আবু সিদ্দিকী সাক্ষরিত দরখাস্তে অভিযোগ করা হয় বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেবার বিনিময়ে জয়-তৌফিক ৫ মিলিয়ন ডলার উৎকোচ নিয়েছেন মার্কিন কোম্পানী শেভরনের কাছ থেকে যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৫ কোটি টাকার সমান। ঢাকার দৈনিক আমার দেশ এ সংক্রান্তে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২৯ ডিসেম্বর। এর আগে এ অভিযোগ নিয়ে জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়, বিষয়টি তদন্তনাধীন ছিল। কিন্তু পত্রিকায় খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকারীদল গর্জে ওঠে। দলীয় সভা করে সরকারের মন্ত্রীরা ঘোষনা দিলেন পত্রিকার সম্পাদক-সাংবাদিককে রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না। সঙ্গে সঙ্গে সে হুকুম তামিলও হয়ে গেলো। সাংবাদিককে রাস্তায় পেটানো হলো আর সম্পাদককে সারা দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দেয়া হলো অন্তত ২০ জেলায়। অবশ্য এবারে বিএনপি দুর্নীতির অভিযোগে সুধাসদন বা জয়ের বাড়িঘর ঘেরাও করার দু:সাহস করেনি।

২০০৭-০৮ ফখরদ্দিন-মইনউদ্দিনের দুই বছরের শাসনামলে সজীব ওয়াজেদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলছিল প্রবাসে- গোপনে। সেনাপ্রধান মইন উ আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করে, বিভিন্ন মাধ্যমে লবিইং করে, ওয়াশিংটনে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রকাশ্যে মায়ের নেগোসিয়েশনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে, নিজের বাসায় কেয়ারটেকার সরকারের ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য যা করা দরকার তাই তিনি করেছেন। এর স্বীকৃতিও পাওয়া যায় ইকোনোমিক ফোরামের ইয়ং গ্লোবাল লিডার ২০০৭ প্রোফাইলে। এতে উল্লেখ করা হয়, ÔSajib Wazed Joy is a member of the Awami League, the oldest and largest political party in Bangladesh. He currently manages the communication and lobbying efforts of the Awami League in Washington, D.C., working directly with the US Administration. এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে কিছু শ্লোগান দেশে পাঠিয়ে সফল ভাবেই তা কাজে লাগিয়েছেন। এক কথায়, আওয়ামীলীগের ডিজিটাল রাজনীতির প্রবক্তাও তিনি।

অন্যদিকে এ সময়ে রিমান্ডে-গোয়েন্দা হেফাজতে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে বিনা চিকিৎসায় কারান্তরীণ ছিলেন তারেক রহমান। গ্রেফতারপূর্ব তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে দীর্ঘকাল পেশাগত কাজ করার সুবাদে কাছ থেকে দেখা সাংবাদিক সালেহ বিপ্লব (যিনি এক সময় ছাত্রইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন) হতে ধারনা পাওয়া যেতে পারে। তার ভাষায়, রাজনীতির দলীয় বিতর্কে যাব না। কিন্ত বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন তারেক রহমান। কোনো অনুষ্ঠানে দেরি করে যাওয়ার নজির তার নেই। শুধু নিজের সময়ানুবর্তিতাই নয়, নেতাকর্মীদেরও সেভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি। বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা কোনটি কতক্ষণ হবে, কতজন বলবেন- সব ছিল পূর্বনির্ধারিত। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, থাকার জায়গা, ঢাকায় ফেরার সময়ঃ সব কিছু ছিল ঘড়ি-ধরা নিয়মে। ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছি। এতগুলো দিনে, এতটা পথে কখনোই তাকে দেরি করতে দেখিনি। এটি তাঁর ক্যারিশমার একটি দিক। আরো দিক আছে। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হলেন, দলীয় চেয়ারপারসনের সচিবালয় হাওয়া ভবনের কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব পেলেন। এরপর কী হলো? শুনলে অনেকে অবাক হবেন, আমাদের জানা মতে, হাওয়া ভবনই একমাত্র রাজনৈতিক অফিস, যেখানে দলের সব নেতার ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত ছিল। ধরুন আপনি জানতে চান, ছাত্রদলের কোনো এক ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদকের পিতামহের পেশা কী ছিল। হাওয়া ভবন থেকে সেটা জানা সম্ভব ছিল। ক্লিক করলেই কম্পিউটার তা জানিয়ে দিচ্ছে।

তারেক রহমান চেয়েছিলেন, দলের সব নেতাকর্মীর তালিকা থাকবে, ছবিসহ এবং পারিবারিক তথ্যাবলিসহ। শুরু করেছিলেন ছাত্রদল দিয়ে, সেটা করাও হয়েছিল। সাধারণ কর্মীর বাইরে, শুধুমাত্র বিভিন্ন কমিটিতে যারা সদস্য, তাদের সচিত্র জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে ডাটাবেইস করেছিল হাওয়া ভবন। লক্ষ্য ছিল এরপর যুবদলের ডাটাবেইস করা হবে। কিন্তু আমরা অবাক হই এসব কথা ভেবে। ক্যারিশমাটিক একজন নবীন নেতা, এভাবেই তাকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। এতটা ভিশনারি একজন নেতার বিরুদ্ধে ওয়ান ইলেভেনের পর যেসব অভিযোগে মামলা হলো, তা দেখে আমরা কাছ থেকে দেখা মানুষটার সঙ্গে মেলাতে পারি না। কষ্ট হয়। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকের মতামত নিয়েছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি, তারেক রহমানকে ঘিরে এত নিন্দার ঝড় কেন? এখানে বিএনপিবিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একটা বিশাল অবদান রয়েছে। হাওয়া ভবন, তারেক রহমান আর দুর্নীতি- তিনটি বিষয়কে সমার্থক করে দেয়ার একটা জোরালো প্রচেষ্টা সব সময় ছিল। আমাদের ভুললে চলবে না, ২০০১ থেকেই হাওয়া ভবন তুমুল ব্যস্ত ছিল। বিএনপির নির্বাচনি কর্মকাণ্ড, কৌশল নির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণা- সব কিছুই হাওয়া ভবনে ডিজাইন করা। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির বিরোধী শক্তি হাওয়া ভবনকে নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছে। তারা স্পষ্টই উপলব্ধি করেছিল, তারেক রহমান খুব ধীরে হলেও দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী কাণ্ডারী হিসেবে। বিপরীতে দাঁড় করানোর মতো কাউকে তখনো পাওয়া যায়নি। পাওয়া যাক বা না যাক, তারেক রহমানের ইমেজ নষ্ট করতে হবে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিএনপিবিরোধী শিবির নিয়মিত বিষোদগার করে গেছে। এই কৌশল কাজে লেগেছে কি? লেগেছে। দুর্নীতি কোন সরকার করেনি? এরশাদ স্বৈরাচারকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ। আওয়ামী আমলে কি দুর্নীতি হয়নি? হয়েছে। দেশের মানুষ সব জানে, বোঝে। কিন্তু বিএনপি যখন দ্বিতীয় দফা সরকারে এলো, তার আগেই হাওয়া ভবন আর তারেক রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণায় জয়ী হয়ে গেছে বিএনপিবিরোধীরা।

আওয়ামী লীগ আমলে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তার হিসাব করতে হলে দলের অনেক নেতা-মন্ত্রীর দুর্নীতির যোগফল বের করতে হবে। কিন্তু বিএনপি আমলের দুর্নীতির কথা বলতে গেলে সবাই হাওয়া ভবন আর তারেক রহমানের কথাই বলবে, এমন একটি মানসিক অবস্থা সফলভাবেই তৈরি করতে পেরেছে বিএনপিবিরোধী মহলটি। এটা পারার একটি বড় কারণ, বিএনপির মিডিয়া উইং বরাবরই দুর্বল, অন্তত প্রতিপক্ষের তুলনায়। ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপির মিডিয়া উইং অনেকটা জোরদার হয়েছে নিঃসন্দেহে, তবে এখনো প্রতিপক্ষকে ডিঙ্গাতে পারেনি। এসব কথা থাক। এসব কথায় রাজনৈতিক বিরোধ জন্ম নেবে, ব্যক্তিগতভাবে এখন আর কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই, তাই রাজনৈতিক বিষয় থেকে বের হয়ে আসাই ভালো।‌‌‌‌‍‍‌ ………………………………….
Interested reading FULL article?

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে

ড. ইউনূস অপসারণ রহস্য মোটামুটি উদঘাটিত হয়েছে। সেই সাথে বেরিয়ে পড়েছে থলের বিড়াল। সেই কাহিনী আজ বলার ইচ্ছা আছে। তার আগে ‘দৈনিক সংগ্রামের’ সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা ভাইবোনদের অবগতির জন্য দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, হয়ত এই বিষয়টি অবতারণা করার কোনো প্রয়োজনই হতো না যদি আওয়ামী সরকার নীতি নিষ্ঠতার কারণে তাকে অপসারণ করত। গ্রামীণ ব্যাংককে বলা যেতে পারে গরীব মানুষের রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। যদি গ্রামীণ ব্যাংকের রক্তচোষা সুদের হার কমানোর উদ্দেশ্যে গ্রামীণ ব্যাংক তথা তার প্রধান ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো, যদি সেই ঋণের টাকা উসুলের জন্য ঋণ গ্রহীতার ভিটামাটির ওপর চড়াও হওয়ার কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো, তাহলে হয়ত দেশে এত প্রতিবাদের ঝড় উঠত না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে, হাসিনার সরকার শুধুমাত্র ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েই সব দায়দায়িত্ব শেষ করেছে। সুতরাং ড. ইউনূসের অপসারণকে শিক্ষিত সচেতন মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থের কাজ বলে অভিহিত করছেন। যতই দিন যাচ্ছে ততোই দেখা যাচ্ছে যে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে রাজনীতি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, উৎকটভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রবাসী পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়, দলের জেনারেল সেক্রেটারি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও এ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলমও এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দলের রাজনৈতিক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করারও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং তিনি যখন কোনো কথা বলেন তখন সেই কথাকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতেই হবে। এছাড়া কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডের নামকরা পত্রিকা ‘ইকোনোমিস্টও’ এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেছে। এই সবকিছু এক দিকেই অঙ্গুলী নির্দেশ করে। আর সেটি হলো, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করা।
প্রথমে শুরু করছি এডভোকেট মাহবুবে আলমকে দিয়ে। তিনি কোনো রাখঢাক না করে বলেই ফেলেছেন যে বাংলাদেশ থেকে যদি কাউকে নোবেল প্রাইজ দিতেই হয় তাহলে সেটা দেয়া উচিত ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা সন্তু লারমাকে। কারণ, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিদ্রোহী উপজাতীয় নেতা হিসেবে সন্তু লারমা শান্তি চুক্তি সম্পাদন করে বাংলাদেশের অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আপনারা নোবেল প্রাইজকে এত বড় করে দেখছেন কেন? বাংলাদেশে যদি শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ পেতে হয়, তাহলে আমি বলব, দু’জনের পাওয়া উচিত ছিলো। শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমার। কারণ একটি বিরাট এলাকা সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত ছিলো। যেখানে সেনাবাহিনী ছাড়া আমাদের যাওয়ার অবস্থা ছিলো না। সেখানে আজ আমরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করছি। শান্তি ফিরে এসেছে। এই শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দু’জন কাজ করেছেন, শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমা। তারা নোবেল প্রাইজ পাননি বলে কি শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাদের যে কাজ, তা কম হয়ে যাবে?’’
দুই.

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ইকোনোমিস্টের’ এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গত তিন মাস যাবত চলা গণমাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার ও আওয়ামী লীগ সরকারের হয়রানির অংশ হিসেবে তাকে তার পদ থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ২০১০ সালের নবেম্বরে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগে ড. ইউনূসকে জড়িয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। ওই ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, ১৫ বছর আগে অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার তার ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে নরওয়ে সরকার এ বিষয়ে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং এ অভিযোগ যে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিলো তা ওই তদন্তে বেরিয়ে আসে। তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে নরওয়ে কর্তৃপক্ষ তখনই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। ‘দ্য ইকোনমিস্টের’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এরপরও সরকার ওই নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদের আচরণ ও অপপ্রচার অব্যাহত রাখে। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা সম্পর্কে ১৪ বছর আগের একটি প্রসঙ্গের উল্লেখ করা হয়। তিনি তখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন। সময়টা ছিলো ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি। মাইক্রোক্রেডিট কাউন্সিল সম্মেলনে তিনি সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সকলের সামনে শেখ হাসিনা সেদিন গর্ব করে বলেছিলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমি নিজেও গর্ব অনুভব করছি। প্রতিবেদনে আরো একটি বিষয়ের অবতারণা করা হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনারও নোবেল পাওয়ার কথা ছিলো এবং নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে সরকারের উচ্চ পর্যয়ের আমলাদের লবিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিলেন। যদিও তখন তিনি তা পেতে ব্যর্থ হন।
মাত্র এক দশক পরেই ড. ইউনূস ওই পুরস্কার অর্জন করেন এবং তার খ্যাতি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ৫ মাস পরেই তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দেশের শাসনভার ন্যস্ত ছিলো। প্রতিবেদন মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে থেকে দুর্নীতি দূর করার উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস একটি রাজনৈতিক দলের দর্শন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। আর এ জন্যই প্রতিহিংসায় জ্বলে ওঠেন আওয়ামী নেতৃবৃন্দ।

তিন.

এভাবে থলের বিড়াল যখন বেরিয়ে আসতে শুরু করে যখন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঠিক চেহারা উন্মোচিত হতে থাকে। তখন ড. ইউনূসকে বধ করার জন্য মাঠে নামানো হয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে। এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তনয়কে একটি রাষ্ট্রীয় পদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে তিনি এই পদটি এবং সেই সুবাদে সেই পদের ক্ষমতা কদাচিৎ ব্যবহার করেন বা প্রয়োগ করেন। পদটির নাম হলো ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’। ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ হিসাবে তিনি ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ এনে একটি বিবৃতি দেন। ই-মেইল যোগে প্রেরিত এই বিবৃতিতে তিনি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি’, ‘চুরি’, ‘কর ফাঁকি’, ‘ঋণ পুনরুদ্ধারে দানবীয় ব্যবস্থা’ এবং ‘ক্রিমিনাল অপরাধের’ অভিযোগ আনেন। এই ই-মেইলটি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থা, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার কতিপয় সহপাঠীর নিকট প্রেরণ করেন। এই ই-মেইল বিবৃতিতে ড. ইউনূস এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে সজীব ওয়জেদ জয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন। ‘ইউনূসের বন্ধুরা’ শীর্ষক একটি সংগঠন গত মঙ্গলবার বলেন যে, এই মানহানিকর বিবৃতির মাধ্যমে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধির কাছে জনাব জয় বলেন যে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে তিনি যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার সূত্র হলো দু’টি আইনগত ডকুমেন্ট। এসব ডকুমেন্ট প্রণয়ন করেছেন আইনজীবীরা। মি. জয় বলেন, তার কাছে প্রেরণের পূর্বে এসব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহে অনুমোদন লাভের পর তার কাছে প্রেরণ করা হয়।
মি. জয়ের এই ই-মেইলে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে আক্রমণ চালানো হয়েছে তার প্রধান উপজীব্য ছিলো নরওয়ের একটি টেলিভিশনে প্রচারিত ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের টেলিফিল্ম। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিলো। ঐ টাকা আর গ্রামীণ ব্যাংকে ফেরৎ দেয়া হয়নি। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, যেসব ব্যক্তিগত প্রকল্পে বিনিয়োগের ইকুয়িটি জমা দেয়া হয়েছে সেগুলোতে দাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। দাতাদের এসব অর্থ গ্রামীণ ব্যাংকের নামে জমা না দেখিয়ে ড. ইউনূস এবং তার পরিবারের নামে দেখানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জনাব জয় বলেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণ বেআইনী এবং অর্থ আত্মসাতের শামিল।’’ এ প্রসঙ্গে মি. সজীব আরো বলেন, ‘‘আমার ধারণা, এই বিদেশী অর্থের মধ্যে গ্রামীণ ফোনে যা বিনিয়োগ করা হয়েছে তারও একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচ্য ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী তনয় কতগুলো অপ্রিয় সত্যকথা বলেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিপুল প্রচারণা সত্ত্বেও গরীবের দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্র ঋণ কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তেমন কোনো প্রমাণ নাই। গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশে ৩০ বছর ধরে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসা করছে। তারপরও বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম বলে পরিচিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঋণের ওপর গ্রামীণ ব্যাংক সুদ আরোপ করে ৩০ শতাংশ। এছাড়াও বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের ওপর আরোপ করে ১০ শতাংশ সুদ। চড়া সুদ আরোপ করা হয় গ্রামের দরিদ্র মানুষের ওপর। গ্রামীণ ব্যাংক অবশ্য বলছে যে, দারিদ্র্য নিরসনের দায়িত্ব তো এককভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের নয়। মি. জয় প্রশ্ন রেখেছেন যে, গ্রামীণ ফোনের মত একটি বিরাট লাভজনক প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ ইকুইটি থাকা সত্ত্বেও কেন তারা এই দরিদ্র জনগণের ওপর এত উচ্চ হারে সুদ আরোপ করে সেটা বোধগম্য নয়। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ফোনের বাৎসরিক রাজস্ব আয় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং তাদের লাভ বছরে শত শত কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই ই-মেইলের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এই যে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে, সেটি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, ‘‘সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি প্রশ্ন বিরাজ করছে যে, ড. ইউনূসই হলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু কঠোর বাস্তব হলো এই যে, বাংলাদেশ সরকারই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন।’’ মি. জয়ের ই-মেইলের এই অংশটি অসাধারণ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ, ঐ ই-মেইল বার্তায় নিজেকে তিনি পরিচিত করেছেন ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা’ হিসাবে। ঐ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি যা কিছুই বলেছেন সেটি বাংলাদেশের সরকারি অবস্থানেরই প্রতিফলন ঘটায়। ঐ ই-মেইলে বলা হয়েছে, ‘‘এখন আমি গ্রামীণ ব্যাংক এবং ড. ইউনূস সম্পর্কে যেসব তথ্য দিচ্ছি সেগুলো বাংলাদেশ সরকারের তথ্য। গত বছর নরওয়ের টেলিভিশন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থনৈতিক অনিয়মের দলিলপত্র প্রকাশ করে নরওয়ের একটি টেলিভিশন।’’

চার.

শেষ করার আগে আমরা আবার আগের কথায় ফিরে যাচ্ছি। ড. ইউনূসকে অপসারণ নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নাই। অপসারণকে সমর্থন করা বিরোধিতা করার মধ্যে আমরা নিজেদেরকে জড়িত করছি না। মি. জয় তার ই-মেইলে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে-নিজেই বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক গরীব মানুষদের নিকট থেকে ৩০ শতাংশ হারে সুদ নেয় এবং বিগত ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করার পরেও গ্রামীণ ব্যাংক অথবা ক্ষুদ্র ঋণ বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূর করতে পারেনি। যদি এসব কারণে বাংলাদেশ বাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো এবং দরিদ্র মানুষদের ওপর থেকে সুদের গুরুভার লাঘব করা যেত তাহলে হয়ত জনগণ সরকারি ব্যবস্থাকে সমর্থন জানাতে পারতেন। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে নোবেল প্রাইজ না পাওয়ার জ্বালা জুড়ানোর জন্য অথবা মাইনাস-টু ফর্মূলা সমর্থন করার জন্য যদি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যবস্থার সাথে জনগণের কোনো সংশ্রব থাকতে পারে না।

http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=49897

 

Politics dictated by business people

Complains Jalil; Quader says image of politics destroyed by political leaders

Seasoned politician Abdul Jalil yesterday said country’s political leadership is now in the hands of entrepreneurs who have turned the parliament apolitical.

“There is now a political leadership crisis in the country as leadership was not created in the last 20 years,” said the ruling Awami League (AL) advisory council member also a lawmaker at a “Meet the Press” programme in Dhaka Reporters’ Unity of the capital.

Current leaders of political parties are responsible for the situation, added the former AL general secretary.

Another veteran politician Obaidul Quader, said political leaders destroyed the image of politics. “Still now, political leaders are lobbying for favourable reports from intelligence agencies for getting positions in parties,” he said at a discussion in Public Library seminar hall in the capital.

“Where the dignity goes, if political leaders sit around in the offices of entrepreneurs for hours? We have failed to defend our dignity,” said Quader who is an AL lawmaker and the party’s presidium member.

He said the events of 1\11 could be possible in 2007 due to the activities of the leaders of both major political parties.

About the successes and failures of the AL-led government, Jalil, a former commerce minister, said, “Though the government achieved immense success in agriculture and education, it could not be successful in generating necessary gas and electricity.”

Besides, the government failed to improve law and order, and to curb price hike of essentials, he said adding that commodity price hike could not be controlled through command. He suggested that the minister concerned takes opinions of all stakeholders.

Saying that the law and order situation has not improved as criminals are not being punished, he suggested that the government brings a major reshuffle in the police force after increasing their salaries and other perks. He also advised bringing change to the police recruiting system, attracting more educated people to the force.

Jalil spoke on different aspects of the government, the ruling party and its 14-party coalition.

He said the public do not know much about some of the ministers, and those ministers have no touch with the people. He observed that the cabinet should be reshuffled to make it vibrant.

He demanded formation of a parliamentary probe body to investigate alleged torture of political leaders, entrepreneurs, and academicians by the Directorate General of Forces Intelligence (DGFI) after the 1/11 political changeover. He said the investigation must be carried out for the sake of strengthening democracy.

There is no coordination in the ruling 14-party coalition due to a lack of proper initiative, Jalil observed adding that each and every component of the coalition should be evaluated properly. Organisational activities of ruling AL also came to a standstill, he added.

Saying the main opposition BNP is not joining the parliament because it is not committed to the public and democracy, he urged the opposition to join the House.

He demanded that ruling party lawmakers be given full freedom of speech in the parliament, with an assurance that there will be no punitive measure against them for talking against party line. The measure is needed so the parliament remains effective even if the opposition walks out, he said.

DRU President Mustak Hossain, and General Secretary Jamal Uddin accompanied Jalil at the event.

Source : The Daily Star

Delhi’s cultural expansionism

Source : Srilanka Guardian

 

File Photo

by Mehnab Khan

(December 10, Dhaka, Sri Lanka Guardian) Each time, when Awami League comes in power, a section of so-called event management companies and program organizers become over active in organizing various cultural functions with Indian artistes. The same thing happened in 1996, when Awami League came in power, and it is no exception now.

The most talked about cultural event of 2010 is, Shahrukh Khan Night organized in Dhaka by Antar Showbiz. Just imagine! Who is the owner of this company is. Yes, Swapan Chowdhury, who is a former leader of the youth front of Bangladesh Nationalist Party!

How Swapan Chowdhury manages to organize such huge event? Who are the people behind him?

According to various sources, Antar Showbiz paid US$ 200,000 only to Shahrukh Khan for his few hour performances on December 10, 2010. On the other hand, Rani Mujkherjee has been paid US$ 50,000; Isha Kopikar US$ 25,000; Arjun Rampal US$ 15,000 etc.

The entire amount of remuneration, paid to Indian artistes was smuggled out of Bangladesh through illegal channel. Antar Showbiz never sought any permission from Bangladesh Bank for such huge remittance of foreign currency.

It is also learnt that, Antar Showbiz has cashed US$ 1.5 million from the sales proceeds of tickets, while it has received at least US$ 200,000 from the sponsors. And most surprisingly, Bangladeshi government did not receive even a fraction of the accrued amusement tax and Value Added Tax from the sale of tickets.

And here is the worst part of the story! Antar Showbiz’s owner Swapan Chowdhury sold “private time” with Rani Mukherjee at the rate of US$ 20,000 per 30 minutes. According to information, more than 27 local elites have purchased such “private time” with Rani.

On the other hand, “private time” with Isha Kopikar is sold for US$ 10,000 per 30 minutes. There is also no less rush for spending private time with this sexiest Bollywood star.

Is it not dirty enough? How a local event management company has been allowed to sell such “private time” of foreign artistes almost openly? Shall I call it a high profile pimping service?

And now the unknown story of the main media partner of this controversial event! Fraudulent multi-level marketing company Destiny, as shield of salvaging their skin from public wrath invested significant amount of money in buying a private television channel named Boishakhi TV. This channel has though paid a formidable amount of money to Antar Showbiz for buying exclusive broadcast right, it is continuing to play Indian film songs since December 8, 2010 almost on a regular basis, in the name of running campaign of Shahrukh Khan Night. How such audacious behavior of this TV channel was allowed to be continued during the month of liberation of Bangladesh? Are they willing to place Bangladeshi independence under the feet of their lords in Delhi?

Patriotic people in Bangladesh and media should investigate the entire episode of this question Shahrukh Khan Night. And the entire team of these Bollywood artistes should be properly questioned by Bangladeshi intelligence during their stay to determine, as to how they received such huge amount of foreign currency illegally.

The matter of selling private time of Rani Mukherjee and Isha Kopikar should also be investigated.

We have enough tolerated the cultural expansionism of Delhi. And it is our turn to react. New Delhi should immediately allow Bangladeshi TV channels to be shown in their households. Otherwise, we need to snatch off Indian channels from Bangladesh. As an independent nation, we have our pride. And we have no reason to pledge our dignity, sovereignty and pride to the followers of Chanakya doctrine.

Share

%d bloggers like this: