• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,721 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার অভিযোগের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে মতিউর!

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান
বারবার সরকারের ওপর মহল থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা ও সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরও গভীর এক রহস্যময় কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে না তাকে। আনা হচ্ছে না আইনের আওতায়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে একাধিবার। অথচ এরপরও তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে আনা দুরে থাক, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি বা হচ্ছে না। জঙ্গিবাদবিরোধী এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির একাধিক ব্যক্তি বিস্ময়ের সঙ্গে তাদের এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, জনগণের শক্তিতে রাজনীতিতে অভিষিক্ত গণতন্ত্রের দুই নেত্রীকে এই মতিউর রহমান ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার করুণ বিপর্যয় ঠেলে দেন। অথচ আজ প্রেক্ষাপট পাল্টে গেলেও সেই মতিউর রহমানকে স্পর্শ করার সাহস কারোই হয় না। তার পরামর্শের কারণে শূধুমাত্র দুই প্রধান নেত্রীই জেল খাটেননি, দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরাও নির্যাতন আর নানান হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবুও জঙ্গি সহযোগী প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান কী এক রহস্যময় শক্তির আধারে থাকছেন। তাঁকে আজকের গণতন্ত্রের সরকারও জিজ্ঞাসাবাদের সাহস রাখে না।

তারা আরও জানান, বঙ্গভবনে বসে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান গভীর বেদনা নিয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত পত্নী আইভি রহমানের কথা ভাবেন। নিঃসঙ্গ জীবন তাঁর ক্ষয়ে যায়, তবু ওই জঙ্গিদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেনেড হামলার তদন্তকারীরা কিসের জন্য রেহাই দিলেন, তা নিয়ে কৌতূহলী মানুষের প্রশ্নের শেষ নেই। এ বছর ১৯ মে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দীকি প্রথম আলোর মতিউর রহমানের দিকে আঙুল তাক করে র‌্যাব ধ্বংসের চক্রান্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। বলেছিলেন, ওই সম্পাদক জঙ্গিদের সহায়তা করেছেন, জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এমন প্রমাণও তাঁদের হাতে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ওই সম্পাদকের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয় নিয়ে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক হয়রানি করতে চান না বলে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। একজন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার এই বক্তব্য মতিউর রহমানের উদ্দেশ্য এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক আগাম ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছে। সরকারের প্রভাবশালী নৌ-পরিবহনমন্ত্রী এ বছর ২১ আগস্ট গাবতলী বাস টার্মিনালে এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, ২১-এর গ্রেনেড হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাঁর মূল এজেন্ডাই ছিল রাজনীতিকে মেধাশূন্য করা। আর সেই এজেন্ডা নিয়ে তিনি আজও কাজ করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকররা ক্ষেভের সঙ্গে আরও বলেন, সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন এ ধরনের শক্ত অভিযোগ আনেন তখন প্রথম আলো সম্পাদক আরো বেপরোয়া হয়ে অগ্রসর হন। তখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে, মতিউর রহমান কতটা শক্তিশালী? তিনি কি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের চেয়েও শক্তিশালী? তিনি কি দেশে প্রচলিত সকল আইনের ঊধর্ে্ব? সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রীরা যখন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন, জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট, সেই মতিউর রহমান যদি থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তখন সাধারণের মনে অনেক প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। সরকার তার যে প্রতিনিধিদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন, সেই প্রতিনিধিদের বক্তব্য সত্য হলে মতিউর রহমান কেন আইনের ঊধর্ে্ব থাকবেন ?

তারা আরও বলেন, আজ এর সুরাহা হওয়ার সময় এসেছে। কেউ কেউ যদি আইনের ঊধর্ে্ব উঠে যান, যা ইচ্ছে তাই বলতে থাকেন, করতে থাকেন, তাহলে তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন, সবার জন্য সমান আইন। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মতো রক্তাক্ত ও অভিশপ্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত_এমন অভিযোগ উঠলেও প্রথম আলোর সম্পাদককে ধরাছোঁয়ার মধ্যে না আনায় সরকারের কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। দেশে বিরাজমান জঙ্গি তৎপরতা, দেশকে আবারো এক নতুন ষড়যন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার তৎপরতা আর ২১-এর গ্রেনেড হামলার সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্যই তাঁকে আইনের আওতায় আনা আজ জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।


সূত্রঃ
https://i0.wp.com/www.bd-pratidin.com/images/spc_main_logo.gif

ভারত রাগ হয়ে গেছে

Source : Daily Sangram

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ভারতের চাওয়ার চাইতে অধিক অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছে। ভারতের ব্যাপারে সম্ভবত না বলতে পারে না শেখ হাসিনার সরকার। এমন কি ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোও সোল্লাসে বলেছে যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে একেবারে উজাড় করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কাকাবাবুদের এখন আর চাইতেই হয় না। তার আগেই শেখ হাসিনার সরকার তাদের সব কিছুই দিয়ে দিচ্ছে। তাতেও কাকাবাবুদের খাঁই মেটে না। তাদের আরও চাই। আরও চাই। এখানে দেশের স্বার্থের কী হল, অতো সব বিষয় ভাবনারও বোধ করি সরকারের সময় নেই। না চাইতেই যা পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে কাকুরা এতো কিছু চাইতে শুরু করেছেন যে সরকারের প্রায় দিশেহারা হওয়ার অবস্থা।

রাষ্ট্রের কী হল না হল ভারতকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জেদ ও লাভালাভ অনেকখানি নিশ্চিত হয়েছে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নিজের জেহাদ ঘোষণায় ভারতের মৌন সম্মতি মিলেছে। কারণ ইউনূসের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে ক্ষমতায় আসীন করা হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন সে কথা মনে রাখেন তার ঐ বক্তব্য থেকে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার ভোটের মাধ্যমে নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাধিকবার বলেছেন যে, তেল-গ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চাননি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় আসীন হতে পারেননি। তবে তিনি খোলাসা করে বলেননি যে, এবার ক্ষমতায় আসীন হতে তারা এসব প্রভুকে কী কী দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এটাও তো সত্য যে, ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসীন বিএনপি তেলগ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দেননিঅর্থাৎ তারা জিতবেন না জেনেও তেল গ্যাসের বিনিময়ে তাদের ক্ষমতায় বসাবার একটি ষড়যন্ত্র তখনও ছিল। বিএনপি তথা চারদলীয় জোটকে ঐসব প্রভুদের ধার ধারতে হয়নি। তারা প্রকৃতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন। ধর্মের ঢাক এভাবে আপনাআপনিই বেজে ওঠে।

আর সম্ভবত সেকারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারতকে কেবল দিয়েই যেতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। কিন্তু ফ্যাসাদ বেঁধেছে এক শ’ কোটি ডলার ভারতীয় ঋণ নিয়ে। এই ঋণচুক্তি যখন করা হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ১১শ কোটি টাকার রিজার্ভের ওপর বসে তা’ দিচ্ছিল। পড়েছিল অলস টাকা। বিনিয়োগ নেই, ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানি নেই। কোন চিন্তাভাবনাও নেই। রাখাল গভর্নর সে টাকা নিয়ে যখন বিপাকে, তখন সরকার ভারতের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি সুদে এক শ’ কোটি ডলার ঋণ নিল। এ ঋণের পয়সায় যা কিছু কাজ হবে, তার সব কিছুই হবে ভারতের স্বার্থের অনুকূলে। ইট-পাথর-রড-সিমেন্ট-লোকজন সব কিছুই আসবে ভারত থেকে। ভারতের যা নেই, তাও জোগাড় করে দেবে ভারতই। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকবে না। আমাদের লোকেরা সম্ভবত সেখানে কুলি-মজুরের কাজ পাবে। কিংবা হতে পারে, কুলি-মজুরও আসবে ভারত থেকে।

https://i0.wp.com/upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/c/c3/Sheikh_Hasina.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে ক্ষমতায় আসীন করা হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন সে কথা মনে রাখেন।

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হয়েছে। সেই ট্রানজিট পথে ভারতের ভারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার জন্য এই ঋণ। ভারত যখন ট্রানজিটের রাস্তাঘাট ব্যবহার করবে, তখন ঐ পথে বাংলাদেশের কাকপক্ষীও চলতে পারবে না। রাষ্ট্র আমার, ভূমি আমার, ঋণ নিয়েছি আমি। সে ঋণ শোধও করতে হবে আমাকেই। তারপরও আমি আমার নিজস্ব ভূ-খন্ড ব্যবহার করতে পারব না। ভারতের এমন শর্তের কাছে শেখ হাসিনা সরকার আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু তাতে বিপদ হয়েছে ভারী। এখন ভারত রকেটের দ্রুততায় ঐ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

https://i2.wp.com/www.weeklyvoice.com/wp-content/uploads/2010/09/Manmohan-Singh_57.jpg

মনমোহন সিংয়ের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরকালে শেখ হাসিনা ভারতকে আর কি কি সুবিধা দিবেন সেটি তিনি ছাড়া তার অফিসের ঘনিষ্ঠ কেউই সম্ভবত জানেন না

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত যখন দিল্লীতে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী কাকাবাবু প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন ফের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে চাপ দেয় ভারত। আর পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই চাপের অংশ হিসেবেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফর কেবলই পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। গত বছরের শেষাশেষে মি. সিংয়ের ঢাকা সফরের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ধীরগতি হওয়ায় সে সফল বিলম্বিত করে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বোঝাবার চেষ্টা করছেন যে, ভারতের সঙ্গে তার সখ্যতা কত গভীর। চাপ সৃষ্টির কারণও তাই। সম্পর্কের গভীরতাকে যদি ব্যবহার করতে চাও, তাহলে ভারতের অনুকূলে করিডোর কার্যক্রম দ্রুততর করো। এর আগে গতবছর জানুয়ারীতে শেখ হাসিনার দিল্লী সফর ঘোষণার পর ১৩ মাস বিলম্বিত হয়েছিল। এই সফরের আগেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার কৌশলগত স্বার্থ চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল। তারপর আসে ৫১ দফা যৌথ ইশতেহার। এই ইশতেহারে বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল একটি ধারাও নেই। মনমোহন সিংয়ের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরকালে শেখ হাসিনা ভারতকে আর কি কি সুবিধা দিবেন সেটি তিনি ছাড়া তার অফিসের ঘনিষ্ঠ কেউই সম্ভবত জানেন না। এদিকে শুকনো মওসুম শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু বহুল ঢাক পেটানো পানি বণ্টন চুক্তির কোন সম্ভাবনাই নেই।

উপরন্তু ভারত শতবার কথা দিয়েছে যে, সে দেশের বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারত কোন বাধা সৃষ্টি করবে না। সেজন্য ৬১টি পণ্যের তালিকাও করা হয়েছিল। কিন্তু তার কোন পণ্যই ভারত তার দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। শেখ হাসিনার সরকার হয়তো আশা করেছিল যে, ভারতকে সবকিছু উজার করে দেয়ার বিনিময়ে যদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করা যায়, যদি ভারতের অনুকূলে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য কমিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটা বলেই হয়তো জনগণকে প্রবোধ দেয়া যেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারও কোন সুরাহা হচ্ছে না। এছাড়া ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন ট্রানজিট ফি দিতে অস্বীকার করে বসেছে। ট্রানজিটের লাভ সম্পর্কে বোগি আওয়াজকারীরা একযোগে বলছিল যে, ভারতকে ট্রানজিট করিডোর দিলে বাংলাদেশ প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার ফি পাবে, লাভবান হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, শত শত কোটি ডলার তো দূরের কথা, ফি বাবদ ভারত এক পয়সাও দিতে রাজি নয়। ভারতের এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন বাংলাদেশ ভারতের সুবিধার্থে ফেনী নদীর উপরে ভারতকে সেতু নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। এই সেতু নির্মিত হলে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে আমাদের সুদর্শনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, ছিটমহলসহ সকল ঝুলে থাকা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এমনকি ভারতকে এ কথা বোঝাতে পারছেনা যে, সরকারের উপর এত চাপ সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত ভারতের অনুকূলে যাবে না। জনগণ, সরকার তো বটেই, একসময় ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে ও রুখে দাঁড়াবে।

ভারতের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মহলেও অনুকূল প্রভাব ফেলেনি। সরকার অনুগত ও সরকারের ঢাক বাদনকারী ব্যবসায়ীরা এখন দেখছে যে, ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রকল্প থেকে তাদের এক পয়সাও লাভবান হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। শুরুতে তারা হয়তো ভেবেছিলেন যে, এধরনের অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হলে তা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ফলে এই চুক্তি ও তার বাস্তবায়নের ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। আমলাতন্ত্রসহ সকল মহলে এখন আলোচনা একটাই। ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর দিলে কি লাভ? কারণ এই প্রকল্পের ইট-সিমেন্ট-রড পর্যন্ত ভারত থেকে আনতে হবে। এমনই এক দাসখত লিখে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকার এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও শেয়ালের রা-য়ের মতো ভেবেছে। তাদের ধারণা ভারতকে সবকিছু কোন বিনিময় ছাড়াই দিয়ে দেয়া বিষয়টি সকল আওয়ামী লীগারই সমর্থন করবে। ট্রানজিট ফি দিতে ভারতের অস্বীকৃতি এবং সরকারের তা মেনে নেয়া, এমন কি আওয়ামী লীগাররাও ভাল চোখে দেখছে না। সাধারণ মানুষ একে দেখছে বাংলাদেশ বিরোধী ভারতীয় চক্রান্ত হিসেবে। এখন বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের প্রটেক্টরেট ভুটানেরও নিচে চলে গেছে। যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ শেখ হাসিনা নিয়েছেন, তার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক পয়সাও লাভ হবে না। বাণিজ্য হবে না। কর্মসংস্থান হবে না। সবটুকু লাভ লুটে নেবে ভারত। আর ভারতের এই লাভের জন্য আমাদের সুদসহ পরিশোধসহ পরিশোধ করতে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। শেখ হাসিনার ক্ষমতার উন্মত্ত মোহে এই বাস্তবতা ভুলতে বসেছে যে, তাদের এই অবস্থান রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে। এদেশের মানুষ কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশ বিরোধী এত বড় চক্রান্ত মেনে নেবে না। তারা রুখে দেবেই।

পিলখানা হত্যাকান্ডঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ভারতীয় ষড়যন্ত্র [অধ্যায়-২]

[১ম খন্ড] -এর পর

৩. ঘটনা-পরবর্তী ভারতীয় প্রতিক্রিয়া

বিডিআর হেডকোর্য়াটারে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরপরই ভারতীয় রাষ্ট্র সংশি−ষ্ট ব্যক্তিবর্গের উক্তি থেকে শুরু করে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি এবং সে দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরগুলো যে কোন ব্যক্তিকে উদ্বিগ্ন করার জন্য যথেষ্টনির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে।

৩.১ ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোভাব বলে দেয় যে তারা এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে:

#ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/pranabmukherjee.jpg?w=300

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

#“…এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি একাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে”। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নেতাদের বৈঠকে একথা বলেন, যা আউট লুক-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়।

https://i2.wp.com/omsnewsbd.com/wp-content/uploads/2011/02/1278693921031.jpg

শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষা করার প্রয়োজন কেন ভারতের? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ২৫ফেব্রুয়ারীর ঘটনার পর বিডিআর এর যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ভারত শেখ হাসিনার মাধ্যমে করাতে চায়। এমনকি সম্ভব হলে তারা নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সংস্কারও করতে চাইবে।

৩.২ ভারতের সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। এই প্রস্তুতি সম্পর্কে মিডিয়ায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

https://i2.wp.com/www.mysarkarinaukri.com/files/images/Logo%20-%20Indian%20Army%20-%201.jpg

বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো

১.ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজী দৈনিক Hindustan Times এ গত ২ মার্চ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। পত্রিকাটি জানায় যে, বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী (আইএএফ) IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। আসামের জোরহাটে অবস্থিত ভারতের সবচাইতে বড় বিমান ঘাটিকে এই সহায়তা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

২.বিএসএফ এর একজন ডাইরেক্টর জেনারেলের উক্তি থেকেও ভারতের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গত ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এই সঙ্কট (শুরু) হবার পর, আমরা ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত আমাদের সকল সৈন্যদল ও অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/bsf_logo.gif?w=289

ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছিল

৩.বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানা যায় ঘটনার পরপরই সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্যের পাশাপাশি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ব্লাকক্যাট মোতায়েন করে। একই সাথে সমস্ত সীমান্ত জুড়ে রেডএলার্ট জারি করে।

৪.ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছে

স্বাভাবতই প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিডিআর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহকে ঘিরে ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্রের এতো প্রস্তুতি কেন। আর যাই হোক এই বিদ্রোহ কোনভাবেই ভারতের জন্য নিরাপত্তা হুমকি ছিলো না। আর তাছাড়া যে বিদ্রোহের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা (প্রধানমন্ত্রীর সংসদে প্রদত্ত ভাষ্য অনুযায়ী) প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, যে জন্য তারা সেনা অফিসারদের রক্ষায় দ্রুত সামরিক অভিযানে না গিয়ে ৩৬ ঘন্টা যাবত হত্যাকারীদের সাথে একের পর এক বৈঠক করে ধীর স্থিরতার সাথে রাজনৈতিকভাবে সামরিক বিদ্রোহ দমন করলেন, সেই বিদ্রোহের গুরুত্ব বা ভয়াবহতা ভারত সরকারই বা কিভাবে বুঝে  ফেললো ? এছাড়া এ দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যে কোন বিদ্রোহ দমনে এ দেশীয় দক্ষ সেনাবাহিনীই যথেষ্ট, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তাহলে, ভারতের মিশন কী? বাংলাদেশের বর্তমান বন্ধু সরকারকে রক্ষা করা? বাংলাদেশের সরকারকে রক্ষা করবে ভারতীয় বাহিনী। কেন? আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নেই?  নাকি প্রধানমন্ত্রী তাদের বিশ্বাস করেন না?

৩.৩ ভারতের মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

২৭ ফেব্রুয়ারীর পূর্ব পর্যন্ত এদেশের জনগণও পুরোপুরিভাবে তথাকথিত এই বিদ্রোহের আসল রূপ বুঝতে পারেনি। অথচ পুরো সময়ে ভারতীয় মিডিয়া ছিল অত্যন্ত তৎপর:

https://i2.wp.com/news.xinhuanet.com/english/2009-02/27/xin_232020627170629681248.jpg

আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো?

১.বিডিআর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তার নিহত হবার সংবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল এনডিটিভিতেই সর্বপ্রথম প্রচার করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ঘন ঘন বিডিআর হেডকোর্য়াটারে যাতায়াত করে হত্যাকারীদের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করেও যেখানে গণহত্যার খবর পায়নি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো? তাহলে কি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা বিডিআর হেডকোর্য়াটারের ভেতরে অবস্থান করছিলো?

২.ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী ভারতের বিখ্যাত ম্যাগাজিন আউটলুকে বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৩.ঘটনার পরপরই ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ায় বিডিআরকে একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বাহিনী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪.আর আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ এর মত পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আক্রমণ করে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রচার করেছে। এমনকি বিডিআর-এর ঘটনায় জঙ্গী কানেকশন ভারতীয় মিডিয়াই প্রথম আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে একই ধরণের কথা আমরা এদেশের মন্ত্রীদের মুখে শুনতে পাই।

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৪. সরকারের ভূমিকা

৪.১ ফেব্রুয়ারী ২৫-২৬

পরিস্থিতির বিশ্লে−ষণ থেকে বুঝা যায় ঘটনার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেএতো বড় ঘটনার পরিকল্পনা চলছিল আর সরকার তা জানে না, একথা মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশি−ষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কেন শুরুতেই অনভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে যারা কতিপয় বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? অথচ তারা সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সরকার কি উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলো? যে ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তারা দেড় দিন ধরে লাশ গুম, ব্যাপক লুটতরাজ ও সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের উপর নির্যাতন করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকালে বিডিআর সদর দপ্তরের আশেপাশের লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রকৃতপক্ষে কি ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়নি? সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে? যেসব বিদেশী নাগরিক আইডিসহ ধরা পড়েছিল, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল কেন? বিমানে করে কারা পালালো? দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তারা এই রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তাদের এই সব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

https://i0.wp.com/barta24.net/uploads/editoruploads/sahara-khatun-on-mobile-phone.jpg

সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে?

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বললেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট…”।

https://i2.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2010/11/21/2010-11-21__fro22.jpg

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট...” এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেনারেল অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন।

লে. জে. শওকত অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন। একই ধরণের কথা আরো অনেকেই বলেছেন। তাহলে আধা ঘন্টার সামরিক সমাধানের পরিবর্তে ৩৬ ঘন্টার তথাকথিত রাজনৈতিক সমাধান হলো কেন? এর আগে জনাবা সাহারা খাতুন ও নানক সাহেব কয়টি বিদ্রোহ দমন করেছেন? ধানমন্ডির এমপি তাপস সাহেব মিডিয়ায় বললেন, ‘চমক আছে’! কী চমক? বাষট্টি সেনা কর্মকর্তার লাশ? নাকি সকল হত্যাকারীর পলায়ন! এখানে আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন যে বিদ্রোহের সংবাদ জানার পর তিনি সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করে জেনেছেন সেনাবাহিনী আসতে দুই ঘন্টা লাগবে? কোনটা সত্য? আধা ঘন্টা না দুই ঘন্টা? রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নাকি ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকিয়েছেন। আসলে কি তাই? প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে ১৪ জন মিটিং করেছিল, তারা সবাই কি গ্রেফতার হয়েছে? তাদের তালিকা কোথায়? অনেকে বলেছে সরকার দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এর তুলনা করা যেতে পারে এভাবে – অপারেশন সাকসেস্‌ ফুল, কিন্তু রোগী মারা গিয়েছে। বাস্তবতা হলো বিদ্রোহ দমন করা যেত, দমন করা হয়নি। সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচানো যেত, বাঁচানো হয়নি।

আমরা বীর সেনা কর্মকর্তা হারালাম, বিডিআরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংস হলো, হত্যাকারীরা পালালো -এইসব কারণেই সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

৪.২ ঘটনা পরবর্তী সরকারের ভূমিকা

যে মন্ত্রী তথাকথিত বিদ্রোহীদের সাথে দর কষাকষি করেছে সে জাতির সামনে বলেছেন যে, বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পিছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং এই ষড়যন্ত্র বাস্ত বায়নের জন্য লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি সকল তদন্ত শুরু হবার আগেই এবং ঘটনার দুই দিনের মাথায় প্রকাশ্য সমাবেশে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে তবে কি তিনি আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতেন। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এখন সরকার ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের কথা বলে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিডিআরের ঘটনায় বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা অসংলগ্নতায় পরিপূর্ণ এবং বাস্তব ঘটনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। যেমন তিনি বলেছেন সরকারকে বিব্রত করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে অথচ জনগণের কাছে পরিষ্কার যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, সকাল ১১টার মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এটা জেনে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দু’দুবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহের পিছনে বৈধ কারণ রয়েছে

https://i0.wp.com/neawamileague.com/elements/joy.jpg

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়

যেভাবে তথাকথিত বিদ্রোহীরা প্রথম দিন টিভি ক্যামরার সামনে এসে তাদের দাবী দাওয়ার কথা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছিল, একই প্রক্রিয়াই সজীব জয় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন

ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসেছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও বৃটেন বাংলাদেশের ঘটনার তদন্ত করবে। অথচ এই মার্কিন-বৃটিশরা সারা বিশ্বে মুসলিম নিধনে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, এরা সবাই সরকারকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে এই বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার সাথে সংশি−ষ্ট ভারত ও ভারতের এদেশীয় দোসরদের ভূমিকার দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে।

সরকার মিডিয়াকে দায়িত্বশীল আচরণের কথা বলে এখন সত্য প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের একটি অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছে যাওয়ায় সরকার ঐ ওয়েব সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। হিযবুত তাহ্‌রীর, বাংলাদেশ এই ঘটনার বিশে−ষণ করে ভারতকে দায়ী করায় ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করায় সরকার ৩১ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। জনগণ এমনকি সেনা অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কিছুই হয়না আর রাষ্ট্র রক্ষার জন্য রাজপথে নামলে হয় মামলা আর হয়রানি!

সরকার জনগণের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে দায়িত্বশীল হতে বলছে, অথচ তারা অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা দেখেছি সরকারের স্তাবকেরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছে, জঙ্গিবাদকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, এমনকি সরকারের বয়স মাত্র পঞ্চাশ দিন ইত্যাদি বলে ঘটনার দায়দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তদন্ত কমিটির কোন রিপোর্ট প্রকাশ না হতেই সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও মিডিয়া জঙ্গী গোষ্ঠীদেরকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা শুরু করেছে। আবার একই মন্ত্রী পরবর্তীতে বলছে যে জঙ্গীরা ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীও এই ঘটনার সাথে জড়িত।

যেখানে ভারতে কিছু ঘটলেই ভারত সরকার পাশ্ববর্তী দেশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে, সেখানে সরকার পরিকল্পনা করেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেণের উপসংহারে এসে আমরা বলতে পারি যে এই তথাকথিত বিদ্রোহ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যার সাথে ভারত এবং সরকারের ভিতরে ও বাইরের ভারতীয় দোসর শক্তিসমূহ সংশি−ষ্ট। সেনাবাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের হত্যাযজ্ঞে লাভবান হবে মুশরিক শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের দোসররা। বিভিন্ন দাবির আড়ালে বিডিআর এর চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড থেকে বিডিআরকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনক্‌শা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়বে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা-বিডিআর এর যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অথবা বাংলাদেশ রাইফেল্‌স এর যে কোন দুর্বলতা অথবা এই দুই প্রতিরক্ষা বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারত। ……..(চলবে)

 

%d bloggers like this: