• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 314,020 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব

মেজর ফারুক (অবঃ)

ভূমিকা

 

নির্দিষ্ট সীমান্ত একটি রাস্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্টের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম। সুনির্দিষ্ট সীমান্ত বিহীন কোন রাস্ট্রের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায়না। এজন্য একটি রাস্ট্রের পক্ষে – সীমান্ত চিহ্নিত করে তার যথাযথ সংরক্ষন যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী – সে সীমান্তের মধ্য দিয়ে যে কোন বহিঃশক্তির আগ্রাসন, অনুপ্রবেশ, অবাধ চলাচল, চোরাচালান, মানব পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রন করা।

 

সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভূখন্ডকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে স্বাধীন ভূমি হিসেবে লাভ করেছি।

https://i1.wp.com/newsleaks.in/wp-content/uploads/2011/05/Indo-Bangladesh-flag.jpg

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশের বেরুবাড়ী ছিটমহলটি সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হস্তান্তর করা হয়; বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তার ছিটমহল আংগরপোতা-দহগ্রামে যাবার জন্য ৩ বিঘা করিডোর হস্তান্তরের কথা ছিল; কিন্তু গত ৪০ বছরেও ভারত সেই ৩ বিঘা করিডোর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করেনি।

https://i0.wp.com/www.thedailystar.net/forum/2007/october/tin06.jpg

https://i2.wp.com/exclave.info/Tin-Bigha/tinbighamap.jpg

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেও সে চুক্তিকে অমান্য করা এবং প্রতিবেশী দেশের উপর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাকৃতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, কুটনৈতিক ইত্যাদি নানাবিধ বৈরী আচরন করে লক্ষ্যস্হ প্রতিবেশীকে তার নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল অবলম্বন – ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য চানক্য কুটনীতির বিষয় বলেই প্রতীয়মান।

 

আর ভৌগোলিকভাবে ৩ দিক থেকেই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত বিধায় ভারতের বৈরী আচরন ও আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশ।

 

সীমান্তে আগ্রাসন

 

সীমান্তে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সব বৈরী আচরণের শিকার হচ্ছে- তার কিছু উদাহরন হলোঃ

 

(১) সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী মানুষ হত্যা করা।

(২) সীমান্ত দিয়ে মাদক দ্রব্য ও বেআইনী অস্ত্র পাচার করা।

(৩) সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক চোরাচালান।

(৪) সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ করা।

(৫) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করা যেমন- রৌমারীতে তকালীন বিডিআর পোস্টে আক্রমন করা হয়েছিল।

(৬) বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি দখল করা।

(৭) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমায় জাগরিত তালপট্টি দীপ দখল করন।

(৮) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ভারতের অবৈধ দাবী উত্থাপন।

(৯) বছরে প্রায় ২২০০০ নারী ও শিশুকে পাচার করে তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে এবং কল-কারখানায় দাস হিসেবে ব্যবহার করা।

(১০) বেরুবারীর বদলে তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তর না করা-ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত স্বরুপ যে-সব কর্মকান্ড ভারত এ যাবত গ্রহণ করেছে সেগুলো হলোঃ

 

(১) ১৯৭১ সালেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে বাধ্য করে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষরে- যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা একটি সার্বভৌমত্বহীন রাস্ট্রে নামিয়ে আনা হয়।

 

(২) ১৯৭১ সালে ৯ মাস  ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লক্ষাধিক মুক্তিসেনা এবং পুরো জাতি যে সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতীক্ষা বরন করেছে তাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করার একক দাবীদার হিসেবে ভারত নিজেকে আবির্ভূত করে । কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে- বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং পুরো জাতি মিলে পাকিস্তানী বাহিনীকে পর্যুদস্ত না করলে এবং যৌথ বাহিনীকে সমর্থন না করলে – ভারত কোন দিনই পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারতো না।

 

(৩) মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের গোলামী চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাস্ট্র নীতি ভারতের উপর নির্ভরশীল করা হয়েছিল।

 

(৪) ভারত ১৯৭৫ সালের পর কাদেরীয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত হামলা পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছে।

 

(৫) ভারতের কোলকাতায় বসে ‘বঙ্গভুমি আন্দোলন’ নামক বাংলাদেশ বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ মিটিং মিছিল ও সভা–সমাবেশ করে, যাদের দাবী – বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে একটি হিন্দু রাস্ট্র গঠন করা।

 

(৬) ভারত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী চাকমা সন্ত্রাসীদেরকে দীর্ঘদিন যাবত অস্ত্র, গোলাবারুদ, রসদ, আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে সহায়তা করেছে। ভারতের মাটিতে বসে তারা আজো বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বাস্তবে এটি হলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রক্সি যুদ্ধ।

 

(৭)  ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী – ২০০০ সালের জানুয়ারীর প্রথম থেকে চলতি ২০১১ সালের আগষ্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভারত ৯৯৮ জনকে হত্যা, ৯৯৬ জনকে আহত,  ৯৫৭ জনকে অপহরন, ২২৬ জনকে গ্রেফতার এবং ১৪ জনকে ধর্ষণ করেছে।

 

(৮) ভারত বাংলাদেশকে কাঁটাতারের বেড়া দ্বারা ঘিরে ফেলে পৃথিবীর বৃহত্তম কারাগারে পরিণত করেছে।

 

(৯) ভারত বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে- যা বাংলাদেশের বৃহত্তম সিলেট অঞ্চলকে মরুভুমিতে পরিণত করবে।

 

(১০) ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি উজানে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকার গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার বিধান ছাড়াই গঙ্গা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কিন্তু এযাবত কোন বছরেই ভারত বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। এছাড়া, একসাথে ফারাক্কার সবগুলো গেইট খুলে দিয়ে প্রতি বছর বাংলাদেশে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করছে। ফারাক্কা বাঁধের কারনে বাংলাদেশের নদীতে নাব্যতা কমে অনেক নদী সরু খালে পরিনত হয়েছে; উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মরুকরণ,আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ।

 

(১১) ভারত হাসিনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশকে তার গোয়েন্দা বাহিনীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করেছে; বাংলাদেশের ভিতর থেকেই ‘র’ এর সদস্যরা এখন হরহামেশা মানুষ ধরে নিয়ে যায়।

 

(১২) ভারত ‘ব্যাগ ভরতি টাকা এবং মন্ত্রনা’ দিয়ে বাংলাদেশের গত নির্বাচন তথা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে বলে লন্ডনের ‘ইকোনোমিষ্ট’ পত্রিকা তথ্য বের করেছে।

 

(১৩) ভারত জেএমবি নামক উগ্রবাদী গোষ্ঠী তৈরীতে মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে তথাকথিত ইসলামী জঙ্গীদের দেশ হিসেবে বহিঃর্বিশ্বে উপস্থাপন করতে চায়।

(১৪) ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল বলে ভারতীয় লেখকেরাই এখন স্বীকার করছেন।

https://i0.wp.com/www.zyzyo.com/wp-content/uploads/2010/11/Research-and-Analysis-Wing-of-India.jpg

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'

(১৫) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী করিডোর সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভারত  ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং বাংলাদেশের সকল সেক্টরে অনুপ্রবেশের সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব দারুনভাবে ব্যাহত হবে।

 

(১৬) ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন এবং বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমিকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে তার সামরিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে- এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বুক চিড়ে তার সামরিক বহর চলাচলের জন্য করিডোর সুবিধা আদায় করেছে।

 

(১৭) বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হলেও সেসব হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আক্ষায়িত করার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রধান ঢাকায় বসে নছিহত করে গেছেন।

 

সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত আহবানঃ

 

ভারতের উপরোল্লেখিত আচরনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত আহবান জানানো জরুরীঃ

 

(ক) সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন, ধর্ষণ ইত্যাদি মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে শক্ত কুটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো এবং এসব অপরাধ বন্ধ না হলে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হওয়া;

https://i1.wp.com/www.shahidulnews.com/wp-content/uploads/2011/01/felani.jpg

(খ) সীমান্তে ভূমি দখল, সশস্ত্র আগ্রাসন এবং সামরিক স্থাপনা নির্মান থেকে ভারতকে বিরত রাখা এবং কোন ভূমি ভারতের কাছে হস্তান্তরকরণ থেকে বিরত থাকা;

 

(গ) বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পরিপন্থী করিডোর প্রদানের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসা;

 

(ঘ) গঙ্গা পানি চুক্তি অনুসারে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন, টিপাইমূখ বাঁধ নির্মানে ভারতকে বিরত রাখা, স্থল ও সমূদ্র সীমানায় ভারতকে অন্যায্য দাবী-দাওয়া তোলা থেকে বিরত রাখা এবং ফারাক্কা বাঁধের কারনে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া;

https://i0.wp.com/beaverdamsss.com/wp-content/uploads/2011/09/Tipaimukh-Dam.jpg

প্রস্তাবিত টিপাইমূখ বাঁধ

 https://i2.wp.com/www.globalwebpost.com/farooqm/writings/bangladesh/farakka/farakka.jpg

(ঙ) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭৪ সালে বেরুবাড়ী হস্তান্তরের বিনিময়ে ৩ বিঘা করিডোর সম্পূর্নভাবে বিনিময় করতে এবং তালপট্টি দ্বীপ ভারতের দখলমুক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন;

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/10/location.gif?w=226

(চ) সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধকরণ; এযাবত বিএসএফ এর হাতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা করন;

 

(ছ) ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে এবং চীনের সাথে ভারতের সম্ভাব্য কোন সামরিক সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা;

 

(জ) পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা দান থেকে বিরত থাকতে প্রতিবেশী রাস্ট্রের সাথে দক্ষ কুটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন;

 

(ঝ) তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিকে করিডোর প্রদানের সাথে সম্পরকিত না করা এবং ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রাখা;

 

(ঞ) পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সনাক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন এবং সীমান্তের ৮ কিঃ মিঃ এলাকা থেকে পুলিশ-র‍্যাব তুলে এনে সীমান্তকে আরো অরক্ষিত করা থেকে বিরত থাকা;

 

( ট) বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে ‘ব্যাগভরতি টাকা ও শলাপরামর্শ’ দিয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ভারতকে বিরত রাখা।

 

(ঠ) সদ্য স্বাক্ষরিত ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ অনুসারে বাংলাদেশের সকল সেক্টরে ভারতীয় অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টিকরন থেকে বিরত থাকা।

 

তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০১১।

ইমেইলঃ farukbd5@yahoo.com

//  

 

বেনাপোলে দুই বিএসএফ সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বিজিবি

যশোর অফিস ও বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের দুই সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে এক পরিবারের মালামাল তছনছ করেছে। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বিএসএফের ওই দুই সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে। গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’দেশের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আটক দুই বিএসএফ সদস্য বিজিবির হেফাজতে ছিল। আড়াইটায় দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিজিবি সদস্যরা আটক দুই বিএসএফ সদস্যকে ফেরত দিলে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিএসএফের ওই দুই সদস্য হলেন এম কে রবার্ট ও বিজয় সিংহ।
বিজিবি দৌলতপুর ক্যাম্প ইনচার্জ আজিজ আহমেদ জানান, সকালের দিকে ভারতের কালিয়ানী ক্যাম্পের বিএসএফের ওই দুই সদস্য বিনা উস্কানিতে অস্ত্রসহ বেনাপোলের গাতিপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা সীমান্ত সংলগ্ন একটি বাড়িতে ঢুকে মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন বিজিবি দৌলতপুর ক্যাম্পে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের আটক করেন। এ ঘটনায় উভয় সীমান্তে হঠাত্ করেই উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুপুর দুইটা পর্যন্ত আটক বিজিবি সদস্যরা বিজিবি’র দৌলতপুর ক্যাম্প সদস্যদের হেফাজতে ছিলেন।
এদিকে গাতিপাড়া বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েক সুবেদার আবদুুল আজিজ জানান, এম কে রবার্ট ও বিজয় সিং নামে বিএসএফের ওই দুই সদস্য একদল চোরাচালানিকে ধাওয়া করে। চোরাচালানিরা ভারত সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। তাদের পিছু নেয়া বিএসএফ সদস্যরাও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের অস্ত্রসহ আটক করেন।
বিজিবি পুটখালী কোম্পানি হেডকোয়ার্টার ইনচার্জ আজিজুর রহমান জানান, দু’দেশের বিএসএফ ও বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক বিএসএফ সদস্যদের ফেরত দেয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপুর আড়াইটায় বিএসএফ ও বিজিবি’র মধ্যে ওই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন হরিদাসপুর ক্যাম্প কমান্ডার লাল বাহাদুর সিং ও বিজিবির নেতৃত্ব দেন বেনাপোল বিজিবি হেড কোয়ার্টারের কোম্পানি কমান্ডার এমদাদ হোসেন। বৈঠকে আটক বিএসএফের দুই সদস্যকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।
যশোর ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিব আলম পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের আটক দুই সদস্যকে ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সূত্রঃ
https://i2.wp.com/www.amardeshonline.com/img/amardesh.png

Writ on Felani’s murder dismissed

Source : bdnews24.com, Google Image

undefined
Dhaka, Jan 30 (bdnews24.com) – The High Court has turned down the writ petition filed seeking measures to identify those who failed to protect ‘Felani’, killed by Indian border guards.

A High Court bench of justices A H M Samsuddin Chowdhury and Sheikh Mohammad Zakir Hossain passed the order on Sunday saying the charges were ‘not pressed’.

The National Forum for Protection of Human Rights filed the petition on Jan 17.

Counsel for the petitioner advocate Tajul Islam, told bdnews24.com, “As the court didn’t agree to give a positive direction on the issue, we appealed to the court to have the petition dismissed for not being pressed.”

He said, “If the court had given an order on the issue, further petitions could not be filed in the future.”

The petition was filed also seeking the court’s direction to take steps to stop the killing of Bangladeshi citizens along the Indian border and compensate Felani’s family.

The home secretary, the foreign secretary, the BGB director general, BGB’s Rangpur sector commander and 27 battalion commander were made defendants in the petition.

‘Felani’, 15, was shot dead by BSF at Anantapur on Jan 7. Locals said Felani’s father Nurul Islam Nuru hailed from Banarbhita village of Nageshwari and worked in Delhi.

Felani hangs on barbed wire

‘Felani’ was returning to Bangladesh with her father as her marriage had been settled with a local boy.

Hearing her screams, the BSF members gunned down her and took away the body

Nuru, however, managed to cross the barbed-wires with a ladder but Felani’s clothes got entangled in the wires. Hearing her screams, the BSF members gunned down her and took away the body.

bdnews24.com/sn/ra/adk/mr/1845h

ফেলানী হত্যার ১০ দিন পর প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ : ক্ষতিপূরণ দাবিতে হাইকোর্টে রিট

Source : Amar Desh

৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেলানীকে হত্যার পর ৫ ঘণ্টা তার লাশ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।

বর্বর ও নৃশংসভাবে কিশোরী ফেলানীকে হত্যার ১০ দিন পর প্রতিবাদ জানাল সরকার। ব্যাপক সমালোচনার পর গত রোববার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্রকে। সরকারের একটি প্রতিবাদলিপি ভারত সরকারের উদ্দেশে হাইকমিশনারের কাছে দেয়া হয়েছে বলে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেলানীকে হত্যার পর ৫ ঘণ্টা তার লাশ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই ঝুলন্ত লাশের ছবি প্রথমে ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকায় ছাপা হয়। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। বিএসএফের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশাপাশি খোদ ভারতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমে এই বর্বরতার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই নারকীয় হত্যার বিরুদ্ধে বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। অথচ সরকার এতদিন এ ব্যাপারে ছিল নীরব। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাল সরকার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে ভারতীয় হাইকমিশনার নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান। ফেলানী হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপিতে কী বলা হয়েছে সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিছুই বলা হয়নি।
এদিকে সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি মো. মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে আগামী রোববার এ বিষয়ের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ফোরাম ফর প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক গুলি করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার ঘটনা তুলে ধরে এ ধরনের হত্যা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দানের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়।

India's notorious border force BSF

রিট আবেদনে বলা হয়, নাগরিকের জীবন রক্ষা করতে এমনকি কূটনৈতিকভাবে এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ জানাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। যা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন। একই সাথে এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ওদিকে হত্যা বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) প্রাণঘাতী নয়—এমন অস্ত্র (নন-লেথ্যাল উইপন) ও রাবার বুলেট দেবে সে দেশের সরকার। বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে—মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন অভিযোগের পর এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নয়াদিল্লিতে ভারত সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন বিএসএফ সদস্যদের শিগগিরই ‘নন-লেথ্যাল উইপন’ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তেও বিএসএফে এ ধরনের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ২৩ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটারই ত্রিপুরার সঙ্গে। ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাণহানি না ঘটিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, চোরাকারবারি ও দুষ্কৃতিদের ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত সরকার। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বিএসএফকে হেলিকপ্টারও সরবরাহ করা হবে। গত ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীর মৃত্যুর ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

বিএসএফের বিচার দাবি স্বজনদের : ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ফেলানীর গ্রামের বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম ও প্রতিবাদের ঝড়। মৃত্যুর ১০ দিন পর গতকাল ফেলানীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা কলনীটারী গ্রামে স্বজনদের আয়োজিত ফেলানীর রুহের মাগফিরাতের জন্য কুলখানির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের দাওয়াত করে কুলখানি করা হয়। কুলখানিতে আসা স্বজনরা দাবি করেছেন, সরকার যেন অতিসত্বর ফেলানী হত্যার বিচার করে। আর যেন বিএসএফের হাতে ফেলানীর মতো হত্যার শিকার না হয় বাংলাদেশী নিরীহ মানুষ। ফেলানীর বাবা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার এত সুন্দর মেয়েটাকে বিএসএফ মাইরা ফেলল। আপনারা কিছু করলেন না। আমি আপনাগোর মাধ্যমে সরকারের কাছে বিএসএফের বিচার চাই।

New ULFA strategy challenges Bangladesh foreign policy

Source : HOLIDAY, Google Image

M. Shahidul Islam

undefined

ULFA Commander-in-Chief Paresh Baruah posed with his soldier in a recent video footage.

Much like the sinking stock market, our foreign policy parameters too have hit the precipice. Those who wanted to write off the United Liberation Front of Assam (ULFA) by allowing Indian secret service members to capture and whisk out of Bangladesh the outfit’s leading personalities now find themselves boxed up and faced with a protracted dilemma involving major foreign policy implications.
Amidst a series of debacles since late 2009, the ULFA’s military command has re-organized its structure and strategy, posing enormous challenge to Bangladesh’s regional foreign policy pursuance and creating bitter acrimony with Delhi, despite the latter having succeeded so far in securing most of its desired concessions from the AL-led coalition regime.

Video footage
The re-organized senior command of ULFA, which that has been fighting a war of cessation since 1979 to liberate the Indian state of Assam from Delhi’s tutelage, has released on January 21 a video footage of its fighters from a remote hideout in Myanmar. Present among the guerrillas was their Commander-in-Chief, Paresh Baruah, who posed himself in battle fatigue to let the world know the group’s ability to outsmart Delhi and to carry on with its struggle to liberate Assam.
The orchestrated showmanship also had a lot to do with a series of decisions made by the AL-led coalition government since coming to power in early 2009. According to one source within the government, “process is underway to deport the outfit’s political guru and general secretary, Anup Chetia, from Bangladesh.” He seemed as yet unaware of the availability of the video footage of the outfit’s Commander- in- Chief.

ULFA political guru & General Secretary Anup Chetia

The source said the decision to handover Chetia to Indian authorities received a final nod during the recently concluded Home Secretary level meeting in Dhaka of the two neighbours.
Although much of what happened to the Dhaka -based ULFA leaders never got exposed to the public over the last two years. In December 2009 all hell broke loose following a spate of mysterious events resulting in the controversial apprehension from Dhaka – alleged by Indian law enforcers – of ULFA’s founding member, Arabinda Rajkhowa, his family members and a number of other leading personalities of the outfit.

India's notorious secret service Research and analysis wing (RAW) logo

Despite the uproars, Bangladesh authorities never confessed to carrying out those raids, resulting in Indian secret service members being blamed for forays inside Bangladesh, causing considerable embarrassment to a regime that has, by then, piqued enough suspicion of being blindly pro-Indian.
Besides, Bangladesh being a signatory to a number of international Conventions relating to the status of refugees, and, Chetia and his colleagues having applied for asylum pursuant to those conventions, the incidents spurred a number of legal complications.

Legal minefield
The issue began to degenerate into a major crisis during the army-backed caretaker (CT) regime when the Indian influence peddling multiplied and the CT tried to deport Chetia to India. In desperation and treading through a legal minefield, his counsel, Advocate Mohammad Abdus Sattar, formally applied to the UNHCR to have his client recognized as a convention refugee. Addressed to Antonio Guterres, head of the UNHCR, Chetia’s counsel wrote to the UNHCR, “Not only his prayer for asylum in Bangladesh did not make any headway, he was being detained beyond the statutory 7 years limit for illegally entering Bangladesh. He therefore needed UNHCR intervention as a person in need of protection.”
There is evidence to prove Chetia indeed had endured inhumane torture. He was first arrested in March 1991 in Assam, tortured in custody, but was later released by political intervention of then Chief Minister of Assam, Hiteswar Saikia. Fearing further arrest and threat to life, he fled to Bangladesh where he was again arrested on December 21, 1997 under the Foreigners Act and the Passports Act of Bangladesh. Sentenced to seven years of imprisonment, he was supposed to be freed in 2004, but still rots in Bangladesh prison without any justification.

Poisoned relations
Meanwhile, the Chetia factor had poisoned bilateral relations almost intermittently and the Indian request to extradite him remained stalled due to (1) his yet-to-be-disposed asylum application in Bangladesh court, and, (2) There being no extradition treaty between the two countries.
“Unless the court takes a decision denying Chetia’s claim for refugee status, or he himself withdraws his petition, the matter may not move further,” said a concerned source within the government. The crisis has meanwhile morphed into a major foreign policy headache, involving the compulsion to comply with international Conventions on one hand, and, adhering to the request of a friendly neighbour, on the other.
Sources say, Chetia is being approached and pressurized by mandated representatives of the Indian government to withdraw his asylum application in return for promise not to be harmed. But other ULFA leaders are not convinced.
Sensing an imminent danger to the outfit’s very existence, Paresh Barua, the military chief of the outfit, decided to re-cast the outfit and its stratagem from the mountain ranges astride Myanmar-China border. The latest video snapshot comes from one of those encampments where the temporary leadership of the outfit is currently based.
Curiously, Delhi never exerted the kind of pressure on Myanmar or China as it has been exerting on Bangladesh. This smacks of duplicity and dubiousness. May be the China factor is playing a major role in Delhi’s imbalanced attitude toward its smaller neighbours.
Be that what it may, our investigation shows, the 54-year-old Baruah has an anchor in China’s Yunnan province bordering Myanmar, and he often frequents between northern Myanmar’s Kachin areas and the Yannan of China. India’s external affairs minister, S M Krishna, had informed the Rajya Sabha last month that India had taken up with China the issue of Baruah’s presence in that country.
Meanwhile, a seemingly desperate Chief Minister of Assam, Tarun Gogoi, had said his government has received ‘encouraging signals’ from the ULFA for holding peace talks, something ULFA leadership never confirmed as yet.
All these prove one thing for certain: The Assam factor has internationalized to the level where a lasting peace with ULFA can only be achieved with cooperation from Bangladesh, Myanmar and China. Bangladesh is particularly pivotal to any peace deal due to the outfit’s political chief being inside Bangladesh prison and, Assam being sandwiched between China and Bangladesh.

BSF

BSF arrogance
Delhi may not be unaware of such realities, but its border force, the BSF, seems too haughty to acknowledge their ramifications. According to the Guardian newspaper (Jan. 23), killing of Bangladeshi citizens at the Indo-Bangladesh border ‘is endorsed by Indian officials.”
Any official endorsement of a policy makes that policy an official one, period. The Guardian report carries further evidence of that being the case; at a time when Indo-Bangladesh border shooting incidents created serious uproar in the global media outlets, especially since the brutal killing of a Bangladeshi teenager, Felani, last month.
Guardian reporter Brad Adams wrote, “India has the right to impose border controls. But India does not have the right to use lethal force except where strictly necessary to protect life. Yet some Indian officials openly admit that unarmed civilians are being killed.” The report adds, ” The head of the BSF, Raman Srivastava, says that people should not feel sorry for the victims, claiming that since these individuals were illegally entering Indian territory, often at night, they were “not innocent” and therefore were a legitimate target.” Even if one is goaded to accept such an illegitimate, foolhardy argument, can anyone show other example of unarmed civilians being shot to death in any other bordering areas of the world; in such huge numbers, so often, for so long?
That the government had failed to challenge Delhi on this particular count remains a matter of unmitigated shame and despair. It’s also a blot that can not be easily erased from the litany of undoing of a regime that knows not how to fashion a sustainable foreign policy.

সীমান্তে মানুষ মরছে

Source : সাপ্তাহিক ২০০০

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে, কখনোবা নির্যাতনে প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশিকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিবর্ষণ, মানুষ হত্যা। লাশের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের মাত্রাও সমানভাবে বাড়ছে। নিউইয়র্কের হিউম্যান রাইটস ফোরামের পরিসংখ্যান অনুসারে গত এক দশকে প্রায় ৯শ বাংলাদেশিকে বিএসএফ হত্যা করে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩১ আগস্ট ২০১০ পর্যন্ত ৯৯৮ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বিএসএফ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুসারে ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে বিএসএফ গুলি ও শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করেছে ৩শ ৪৫ বাংলাদেশিকে।


অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সীমান্তে ৩শ ১২ বার হামলা চালানো হয়। এতে ১২৪ বাংলাদেশি নিহত হয়। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ১৩০টি হামলায় ১৩ জন নিহত, ’৯৭ সালে ৩৯টি ঘটনায় ১১, ’৯৮ সালে ৫৬টি ঘটনায় ২৩, ’৯৯ সালে ৪৩টি ঘটনায় ৩৩, ২০০০ সালে ৪২টি ঘটনায় ৩৯ জন নিহত হয়। জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুসারে ২০১০ সালে ৭৪ জনকে হত্যা করে বিএসএফ। এর মধ্যে ৫০ জনকে গুলিতে, ২৪ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। কিন্তু আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুসারে গত বছর ১শ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ৬৫ জনকে গুলিতে এবং ৩৫ জনকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহনিী বিএসএফ। এর আগে বিএসএফ-এর হত্যার শিকার হয়েছে ২০০৯ সালে ৯৬, ২০০৮ সালে ৬২, ২০০৭ সালে ১২০, ২০০৬ সালে ১৪৬, ২০০৫ সালে ১০৪, ২০০৩ সালে ৪৩, ২০০২ সালে ১০৫ ও ২০০১ সালে ৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

১৫ বছরে গুলিবিদ্ধ প্রায় ১২শ

বিএসএফ-এর বন্দুকের টার্গেটে পরিণত হয়ে আজো আহত অবস্থায় বেঁচে আছে প্রায় ১২শ বাংলাদেশি। এদের কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, কেউবা আবার সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ১১ বছরে বিএসএফ-এর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে ৯২৩ জন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে ১৮, ১৯৯৭ সালে ১১, ১৯৯৮ সালে ১৯ জন, ১৯৯৯ সালে ৩৮ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুসারে ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২২৫ জন গুলিবিদ্ধ ও নির্যাতনে আহত হয়। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৭১, ২০০৯ সালে ৫৪, ২০০৮ সালে ৩২ ও ২০০৭ সালে ৬৮ জন আহত হয়।

নির্যাতনের দিকে ঝুঁকছে বিএসএফ

সরাসরি গুলি করা কমিয়ে নির্যাতনের দিকে ঝুঁকছে বিএসএফ। এক্ষেত্রে তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে এক বাংলাদেশি নাগরিককে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে বাংলাদেশের সীমান্তে পাঠায়। সম্প্রতি নির্যাতনের পর হাত ও পায়ের রগ কেটে সীমান্ত সংলগ্ন নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিংনগর সীমান্ত থেকে বিএসএফ-এর দৌলতপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা ধরে নিয়ে যায় মনাকষা রানীনগর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে সানারুলকে। এরপর তাকে মেরে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর সীমান্ত থেকে ফটিক নামের এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায় ভারতের ১৫১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গঙ্গাচর ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে তাকে কুপিয়ে আহত করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিডিআর-এর ৩৯ ব্যাটালিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিনায়ক লে. ক. আবু বক্কর জানায়, আগে বিএসএফ গুলি করলেও এখন এর পাশাপাশি নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি করেছে। কিছু দিন আগে বিএসএফ আমাদের একটি লাশ ফেরত দেয়, যার সারা শরীর কালো। পরে জানতে পারি এপার থেকে এ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে প্রথমে শারীরিক নির্যাতনের পর ইনজেকশন পুশ করেছে। এতে সে মারা যায় এবং তার সারা শরীর কালো হয়ে যায়। গত ৪ জুলাই সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর বিএসএফ ও ভারতীয় খাসিয়ারা হামলা চালায়। এ সময় তাদের গুলিতে ১০ জন আহত হয়। জানা যায় বিএসএফ এখানে খাসিয়াদের তাদের কাজে ব্যবহার করছে। বিনিময়ে বাংলাদেশের ধানের জমিসহ অন্য ফসলি জমি কেটে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেটের এক বিডিআর অফিসার জানান, বিএসএফ এখন খাসিয়াদের দ্বারা বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে প্রথমে পা ওপর দিকে করে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর কুকুর দিয়ে কামড়িয়ে আহত করে। এর পরও মারা না গেলে হত্যা করা হয়। এ ধরনের ঘটনা কিছুদিন আগে ভোলাগঞ্জে ঘটেছে। বিএসএফ অফিসাররা এ ধরনের কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসএফ গ্রাউন্ড রুল বারবার ভঙ্গ করছে। গ্রাউন্ড রুল অনুসারে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গুলি ছোড়া যাবে না। কিন্তু বিএসএফকে কীভাবে বোঝানো যায়, আমি জানি না।

চলছে ধর্ষণ, অপহরণ

গত এক দশকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫ নারী। তাছাড়া বিএসএফ কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছে ৯৩৩ এবং নিখোঁজ হয়েছে ১৮৬ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুয়াডাঙ্গার এক ইউপি সদস্য জানান, বিএসএফ-এর কারণে গ্রামের অনেকে তাদের মেয়েদের অন্যত্র রেখে লেখাপড়া করাচ্ছেন। কারণ আগে বিএসএফ মদ্যপ অবস্থায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে গ্রামের বেশ কয়েকজন তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করেছে। একই গ্রামের জাবেদা নামে এক মহিলা জানান, কারণে-অকারণে বিএসএফ লোকালয়ে ঢুকে বাংলাদেশি কৃষকদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। গত ২৫ এপ্রিল সীমান্ত থেকে শাহীন নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ শিশুর অপরাধ ছিল সীমান্তে নদীতে গোসল করতে যাওয়া। ২৩ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বলাবাড়ি গ্রামের রবীন্দ্রনাথ ম-ল এবং তার স্ত্রী কল্যাণী রানী ম-ল ভারতের ৪ নম্বর মেইন পিলারের পাশ দিয়ে আসার সময় ঘোড়াডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের দুজনকে আটক করে। পরে তারা কল্যাণীর শ্লীলতাহানি করে এবং তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে ভোরে ৪ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ফেলে রেখে যায়। আর স্বামীকে তারা হত্যা করে। সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দুর্গম হওয়ায় এখানেও ঘটছে অপহরণ-ধর্ষণের ঘটনা। জৈন্তাপুর এলাকার আবুল কালাম জানান, দুর্গম হওয়ায় এখানে বিএসএফ সহজেই অপকর্ম করতে পারে। গত মাসে তারা এখান থেকে প্রায় ১০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আজো তারা গ্রামে ফিরে আসেনি। বেনাপোলের আমির জামান বলেন, গত মাসে এখান থেকে একজনকে বিএসএফ অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর জন্য মুক্তিপণ নিলেও তারা পরে লাশ ফেরত দেয়।

চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত বিএসএফ

সীমান্তে যেসব সংঘর্ষ হয় তার প্রায় সবই চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। মাদক পাচার কিংবা গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফকে ম্যানেজ করে আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতে একদল দালাল থাকে। যারা বিএসএফ-এর সঙ্গে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে চোরাচালানির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়। যদি দালালদের সঙ্গে টাকার ব্যাপারে মীমাংসা না হয় তাহলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ভারতের সীমান্তের কাছে এলেই গুলি করে। সোনামসজিদের বাসিন্দা মাসুম জানান, একজোড়া গরু আনতে পারলে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। ভারতীয় চোরাকারবারিরা বিএসএফকে এর একটা অংশ দিয়ে দেয়। যদি তারা টাকা না পায় তাহলে পদ্মা নদীতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারে। পঞ্চগড়ের বিডিআর অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএসএফ যদি দালালদের সহযোগিতা না করে তাহলে সীমান্তে শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে। ভারত আমাদের কাছ থেকে ভালো জিনিসগুলো নিয়ে গেলেও মাদক, অস্ত্র আমাদের সীমান্তে পার করে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখানে শুধু ভারতকে দোষ দিলে হবে না বাংলাদেশিদেরও দোষ আছে।”

আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধী ভারত

আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসারে কোনো দেশ অন্য দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারে না। কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে তাকে গ্রেফতার করে সে দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এসবের কোনোটিই বিএসএফ মানছে না। তাদের গুলিতে যত মানুষ মারা গেছে তার প্রায় সবই বাংলাদেশি। যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। ২১ ব্যাটালিয়নের এক অফিসার জানান, “বিএসএফ আগে শুধু গুলি করে মারলেও এখন বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারছে। কখনোবা এমনভাবে হত্যা করা হচ্ছে লাশের কোনো পরিচয়ই পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় কিছুদিন আগে খ-িত লাশ পাওয়া গেছে। অথচ লাশের কোনো মাথা পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, একে তো হত্যার কোনো নিয়ম নেই তার ওপর বিকৃতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। যদি আইনের ভিত্তিতে বলতে হয় তাহলে বলব তারা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধী।

সীমানায় স্থাপনা নির্মাণের আইনও মানছে না ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু ভারতের চাপের মুখে ৫০ গজের মধ্যে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি দিতে হচ্ছে। শর্ত সাপেক্ষেই ১২টি পয়েন্টে বাংলাদেশের জমিতে বেড়া নির্মাণ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

নামে মাত্র ফ্যাগ মিটিং

কোনো বিষয়ে একমত হতে কিংবা নিজেদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের জন্য ফ্যাগ মিটিং করার নিয়ম থাকলেও এখন যা হচ্ছে তা নামে মাত্র ফ্যাগ মিটিং। এতে এখন আর কোনো পক্ষই কোনো বিষয়ে একমত হয় না। বিডিআর-এর সাবেক পরিচালক লে জে মাহবুব বলেন, আগে পূর্বনির্ধারিত সময়ে ফ্যাগ মিটিং করা হতো। কোনো সমস্যা সমাধানে ঐকমত্যে পৌঁছানো যেত কিন্তু এখন তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার লে ক নজরুল ইসলাম জানান, ফ্যাগ মিটিং এখন আর কোনো কাজে দেয় না। গত বছর ৬৫ জনকে অপহরণ করে তারা নির্যাতন করেছে। ২০০৫ সালের পর থেকে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। দূর থেকে বাংলাদেশিকে দেখলেই গুলি করে। আমরা এসব বন্ধে একাধিক ফ্যাগ মিটিং করেছি। কিন্তু ফল শূন্য। ৪১ ব্যাটালিয়নের লে ক এনায়েত করিম বলেন, ফ্যাগ মিটিং ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলে না। কোনো বিষয়ে মিটিংয়ে একমত হলে দেখা যায় পরের দিন তারা একই অপরাধ করে বসে আছে। তারা মিটিং করে দুঃখিত বলার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিডিআর অধিনায়ক জানান, আমরা ফ্যাগ মিটিং করি লাশ নেয়ার জন্য। বাংলাদেশি কাউকে গুলি করে হত্যা করলে আমরা লাশ ফেরতের জন্য ফ্যাগ মিটিংয়ের আহ্বান জানাই। তারা মিটিংয়ে শুধু লাশ আমাদের বুঝিয়ে দেয়। কখনো তারা আমাদের জায়গায় স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণ করলে ফ্যাগ মিটিং করা হয়। এগুলোর কোনোটাতে আমরা একমত হই আবার কোনোটাতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

৯০ ভাগ হত্যা রাতে ঘটছে

গত এক দশকে বিএসএফ যত বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে তার মধ্যে ৯০ ভাগ হত্যার ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলা। বেনাপোল সীমান্তের অধিনায়ক জানান, চোরাচালানিসহ মাদক ও গরুর ব্যবসা রাতে হয়। তাই হত্যার ঘটনাগুলোও এ সময় বেশি হয়। এতে বাংলাদেশিরা যেমন হত্যার শিকার হচ্ছে ঠিক তেমনি ভারতের চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িতরাও মারা যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তের আরো একটা বড় সমস্যা হচ্ছে ভাষা। ভারত সীমান্তে বিএসএফ-এর যারা দায়িত্ব পালন করে তাদের মধ্যে আছে কিছু উপজাতি। এরা হিন্দি কিংবা বাংলা কোনোটাই বোঝে না। সীমান্তে বাংলাদেশিরা কথা বলতে গেলে তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা যায়। ফলে নিজের নিরাপত্তা বিধান করে গুলি করার মাধ্যমে। নীলফামারী সীমান্তের এক বিডিআর অফিসার জানান, কিছু বাংলাদেশি রাতে প্লায়ার্স দিয়ে তারকাঁটা কেটে চোরাচালান করতে যায়। বিএসএফ কোনোভাবে বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করছে। কখনোবা ১৫০ গজের বাইরে থাকলেও হত্যা করে নিজ সীমান্তের ৬৫০ গজের মধ্যে লাশ ফেলে রাখছে। এই ঘটনাগুলো রাতে ঘটার কারণে সবগুলোতে বিএসএফকে অভিযুক্ত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

অ্যাকশনে যায় না বিডিআর

‘আমাদের চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। বিএসএফ বাংলাদেশিদের সরাসরি গুলি করে কিংবা নির্যাতন করে হত্যা করছে। কখনো বা আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। এতে আমরা খবর পেয়ে ফ্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনো অ্যাকশনে যেতে পারি না’- বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের এক বিডিআর অফিসার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তসলিমউদ্দিন জানান, যেখানে বিডিআরের একটি ক্যাম্পে ৩০ বা ৩২ জন সদস্য ডিউটি দেয় সেখানে এর প্রায় তিনগুণ বিএসএফ টহল দেয়। সীমান্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে ভারী অস্ত্র নিয়ে বিএসএফ অবস্থান নিলেও বিডিআরের কিছুই করার থাকে না। কারণ তাদের জনবল ও ভারী অস্ত্রের অভাব আছে। সিলেট সীমান্তের এক বিডিআর অফিসার জানান, বিএসএফের বাজেট আমাদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। কিন্তু তারপরেও আমাদের যে বাজেট ও জনবল তাতেই বিএসএফ ভয় পায়। তারা যখন হঠাৎ করে সীমান্তে অস্ত্র ও জনবল বাড়ায় তখন আমরাও বিডিআরের সমাগম করি। মাঝে মাঝে গুলি ছোড়া হলেও সেটা মূলত ভয় দেখানোর জন্য করা হয়। তিনি আরো বলেন, কম জনবলের কারণে আমরা সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করতে পারছি না। যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই সেখানে অপকর্ম বেশি হচ্ছে। আর এ সুযোগে বিএসএফ বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। সিলেট, মেহেরপুরে কাঁটাতারের বেড়া তেমন নেই তাই এখানে সংঘর্ষও বেশি।

দণি-পশ্চিম সীমান্তে এক বছরে  বিএসএফ-এর গুলিতে ৩২ জন নিহত

গত এক বছরে দণি-পশ্চিম সীমান্তে ৫ জেলায় ৬৭ বাংলাদেশি বিএসএফ-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৪ জন। নিহত ৩২ জনের মধ্যে বিএসএফ ১৮ জনকে গুলিতে এবং ১৫ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। বেশিরভাগ েেত্র হত্যার পর নিহতের লাশ কুকুর-বিড়াল বা ইতর প্রাণীর মতো টেনেহেঁচড়ে সীমান্ত নদী ইছামতী, কালিন্দি অথবা সীমান্তের অন্য স্থানে ফেলে রেখে যায়।

এ ছাড়া বিএসএফ বিনা উস্কানিতে বিভিন্ন সময় গুলিবর্ষণ করেছে ৮ বার। দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যশোর, সাতীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলা সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। এ জেলাগুলোর সীমান্তের পরিমাণ ৬১২ কিলোমিটার। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৬৭ জন বিএসএফ-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে। গত সব ঘটনায় দফায় দফায় পতাকা বৈঠক ছাড়াও বার কয়েক দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক হয়েছে। ওই সব বৈঠকে নেয়া হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে শর্ত এবং প্রতিশ্রুতি কোনোটাই রা করছে না বিএসএফ।

বিএসএফ-এর গুলিতে নিহতরা হলেন যশোরের শার্শার গয়ড়া গ্রামের আলাউদ্দিন, চৌগাছার গয়ড়া গ্রামের আনসাফুল, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের সফিকুল, মালবাড়িয়ার কিশোর সবুজ, লড়াইঘাটের বাহার আলী, পদ্মপুকুরের ওবায়দুল, সেজিয়ার আকবর, মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতার নজরুল, গাংনির কাজীপুরের শহিদুল, সাতীরা সদর উপজেলার ঘোনার সাইফুল, একই গ্রামের অজ্ঞাত একজন, গাংনিয়ার শরিফুল, শ্যামনগরের কালিঞ্চির আমজাদ, দেবহাটার শাকরার দয়াল, কলারোয়ার গোয়ালিয়ার কবিরুল, কুষ্টিয়ার চিতলমারীর মনছুর, বাংলাবাজারের দেলোয়ার ও দৌলতপুরের প্রাগপুরের মোক্তার। এদের মধ্যে মেহেরপুরের গাংনির শহিদুল, সদরের নজরুল, মহেশপুরের কিশোর সবুজ, চৌগাছার আনসাফুল দেশের অভ্যন্তরে নিজ েেত কাজ করা অবস্থায় বিএসএফ তাদের গুলি করে। নিহত অন্যরা গরু ব্যবসায়ী।

সূত্র আরো জানায়, বিএসএফ ১৫ জনকে নির্যাতনের হত্যা করে। এর মধ্যে যশোরের শার্শার দুর্গাপুর সীমান্তে অজ্ঞাত পরিচয় একজনের পুরুষাঙ্গ কেটে ও পিটিয়ে, সাতীরার কালীগঞ্জে শীতলপুরের শফিকুল, দেবহাটার সেকেন্দারার আজগর ও টাউন শ্রীপুরের লেনিনের শরীরের ওপর ইছামতী নদীতে স্পিডবোট তুলে দিয়ে বোটের ফ্যানের আঘাতে হত্যা করা হয়। অন্যদের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার হরিষচন্দ্রপুরের হযরত, বালুন্ডার লিটন, পুটখালীর মনির ও অজ্ঞাত একজন, শিকড়ির মজনু, গাতিপাড়ার দুসহোদর আমির ও ছমির, সাতীরার আশাশুনির প্রতাপনগরের আবদুল গাফফার, দেবহাটার টাউন শ্রীপুরের সিরাজুল, শ্যামনগর পরানপুরের আজগর ও ভোমরার অজ্ঞাত একজনকে পিটিয়ে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে

বিএসএফ-এর নির্যাতনে আহত হয়েছে ২৪ জন। এদের অনেকে চিরপঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেককে গুলি করে, কুপিয়ে, বেয়নেট চার্জ করে, পিটিয়ে তাদের মৃত বলে সীমান্ত এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাতীরার কলারোয়ার চান্দুরিয়া গ্রামের ইশার আলীর দুই কান কেটে নেয়া হয়, প্লায়ার্স দিয়ে নাক তুলে ফেলা হয় তার। সীমান্ত সূত্র জানায়, বিএসএফ প্রায়ই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বাংলাদেশিদের ওপর গুলি ছোড়ে এবং অনেককে অপহরণ করে। তারা গরু-বাছুরও ধরে নিয়ে যায়। গত এক বছরে এভাবে তারা আটজনকে অপহরণ  এবং  গরু-মহিষ  লুট করেছে অন্তত ১০টি।

বিনা উস্কানিতে বিএসএফ সীমান্তে প্রায়ই গুলি ছোড়ে। এক বছরে আট দফায় ২৪ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে তারা। এর মধ্যে ২ মে যশোরের বড়আঁচড়া সীমান্তে ২ রাউন্ড, ৪ মে সাতীরার হাড়দ্দহায় এক রাউন্ড ও ২৯ আগস্ট ২ রাউন্ড, ২ জুলাই বৈকারিতে ৪ রাউন্ড ও ১ ডিসেম্বর ৪ রাউন্ড, কাকডাঙ্গায় ৬ রাউন্ড এবং ৩০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে ২ রাউন্ড, ৫ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার ছোটবোয়ালদিয়ায় ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ কখনই নির্ভয়ে চলাফেরা ও তে-খামারে কাজ করতে পারছেন না।

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে ২৪ পয়েন্টে ২ বছরে ১৪ বাংলাদেশি হত্যা

গত দুই বছরে এ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয়েছে এক শিশুসহ ১৪ গ্রামবাসী। নির্যাতনের শিকার হয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। সশস্ত্র ও মাতাল অবস্থায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কয়েকবার ঢুকে বিএসএফ-এর বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রামবাসীর হাতে আটকের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রা করেনি বিএসএফ। বিএসএফ-এর নির্যাতনের ভয়ে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা মাঠে কৃষিকাজে যেতে সাহস পান না। অনেক সময় বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতের নাগরিক ফসল লুটে নেয়। এ ব্যাপারে বিডিআরও কোনো সহযোগিতা করে না।
এসব ঘটনায় একাধিকবার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিডিআর-বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিআর-এর এক কোম্পানি কমান্ডার জানান, প্রায় প্রতিটি বৈঠকে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করে সীমান্তে কোনো গুলি বা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এমন কোনো কর্মকা- চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও কয়েক দিন পরেই তা তারা রা করে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৯ মাসে ১১ হত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩৯ রাইফেল ব্যাটালিয়নের তথ্যানুযায়ী, গত বছর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার প্রতিটি গ্রামের মানুষই বিএসএফ-এর নির্যাতনের আতঙ্কে ভুগছে। শিবগঞ্জ, ভোলাহাটসহ সীমান্তের বহু কৃষক বিএসএফ-এর হুমকির কারণে চাষাবাদ করতে পারেন না। বিএসএফ-এর গুলিতে যারা নিহত হচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই গরু ব্যবসায়ী অথবা কৃষক। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সিন্ডিকেটভুক্ত গরু ব্যবসায়ীরা বিএসএফকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত গরু আনেন। ‘ম্যানেজে’ গরমিল হলেই গুলি চলে। ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, নিয়ম হচ্ছে কেউ অপরাধ করলে তাকে গ্রেফতার করে থানায় চালান করে দেবে কিন্তু তারা তা না করে হত্যা করছে। কারণ মামলা করলে তাদের ঝামেলার মধ্য পড়তে হয়, এর চেয়ে হত্যা করাটা সহজ। তিনি আরো জানান, তারা বলে শুধু আমাদের মধ্যে খারাপ লোক আছে কিন্তু তাদের মধ্যেও খারাপ লোক না থাকলে আমাদের লোকেরা সাহস পায় কেমন করে। এক হাতে কখনো তালি বাজে না।
বিডিআর-এর তথ্যানুযায়ী, ওই ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত পথের চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার জন্য দুটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। এ জন্য সীমান্তে মোট ৩৫টি বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে ৮৭ কিলোমিটার এলাকা দেখাশোনা করে ৩৯ রাইফেল ব্যাটালিয়ন। বাকিটুকুর দায়িত্বে আছে নওগাঁর ৪৩ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি বিওপিতে ১৫ থেকে ১৬ জন বিডিআর সদস্য থাকেন। ৮ ঘণ্টা করে দায়িত্ব ভাগ করলে প্রতিটি টহলে অংশ নিতে পারেন চার থেকে পাঁচজন। চার-পাঁচজন সীমান্তরী দিয়ে এই বিশাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হলেও লোকবল সমস্যার সমাধান হয়নি।
বিডিআর-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সীমান্তে বিএসএফ যে আচরণ করে, তা কোনোভাবেই সভ্য মানুষের আচরণ হতে পারে না। তারা নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। বিএসএফ-এর সাম্প্রতিক নির্যাতন ও গুলির ঘটনায় বিডিআর-এর প থেকে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। দফায় দফায় পতাকা বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সীমান্তে সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বারবার ওয়াদা ভেঙে গুলি চালাচ্ছে তারা।

সিলেটে ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে আতঙ্ক
বাংলাদেশের সীমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে কাটাতে হয় সিলেট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের অধিবাসীদের। এ দুই এলাকার সীমানা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ফ্যাগ মিটিং করে কখনো কখনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আজো কোনো স্থায়ী সমস্যার সমাধান হয়নি। রৌমারী সীমান্তে ১৯৯৮ সালে বিডিআর-বিএসএফ সংঘর্ষে ১৬ বিএসএফ নিহত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত জনগণের মধ্যে আতঙ্ক কমেনি। প্রায়ই আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিএসএফ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে বলে জানায় জামালপুর বিডিআর অধিনায়ক।
ভারতীয় সীমান্ত রীবাহিনীর উস্কানিতে সিলেটে সীমান্তে গত বছর কয়েক দফা বিএসএফ-বিডিআর গোলাগুলি হয়েছিল। এ নিয়ে দ্বিপীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে এগোচ্ছে না বিএসএফ।
জৈন্তাপুর উপজেলার মুক্তাপুর সীমান্তে বাংলাদেশি কৃষকরা ডিবি হাওর ও কেন্দ্রীয় বিলের জমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েও মাছ ধরতে পারছেন না বিএসএফের বাধার মুখে। বিএসএফ-এর সহযোগিতায় দুর্বৃত্তরা পাম্প লাগিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়। বিডিআর ও স্থানীয় জনগণ বাধা দিলে বিএসএফ গুলি চালায়। এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন মওসুমি ফসল তুলতে পারছে না, পরিচর্যা করতে পারছেন না বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের তে।
সিলেটের তামাবিল সীমান্তে বিএসএফ-এর সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিডিআর বাধা দিলেও সে বাধা মানছে না তারা। বিডিআর পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও বিএসএফ সাড়া দিচ্ছে না। বরং তাদের ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকতে বলেছে।
বিডিআর অগত্যা হ্যান্ডমাইক দিয়ে ভারতীয়দের ধান কাটতে নিষেধ করছে। কিন্তু বিএসএফ তাতে কর্ণপাত করছে না। এদিকে ওপর থেকে নির্দেশ না পাওয়ায় বিডিআরও কার্যকর কোনো পদপে নিতে পারছে না এর বিরুদ্ধে। নিজেদের জমির ধান অন্যরা কেটে নেয়া সত্ত্বেও কিছু করতে না পারার ােভ ও আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে এ সীমান্তের কৃষকরা।
বিএসএফ বিডিআর-এর কথায় কর্ণপাত না করে ভারতীয় নাগরিকদের ধান কাটতে সহযোগিতা করে।
এলাকার কৃষক আবদুর রব, আবদুর রশিদ ও রফিক মিয়া জানান, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের ১৫০ গজ ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিডিআরের সামনেই ভারতের নাগরিকরা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিডিআর শুধু হ্যান্ডমাইক দিয়ে চলে যাওয়ার কথা বলছে, কিন্তু ভারতীয়রা বিডিআ-এর কথা শুনছে না। শক্ত কোনো পদপে না নিলে ভারতীয়রা আমাদের এলাকায় থাকতে দেবে না। আমাদের ফসলাদি নিয়ে যাবে, কখন যে আমাদের ঘরবাড়িও দখল করে নেবে, এই আতঙ্কে আছি।’
এলাকার ওহাব আলী, নূর মিয়া ও আবদুল খলিল জানান, দিনেরবেলা ভারতীয় নাগরিকরা ধান কেটে নিয়ে যায়, রাতে সার্চলাইট জ্বালিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এলাকাবাসী জানায়, গতবার ধান পাকলেও তা তারা ঘরে তুলতে পারেনি। যখন কাটার সময় হয়েছে তখন ভারতীয় খাসিয়ারা বিএসএফসদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসে সব ধান কেটে নিয়ে গেছে।
সিলেটের পাদুয়া সীমান্তে গত মাসেও বিডিআর-বিএসএফ মুখোমুখি হয়। পাদুয়াকে নিজ এলাকা দাবি করলেও পরে তারা সরে দাঁড়ায়। প্রায়ই সিলেট সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় সীমান্তবাসীকে আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে।

অবরুদ্ধ ছিটমহল
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহল সমস্যা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনো ফল হয়নি।
১৯৪৭ সালের ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সময়ই সৃষ্টি হয় ছিটমহল সমস্যা। ভারত ও তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের সীমানার মধ্যে থেকে যাওয়া দুই দেশের বিচ্ছিন্ন ুদ্র ভূখ-ই পরিচিত ছিটমহল নামে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ১৬ মে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের তখনকার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে সই হওয়া চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহলগুলো বিনিময় করার কথা ছিল। ওই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ভারতের কাছে বেরুবাড়ি ছিটমহল হস্তান্তর করে। কিন্তু বিনিময়ে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি ভারত সরকারের কাছ থেকে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ভারতের অভ্যন্তরে থাকা দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে আংশিক যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ পায়।
বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল আছে। এর মোট আয়তন ৭ হাজার ৮৩ দশমিক ৫২ একর। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আছে ভারতের ১১১টি ছিটমহল, যেগুলোর মোট আয়তন ১৭ হাজার ২৫৮ দশমিক ২৪ একর। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এসব ছিটমহল বিনিময় হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহলগুলোর লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিজেদের দেশের মূল ভূখ-ের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই। ছিটমহলগুলোতে বিদ্যুৎ নেই, রয়েছে বিশুদ্ধ পানির প্রকট অভাব। স্বাস্থ্য-শিার কোনো সুযোগ সেখানে নেই। কৃষি বা দিনমজুরি ছাড়া অধিবাসীদের কোনো পেশাও গড়ে ওঠেনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো কর্তৃপ নেই ছিটমহলে। দৈনন্দিন সব প্রয়োজনে ছিটমহলবাসীকে নির্ভর করতে হয় তাদের চারপাশ ঘিরে রাখা অন্য দেশের ওপর। ছিটমহল সমস্যা সমাধানে দুদেশের মধ্যে বৈঠক হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদপে নেয়া হয়নি।

ছিটমহলে মানবাধিকার
ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশি ছিটমহলের অধিবাসী প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করছেন চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের সামগ্রিক দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় ভারতের বিএসএফ ও ভারতের বেসামরিক লোকজন দ্বারা। ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় বিএসএফ তাদের কড়া নজরদারিতে রাখে, বাংলাদেশে যাতায়াতে বাধা দেয়। কেউ মূল ভূখ-ে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চালানো হয় নির্যাতন। এমনকি অসুস্থ মা-বাবাকে দেখার জন্যও অনুমতি পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের ভূখ- হওয়া সত্ত্বেও সেখানে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের। বাজার-সওদার জন্য ব্যবহার করতে হয় ভারতীয় মুদ্রা। নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যও বিক্রি করতে পারেন না ন্যায্য বাজারমূল্যে। তারা যেমনি বিএসএফের বাধার কারণে মূল ভূখ-ে আসতে পারছেন না, তেমনি যেতে পারছেন না ভারতের হাটবাজারেও। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে তারা বাধ্য হচ্ছেন অর্ধেক দামে ধান-পাট বিক্রি করতে। তার ওপর রয়েছে বিএসএফসহ ভারতীয়দের নানা জুলুম। এ জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে ছিটমহলের অধিকাংশ নারী সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হন না। রয়েছে মাস্তান-সন্ত্রাসীদের উপদ্রব। যখন-তখন ছিটমহলে অনধিকার প্রবেশ করে নানা উপলে চাঁদা দাবি করা হয়। লুট করা হয় গরু-ছাগল, মাছ। কেটে নেওয়া হয় ধান-পাট, গাছ। কোনো বাধা এলেই চলে বিএসএফ ও ইন্ডিয়ান সন্ত্রাসীদের যৌথ তা-ব। অপরাধী ধরার নামে বিনাবিচারে আটক করা হয় এখানকার বাসিন্দাদের। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের মতো ঘটনাও নিত্যদিনের ব্যাপার। এর ওপর আবার রয়েছে সীমান্তে উত্তেজনার খড়গ। কারণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কোনো উত্তেজনা দেখা দিলেই তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এই ছিটমহলগুলোয়। উদাহরণস্বরূপ রৌমারী সীমান্ত সংঘর্ষের কথা বলা যায়। ওই সময় মশালডাঙ্গার অনেক ঘরবাড়িতে ইন্ডিয়ানরা আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে প্রায় ১ হাজার লোক জীবন বাঁচাতে মূল ভূখ-ে পালিয়ে আসেন।
নিজদেশে পরবাসী : ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলগুলোর অধিবাসী আইনত বাংলাদেশি হলেও তারা রাষ্ট্রীয় অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ছাড়া অপরাপর ছিটমহলের অধিবাসী আমাদের জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ভারতীয়দের বাধার কারণে সেখানে ভোটার তালিকার কাজ বন্ধ কয়েক যুগ ধরে। কোনো কোনো ছিটমহলে ১৯৭২ সালের পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়নি। বিএসএফ অহরহ অনধিকার প্রবেশ করলেও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি সেখানে নেই। বিচারব্যবস্থা বলতে স্থানীয় সালিশি। এমনকি জমি কেনাবেচাও হয় সাদা কাগজে লিখে অথবা মৌখিকভাবে। অবশ্য সরকারিভাবে অদৃশ্য কারণে ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভূমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। অধিকাংশ ছিটমহলেই কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা নেই। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা, জন্মনিবন্ধন, দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, অবকাঠামো নির্মাণ, দুস্থ, প্রবীণ মহিলা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, ব্যাংকঋণ, এনজিও কার্যক্রম, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন কর্মসূচির কোনোটাই নেই এখানে।
নেই মানবিক অধিকার ও নিরাপত্তা : শিা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং দুর্যোগকালীন সহযোগিতার অভাবে সবচেয়ে নাজুক মানবিক নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ছিটমহলের নারী, শিশু ও প্রবীণরা। অধিকাংশ শিশুই ভুগছে চরম পুষ্টিহীনতায়। সদ্যোজাত শিশু ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি। অনেক গর্ভবতী মহিলাকে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। প্রথমত বিএসএফ টহলদারির কারণে মূল ভূখ- বা ভারতের কোথাও যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আবার কোনোভাবে পরিচয় গোপন করে বা লুকিয়ে ভারতে যেতে পারলেও আইডি কার্ড না থাকায় তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না চিকিৎসকদের অস্বীকৃতির কারণে। এমনও জানা গেছে, ভর্তি হতে না পেরে হাসপাতাল চত্বরেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে স্থানীয় বৈদ্য, কবিরাজই তাদের একমাত্র ভরসা। বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো ভৌগোলিকভাবেই বন্যাপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সর্বস্ব হারালেও তারা কোনো সরকারের প থেকেই সহযোগিতা পান না।
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার অন্তর্গত দুটি বাংলাদেশি ছিটমহলের নাম আঙ্গরপোতা ও দহগ্রাম, যার মোট আয়তন ২২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৬৬৮। ভারতের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের কারণে এ ছিটমহল দুটি সারাদেশে পরিচিত এবং আলোচিত। এ ছিটমহল দুটিকে মূল ভূখ-ের সঙ্গে যুক্ত করেছে ১৮৭ বাই ৮৫ বর্গমিটার একটি করিডোর। ১৯৫৮ সালের নেহরু-নূন চুক্তিতে এটা তিনবিঘা করিডোর নামে পরিচিত। করিডোরটিকে তৎকালীন পাকিস্তানের স্থায়ী ভূখ- হিসাবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা রহস্যে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে এটিকে ভারতীয় ভূখ- হিসাবে উল্লেখ করে লিজ নেয়া হয়। তারপর থেকে শুরু হয় এক মানবিক বিপর্যয়ের ইতিহাস। অবশেষে দীর্ঘ অবরুদ্ধ দশার অবসান ঘটে ১৯৯২ সালে সম্পাদিত তৎকালীন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ও খালেদা জিয়ার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে, যা ওই বছরের ২৬ জুন থেকে কার্যকর হয়। যে দিবসটিকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসী তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করে থাকে। ওই চুক্তির ফলে তিনবিঘা করিডোরটি খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করিডোরটি খোলা থাকে। অর্থাৎ বাকি ১২ ঘণ্টা এই ছিটমহলবাসীর জীবন কাটে অবরুদ্ধ দশায়। এ ১২ ঘণ্টার মধ্যেও ভারতীয় লোকজন এবং যানবাহনের চলাচলের সুবিধার জন্য করিডোরের গেট ইচ্ছেমাফিক বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ রাতের বেলা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য করিডোর অতিক্রম সম্ভব নয়। শুধু রাতের গেট নয়, ছিটমহলবাসীর অর্থনৈতিক জীবনের অনেকটা এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে বিএসএফ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় রয়েছে ৩৫ হাজার গরু। প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার পাটগ্রামে বিরাট গরুর হাট বসে। কিন্তু বিএসএফ প্রতি হাটে ১০টির বেশি গরু করিডোর অতিক্রম করতে দেয় না। ফলে এই বিপুলসংখ্যক গরু এখন দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর সম্পদ না হয়ে উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মশালডাঙ্গা : কুড়িগ্রামের ভুরঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড মশালডাঙ্গা, যা কয়েকটি ছিটমহল নিয়ে গঠিত এবং ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানা দ্বারা পরিবেষ্টিত। মশালডাঙ্গায় আনুমানিক ২০-২৫ হাজার লোকের বসবাস। বাংলাদেশের মূল ভূখ-ের সঙ্গে মশালডাঙ্গা যুক্ত হয়েছে ৪২ বাই ১৫০ গজের একটি লম্বা ভারতীয় করিডোর দিয়ে। কিন্তু মশালডাঙ্গাবাসী যাতে মূল ভূখ-ে অর্থাৎ বাংলাদেশে আসতে না পারেন সে জন্য করিডোরটির প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিএসএফ চৌকি। মশালডাঙ্গার উত্তর সীমান্তে রয়েছে ভারতীয় কালজানী নদী। তাই পাশের ভারতীয় গ্রাম নাজিরহাট, শালমারা, গালঝাড়া ও বল্লমপুর গ্রামের লোকজন মশালডাঙ্গার ওপর দিয়েই তাদের দেশের অপর প্রান্তে যাতায়াত করেন। এমনকি বাংলাদেশি সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই ভারতীয় সরকার মশালডাঙ্গার ভেতর দিয়ে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ করেছে, যে সড়ক ধরে সে দেশের যানবাহনগুলো যাত্রী, মালামাল ও সামরিক লোকজন পরিবহন করে। এ সড়ক দিয়েই নেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন, যাতে মশালডাঙ্গাবাসীর নেই কোনো অধিকার। ভারতীয় লোকজন অহরহ মশালডাঙ্গায় যাওয়া-আসা করলেও বিএসএফ-এর কড়া টহলের কারণে ছিটমহলের লোকজন ভারতে যেতে পারেন না। এমনকি বাংলাদেশে আসতে চাইলেও তাদের শিকার হতে হয় গ্রেফতার, নির্যাতনসহ নানা হয়রানির। ফলে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসতে হয় নিজদেশে। মৃত্যুপথযাত্রী মা-বাবা, ভাই, বোন, সন্তানের সঙ্গে দেখা সাাতেরও অনুমতি পাওয়া যায় না। মূলত বিএসএফ ও ভারতীয় প্রভাবশালী লোকজন ও সন্ত্রাসীরাই তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে প্রায়ই চাঁদা দাবি করা হয়। বাধা দিলে নেমে আসে নানা নির্যাতন ও হয়রানি। গরু-ছাগল ও মাছ লুট হয়। কেটে নেয়া হয় ঝাড়ের বাঁশ। জমির ধান বিক্রি করতে হয় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে অর্ধেক দামে। যখন-তখন বিএসএফ অনধিকার প্রবেশ করে বিনাবিচারে ধরে নিয়ে যায় লোকজনকে।
১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই মশালডাঙ্গাবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি বিএসএফ-এর বাধার কারণে। এ ২০-২৫ হাজার লোকের জন্য নেই কোনো স্কুল, কলেজ। স্থানীয়দের মতে, পুরো মশালডাঙ্গায় এমন একজনও নেই যিনি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে লেখাপড়া করেছেন। ছিটমহলবাসী নিজস্ব উদ্যোগে একটি মক্তব প্রতিষ্ঠা করলেও বিএসএফ এসে তা ভেঙে দেয়।
সরকারি ও এনজিও সেবা বলতে যা বোঝায় তার কোনোটাই নেই এখানে। পুষ্টিহীনতা, সদ্যোজাত শিশু ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অনেকটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যেহেতু দেশের অপরাংশের লোকজন এই অবরুদ্ধ ছিটমহলবাসীর সঙ্গে বিয়ে-শাদিতে রাজি নয়, তাই এমনকি উপযুক্ত পাত্রের অভাবে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিয়ে-শাদি হচ্ছে। ফলে বহুবিবাহও একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ছিটমহল তেরঘর : ছিটমহলগুলোর মধ্যে কিছু মাদক চোরাচালানির অন্যতম স্থান হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহলগুলো এদিক থেকে এগিয়ে আছে। মাদকের অন্যতম রুট হিসাবে যেগুলো ব্যবহৃত তার মধ্যে তেরঘর অন্যতম।
ভারতীয় ছিটমহল তেরঘর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল পাচার হয়ে আসছে বন্দর নগরী বেনাপোলে।
একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকার মাদক পাচার করে আনছে বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থল বন্দরে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ৩ কিলোমিটার দেিণ গাতিপাড়া ও দৌলতপুর গ্রামের মাঝে ১৩ ঘর নামক ছোট ছিটমহল। পূর্বে এ ছিটমহলের ভেতর বিএসএফ-এর একটি ক্যাম্প ছিল। কয়েক বছর আগে বিএসএফ এই ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভারতীয় ১৩টি পরিবার বাস করার কারণেই ছোট্ট এ ছিটমহলের নাম ১৩ ঘর। কিন্তু এখন আর ১৩ পরিবার ওই ছিটমহলে বসবাস করে না। সর্বমোট ৬-৭ পরিবার ওই ছিটমহলে বাস করে। ভারতীয় ভূ-খ- দখলে রেখে মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালান ব্যবসা করার জন্যই ওই সব পরিবারের বাস।
ভারত এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী সিন্ডিকেট একত্রিত হয়েই ফেননিডিলের ব্যবসা করে।
ফেনসিডিল বাংলাদেশে পাচারে বিএসএফ কোনো বাধা দেয় না। ফলে বনগাঁ শহর থেকে অনায়াসে ১৩ ঘর ছিটমহলে ফেনসিডিলের চালান চলে আসে।
দাশিয়ারছড়ার একটি ভিন্নচিত্র : দাশিয়ারছড়া পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার অন্তর্গত একটি ছিটমহল, যা বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ১ হাজার ৭৪৩ একর আয়তনের এই ভারতীয় ছিটমহলটির জনসংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার। দাশিয়ারছড়ার অধিবাসীর প্রায় ৫০ শতাংশই শিতি। এখানকার অনেক ছেলেমেয়েই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশের গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে লেখাপড়া করছে। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালগুলোয় তারা যথারীতি স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচি, দুর্যোগকালীন ত্রাণ সবই পাচ্ছেন তারা। শুধু ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও হস্তান্তরের জন্য তাদের দিনহাটা যেতে হয়। তবে ভারতীয় সরকারকে ভূমিকর দিতে হয় না। ১৯৫৮ সালের পর ভারতীয় কোনো সরকারি কর্মকর্তা এই ছিটমহল সফর করেননি।
নতুন উদ্বেগ : একদিকে বাংলাদেশি হওয়া সত্ত্বেও পরিচয়পত্র না থাকায় পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলের লোকজন ভারতীয় হাটবাজার ও হাসপাতালে যেতে পারছেন না, অন্যদিকে বাংলাদেশে আসতে গেলেও বিএসএফ বাধা দেয়। এ অবস্থায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র চালু হওয়ায় ছিটমহলের লোকজনের মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভয়, নিজদেশে ভিনদেশি হিসাবে চিহ্নিত হয়ে তারা যেন রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত না হন।

সাক্ষাৎকার
ভারত প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করছে না
লে. জে. (অব.) মাহবুবর রহমান
সাবেক পরিচালক, বিডিআর

আগে বিএসএফ সীমান্ত আইন মেনে চলত। কিছু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকলেও কেউ নিয়ম ভঙ্গ করত না। আন্তর্জাতিক নিয়ম বিডিআর-বিএসএফ মানত এবং বছরে দুবার কনফারেন্স হতো। কিন্তু এখন তারা নিয়ম ভঙ্গ করে গুলি করে বাংলাদেশির লাশ ভারত সীমান্তের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি এটা ভারতের প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। আমরা এসব ঘটনার প্রতিবাদ কিংবা অ্যাকশনে না গিয়ে নীরব থাকছি এটা ঠিক না। সরকারকে এটি সিরিয়াসলি নিতে হবে। জৈন্তাপুর সীমান্তে জমি দখল করেছে যেখানে আমাদের সার্বভৌমের জন্য হুমকি। বিডিআর বিদ্রোহের পর আমাদের জওয়ানরা দাঁড়াতে পারছে না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ফলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত বিএসএফ-এর অবৈধ কর্মকা-কে শক্তভাবে প্রতিহত করা।

দুদেশের দায়িত্ব গ্রেফতার করা গুলি করা না

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ
অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাবি

বাংলাদেশ জিরো লাইনে সীমানা নির্ধারণে একমত না হওয়ায় ১৫০ গজের মধ্যে করা হয়েছে। এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝির বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশিরা ১৫ গজকে বর্ডার মনে করছে। এখানে তারা চাষাবাদ, গরুকে খাবার খাওয়ানোর কাজ করতে গিয়ে মূল সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এতে বিএসএফ গুলি করছে। ভারতীয় একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যারা মারা যাচ্ছে তাদের ৭০ ভাগ ভারতীয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভারতের হিউমান রাইটস নিশ্চুপ কেন? এখানে বিএসএফ হয় তথ্য দিচ্ছে না অথবা বিএসএফ যা বলছে তারা তাই মেনে নিচ্ছে। দুদেশের দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীকে ধরা, গুলি করা না। তারা যেন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা না করে সেজন্য দিল্লিকে চাপ দিতে হবে। সরাসরি হত্যার ঘটনা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। কারণ এখানে দুপক্ষেরই মানুষ মারা যাচ্ছে।

আমাদের মতো ভারতের কোনো ভালো প্রতিবেশী নেই

ওয়ালী-উর-রহমান, সাবেক কূটনীতিক

সীমান্তে যারা মারা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। বিডিআর বিএসএফের সঙ্গে মিটিংয়ে বলেছিল তারা পায়ে গুলি করবে অন্য কোথাও নয় কিন্তু তারা তাদের কথা রাখছে না। সীমান্তে সংঘর্ষের আরো একটি সমস্যা হচ্ছে জমি দখল। ভারত আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে তারা যা দখল করে আছে তারা তা রেখে দেবে এবং আমরা যা দখল করে আছি তা আমরা ভোগ করব। এতে কয়েক হাজার বিঘা জমি আমাদের লাভ হবে। আমরা এর প্রতি কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছি না এটা ঠিক না। মনমোহন সিং ঢাকায় এলে এ বিষয় উপস্থাপন করে সমাধান করতে হবে। এর আগে আমরা দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল নিয়ে চুক্তি করেছি যা আমাদের ট্রানজিটে সহায়তা করছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভারত আমাদের সঙ্গে নমনীয় হচ্ছে কারণ তারা এখন একটা বিষয়ে সচেতন যে আমাদের মতো তাদের আর কোনো ভালো প্রতিবেশী নেই।

সরকার ভারতের নির্যাতনের কথা বলতে লজ্জা পায়
এএসএম নাসিরউদ্দিন এলান, পরিচালক, অধিকার

ভারত আধিপত্যের মনোভাব নিয়ে চলছে। পায়ে গুলি না করে সরাসরি হত্যা করছে। শুধু তাই নয় দেশের সীমানার ভেতর ঢুকে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালাচ্ছে। অনেক শিশু নির্যাতনের পর মারা গেছে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসছে সে-ই দ্বন্দ্ব বন্ধে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের বিডিআর বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নিলে সরকার তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়। অনেক ক্ষেত্রে তার চাকরিও চলে যায়। সরকার বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে কথা বলতে পারে কিন্তু তা না করে বিডিআরকে টেনে ধরা হয়। বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সরকার পররাষ্ট্র খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অথচ ভারতের নির্যাতনের কথা বলতে লজ্জা পায়।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বিরোধ

২০০০ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে আছে নাফ নদী। সামরিক জান্তার দেশ মিয়ানমারের সীমান্ত প্রতিরক্ষাবাহিনীর নাম বর্ডার ইমিগ্রেশন ফোর্স। নাসাকা বাহিনী নামেই এটি বেশি পরিচিত। এ বাহিনীর কার্যক্রম বরাবরই রহস্যজনক মনে হয় বাংলাদেশের মানুষের কাছে। নাসাকা বাহিনীর সদর দপ্তর বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে, কাওয়ারবিলে। এ বাহিনীকে মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে অথবা নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, ট্রলার ছিনতাই করা, গুলিবর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে দেখা যায়।
গত বছরের অক্টোবরে নাইক্ষ্যংছড়িতে চাকঢালা-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে নাসাকা বাহিনী। এ সময় সেখানে বাংলাদেশ রাইফেল্স বিডিআরের টহলও জোরদার করা হয়েছিল।  ২০০৯ সাল থেকে রেজু, মনজয়পাড়া ৪১-৪২ নং সীমান্ত পিলার থেকে নাই্যংছড়ি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ল্েয কাজ শুরু করে নাসাকা বাহিনী। জুলাই মাসে বান্দরবান জেলার নাই্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাঁড়িতে মিয়ানমারের সীমান্তরী নাসাকা বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে বিডিআর। নাসাকা বাহিনীর ওই সদস্যরা গোপনে বাংলাদেশে ঢুকেছিল বলে বিডিআর সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর টেকনাফ থেকে ৩৮ জেলেসহ চারটি মাছ ধরার ট্রলার অপহরণ করে নিয়ে যায় নাসাকা বাহিনী।
গত নভেম্বরে নাফ নদীতে ট্রলার ধাওয়ার ফলে বিডিআর-নাসাকা গুলিবিনিময়ের মতো ঘটনা ঘটে। ১২ নভেম্বর মিয়ানমার থেকে গরু-মোষ বোঝাই ২টি ট্রলার টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে আসার পথে নাফ নদীর বাংলা চ্যানেলে নাসাকা বাহিনী জলসীমা অতিক্রম করে ধাওয়া করে। পরে তারা ট্রলার দুটি ছিনতাই করে নিয়ে যেতে চাইলে বিডিআর-এর বাধার মুখে তা আর পারেনি। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর সেন্টমার্টিন থেকে দুটি ট্রলার অপহরণ করে পরে একটি ট্রলারে করে জেলেদের ফেরত পাঠিয়ে দেয় নাসাকা বাহিনী।
এ রকম অসংখ্য ছোট-বড় সমস্যার পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে বড় একটি বিরোধ আছে সমুদ্র সীমানা নিয়ে। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মিয়ানমার দেশের দণি-পূর্ব সমুদ্রসীমার ভেতরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৪২ নটিক্যাল মাইল দূরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে কোরিয়ান কোম্পানির সহায়তায় মিয়ানমার এ তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালায়। বাংলাদেশ এ কার্যক্রমে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নৌবাহিনীর জাহাজ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলে জরিপকারী মিয়ানমারের জাহাজ কয়েক দিন পর বিতর্কিত স্থান ত্যাগ করে। এরপর ২০০৮ সালের অক্টোবরে এবং ২০০৯ সালের জুনে মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমানার ভেতর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালায়। বাংলাদেশ এ সময় নৌবাহিনীর টহল জোরদার করলে তারা পিছু হটে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জলসীমায় অমীমাংসিত এলাকা রয়েছে প্রায় ৬২ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ৪৮ হাজার ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দাবি করছে মিয়ানমার। মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ১৪টি ব্লক নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। ভারত ও মিয়ানমার অমীমাংসিত এলাকায় জরিপ করতে ইতিমধ্যে বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ বাকি আছে। মিয়ানমার ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে নিজেদের দাবিকৃত এলাকার ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরেছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা সূত্রের বরাত নিয়ে বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের কাছে মিয়ানমার যে সমুদ্রসীমার দাবি উত্থাপন করেছে তাতে বাংলাদেশের বিপুল সমুদ্রসীমাকে তাদের বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার দাবি ২০১১ সালের মধ্যে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আরেকটি বড় সীমান্ত সমস্যা রয়েছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে প্রতিদিন অনুপ্রবেশ করছে শত শত রোহিঙ্গা। বান্দরবানের নাই্যংছড়ি, লামা, আলিকদম, ঘুনধুম, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তে ৪৯টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট নৌকা ও স্থলভাগে হাঁটাপথ দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করছে। সরকারি হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা আছে প্রায় ২৭ হাজার। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, এ সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
বছরের শুরুতেই ৩ লাশ

বছরের শুরুতেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৩ বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে। ৬ জানুয়ারি রাজশাহীর মতিহার থানার খানপুর সীমান্তে দুই নাগরিক বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয়। নিহতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সেরাজুল ইসলাম ও জাইজুদ্দিন। তারা গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।
৭ জানুয়ারি বিএসএফ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের বানারভিটা গ্রামের ফেলানিকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাটি ঘটে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে। দীর্ঘ সময় ফেলানির লাশ সীমান্তের কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে থাকে। দিনমজুর নুরুল ভারতে বসবাসরত মেয়েকে নিয়ে নিজ দেশে বিয়ে দেওয়ার জন্য সীমানা পার হওয়ার সময় বিএসএফ-এর গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

বড়লেখা সীমান্তে যৌথ জরিপ ভূমি হারাতে পারে বাংলাদেশ

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের প্রায় ৫শ বিঘা ভূমি দখল করে নিয়েছে। ম্যাপ পাল্টে এবং দুদেশের সীমানা নির্ধারক পিলার উপড়ে ফেলে দখলে নেয়া হয়েছে এই জমি। সম্প্রতি বিডিআর এবং বিএসএফ যৌথ সীমানা জরিপের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ সময় বাংলাদেশ এ জমি ফেরত চাইলে বিএসএফ কোনো রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে এ ৫শ বিঘা জমি এখনো বাংলাদেশের দখলে আসেনি। এ জমি ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তপে দরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। অপরদিকে জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে যৌথ সীমানা জরিপ শুরু হয়েছে। এ জরিপের ফলে পাহাড়ের ৭শ একর ভূমি ভারতের দখলে চলে যাবে, এ ভাবনায় চিন্তাগ্রস্ত এ পাহাড়ের অধিবাসীরা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে সীমানা নির্ধারণের সময় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা সীমান্তের ন্যাশনাল টি কোম্পানির চাম্পারায় চা বাগানের পাশে একটি ক্যানেলে পোঁতা হয় সীমানা পিলার। কিন্তু সে ক্যানেলের পাশেই বাংলাদেশের ভেতরের কিছু ভূমি ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। এসব ভূমি ব্যবহার করত সেখানকার অধিবাসীরা। পরবর্তী সময়ে ওই অধিবাসীরা ভারতে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে থেকেই ওই জমি ফসল ফলানোর কাজে ব্যবহার করতে থাকে। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ওই ভূমির কোনো খোঁজ করেনি। এ সুযোগে বিএসএফ এ ভূমি দখলে নিয়ে নেয়। বিএসএফ সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশিদের ভারতের চন্দননগর গ্রামে পুনর্বাসন করে এবং  মূল ক্যানেল অর্থাৎ সীমান্ত পিলারের ৫-৬শ বিঘা ভূমি দখলে নেয় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাম্পারায় চা বাগানের সীমান্তের মূল ক্যানেলের সব সীমানা পিলার তুলে ফেলে। বিএসএফ মূল ক্যানেলের অনেকটা ভরাট করে তাদের সীমানায় নিয়ে সে জমি ভারতের চন্দননগরের জনগণকে উন্মুক্ত করে দেয়। তখন তৈরি করা হয় তাদের মনগড়া একটি সীমান্ত ম্যাপ। উন্মুক্ত জমিতে ভারতীয় বাসিন্দারা অবাধে প্রবেশ করে সেখানে বনায়ন ও ধানসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ করতে থাকে।

এ ব্যাপারে বিডিআর ১৪নং ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল হুদা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তের পুরনো ম্যাপের সঙ্গে যখন ভূমির সরেজমিনের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন এ জায়গা নিয়ে বেশ গবেষণা করতে হয়। সম্প্রতি বিডিআর নিশ্চিত হয় ভারতের দখলে থাকা প্রায় ৫শ বিঘা জমি বাংলাদেশের। এ বিষয়টি বিএসএফকে জানালে বিএসএফ এ ভূমি তাদের বলে দাবি করে। এ অবস্থায় বিষয়টি যৌথ জরিপ চালানোর অপোয় পড়ে থাকে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিডিআর ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে বিষয়টির মীমাংসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুদেশের সীমানা জরিপ শুরু হয়। জরিপকালেই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার চাম্পারায় চা বাগানের পাশে ভারতের চন্দননগরের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৫শ বিঘা জমি বাংলাদেশের বলে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি বিডিআর ১৪নং ব্যাটালিয়নের প থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের মেইন পিলার ১৯০৫-এর অভ্যন্তরে ওই ৫শ বিঘা ভূমিতে এক সময় বাংলাদেশিদের অনেক বাড়ি ছিল। কয়েক বছর আগে ওই বাসিন্দাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে বাড়িঘর তৈরি করে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলার বড়লেখা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাথারিয়া পাহাড়ের প্রায় ৭শ একর ভূমি ভারতের দখলে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করাছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া সীমান্ত থেকে জরিপ কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান এ জরিপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে পালাথল সীমান্তের খাসিয়াপল্লীসহ আশপাশ এলাকায়।

সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া সীমান্তে অবস্থিত পালাথল পানপুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ ভূমি জরিপ পুঞ্জির ৩ শতাধিক খাসিয়া পরিবারকে আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন জরিপে হয়তো এ ভূমি ভারতের দখলে চলে যাবে। এ ভূমি তাদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। এ ছাড়া এখানে আছে খাসিয়া পানপুঞ্জির খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি কবরস্থান, একটি মাজার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার পশ্চাৎপদ বড়লেখা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তের ১৩৬৯ নং মেইন পিলার থেকে ১৩৭৪ নং মেইন পিলার পর্যন্ত প্রায় ৭শ একর পাহাড়ি ভূমি শতাধিক বছর ধরে পালাথল পানপুঞ্জির খাসিয়ারা এদেশের ভূমি হিসাবে ভোগদখল করে আসছে। ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান শাসনামল শেষ করে বাংলাদেশের প্রায় চার দশকে কোনোদিন এখানে জরিপ হয়নি। এ ভূমিটুকু বিএসএফ ভারতের ভূমি বলে কোনোদিন দাবিও করেনি। এসব ভূমিতে বাংলাদেশি আদিবাসী খাসিয়ারা পানসহ নানা ফসলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ ছাড়া রয়েছে খাসিয়াদের শত শত কবর, হযরত কালা শাহ (রা.) নামে একজন পীরের মাজার, স্কুল ও গির্জা।

গহিন অরণ্যের পালাথল পানপুঞ্জির মন্ত্রী লোকাস বাহাদুর বলেন, ‘পালাথল পাহাড়ে ইউরেনিয়াম, খনিজ তেল, কয়লাসহ নানা মূল্যবান খনিজ পদার্থ রয়েছে। এ সব মূল্যবান সম্পদের দিকেই মূলত দৃষ্টি পড়েছে ভারতের।
স্থানীয় খাসিয়ারা জানান, যৌথ জরিপ কাজে অংশ নেয় বাংলাদেশি সার্ভেয়ার মোশারফ হোসেন ও ভারতের সার্ভেয়ার ডি.কে সাইকার নেতৃত্বে দুদেশের দুটি দল। জরিপ এখনো চলছে।

%d bloggers like this: