• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,721 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

নীতিহীন সংবাদপত্রঃ দেশ জাতি রাষ্ট্রের স্বার্থ উপেক্ষিত যেখানে

মুহাম্মদ আমিনুল হক

‘সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’, ‘সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ’, ‘সংবাদপত্র গণতন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার’ এরকম অনেক কথাই দেশে দেশে প্রচলিত। এ কথাগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের কল্যাণে সংবাদপত্রের অনবদ্য ভূমিকার কারণে। সংবাদপত্রের কল্যাণে অনেক রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র বিদায় করে পেয়েছে গণতন্ত্রের স্বাদ। জালিম সরকারের মসনদ প্রকম্পিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সমাজের প্রায় প্রত্যেকটি খাতের উন্নয়নে অবদান রেখেছে এই সংবাদপত্র।

কিন্তু সময়ের আবর্তে সংবাদপত্রের ঐসব সোনালী ইতিহাস মুছে যেতে বসেছে এক শ্রেণীর নীতি বিবর্জিত, স্বার্থান্বেষী, নষ্ট সংবাদপত্রের কারণে। যাদের কাছে নীতি নৈতিকতার কোন মূল্য নেই। নেই দেশীয় স্বার্থের কোন মূল্য। ব্যক্তি, দল ও কোম্পানীর গোলামী করাই এদের মূল কাজে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্র-পত্রিকা পড়ে কোন মানুষের পক্ষে সত্য তথ্য উদঘাটন করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্বব্যাপী তথ্য সন্ত্রাসের ঢেউ বাংলাদেশী মিডিয়ায়ও লেগেছে দারুণভাবে। এখানে নিউজ হয় সিন্ডিকেটেড। নিজস্ব মতাদর্শের বাইরে অন্য মতাদর্শের পজিটিভ কোন নিউজ সেটা যত বড় হোক না কেন সাংবাদিকদের চোখে তা তো পড়েই না বরং তাদেরকে দেশ-জাতির কাছে ছোট করার সর্ব রকম প্রচেষ্টা থাকে প্রতিনিয়ত। তবে এরা নিজ মতাদর্শের ব্যাপারে একশত ভাগ কমিটেড। তাদের পন্থী একটি ইঁদুরেরও কিছু হলে তা নিয়ে তাদের মাতামাতির শেষ থাকে না। একটি নন ইস্যুকে ইস্যু বানানো আবার ইস্যুকে নন ইস্যু বানানো তাদের পক্ষে কোন ব্যাপারই না।

সংবাদপত্রের এই নীতিহীন পথচলার কারণে আমাদের জাতীয় স্বার্থ আজ হুমকির মূখে, সাম্রাজ্যবাদ আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে, গণতন্ত্র বিদায়ের পথে ও অপশক্তিরা সবখানে তাদের আসন পাকাপোক্ত করছে। শুধু কি তাই? সংবাদপত্রের চরম আদর্শহীনতার কারণে খোদ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বার্থ পর্যন্ত থাকছে উপেক্ষিত। সংবাদপত্র জগতের এমন দেউলিয়াত্ব দেখে দেশপ্রেমিক হিসেবে চরমভাবে লজ্জিত ও শঙ্কিত হই। কেননা যেখানে সংবাদপত্রের এমন দূর্দশা হয়; যেখানে কেউ সত্য জানতে পারে না, সেখানে মানবতা ও গণতন্ত্রের নিশ্চিত মৃত্যু ঘটে। নিম্নের কয়েকটি বিষয়ে আমাদের সংবাদপত্রগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে যে কোন বিবেকবান পুরুষ হতভম্ভ হবেন।

১৬ ই জুন সংবাদপত্রের কালো দিবসঃ

জানার কোন সাধ্য নেই: ১৬ ই জুন ফজরের নামাজ আদায় করেই প্রত্যেকদিনের মত ইন্টারনেটে পত্রিকা ঘাটতে শুরু করলাম। এই দিনটি সংবাদপত্র জগতের বিশেষ দিন হওয়াতে কোন পত্রিকা কিভাবে নিউজ করে সেটা দেখার মানসে খুব মনেযোগ সহকারে ইত্তেফাক, ইনকিলাব, প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, কালের কন্ঠ, সকালের খবর, সংগ্রাম, আমার দেশ ও নয়া দিগন্তসহ প্রায় সব জাতীয় পত্রিকা ঘাটাঘাটি করতে থাকলাম। সংবাদপত্রের কালো দিবসের সংবাদ তালাশ করতে গিয়ে অধিকাংশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত কোন নিউজ দেখতে পেলাম না। এতে খুব একটা বিরক্ত ও রাগান্বিত হইনি। কারণ দুটি। এক: পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমি আগ থেকেই ধরে নিয়েছিলাম যে, গণতন্ত্রের ফেরীওয়ালারা ও বর্তমান সরকারের চরম গোলামেরা এ সম্পর্কে মনের ভুলেও কোন খবর ছাপাবে না। দুই: তবে এতটুকু আত্মবিশ্বাস ছিল যে, অন্তত দু একটি পত্রিকা এ সম্পর্কে জাতিকে খবর না দিয়ে পারবে না; যারা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশী মূল্য দেয়। আমার অনুমান মিথ্যা হয়নি। ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে একমাত্র আমার দেশ পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা বের করে এ সম্পর্কে আদ্যোপান্ত তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। প্রথম পাতায় গুরুত্ব সহকারে খবর ছাপা হয়েছে। সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়তেও বিষদভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়া দিগন্ত কোন বিশেষ আয়োজন না করলেও কালো দিবসের খবর, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়তে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

https://i2.wp.com/www.amardeshonline.com/img/amardesh.png

https://i2.wp.com/www.dailynayadiganta.com/images/logo.gif

তবে বিস্মিত হয়েছি চটকদার চটকদার শ্লোগানওয়ালা প্রগতিশীল পত্রিকাগুলোর নির্লজ্জ নিশ্চুপতা দেখে। ১৯৭৫ সনের ১৬ ই জুন মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারের বগলের তলায় রেখে বাকী সংবাদপত্রগুলোকে মুহূর্তেই কবর দেয়া হল; অসংখ্য সাংবাদিকের জীবনে নেমে আসল চরম অনিশ্চয়তা; গণতন্ত্রের প্রধান হাতিয়ারকে ধ্বংস করা হল অথচ এ সম্পর্কে নব প্রজন্মকে এতটুকু জানানোর কোন দায়বোধ তাদের মধ্যে জাগ্রত হল না। দল ও স্বার্থের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে তারা কিভাবে এ খবর জাতিকে জানাবে? এ তো লজ্জার খবর। এই খবর জানালে তো আওয়ামী লীগের বদনামী হয়ে যায়। এ কি করে সম্ভব? সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছি ইত্তেফাকের অবস্থা দেখে। তৎকালীন সময়ে ইত্তেফাক পত্রিকার ওপর থেকেও কম ঝড় যায়নি; অথচ পত্রিকাটি এখন একদম চুপ। নিজ মতাদর্শের গোলামী এখন এমন পর্যায় পৌছে গেছে যে, পত্রিকার সাংবাদিকদের উপর আঘাত আসলেও তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করতে রাজি নয় সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটি।

https://i2.wp.com/new.ittefaq.com.bd/addons/themes/ittefaq/img/logo.jpg

স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। পত্র-পত্রিকা হচ্ছে স্বাধীন মত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। সেই প্রধান মাধ্যমটির অস্তিত্ব বিলীন হলে তো গণতন্ত্র কল্পনা করা যাবে না। রক্ষা হবে না দেশীয় স্বার্থ। অতীব দু:খের বিষয় হচ্ছে- আমাদের সংবাদপত্রগুলো তাদের নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে চান না। তারা জাতিকে অতীতের কঠিন ইতিহাস মনে করিয়ে বর্তমানেও যাতে এমন বিপদে পড়তে না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক করতে চান না। তাদের এই হীন মানসিকতার কারণেই চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করতে পেরেছে সরকার। যমুনা টেলিভিশনের পরীক্ষামূলক সম্প্রচারও বন্ধ হয়েছে। দৈনিক আমার দেশকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। অসংখ্য সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভারতকে ভূমি হস্তান্তরের খবরঃ

পত্রিকায় খবর নেই: আমাদের বাংলাদেশে দেশ প্রেমিকের অভাব নেই। মিছিল মিটিং ও শ্লোগানে দেশ নিয়ে কত কথা। ‘এক ফোটা রক্ত থাকতে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও অন্যকে দখল করতে দেব না’, ‘দেশের জন্য জীবন দেব‘, ‘দেশকে মায়ের মত ভালবাসি’ ইত্যাদি বাক্য শুনতে শুনতে তো আম জনতার কান ব্যথা হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টা। দেশ নিয়ে ভাবেন এ রকম মানুষ খুবই কম। গত ২১ জুন দৈনিক আমার দেশনয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রথম পাতায় যথাক্রমে “সিলেট সীমান্তে জনতার প্রতিরোধে এবার রক্ষা পেল ৫০ একর জমি” “জনতার প্রতিরোধ :

গোয়াইনঘাটে বাংলাদেশের ভূমি আবার ভারতের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া ভন্ডুল”। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জনগণকে না জানিয়ে গোপনে ভারতকে বাংলাদেশের জমি হস্তান্তরের খবর যেকোন বিচারে লিড নিউজ পাওয়ার দাবী রাখে। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমি রক্ষার দায়িত্ব নিশ্চয়ই সরকারের। তাদের রয়েছে সেনা বাহিনী, রয়েছে বর্ডার গার্ড। সরকারের দায়িত্ব হীনতায় কিংবা তাদের মদদে যখন দেশের মাটি ভারত কেড়ে নিচ্ছেলো তখন দেশ প্রেমিক জনতার প্রতিরোধে তা ভন্ডুল হয়ে যায়। এ সময় উচিত ছিল আমাদের জাতীয় মাধ্যমগুলোতে এ সম্পর্কে লিড নিউজ করা। তাহলেই বোঝা যেত সংবাদপত্রগুলো দেশকে ভালবাসে, দেশ রক্ষায় তাদের কত আন্তরিকতা। কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রায় সকল জাতীয় পত্রিকায় এ সম্পর্কে কোন নিউজ দেয়া হয়নি। অথচ ঐ দিন ভারতীয় সেনা প্রধানের নিউজ সকল পত্রিকার প্রথম কিংবা শেষের পাতায় ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতীয় সেনা প্রধানের খবর আমাদের জাতীয় স্বার্থের খবরের চেয়ে বড় হয়ে দাড়িয়েছে। যারা দেশ রক্ষার প্রহরী হিসেবে পরিচিত; সেই সংবাদপত্র যদি সরকারের দেশ বিরোধী গোপন তৎপরতা সম্পর্কে জনগনকে সজাগ করতে না পারেন তাহলে এরচেয়ে দূর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

https://i1.wp.com/www.bdinn.com/wp-content/uploads/2011/06/bangladeser-songay-bharo.jpg

https://i2.wp.com/29.media.tumblr.com/tumblr_ljrggiRgA61qelvyvo1_500.jpg

জাতীয় চেতনার প্রতীক নজরুল উপেক্ষিত আমাদের সংবাদপত্রে: কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। কালজয়ী ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ যেমনিভাবে তাঁর সাহিত্য দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন; তেমনিভাবে ধন্য করেছেন তাঁর দেশপ্রেম, সততা, মানবতাবোধ, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা দিয়ে। তাঁর লেখনীতে দেশের কথা, গরিবের কথা, জালিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা, মানুষের মনে সাহস যোগানোর কথা ও সাম্যের কথা ফুটে উঠেছে সাবলীলভাবে। কিন্তু আমাদের জাতীয় এ সম্পদ উপেক্ষিত এদেশের মিডিয়া জগতে। নজরুলকে নিয়ে ততটা মাতামাতি নেই যতটা আছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে। আমাদের দেশে এ বছর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত মাতামাতি হয়েছে তার সিকিভাগও হয়নি তার নিজভূমে। রবীন্দ্রনাথের জন্মসার্ধশত বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় লিড নিউজের শিরোনাম ছিল ‘রবীন্দ্রময় দেশ’। নি:সন্দেহে কবি রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবি কিন্তু তাঁকে নিয়ে যে স্তুতি গাওয়া হয় তা কি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ে না? বিশেষ করে জাতীয় কবিকে উপেক্ষা করে যখন এটা করা হয় তখন তো তা বেশ বেমানান লাগে বৈ কি? আমাদের গুণীজনকে আমরা যদি মূল্যায়ন না করতে পারি তাহলে অন্যরা করবে কিভাবে? কিন্তু আমাদের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বিষয়টি ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক এড়িয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা দেশত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে। পত্রিকাটি এ বছরের মে মাসের শেষ ১৫ দিন প্রথম পাতায় বাম পাশে এক কলাম জুড়ে ‘চির উন্নত মমশীর’ নামে ধারাবাহিকভাবে নজরুলের উপর বিজ্ঞজনদের লেখা ছাপিয়েছে। দৈনিক আমার দেশের সাহিত্য সাময়িকীতেও গুরুত্বের সাথে নজরুলকে তুলে ধরা হয়েছে। নজরুলকে তুলে ধরতে গিয়ে পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথকেও ভুলে যায়নি। যথাযথ মর্যাদায় তাঁর সম্পর্কে নিউজ কভার করেছে পত্রিকাটি।

দুটি বর্বরতাঃ

একটির খবর আসে আরেকটির খবর আসে না: দুটি জঘন্যতম বর্বরতার ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশে। একটি হল- ২০০৪ সনের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা। আরেকটি হল- ২০০৬ সনের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে জীবন্তমানুষ হত্যা করার ঘটনা। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত বিধায় বাস্তব কারণেই বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোন বিচার-আচার করবে না, এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে, যেখানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই সেখানে ঐ ঘটনার ন্যায় বিচার কল্পনা করা যায় না। কিন্তু পত্রিকাগুলো তো আর সরকার নয় কিংবা কোন পক্ষের নয়। তাদের কাজ সমাজের সকল ন্যায় অন্যায় মানুষের সামনে তুলে ধরা। মানবতার খাতিরে বিরোধী কেউ হলেও তাকে এড়িয়ে না চলা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের জাতীয় পত্রিকাগুলো ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম ঘটনাকে সম্পূর্ন এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তারও দু’বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের আরেক বর্বরতাকে নিয়ে পত্রিকাগুলোর বিস্তর লেখালেখি চলছে এখনো। এক গবেষণায় দেখা গেছে ২০১০ সনের ২৮ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ, নয়া দিগন্ত ও সংগ্রাম ছাড়া আর কোন জাতীয় পত্রিকা পল্টনের বর্বরতার কোন নিউজ করার সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। অথচ আওয়ামী সরকারের ঘোর সমালোচক পত্রিকাসহ সকল পত্রিকা ২০০৪ সনের ২১ আগস্টের খবর গুরুত্বের সাথে ছাপিয়েছে। কোন কোন পত্রিকা একাধিক লিড নিউজ, কভার স্টোরি ও ফলোআপ রিপোর্ট করেছে। সংবাদপত্র নাকি সমাজের দর্পণ? সমাজের সকল সত্য ঘটনা তুলে ধরা নাকি সংবাদ পত্রের কাজ? তাহলে একটি ঘটনাকে হাই লাইট অন্য ঘটনাকে ডিম লাইট করার উদ্দেশ্য কী? মানবতাও কি বর্ণ, গোত্র ও দলের কাছে বন্দি হয়ে গেল? তাই যদি হয় তাহলে ‘অসংকোচ প্রকাশের দূরন্ত সাহস’, ‘আংশিক নয় পুরো সত্য’, ‘পনের কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন’ ‘Your right to know’ ইত্যাদি মিথ্যা শ্লোগানের আশ্রয় নেয়ার দরকার কি? জাতির সাথে এ ধরনের প্রতারণা আর কতদিন চলবে?

আমাদের জাতীয় পত্রিকাগুলোর নৈতিকতা নিয়ে এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র লীগ যে অস্ত্রবাজি, মারামারি, হত্যা ও লুট করছে তা ঐসব প্রগতীশীল পত্রিকার নজরে সন্ত্রাসী কিংবা জংগিবাদী কার্যক্রম হিসেবে পরিগণিত হয় না; কিন্তু ইসলামী সংগঠনগুলোর নিছক মিছিল মিটিংকে ঠিকই তারা সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গী কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত করতে কুন্ঠাবোধ করে না। কয়েকদিন পর পর ঢাবি, চবি, জাবি, ইবি ও রাবিতে ছাত্রলীগের নিয়মিত অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। সর্বশেষ রাবির এক হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের রুম তল্লাশি করে ব্যাপক অস্ত্র উদ্ধার হলেও এ নিয়ে মিডিয়ার চোখ প্রায় অন্ধ। গদ বাধা ও দায়সারা কিছু সংবাদ প্রকাশ করেই ক্ষ্যন্ত। অথচ এই একই মিডিয়া রাজশাহীতে ফারুক হত্যাকান্ডের পর একের পর এক আজগুবি ও মিথ্যা রিপোর্ট করে সরকারের মাথা খারাপ করে ফেলেছিল। সারাদেশে শুরু হয়েছিল শিবির নিধন কর্মসূচী। দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানই কেবল ঝুঁকি নিয়ে মানবতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তিনি ‘ওরা মানুষ নয় শিবির’ নামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

সংবাদপত্রের এই দেউলিয়াত্ব দেখে আমরা দেশ প্রেমিক জনতা খুবই শঙ্কিত। কেননা যেখানে সরকারের কোন নীতি নৈতিকতা নেই, বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, প্রশাসনের বেহাল দশা সেখানে যদি সংবাদপত্রও বিলীন হয়ে যায় তাহলে আমাদের সাগরের অতল গহবরে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সংবাদপত্র যদি সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ আর অগণতান্ত্রিক শক্তির সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে তাহলে এদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না এ কথা হলফ করে বলা যায়। আমরা তাই সকল সংবাদপত্রকে অনুরোধ করছি- আপনারা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিউজ করুন। সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগনের পাশে দাঁড়ান। দলীয় গোড়ামীর উর্ধ্বে উঠে সকলের জন্য কাজ করুন। কোন অপশক্তি আপনাদের ক্ষতি পারবে না।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

http://www.sonarbangladesh.com/articles/MuhammadAminulHaque
 

সূত্রঃ

https://i0.wp.com/www.sonarbangladesh.com/images/sbheader_village_sun.jpg

 

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব

মেজর ফারুক (অবঃ)

ভূমিকা

 

নির্দিষ্ট সীমান্ত একটি রাস্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্টের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম। সুনির্দিষ্ট সীমান্ত বিহীন কোন রাস্ট্রের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায়না। এজন্য একটি রাস্ট্রের পক্ষে – সীমান্ত চিহ্নিত করে তার যথাযথ সংরক্ষন যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী – সে সীমান্তের মধ্য দিয়ে যে কোন বহিঃশক্তির আগ্রাসন, অনুপ্রবেশ, অবাধ চলাচল, চোরাচালান, মানব পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রন করা।

 

সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভূখন্ডকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে স্বাধীন ভূমি হিসেবে লাভ করেছি।

https://i1.wp.com/newsleaks.in/wp-content/uploads/2011/05/Indo-Bangladesh-flag.jpg

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশের বেরুবাড়ী ছিটমহলটি সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হস্তান্তর করা হয়; বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তার ছিটমহল আংগরপোতা-দহগ্রামে যাবার জন্য ৩ বিঘা করিডোর হস্তান্তরের কথা ছিল; কিন্তু গত ৪০ বছরেও ভারত সেই ৩ বিঘা করিডোর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করেনি।

https://i0.wp.com/www.thedailystar.net/forum/2007/october/tin06.jpg

https://i2.wp.com/exclave.info/Tin-Bigha/tinbighamap.jpg

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেও সে চুক্তিকে অমান্য করা এবং প্রতিবেশী দেশের উপর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাকৃতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, কুটনৈতিক ইত্যাদি নানাবিধ বৈরী আচরন করে লক্ষ্যস্হ প্রতিবেশীকে তার নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল অবলম্বন – ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য চানক্য কুটনীতির বিষয় বলেই প্রতীয়মান।

 

আর ভৌগোলিকভাবে ৩ দিক থেকেই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত বিধায় ভারতের বৈরী আচরন ও আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশ।

 

সীমান্তে আগ্রাসন

 

সীমান্তে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সব বৈরী আচরণের শিকার হচ্ছে- তার কিছু উদাহরন হলোঃ

 

(১) সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী মানুষ হত্যা করা।

(২) সীমান্ত দিয়ে মাদক দ্রব্য ও বেআইনী অস্ত্র পাচার করা।

(৩) সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক চোরাচালান।

(৪) সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ করা।

(৫) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করা যেমন- রৌমারীতে তকালীন বিডিআর পোস্টে আক্রমন করা হয়েছিল।

(৬) বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি দখল করা।

(৭) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমায় জাগরিত তালপট্টি দীপ দখল করন।

(৮) বাংলাদেশের সমূদ্র সীমার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ভারতের অবৈধ দাবী উত্থাপন।

(৯) বছরে প্রায় ২২০০০ নারী ও শিশুকে পাচার করে তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে এবং কল-কারখানায় দাস হিসেবে ব্যবহার করা।

(১০) বেরুবারীর বদলে তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তর না করা-ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত স্বরুপ যে-সব কর্মকান্ড ভারত এ যাবত গ্রহণ করেছে সেগুলো হলোঃ

 

(১) ১৯৭১ সালেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে বাধ্য করে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষরে- যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা একটি সার্বভৌমত্বহীন রাস্ট্রে নামিয়ে আনা হয়।

 

(২) ১৯৭১ সালে ৯ মাস  ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লক্ষাধিক মুক্তিসেনা এবং পুরো জাতি যে সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতীক্ষা বরন করেছে তাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করার একক দাবীদার হিসেবে ভারত নিজেকে আবির্ভূত করে । কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে- বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং পুরো জাতি মিলে পাকিস্তানী বাহিনীকে পর্যুদস্ত না করলে এবং যৌথ বাহিনীকে সমর্থন না করলে – ভারত কোন দিনই পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারতো না।

 

(৩) মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের গোলামী চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাস্ট্র নীতি ভারতের উপর নির্ভরশীল করা হয়েছিল।

 

(৪) ভারত ১৯৭৫ সালের পর কাদেরীয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত হামলা পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছে।

 

(৫) ভারতের কোলকাতায় বসে ‘বঙ্গভুমি আন্দোলন’ নামক বাংলাদেশ বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ মিটিং মিছিল ও সভা–সমাবেশ করে, যাদের দাবী – বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে একটি হিন্দু রাস্ট্র গঠন করা।

 

(৬) ভারত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী চাকমা সন্ত্রাসীদেরকে দীর্ঘদিন যাবত অস্ত্র, গোলাবারুদ, রসদ, আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে সহায়তা করেছে। ভারতের মাটিতে বসে তারা আজো বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বাস্তবে এটি হলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রক্সি যুদ্ধ।

 

(৭)  ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী – ২০০০ সালের জানুয়ারীর প্রথম থেকে চলতি ২০১১ সালের আগষ্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভারত ৯৯৮ জনকে হত্যা, ৯৯৬ জনকে আহত,  ৯৫৭ জনকে অপহরন, ২২৬ জনকে গ্রেফতার এবং ১৪ জনকে ধর্ষণ করেছে।

 

(৮) ভারত বাংলাদেশকে কাঁটাতারের বেড়া দ্বারা ঘিরে ফেলে পৃথিবীর বৃহত্তম কারাগারে পরিণত করেছে।

 

(৯) ভারত বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে- যা বাংলাদেশের বৃহত্তম সিলেট অঞ্চলকে মরুভুমিতে পরিণত করবে।

 

(১০) ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি উজানে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকার গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার বিধান ছাড়াই গঙ্গা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কিন্তু এযাবত কোন বছরেই ভারত বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। এছাড়া, একসাথে ফারাক্কার সবগুলো গেইট খুলে দিয়ে প্রতি বছর বাংলাদেশে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করছে। ফারাক্কা বাঁধের কারনে বাংলাদেশের নদীতে নাব্যতা কমে অনেক নদী সরু খালে পরিনত হয়েছে; উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মরুকরণ,আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ।

 

(১১) ভারত হাসিনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশকে তার গোয়েন্দা বাহিনীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করেছে; বাংলাদেশের ভিতর থেকেই ‘র’ এর সদস্যরা এখন হরহামেশা মানুষ ধরে নিয়ে যায়।

 

(১২) ভারত ‘ব্যাগ ভরতি টাকা এবং মন্ত্রনা’ দিয়ে বাংলাদেশের গত নির্বাচন তথা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে বলে লন্ডনের ‘ইকোনোমিষ্ট’ পত্রিকা তথ্য বের করেছে।

 

(১৩) ভারত জেএমবি নামক উগ্রবাদী গোষ্ঠী তৈরীতে মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে তথাকথিত ইসলামী জঙ্গীদের দেশ হিসেবে বহিঃর্বিশ্বে উপস্থাপন করতে চায়।

(১৪) ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল বলে ভারতীয় লেখকেরাই এখন স্বীকার করছেন।

https://i0.wp.com/www.zyzyo.com/wp-content/uploads/2010/11/Research-and-Analysis-Wing-of-India.jpg

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'

(১৫) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী করিডোর সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভারত  ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং বাংলাদেশের সকল সেক্টরে অনুপ্রবেশের সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব দারুনভাবে ব্যাহত হবে।

 

(১৬) ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন এবং বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমিকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে তার সামরিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে- এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বুক চিড়ে তার সামরিক বহর চলাচলের জন্য করিডোর সুবিধা আদায় করেছে।

 

(১৭) বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হলেও সেসব হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আক্ষায়িত করার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রধান ঢাকায় বসে নছিহত করে গেছেন।

 

সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত আহবানঃ

 

ভারতের উপরোল্লেখিত আচরনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত আহবান জানানো জরুরীঃ

 

(ক) সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন, ধর্ষণ ইত্যাদি মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে শক্ত কুটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো এবং এসব অপরাধ বন্ধ না হলে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হওয়া;

https://i1.wp.com/www.shahidulnews.com/wp-content/uploads/2011/01/felani.jpg

(খ) সীমান্তে ভূমি দখল, সশস্ত্র আগ্রাসন এবং সামরিক স্থাপনা নির্মান থেকে ভারতকে বিরত রাখা এবং কোন ভূমি ভারতের কাছে হস্তান্তরকরণ থেকে বিরত থাকা;

 

(গ) বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পরিপন্থী করিডোর প্রদানের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসা;

 

(ঘ) গঙ্গা পানি চুক্তি অনুসারে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন, টিপাইমূখ বাঁধ নির্মানে ভারতকে বিরত রাখা, স্থল ও সমূদ্র সীমানায় ভারতকে অন্যায্য দাবী-দাওয়া তোলা থেকে বিরত রাখা এবং ফারাক্কা বাঁধের কারনে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া;

https://i0.wp.com/beaverdamsss.com/wp-content/uploads/2011/09/Tipaimukh-Dam.jpg

প্রস্তাবিত টিপাইমূখ বাঁধ

 https://i2.wp.com/www.globalwebpost.com/farooqm/writings/bangladesh/farakka/farakka.jpg

(ঙ) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭৪ সালে বেরুবাড়ী হস্তান্তরের বিনিময়ে ৩ বিঘা করিডোর সম্পূর্নভাবে বিনিময় করতে এবং তালপট্টি দ্বীপ ভারতের দখলমুক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন;

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/10/location.gif?w=226

(চ) সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধকরণ; এযাবত বিএসএফ এর হাতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ক্ষতিপূরন আদায়ের ব্যবস্থা করন;

 

(ছ) ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে এবং চীনের সাথে ভারতের সম্ভাব্য কোন সামরিক সংঘর্ষে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা;

 

(জ) পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা দান থেকে বিরত থাকতে প্রতিবেশী রাস্ট্রের সাথে দক্ষ কুটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন;

 

(ঝ) তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিকে করিডোর প্রদানের সাথে সম্পরকিত না করা এবং ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রাখা;

 

(ঞ) পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সনাক্ত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন এবং সীমান্তের ৮ কিঃ মিঃ এলাকা থেকে পুলিশ-র‍্যাব তুলে এনে সীমান্তকে আরো অরক্ষিত করা থেকে বিরত থাকা;

 

( ট) বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে ‘ব্যাগভরতি টাকা ও শলাপরামর্শ’ দিয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ভারতকে বিরত রাখা।

 

(ঠ) সদ্য স্বাক্ষরিত ‘সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি’ অনুসারে বাংলাদেশের সকল সেক্টরে ভারতীয় অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টিকরন থেকে বিরত থাকা।

 

তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০১১।

ইমেইলঃ farukbd5@yahoo.com

//  

 

আল্লাহ তায়ালার পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়

আল্লাহ তায়ালার বাণী,“তারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত [নির্ভয়] হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার ব্যাপারে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া অন্য কেউ ভয়হীন হতে পারে না”।(সূরা আল-আরাফঃ৯৯)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, “একমাত্র পথভ্রষ্ট লোকেরা ছাড়া স্বীয় রবের রহমত থেকে আর কে নিরাশ হতে পারে?” (টীকা-১ দ্রঃ) (সূরা হিজরঃ৫৬)

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণণা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবীরা গুণাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাবে বলেছেন, ‘কবীরা গুনাহ হচ্ছে – আল্লাহর সাথে শরীক করা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহ পাকের পাকড়াও থেকে নির্ভয় হওয়া”। (টীকা-২ দ্রঃ) (মুসনাদে বাজ্জার, হাদীস নং ১০৬; মাযমাউয যাওয়াহিদ,১০৪)

আবদুল্লাহ ইবন মাসিউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় গুনাহ হল- আল্লাহর সাথে শরীক করা, আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভিক হওয়া এবং আল্লাহর করুণা থেকে বঞ্চিত মনে করা’। (টীকা-৩ দ্রঃ) (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ১০/৪৫৯; তাবারানীম হাদীস নং ৮৭৮৭)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়,

সূরা আরাফের ৯৯নং আয়াতের তাফসীর
সূরা হিজরের ৫৬ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভিক ব্যক্তির জন্য কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়াকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে

_______________________________________

ব্যাখ্যা- অত্র অধ্যায়ে দুটি আয়াতের উল্লেখ আছে এবং আয়াত দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। প্রথমত আয়াতে বলা হয়েছে যে, মুশরিকদের স্বভাব হল যে তারা আল্লাহর শাস্তির পাকড়াও থেকে নিজেদের নিরাপদ মনে করে অর্থাৎ তারা আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে না। আর আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ মনে করা, ভয় না পাওয়া ‘ভয়-ভীতির ইবাদত’ পরিহার করারই ফল। অথচ ভয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদত। আয়াতে উল্লিখিত ‘মকর’ কৌশল অবলম্বনের তাৎপর্য হল, আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য যাবতীয় কাজ এমন সহজ করে দেন যে, সে এমন ধারণা করে ফেলে যে সে বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তার আর কোন ভয় নেই। প্রকৃতপক্ষে এ হল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে অবকাশ দেয়া। আল্লাহ মানুষকে সবকিছুই দেন, কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, সে নিরাপদে রয়েছে। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘যখন তোমরা দেখবে যে আল্লাহ কোন বান্দাকে অনেক নিয়ামত দিয়েছেন অথচ সে সদা পাপ কাজে লিপ্ত, তবে তোমরা জেনে রেখো যে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে অবকাশ দিচ্ছেন”। আল্লাহ তায়ালা এ কৌশল অবলম্বন তাদের সাথেই করে থাকেন যারা তাঁর নবী, অলীদের ও তাঁর দ্বীনের সাথে গোপনে চক্রান্ত ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নেয়। এ কৌশল অবলম্বন আল্লাহর পরিপূর্ণ গুণাবলী। কেননা এ সময় তিনি স্বীয় ইজ্জত, কুদরত ও প্রভাব প্রকাশ করেন।

১- এখানে আল্লাহ পথভ্রষ্টদের স্বভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যে, তারা আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত থেকে নিরাশ ও উদাসীন। মোটকথা মুত্তাক্বীন ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের গুণাবলী হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না অথচ আল্লাহ তায়ালাকে তারা ভয়ও করে। আল্লাহকে ভয় করা বান্দার অপরিহার্য কর্তব্য। আশা আকাংক্ষা এবং ভয় ভীতি এ উভয় গুণের মাধ্যমে বান্দাহ আল্লাহর ভয়-ভীতি ও আশা আকাংক্ষা থাকা বান্দার জন্যে ওয়াজিব। তবে অন্তরে ভয়-ভীতি ও আশা আকাংক্ষার মাঝে কোনটি প্রাধান্য পাবে?

শারীরিকভাবে সুস্থ পাপীর জন্য ভয়-ভীতির দিক আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়ে প্রাধান্য পায়, আর মৃত্যুর সম্মুখীন অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে আশা-আকাঙ্ক্ষার দিক প্রাধান্য পায়। তবে সঠিক ও কল্যাণের পথে ধাবমান অবস্থায় ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা সমপর্যায়ের হয়ে থাকে। যেমন, আল্লাহর বাণীঃ ‘তারা নেকির কাজে দ্রুতগামী এবং আমাকে তারা আশা আকাঙ্ক্ষা ও ভয়-ভীতির সাথে আহবান(ইবাদত) করে ও আমাকেই তারা ভয় করতে থাকে’। (সূরা আম্বিয়াঃ ৯০)

২- আল্লাহর ভয়-ভীতি ও আশা আকাঙ্ক্ষার ইবাদত পরিত্যাগ করা হল নিরাশ হওয়া আর আল্লাহর ভয়-ভীতির ইবাদত ত্যাগ করা হল তাঁর শাস্তি থেকে নির্ভীক হওয়া। অতএব, উভয়টি বান্দার অন্তরে একত্রিত হওয়া ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত আর উভয়টি বান্দার অন্তর থেকে বিদায় হওয়া বা হ্রাস পাওয়া হল পরিপূর্ণ তাওহীদের হ্রাস পাওয়া।

৩- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া অধিকাংশ লোকের মধ্যে বিদ্যমান। রহমত আল্লাহর নেয়ামত-অনুগ্রহসূহ অর্জন ও বিপদাপদ থেকে মুক্তি পাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর হাদীস বর্নিত শব্দ ‘রাওহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপদাপদ থেকে মুক্তি পাওয়াই নেয়া হয়ে থাকে।

উৎসঃ কিতাবুত তাওহীদ ও এর ব্যাখ্যা – অধ্যায় ৩৩
মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আত-তামীমী(রাহিমাহুল্লাহ)

ব্যাখ্যাকারঃ শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আলে শায়েখ
ভাষান্তরঃ মুহাম্মদ আবদুর বর আফফান, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মূল তথ্যসূত্রঃ

http://sorolpath.files.wordpress.com/2011/08/sorol1.jpg

সত্যিই কী ঘটেছিল ২০০১ সালের এ দিনে?

http://muinebheagvsenglish.files.wordpress.com/2010/03/9-11wtc1.jpg

এর আগে এমন দৃশ্য দেখেনি বিশ্ব। দেখেনি খোদ মার্কিন জনগণও। আজ থেকে১০ বছর আগে, ঠিক এই দিনে, বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের ভীত। বিমানের তীব্র ঠুকুনিতে তাসের ঘরের মতো লুটিয়ে পড়েছিল মাথা উঁচু করে থাকা টুইন টাওয়ার। আক্রান্ত হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও। আর এ ঘটনাতেই বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতি। বিশ্বব্যাপী শুরু হয় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। সে যুদ্ধ আজও চলছে।
আজ ৯/১১, বিশ্ব রাজনীতিকে বদলে দেওয়া সেই ৯/১১। কী ঘটেছিল ২০০১ সালের এ দিন? সত্যিই কি আল-কায়েদা সে দিন মার্কিন শৌর্যে আঘাত হেনেছিল! নাকি সবই ছিল পাতানো, বিশ্বকে করায়ত্ত করার মার্কিন কূটকৌশলের অংশ! এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাই এ হামলা চালিয়েছে। আল-কায়েদাও অবশ্য এ হামলারদায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে সন্দেহবাদীরা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আল-কায়েদা কারওবক্তব্যেই আস্থা রাখতে নারাজ। তাদের যুক্তি, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষাব্যূহ, সুতীক্ষ গোয়েন্দা নজরদারিকে ব্যর্থ করে দিয়ে আল-কায়েদার পক্ষে মার্কিন মুলুকে এত বড় হামলা চালানো অসম্ভব। সন্দেহবাদীরা ৯/১১-কে দেখেন বাঁকা চোখে। খুঁজে পান কুটিল ষড়যন্ত্রের গন্ধ। ৯/১১-এর ঘটনা নিয়ে এখনোঅনেকের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনার ১০ বছর পরও সে প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। এসব প্রশ্নের মধ্যে পাঁচটি সবচেয়ে আলোচিত।
২০০১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি বিমানছিনতাই হয়েছিল। সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আছে বিশ্বেরসবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী। কিন্তু তারা কেন এই ছিনতাই হওয়া বিমান থামাতে ব্যর্থ হলেন?’

এ প্রশ্নের উত্তরও আছে তাদের কাছে। সন্দেহবাদীরা বলেন, তত্কালীনভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি সামরিক বাহিনীকে নিশ্চুপ এবং বিমান না থামাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন আছে, ‘মাত্র কয়েকটি ফ্লোরে আগুন ধরার পর এত দ্রুত কেন টুইনটাওয়ার ধসে পড়ল?’

এ প্রশ্নের উত্তরে সন্দেহবাদীরা বলেন, আসলে নিয়ন্ত্রিত উপায়েই টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ, ভবনে অপেক্ষাকৃত কম সময়ব্যাপী আগুন জ্বলেছিল (বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র ১-এ ১০২ মিনিট এবং বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র ২-এ ৫৬ মিনিট), অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ধ্বংসের কিছু সময় আগে বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে।
সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন তোলেন,‘একজন প্রশিক্ষণার্থী চালক কীভাবেএকটি বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনা করে পেন্টাগনে হামলা চালালেন?

সন্দেহবাদীরা বলেন, ছোট বিমান ব্যবহার করে পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়েছে এবং ওই বিমান আল-কায়েদা নয়, পেন্টাগন নিজেই তা নিয়ন্ত্রণ করেছে।
প্রশ্ন রয়েছে, ‘পেনসিলভানিয়ার সাংকসভিলে ইউএ ৯৩ বিমান বিধ্বস্তের স্থান কেন এত ছোট এবং সেখানেবিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ কেন দেখা যায়নি?’

সন্দেহবাদী তাত্ত্বিকেরা বলেন, ইউএ ৯৩ বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছিল। এতে মধ্য আকাশেই বিমানটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। ফলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ বৃহত্ এলাকায় ছড়িয়ে যায়।
ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকেরা প্রশ্ন তোলেন, ‘স্টিলের তৈরি অন্য কোনো আকাশচুম্বী ভবন আগুনের কারণে ধ্বংস হয়না। কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র-৭ বিমান হামলায় আক্রান্ত না হয়েও কেন এত দ্রুত ভেঙে পড়ল?’

এ ঘরানার মানুষেরা বলেন,বিস্ফোরক ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র-৭ ধ্বংস করা হয়েছে।

ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের এসব সন্দেহমূলক প্রশ্নের জবাব আছে পেন্টাগনের কাছে। কিন্তু এবিশ্বে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা পেন্টাগনের কথায় খুব কমই আস্থা রাখেন। অবশ্য পেন্টাগনও যে মিথ্যা কথা বলে, তার নজির প্রায়ই মেলে।—বিবিসি অবলম্বনে।

সূত্রঃ  *প্রতিদিনের তাজা খবর [fαcєвook vєяsίoN]*

 

বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া “একই দেশ” নয়

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/304424_137245923038385_115857601843884_182727_1252656641_n.jpg

সৈয়দ আশরাফ বলেছেন,

“ঐতিহাসিকভাবে এবং ঐতিহ্যগতভাবে আমরা (ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ) একই দেশের মানুষ, একই দেশের নাগরিক। আমাদের একই সংস্কৃতি, একই ভাষা, একই ধর্ম ও একই ঐতিহ্য।”

কখনই বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া “একই দেশ” নয়, “একই ভাষা” নয়, “একই ধর্ম” নয় ।

বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বৃহত্তর ইন্ডিয়ার শোষণ থেকে ১৯১১ সালে আমরা মুক্ত হয়েছি। আর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়েছি ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া “একই দেশ” এই কথা বলে কি ৩০ লাখ শহীদের রক্তকে অপমান করা হলো না ?

যে ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে সালাম, রফিক, বরকত উষ্ণ রক্ত ঢেলে দিল “একই ভাষা” বলে কি সে ভাষাকে কি অপমান করা হলো না ? ইন্ডিয়ার ৮০.৫% হিন্দু , আর বাংলাদেশের ৯০.৪% মানুষ মুসলমান। আমাদের ধর্ম কি এক হলো ?

আজ যদি কেউ বলে, “ঐতিহাসিকভাবে এবং ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তান ও আমরা একই দেশের মানুষ একই দেশের নাগরিক।” তাকে দেশদ্রোহী ও রাজাকার বলবেন নিশ্চই।

তাহলে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া কে “একই দেশ” বললে তাকে কি বলবেন ?

সূত্রঃ

তুমি অধম , তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন ?

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমীয় বাণী! যা শুনে ইতিহাস নিরবে কাঁদে

By:নাসীরুল ইসলাম 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারী
 
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আপাদমস্তক একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগোষ্টির প্রতি যেমনি ছিলেন হিংসূটে তেমনি ছিলেন মারমুখো! বঙ্গবঙ্গের বিরোধীতা করতে গিয়ে, বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধীরা ১৯০৫ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গে ৫ হাজারের মত সফল জনসভা করে। এসব জনসভায় হিন্দু নেতারা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে, জনগনকে স্থানীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ও বিক্ষুব্ধ করে তুলেন। প্রত্যেকটি বড় বড় জনসভায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন; বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন। হিন্দু মৌলবাদীদের ক্ষোভকে আরো চাঙ্গা করতে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আগুনের মাঝে পেট্রোল ঢালার কাজটি করেন। তিনি সমবেত জনতার জন্য কবিতা লিখেন, “উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই”। তিনি এই কবিতা দাঙ্গা উম্মাদ মারমুখো মানুষগুলোর জন্য উৎসর্গ করেন। তারপর থেকে প্রতিটি সমাবেশ শুরুর প্রাক্ষালে এই কবিতা শুনিয়ে যুবকদের রক্তকে গরম করে দিতেন। যাতে তাদের মাথায় খুন ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় কলিকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ প্রান হারায়। যাদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ তথা প্রায় ৪৭ হাজার নিহত মানুষ ছিল মুসলমান। বড় পরিতাপের বিষয় ইতিহাস জ্ঞানে অজ্ঞ বাংলার মানুষ সেই কবিতাকে বাংলাদেশের শহীদ মিনারে, সামরিক বাহিনীর স্মৃতি ফলকে, অঙ্কন ও খোদাই করে কিংবা কাষ্ট ফলকে চির ভাস্কর করে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চরম বাধা দানকারীদের একজন ছিলেন। ঢাকাতে যাতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টা হতে না পারে সেজন্য তিনি আমরন অনশন ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন ভিসি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদদে এই বিরোধীতায় তারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। পশ্চিম বঙ্গের কোন হিন্দু শিক্ষিত নেতা বাকি ছিলেন না, যারা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেননি। এই সমস্থ বুদ্ধিজীবি কল্পনাতেও সহ্য করতে পারতেন না, যে পূর্ব বঙ্গের মানুষ, যারা সংখ্যা গরিষ্টতায় মুসলিম, তারাও শিক্ষিত হবে! পূর্ব বঙ্গের মুসলিম যাতে কোন ভাবেই শিক্ষিত হতে না পারে, তা বন্ধে যত উপায়-অবলম্বন ছিল তার সবটাই তারা প্রয়োগ করেছিল। সেটা যত দৃষ্টিকটুই হোক, বাধা দিতে সামান্যতম কার্পন্য তারা করেনি। উদাহরন হিসেবে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ১৯২৪ সালে পাটনা হাইকোর্টের কাছে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন; কেননা তিনি ব্যারীষ্টার সাইয়্যেদ হাসান ইমাম নামের এক অচ্ছুত মুসলীমের কাছে কংগ্রেস পার্টি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। মুসলিম শিক্ষিত হবে দূরের কথা তাদের অস্থিত্ব স্বীকার করাও তাদের কাছে কঠিন ছিল।

অসম্ভব মুসলিম ও পূর্ব বঙ্গ বিদ্ধেষী এসব বুদ্ধিজীবির আচরণের কারনে, দেশটি ধর্মীয় ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। মুসলমানেরা ধর্মীয় ভিত্তিতে ভাগ হয়ে যেতে কখনও আন্দোলন করেনি। হিন্দু বুদ্ধিজীবি এসব কট্টর, গোঁড়া আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত. ইসলাম বিদ্ধেষী ব্যক্তিবর্গ দ্বিজাতি তত্বের মাধ্যমে দেশ ভাগ হতে, সমুদয় মাল মসল্লা ও উপকরণ যুগিয়েছিল। আমাদের আফসোস! বর্তমানে আমাদের মধ্য থেকেই, মীর জাফর, ঘষেটি বেগমদের জম্ম হচ্ছে, তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য। ধিক্ তাদের অজ্ঞতার প্রতি।

 জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতা!
রবী ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা……. গানটি শুনে এবং গেয়ে, সবাই ধারনা করেন তিনি বুঝি বর্তমান বাংলার মানুষের প্রতি খুবই অনুরক্ত ছিলেন। ব্যাপারটি মোটেও তা নয়, কিঞ্চিত পরিমানও সত্যও নয়। পাকিস্থানের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল ১৯৩৭ সালে, বাংলাদেশের স্বপ্ন ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত্রেও দেখা হয়নি। তাহলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৮ সালে বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন কিনা প্রশ্নটিই অবান্তর। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, তিনি কোন বাংলার জন্য কেঁদেছিলেন? যেখানে কবি পাকিস্থান জন্মেরও ৭ বছর আগে ১৯৪১ সালের ৭ই আগষ্ট মৃত্যু বরণ করেন। যখন বাংলাদেশ নামক কোন বস্তুর স্বপ্ন দেখা অলীক কল্পনা ছিল।মূলতঃ ১৯০৫ সালে তদানীন্তন বৃটিশের ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন ঘোষনা করেন, রাষ্ট্রিয় কাজের সুবিধার্থে তথা পূর্ব বঙ্গের মানুষের সুবিধার্থে বঙ্গকে ভেঙ্গে দুভাগ করা হবে। পূর্ব বঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গ। ঢাকা হবে পূর্ববঙ্গের প্রধান কেন্দ্র। এটি কোন স্বাধীনতা কিংবা স্বায়ত্বশাসন ছিলনা, সেরেফ রাষ্ট্রিয় কাজের সুবিধার্থে এই পৃথকিকরণ। তদানীন্তন বাংলার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসায় পিছিয়ে ছিল। তারা সবাই ছিল চাষা; তাদের উৎপাদিত পাট, চা, বেত কাঁচামাল হিসেবে তৈরী হত এবং তা কলিকাতার মিলে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রপ্তানী হত। এসব শিল্প কারখানায় কলিকাতার অভিজাত হিন্দুরা চাকুরী করত। তাদের সন্তানেরা সেখানে লেখাপড়া করে মানুষ হত। অপরদিকে বাংলার চাষারা ছোটখাট মারামারি করলেও কলিকাতা হাইকোট পর্যন্ত ছুটতে হত, এতে তারা গরীবই থেকে যেত। সাধারন একটা পুস্তিকা কিংবা বিয়ের কার্ড ছাপাতে সদূর সিলেট-চট্টগ্রামের মানুষকে কলিকাতা পর্যন্ত ছুটতে হত। এতে কলিকাতায় একটি হিন্দু আইনজীবি শ্রেনীও গড়ে উঠে। যার খদ্দের ছিল বাংলার অভাবী লোকজন। তাই দেশ ভাগ হলে তাদের ভাতের অভাবে মরার ভয় ছিল।

রবী ঠাকুরের দুঃচিন্তা ছিল সবচেয়ে বেশী । কারন তারা ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের মানুষ; আর দেশ ভাগ হলে, তাদের জমিদারী পড়ে যাবে পূর্ব বঙ্গে তথা বর্তমান বাংলাদেশে। এতে করে পশ্চিম বঙ্গ থেকে, পূর্ব বঙ্গে গিয়ে প্রশাসনিক খবরদারী করার অতীত খায়েশ বন্ধ হয়ে যেত। তখন তাকে জমিদারী চালাতে পূর্ব বঙ্গের নিয়ম কানুন মেনে চলতে হত। ফলে তার জন্য দুটি পথ খোলা থাকে। হয়ত জমিদারী বিক্রি করতে হবে, নয়ত পূর্ব বঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। এই দুইটির একটি করাও তার জন্য অসম্ভব ছিল। ফলে তার চরম স্বার্থহানীই তার জন্য দুঃখের কারন হয় এবং হৃদয়ে বাংলার মায়া উৎড়ে উঠে। শুরু হয় চড়া গলায় পেরেশানী। এই হতাশায় তিনি বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জম্ম হবার ৬৩ বছর আগে, তথা ১৯০৮ সালে রচনা করেন, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি….। যে গানের সূত্রপাত হয়েছিল পূর্ব বঙ্গের মানুষদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য। যে গানটি রচনা করা হয়েছিল কবি পরিবারের জমিদারী টিকিয়ে রাখার জন্য। যে গানটি রচনা করা হয়েছিল, রক্তচোষা জমিদারের স্বার্থ সংরক্ষনে। সেই গানটিই হয়ে গেল আমাদের জাতীয় সঙ্গীত! অর্থাৎ জোতার মালা গলায় নিয়ে, জাতির গুনকীর্তন! এটি ইতিহাসের সেরা তামাশার একটি?

আফসোস আমাদের সরকার গুলো এর কোনটাই মূল্যায়ন করেনি। ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ সরকার জানে গানটি খুবই ঠুনকো ঐতিহাসিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতে এটার অস্থিত্ব বিপন্ন হবে। তাই নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে সংসদে বিল আকারে সেটাকে রক্ষা করেছেন। বিলে এতই কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে এটা নিয়ে নূন্যতম কোন কথাই তুলতে না পারে। প্রশ্ন রইল এরা কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে?

 
*********************************************************************************************************
%d bloggers like this: