• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 313,975 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

রূপগঞ্জের সেনা আবাসিক প্রকল্পের ঘটনাঃ একটি স্বাথর্ন্বেষী মহল জড়িত

ফেরদৌস রহমান

স্বাথর্ন্বেষী মহলের প্ররোচনায় মহলবিশেষ কর্তৃক উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রেক্ষিতে গত অক্টোবর মাসে সেনাসদস্যদের ফিরে আসতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাস্তবায়নাধীন ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’ হতে। সেনাসদস্যদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চলতি বছরের প্রথমদিকে পূর্বাচলসংলগ্ন এলাকায় ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’ নামের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

সভ্য সমাজের যে কোন নাগরিকের জন্য আবাসন ব্যবস্থা খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪২ অনুযায়ী সমপত্তি অর্জনের অধিকার যে কোন নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছর সরকারের অনুমোদনক্রমে সেনাসদস্যদের অথর্ায়নে ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’-এর কাজ শুরম্নু হয়। সে মোতাবেক প্রকল্প এলাকায় জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সড়ক, ব্রিজ, পার্ক, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টারসহ সকল নাগরিক সুবিধা সংবলিত বিশ্বমানের একটি উপশহর গড়ে তোলার সিদ্ধানত্ম গৃহীত হয়। তখন হতে দেশের প্রচলিত সকল আইনকানুন মোতাবেক সেনাবাহিনী সদরদফতর কর্তৃক গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের কাজ শুরম্নু হয়প্রকল্পে অনত্মভর্ুক্ত সেনাসদস্যবৃন্দকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নিকট নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হয়েছে এবং ওই অর্থ জমা দিতে যেয়ে অনেক সদস্যকেই ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়।

শুরম্ন থেকেই বাজারমূল্যে সরাসরি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয়ের কার্যক্রম চলে আসছিল। বরং সেনাসদস্যরা বাজারমূল্যের চেয়ে জমির মালিককে বেশি দাম প্রদান করেছে। উলেস্নখ্য, ওই এলাকায় সেনাসদস্যদের আগমনের পূর্বে বিঘা প্রতি জমির বিক্রি মূল্য ছিল কমবেশি দশ লাখ টাকা। সেনাসদস্যরা সেই জমির দাম প্রদান করেছে সতেরো লাখ টাকা।

তবে গত কয়েক মাস যাবত একটি কুচক্রীমহল কর্তৃক আবাসিক প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের পথে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ স্থানীয় জনগণের কাছে বিভিন্নভাবে সেনাবাহিনী এবং ‘সেনা আবাসিক প্রকল্প’-এর বিরূদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়প্রকল্প এলাকার জনগণের জমি সেনাবাহিনী জোর করে দখল করে নেবে অথবা প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করবে এমন বক্তব্য দিয়ে কুচক্রীমহল স্থানীয় জনগণকে প্ররোচিত করে। যদিও জমি ক্রয় সংক্রানত্ম বিষয় নিয়ে প্রকৃত জমির মালিকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তাই এ প্রসঙ্গে ভুল ধারণার অবসানের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একাধিকবার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।

কিন্তু এই সকল পদক্ষেপ অতিক্রম করে কুচক্রীমহলটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি প্রকল্প অফিসে ঢুকে অফিস তছনছ করে, সেনাসদস্যদের ওপর চড়াও হয় এবং এমনকি সেনাসদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। দলটি গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিভিন্ন অবস্থানে সড়ক অবরোধ করে, যা এক পযর্ায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

সেনাসদস্যবৃন্দ যখন কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা করছিল তখন উচ্ছৃঙ্খল দলটি নিকটবতর্ী সেনাক্যামপে হামলা চালায়। একই সময় পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয় যে, কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে সেনাক্যামপে আটক রাখা হয়েছে, যা পরবতর্ী সময়ে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও উচ্ছৃঙ্খল দলটি বেপরোয়াভাবে বেশকিছু গাড়ি ভাংচুর করে। ফলশ্রম্নতিতে পুরো এলাকায় এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হয়। এই সময় কয়েকজন সেনাসদস্যও আহত হন। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, চিকিৎসার জন্য আহতদের নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণেও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ বাধা প্রদান করে। সেনাসদস্যবৃন্দ অত্যনত্ম ধৈর্যসহকারে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরবতর্ীতে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সামরিক এবং বেসামরিক উভয় আহতদেরই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরো সমঝোতার স্বার্থে সেনা কর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলাকা থেকে সকল অস্থায়ী স্থাপনা প্রত্যাহার করে নেবার সিদ্ধানত্ম নেয়। তবুও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিবর্গ কিছু সময়ের জন্য সেনাসদস্যদের প্রায় অবরম্নদ্ধ করে রাখে। দুপুরের পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করে নেবার ঠিক পর মুহূর্তে উচ্ছৃঙ্খল জনতা প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত পরিত্যক্ত ঘোষিত অস্থায়ী সেনাক্যামপের ওপর চড়াও হয় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। উচ্ছৃঙ্খল জনতা সেনাসদস্যদের ফেলে যাওয়া আসবাবপত্র এবং অন্যান্য মাল এমনকি ক্যামপের টিন পর্যনত্ম লুট করে নিয়ে যায়।

উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, সেনাবাহিনী এবং ওই আবাসিক প্রকল্পের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বিদ্বেষমূলক এবং ভীতিকর অপপ্রচার ছড়িয়ে এলাকার জনগণকে প্ররোচিতকারী কুচক্রীমহলটিই সহিংস ঘটনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। উলেস্নখ্য, সেনাসদস্যদের অথর্ায়নে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে আবাসিক প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের সঙ্গে জমি অধিগ্রহের কোন প্রশ্নই ওঠে না। তবু এমন অপপ্রচার চালিয়ে মহলটি স্থানীয় জনগণকে বিভ্রানত্ম করেছে।

পরবতর্ী সময়ে গুজব ছড়ানো হয় যে, ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে তিন যুবককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি যুবকদের সেনাসদস্য কর্তৃক অপহরণ করা হয়েছে বলে মহলটি ইঙ্গিত প্রদান করতে থাকে, যদিও মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী সহিংস ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছে যে, সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টারে করে এলাকা ত্যাগ করেছে এবং সে সময় সেখানে সমবেত অসংখ্য লোকের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাউকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া ছিল অসম্ভব।

সমপ্রতি কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে (এনজিও) সেনা আবাসিক প্রকল্পের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। তবে ঢাকা মহানগরীতে অপরিকল্পিত নগরায়ন ঘটানোর মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যসত্ম করার জন্য সর্বাধিক দায়ী হাউজিং কোমপানিগুলোর বিরম্নদ্ধে অবস্থান পরিলক্ষিত না হওয়ায় এনজিওসমূহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সেনাবাহিনী হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের প্রতীক। সেনাসদস্যদেরও অধিকার আছে যথাযথ বিধি মোতাবেক জমি ক্রয়ের, যাতে অবসর গ্রহণের পর তাঁরা বাড়ি তৈরি করে পরিবারপরিজন নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে পারে। তাছাড়া হাউজিং কোমপানির মতো জমি কিনে তাঁরা ব্যবসা করছে না।

আইনকে তার নিজস্ব গতি ও পথে চলতে দিতে হবে এবং সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। সেনাসদস্যরাও এই জাতির সনত্মান এবং কোনভাবেই বাসস্থান সংক্রানত্ম সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।

Source : Daily Janakantha

%d bloggers like this: