• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 293,954 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

Hasina Asked US To Make Sure “Bangladesh Military Is Accepting Her Authority”

In the wake of 2009 BDR mutiny, Prime Minister Sheikh Hasina asked for assistance from the US government to make sure “the [Bangladesh] military is really very careful” and accepting of the civilian authority, said a leaked diplomatic dispatch.

The premier made the request in a one-on-one “off-the-record” conversation on November 5, 2009 with the then US ambassador James F Moriarty, according to the cable sent to Washington four days later.

“The Ambassador commented that he still had concerns about civilian-military relations in Bangladesh and viewed the BDR Mutiny as a symptom of historically poor civilian-military relations,” said the cable posted on the whistleblower website WikiLeaks.

https://i1.wp.com/i.telegraph.co.uk/multimedia/archive/01212/Bangladesh_1212176c.jpgPrime Minister Sheikh Hasina

PM Hasina had emphasised establishing a new structure to expedite progress in civil-military relationship, another cable sent to Washington on May 28 quoted PM’s Adviser Gowher Rizvi as saying.

https://i0.wp.com/unitednews.com.pk/en/images/news/14-06-2011/US%20keen.jpgThen US ambassador James F Moriarty

https://i1.wp.com/sonarbangladesh.com/blog/uploads/ratertara87201107021309583012_263827_238818566146043_174212562606644_919721_2831425_n.jpg

PM Hasina’s Adviser Gowher Rizvi with his foreigner wife

At a meeting with the then US ambassador James F Moriarty on May 26, 2009, Rizvi said the prime minister continued to look for ways to tackle a key priority, strengthening civil-military relations in Bangladesh, said the cable.

“Early in her tenure as PM, Hasina talked about establishing a civ-mil structure that might include a Joint Chiefs of Staff and/or a Defence Minister/Advisor,” the dispatch quoted Rizvi as saying. It noted there was no separate defence minister in Bangladesh then; the prime minister held the defence portfolio herself.

“The Bangladesh Rifles mutiny in February made this objective both more difficult and more urgent, Rizvi observed,” the cable said.

Quoting Rizvi, the cable said, “Bangladesh Prime Minister Sheikh Hasina continues to grapple with thorny problems like improving civil-military relations and overcoming inept bureaucrats.”

Before meeting Rizvi, the then US ambassador held a meeting with LGRD Minister Syed Ashraful Islam who told Moriarty that he urged PM Hasina to appoint a full time defence minister, said another cable.

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/10/25-2-9.jpg?w=300BDR Mutiny

Ashraf said the BDR issue seemed to be settling down. He was critical of opposition efforts to second guess the government’s handling of the issue, said the cable.

The ambassador stressed the importance of a credible investigation into the mutiny and noted the US government concerns about deaths in custody of accused mutineers.

http://news21bd.com/show_image_NpAdvSinglePhoto.php?filename=/2010/01/top7.jpg&cat=17&pid=1150&cache=falseLGRD Minister Syed Ashraful Islam

The cable reads: “Ashraf said he shared these concerns and claimed he had argued in cabinet for a civilian trial for those accused. The Ambassador said it was important that any legal process be transparent. Ashraf noted the Army should not be ‘too enthusiastic’ and realize excesses would reflect poorly on the institution. Ashraf predicted there could be sympathy in army enlisted ranks for the BDR jawans if they were mistreated.”

The ambassador noted US government’s offer to help Bangladesh to strengthen civil-military relations. He underscored the need to look at roles and responsibilities of different institutions, including the defence ministry and parliament.

অবৈধ আয় হারাবে বলে পুলিশ র‍্যাবে আসতে চায় না: বারী

https://i1.wp.com/www.bdreport24.com/wp-content/uploads/2010/12/wikileaksEditB201012041557132.jpg

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলও

সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী বলেছিলেন, ঘুষসহ অন্যান্য আয়ের সুযোগ কমে যাবে বলে পুলিশ থেকে র‍্যাব বাহিনীতে আসার আগ্রহ কম।

[prabasher_news_06102009_0000001_gen_bari.png]

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী

২০০৬ সালে ডিজিএফআইএর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এক সম্মেলনে যোগদানের সময় মার্কিন এক কর্মকর্তাকে এ কথা বলেছিলেন ব্রিগেডিয়ার বারী। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন দূতাবাসের কূটনৈতিক তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তারবার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের এপ্রিলে হাওয়াইতে অনুষ্ঠিত পিএএসওসি সম্মেলন চলার সময় মূল অনুষ্ঠানের বাইরে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দূতাবাস কর্মকর্তার সঙ্গে বারীর খোলামেলা কথাবার্তা হয়। বারী এ সময় র‍্যাব গঠনের সময় থেকে এ বাহিনীর বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন। প্রসঙ্গত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী একসময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) উপপ্রধান ছিলেন।

তারবার্তার তথ্যমতে, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় বারী উল্লেখ করেন, র‍্যাব গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনার সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল র‍্যাব সামরিক বাহিনী থেকে ৪৪ শতাংশ, পুলিশ বাহিনী থেকে ৪৪ শতাংশ ও বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) থেকে ১২ শতাংশ জনবল নেওয়া হবে। কিন্তু পুলিশ বাহিনীতে এই কোটা পূরণে অনীহা ছিল। কারণ, ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা ‘বাইরে থেকে আরও বেশি অর্থ আয় করে’। বারী দাবি করেন, জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের দপ্তরে বসে থাকতেই বেশি আগ্রহী।

https://i1.wp.com/media.somewhereinblog.net/images/sammobadiblog_1260524740_1-rab.jpg

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব)

বারী বলেন, পুলিশ বাহিনী একটি ‘বিশাল পিরামিড স্কিমের’ মতো কাজ করে, যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পৌঁছে দেন। জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের ব্যর্থ হওয়ার একটি কারণ দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বারী অভিযোগ করেন, র‍্যাবে অনেক সময় পুলিশের এমন জনবল দেওয়া হয়, যাঁদের সঠিকভাবে গুলি চালানোর মতো মৌলিক দক্ষতাও নেই। বিশেষ অভিযানের জন্য তাঁদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ। অনেকে শারীরিকভাবেও উপযুক্ত নন।

https://i2.wp.com/www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/Tirzok201107231311415065_nnb2195147.jpg

বাংলাদেশ পুলিশ

তারবার্তায় আরও বলা হয়, এর আগে ২০০৫ সালের জুন মাসে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বারী বলেছিলেন, ক্রসফায়ার ‘দরকারি এবং স্বল্প মেয়াদে উপযোগী এক কৌশল’। তারবার্তায় বলা হয়, বারী জানান, তিনি ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা হিসেবে জেএমবির নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনেকবার উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেএমবি প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, এর নেতা শায়খ আবদুর রহমান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে বিস্ফোরক তৈরি এবং একে ৪৭ রাইফেল চালনার প্রশিক্ষণ নেন। আইএসআই শায়খ রহমানকে কাশ্মীরে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

https://i0.wp.com/samakal.com.bd/admin/news_images/676/image_676_152160.jpg

বারী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শায়খ রহমান ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘পটকাবাজির বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই। এসব বোমার ভেতরে কোনো স্প্লিন্টার ছিল না, কীভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন?’ তারবার্তায় বলা হয়, শায়খ রহমানের এই যুক্তিতে সহানুভূতি প্রকাশ করে বারী মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, বিস্ফোরণের আঘাতে নয়, ওই দিন আতঙ্কিত হয়ে দুজন নিহত হয়।

বারী আরও বলেন, দেশব্যাপী বোমা হামলার ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলে জেএমবির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ আসে শায়খ রহমানের ওপর। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অক্টোবরে আদালতে হামলা চালায় জেএমবি।

পুলিশের বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার বারীর কথিত এই অভিযোগের ব্যাপারে গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

সূত্রঃ

https://i2.wp.com/www.prothom-alo.com/secured/theme/public/newdesign/style/images/prothom-alo-logo.jpg

Bangladesh ‘Feared Attack’ From Burma: WikiLeaks

By JOSEPH ALLCHIN
https://i1.wp.com/www.shwe.org/wp-content/uploads/2011/03/Maritime-dispute-between-Bangladesh-and-Myanmar.jpg

Bangladeshi officials have said they expect a result in the arbitration over maritime boundaries in the Bay of Bengal by April, as a leaked US cable reveals that Dhaka was seeking US assistance after a Burmese military build-up stemming from the dispute.

“The arguments [over boundaries] will be held in two phases ending on 24 Sept and the ruling is expected in April,” Bangladeshi Foreign Minister Mijarul Quayes told Reuters on Sunday.

The initial complaint was submitted to the UN International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) in 2009, but the hearings did not commence till 5 September this year.

The dispute concerns a semi-submersible drilling platform owned by Swiss-US oil firm Transocean Inc, but was leased to South Korea’s Daewoo. Daewoo, along with their partner, Kogas, were given permission to explore for oil and gas in the disputed AD-7 offshore block by the Burmese authorities in 2008. The rig was escorted into the contested waters by the Burmese navy.

https://i1.wp.com/news.bbc.co.uk/media/images/45977000/jpg/_45977439_4bf8da0e-4fef-41c7-bef3-b09b652619c3.jpg

Several senior Burmese military officials are reported to have been arrested over the leaking of this photograph - appearing to show tunnels built in Burma with the help of North Korean experts for military purpose.

At the time news surfaced of a military build up on the shared land border but a recent cable released by Wikileaks indicates that the Bangladeshi government asked the US for help.

https://i2.wp.com/h4.abload.de/img/img.167836_tpxm.jpg

Bangladesh Army

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/09/myanmararmy.jpg?w=300

Burmese Military

“Army Chief General Moeen Uddin Ahmed asked the Ambassador [US] for assistance to assess the buildup, specifically requesting satellite imagery to assist the Bangladesh Army see the scope of the Burmese military presence and track further developments,” the cable, dated 18 December 2008, notes.

As a result of pressure at the time, the Daewoo rig, which was believed to have cost some $US400,000 per day, was moved out of the contested area. According to the cable’s source, “[Foreign Affairs advisor] Chowdhury claimed Daewoo had removed its rig in November solely because of pressure from the Korean Government.”

The cable further notes that the military build up was because “the Burmese Government was seeking revenge against Bangladesh for the offshore rig incident.”

https://i1.wp.com/www.bdnews24.com/nimage/125.jpg.jpg

The then Bangladesh Army Chief Gen. Moeen U Ahmed during his visit to Burma

The Bangladesh Army chief noted that the Burmese forces, who were believed to be 30 kilometres away from the border, “lived off the land”, and “reports from arriving refugees had underscored the increasing desperation of the under-funded Burmese soldiers”. It continued that the refugees’ “tales of treatment at the hands of Burmese soldiers reflected an increasingly frustrated Military.”

Bangladesh is desperate to secure energy supplies, and the nation’s state-owned oil company, Petrobangla, has signed deals with US oil company Conocco Philips to explore in its waters.

Source :

https://i1.wp.com/images.dvb.no/wp-content/themes/1044-thebeeb/images/masthead-v2.jpg

উইকিলিকসের তথ্যঃ মন্ত্রণালয়ের ওপর আস্থা রাখেননি হাসিনা

ঢাকা, মার্চ ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর পুরো আস্থা রাখতে পারেননি। উইকিলিকস জানাচ্ছে, সফরের পুরো পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা।

এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয় সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে।

২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ হাসিনা যেদিন দিল্লি পৌঁছান, সেদিন সকালে এক বৈঠকে এই সফরের উদ্দেশ্য ও নির্ধারিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ১০ জানুয়ারি রাত ৯টার পর ওই বার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠান। গত ১৬ মার্চ ওই বার্তাটি প্রকাশ করে উইকিলিকস।

ভারতে রূপান্তরমূলক (ট্রান্সফরমেশনাল) সফরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তুতি শিরোনামের ওই বার্তায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী যাতে কলকাতায় যাত্রাবিরতি না করে একদিন আগেই দেশে ফিরে আসেন তা নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত ছিলেন রিজভী। ভারতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা রিজভী ভণ্ডুল (স্যাবোটাজ) করে দেন বলেও মরিয়ার্টির বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

আমলাদের ওপর অনাস্থা

গোপন বার্তার সার সংক্ষেপে মরিয়ার্টি বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে ১০ জানুয়ারি নয়াদিল্লি পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমলাতান্ত্রিক মন্থরতার বিষয়টি উপলব্ধি করে সফরের যাবতীয় প্রস্তুতির দায়িত্ব নিজের কার্যালয়ের ওপর ন্যস্ত করেন তিনি।

“তার উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এই সফরের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রূপান্তর ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।”

বার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, “হাসিনা ও তার সহযোগীরা মনে করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার প্রতিবেশীদের দেখাতে চাইবে যে, আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ভারত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়।

কিন্তু ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তিকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন মরিয়ার্টি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আসবে উল্লেখ করে মরিয়ার্টি বলেন, “এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রক্ষা হবে।”

উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার দফা বৈঠক শেষে ৮ জানুয়রি নয়াদিল্লি থেকে ঢাকা ফেরেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এরপর ১০ জানুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

উপদেষ্টা মরিয়ার্টিকে জানান, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘রূপান্তর’ ঘটানোর লক্ষে সমঝোতার ‘মঞ্চ’ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের অল্প কয়েকজন ছাড়া সবার কাছেই গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও (দিপু মনি) এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় মাত্র এক সপ্তাহ আগে। চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মশিউর রহমানকে শেষ মুহূর্তে এতে সম্পৃক্ত করা হয়।

বার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী। আমলাদের সৃজনশীলতা ও দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর প্রস্ততি বৈঠক

উইকিলসের নথির তথ্য অনুযায়ী, রিজভী রাষ্ট্রদূতকে বলেন,

হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভারতীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ট্রানজিট ও আন্তঃযোগাযোগ-সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল। রিজভীর সঙ্গে ভারতীয় কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা হয় তার মধ্যে সবচে বেশি বিতর্ক হয় মংলা বন্দর নিয়ে। কারণ এর ফলে কলকাতা বন্দরের বাণিজ্য খুলনায় স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তুতি বৈঠকে সমুদ্রসীমা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে মরিয়ার্টিকে জানান রিজভী। তিনি জানান, বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে ‘একতরফা’ দাবি পেশ করায় ভারতীয়রা হতাশ হয়েছে।

‘স্যাবোটাজ’

রিজভীকে উদ্ধৃত করে মরিয়ার্টির বার্তায় বলা হয়,

প্রধানমন্ত্রী আজমির জিয়ারত শেষে ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় না ফিরে কলকাতায় যাত্রাবিরতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি ‘ভুল’ করতে যাচ্ছিলেন। তবে যাত্রাবিরতির সেই পরিকল্পনা ‘স্যাবোটাজ’ করে দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান রিজভী।

এর পেছনে নিজের যুক্তি তুলে ধরে রিজভী তাকে বলেন, দেশে ফিরতে ২৪ ঘণ্টা দেরি হলে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে নিজের সফরের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য তুলে ধরার আগেই সংবাদমাধ্যম ও বিরোধী দল অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

http://bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=152916&hb=2

হাসিনার ভারত সফর নিয়ে মরিয়ার্টির তারবার্তা

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-18/news/139345

শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে উইকিলিকসের গোপন তথ্য ফাঁস

http://jugantor.us/enews/issue/2011/03/18/news0341.php

হাসিনার ভারত সফরসূচি যেভাবে জেনেছিল মার্কিন দূতাবাস

http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=5179%3A2011-03-16-16-33-43&catid=49%3A2010-08-31-09-43-32&Itemid=83

Source : http://www.facebook.com/note.php?note_id=196571863707266

Britain complicit in extreme torture

Source : PressTV

British authorities have collaborated with Bangladeshi security forces to hunt British nationals and interrogate them outside the country in secret bases where inmates are known to have died under torture.

Guardian quoted sources in both countries as saying London used Bangladeshi intelligence agencies and police forces to cross-examine suspects with dual British-Bangladeshi nationality in operations during which a number of detainees became victims of extreme forms of abuse.

In one of the meetings between British and Bangladeshi officials, former Home Secretary Jacqui Smith met officials of Bangladeshi Directorate-General of Forces Intelligence (DGFI) which was criticized for its human rights record by the Human Rights Watch just about two months earlier.

According to a DGFI officer, Smith, whose department had earlier reported prevalent torture in Bangladesh, privately called on the agency, during the meeting, to examine the case of several people whom she described as suspicious.

Reports said a number of British suspects became subject to torture in the secret interrogation center known as the Task Force for Interrogation cell (TFI).

The inmates reported horrific torture methods including being forced to stand still for six days with their hands chained to bars above their heads, receiving electric shocks and even being strapped to a chair while a drill was slowly driven into their bodies.

This is while Smith’s own department had mentioned the very torture methods used on the victims as commonplace practice by the DGFI.

MI-6

MI-5

Reports claimed of MI6 and MI5’s complicity in the interrogation and torture cases sanctioned by senior government officials including Smith, former foreign secretary David Miliband and former Home Secretary Alan Johnson.

RAB

This comes as earlier WikiLeaks cables revealed the British government trained the Bangladeshi rapid action Battalion (RAB), also involved in the torture cases.

RAB, which were described as a “death squad” by the Human Rights Watch, were blamed for hundreds of extra-judicial killings and human rights violation cases before receiving training by Britain.

AMR/HE

Britain trains Bangladeshi torturers: New evidence

Source : Socialist Worker Online

Further evidence has come to light of the relationship between British governments and a Bangladeshi paramilitary death squad.

A leaked US embassy cable showed that the Rapid Action Battalion (RAB), responsible for hundreds of murders, received British training in “investigative interviewing techniques”.

It has emerged that British authorities passed information about British nationals to the group—while they were held at a secret interrogation centre where inmates have died under torture.

Gulam Mustafa, from Birmingham, was beaten and tortured with electric shocks.

According to the Guardian newspaper, Bangladeshi police officers say his arrest had been at the request of MI6.

Former Labour ministers Jacqui Smith, Alan Johnson and David Miliband all have questions to answer over torture in Bangladesh.

The foreign office says the British government continues to “provide a range of human rights assistance” in the country.

বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ

Source : Bangladeshi-Americans Living in New England

অবশেষে কি মার্কিন কূটনীতিতে সূর্যোদয় হলো? বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীগুলোর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বিগত দু’বছরে বিশ্বব্যাপী একটি বহুল আলোচিত প্রসঙ্গ। লন্ডন-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্খা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নিউইয়র্ক-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশী ও বিদেশী মানবাধিকার সংস্খাগুলো এবং কর্মীরা মূলত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাবের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করেছেন এবং প্রতিকার দাবি করেছেন। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক বার্ষিক রিপোর্টেও এসব হত্যার সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার কিছু হয়নি।

ঢাকার সরকারের মন্ত্রীরা, বিশেষ করে দুর্মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার মিথ্যা কথা বলেছেন, দাবি করেছেন যে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং ঘটছে না। কিন্তু দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই তথাকথিত ক্রসফায়ারে হত্যার খবর বেরোচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। র‌্যাবও এ জাতীয় প্রায় সাড়ে ৬০০ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু যেসব বিদেশী শক্তি নানা ধরনের মদদ দিয়ে বর্তমান সরকারকে গদিতে বসিয়েছে এবং টিকিয়ে রাখছে এসব অবৈধ হত্যা বন্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা তারা করেনি। বস্তুত কোনো রকম উচ্চবাচ্যই তারা করেনি।

এমতাবস্খায় হঠাৎ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি মুখ খুলেছেন। রোববার ২ জানুয়ারি তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর হাতে যারা মারা গেছে, তাদের বিষয়ে মানুষের জানার অধিকার আছে, সরকারের উচিত এসব হত্যাকাণ্ড সম্বন্ধে তদন্ত করা।

বাংলাদেশে যে এসব বিচারবহির্ভূত হত্যা ঘটছে, রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি কি সেটা নতুন করে আবিষ্কার করলেন? বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও নিয়মিত এসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তা ছাড়া ভরসা করে বলতে পারি, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে খবরাদি ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্যও যথেষ্ট কর্মচারী আছেন। মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন সরকার যদি যথেষ্ট চাপ দিত, তাহলে বাংলাদেশ সরকার যে তাতে কান দিত না, এমন কথা বিশ্বাস করা কঠিন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান দু’টি সমর্থক দেশের একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া যে প্রক্রিয়ায় এ সরকার ক্ষমতা পেয়েছে তাতে জেমস মরিয়ার্টি ও তার পূর্বসূরি হ্যারি টমাস ভারতের দুই হাইকমিশনার বীনা সিক্রি ও পিনাক চক্রবর্তীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের মানুষের জানা আছে।

বাংলাদেশের মানুষের অবশ্যই সন্দেহ হবে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আকস্মিক বোধোদয়ের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। উইকিলিকস ব্লগ সম্প্রতি ফাঁস করে দিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা র‌্যাবকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জেরা করার টেকনিক সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং এ ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তারাও ভূমিকা রাখছেন।

আরো কিছু তথ্য এ ব্যাপারে প্রাসঙ্গিক হবে। ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত গত বছর বিনইয়ামিন মোহাম্মদ এবং আরো কয়েকজনকে কয়েক লাখ পাউন্ড করে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করেছে। বিনইয়ামিন মোহাম্মদের জন্ম ইথিওপিয়ায়। তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং স্খায়ী বসতির অনুমতি পান। ২০০২ সালে পাকিস্তানে বেড়াতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিনইয়ামিন অভিযোগ করেন যে, তাকে জেরা করার সময় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্খিতিতে তার ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। প্রথমে মরক্কোয় সিআইএ’র গোপন ঘাঁটিতে তাকে জেরা ও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে কিউবার উপকূলে গুয়ানতানামো মার্কিন বন্দিশিবিরে আটক রাখা ও নির্যাতন করা হয়।

মোট সাত বছর বন্দী থাকার পর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং বিনইয়ামিন ব্রিটেনে ফিরে আসেন। তার মতো অন্য আরো যে ডজনখানেক লোক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতাও অনুরূপ। সবাই অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসী সন্দেহে তাদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়, কিন্তু তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে প্রমাণ করা যায়নি। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’র গোয়েন্দাদের সাথে সহযোগিতা করেছিল।

অতীতের বহু অপকর্ম

মার্কিন ও ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যে সনাতনী। এ এলাকার সামরিক গুরুত্ব এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এ দু’টি শক্তি অতীতে বহু অপকর্ম করেছে। বিশেষ করে ১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেকের সরকারকে উৎখাত করে শাহের স্বৈরশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানিরা কখনো ব্রিটিশ ও মার্কিন ভূমিকাকে ক্ষমা করতে পারেনি। ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সাহায্য আর উসকানিতেই সাদ্দাম হোসেন ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেছিলেন বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। আট বছর স্খায়ী এ যুদ্ধে প্রায় এক কোটি ইরানি মারা গিয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের ২০ মার্চ আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ইরাক আক্রমণ করে। সে অবৈধ যুদ্ধের দুটো কারণ ছিল। প্রথমত, ওয়াশিংটন ইরাকি তেলের নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিল। দ্বিতীয়ত, ইসরাইল মনে করছিল যে, সাদ্দাম হোসেন তাদের আধিপত্যবাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই তেলআবিব আর ওয়াশিংটন সাদ্দাম হোসেনকে গদিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরব বিশ্বে মার্কিনবিরোধী মনোভাব সর্বজনীন হয়ে দাঁড়ায় ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে সরে যেতে ইসরাইলের অস্বীকৃতি এবং এ ব্যাপারে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থনের কারণে। দীর্ঘদিনের ব্যর্থ প্রতিবাদ অরণ্য রোদনে পরিণত হওয়ায় সত্তর দশকের শুরুতে ফিলিস্তিনিদের একাংশ ইসরাইল ও মার্কিনবিরোধী সন্ত্রাস শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপে জায়োনিস্ট লবি ও তাদের দোসররা প্রকৃত কারণ চাপা দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচার চালায় যে, ইসলাম ধর্মের ইহুদি ও খ্রিষ্টানবিরোধী বৈরিতাই এসব সন্ত্রাসের জন্য দায়ী। তারা অন্তর্নিহিত সমস্যাটির সমাধানের পরিবর্তে ক্রমেই আরো বেশি ইসলামবিরোধী তৎপরতা চালায়। বিচিত্র নয় যে, আরব বিশ্বের ক্রোধ আর ঘৃণা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

ইসলামবিরোধী যুদ্ধ

নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) সন্ত্রাসের পরপরই ইসরাইলের দু’জন নেতা এহুদ বারাক আর বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপ আর আমেরিকায় প্রচার করে বেড়ান যে, ‘ইসলামি সন্ত্রাস জুডিয়ো-খ্রিষ্টান সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সে মিথ্যা বিশ্লেষণ লুফে নেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তান আর ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন এবং তাদের বশংবদ দেশগুলো ‘ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনে ও ইউরোপের আরো কোনো কোনো দেশে মুসলিম নির্যাতন শুরু হয়ে যায়। ইসলামবিরোধী রাজনীতিকরা ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচারণা শুরু করেন। কোনো কোনো দেশে হিজাব ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়, টুপি-দাড়ি পরিহিতদের অকারণে নির্যাতন ও হয়রানি শুরু হয়।

পাকিস্তান, আফগানিস্তান, এমনকি পূর্ব আফিন্সকার কোনো কোনো দেশে সফররত ব্রিটিশ মুসলিম নাগরিকদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়, ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় সিআইএ বিভিন্ন দেশে তাদের গুপ্ত নির্যাতন ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। সংশ্লিষ্টদের অনেককে পরে গুয়ানতানামো শিবিরে নিয়ে বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রাখা ও নির্যাতন করা হয়। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ হয়েছে যে, আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের ব্যাপারে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা মার্কিনিদের ছাড়াও পাকিস্তান ও উত্তর আফিন্সকার কোনো কোনো দেশের গোয়েন্দা বাহিনীকে মদদ দিয়েছে।

নাইন-ইলেভেনের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার অনুগত বহু দেশের সাথে ‘ইসলামি সন্ত্রাস’ দলন করার চুক্তি করেছে। ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্খা নেয়ার বিনিময়ে সেসব দেশকে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হচ্ছে। সেসব দেশে এর পরিণতি হচ্ছে মারাত্মক।

নজির মোটেই ভালো নয়

নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে পাকিস্তান। মাঝে মাঝে দুয়েকটা নির্বাচিত সরকার হলেও পাকিস্তান প্রায় সময়ই সামরিক শাসনাধীন ছিল। রাজনীতিকদের অনেকে সামরিক শাসকদের সাথে সহযোগিতাকে লাভজনক বিবেচনা করেছেন। সংগঠনের অভাবে অন্যদের গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু জমিয়তে ওলামা এবং আরো দুয়েকটি ধর্মীয় দল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সুসংগঠিত হয় এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। জেনারেল পারভেজ মোশাররফের দীর্ঘ সামরিক শাসনের সময় ধর্মীয় দলগুলোর শক্তি সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই ধর্মীয় দলগুলোকে ইসলামি সন্ত্রাসের সাথে সমার্থক করে দেখেন। এ শক্তিগুলোকে দমনের উদ্দেশ্যে বুশ প্রশাসন পারভেজ মোশাররফের সরকারকে ১২ বিলিয়ন (১২০০ কোটি) ডলার অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দেয়। মোশাররফ সরকার ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্যাতন শুরু করে, এমনকি সেনা ও বিমান বাহিনীকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। ধর্মীয় দল ও গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়। আফগানিস্তানের তালেবান ও আলকায়েদা গোষ্ঠীগুলো তাদের সাথে হাত মেলায়। পরিস্খিতি এখন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গত তিন-চার বছরে মার্কিন হেলিকপ্টার বহর এবং পাইলটবিহীন ড্রোন বিমান প্রায়ই পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ চালাচ্ছে। কিন্তু বিদ্রোহীদের তৎপরতা তাতে বেড়েছে, কমেনি।

বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে মার্কিন তাগিদে ধর্মীয় দলগুলোর ওপর সরকারি অভিযান সমাধানের বদলে জটিলতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। একটা দৃষ্টান্ত আলজেরিয়া। সে দেশে ১৯৯২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো জয় লাভ করে। কিন্তু মার্কিন তাগিদে সরকার নির্বাচন বাতিল করে এবং ধর্মীয় দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে। সেসব দল তখন সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয়। ১৮ বছর ধরে আলজেরিয়ায় ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সরকারি সেনাবাহিনীর খণ্ডযুদ্ধ চলছে এবং তাতে এক লাখেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আত্মপ্রতারণা

বাংলাদেশেও এখন ইঙ্গ-মার্কিন (এবং ভারতীয়) প্রভাবে সরকার ধর্মীয় দল ও গোষ্ঠীগুলোর ওপর অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। সে যুদ্ধে র‌্যাব একটা প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে হয়। সুতরাং বিচিত্র কিছু নয় যে, র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ (হয়তো বা অস্ত্র সরবরাহে) যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন সাহায্য দেবে। পাকিস্তান, আলজেরিয়া প্রভৃতি দেশে পশ্চিমাদের এবং তাদের স্খানীয় আজ্ঞাবহদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি, বাংলাদেশেও হবে বলে আশা করার কারণ নেই। ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সরকার সব রাজনৈতিক বিরোধিতা নির্মূল করার কাজে র‌্যাবকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ছাড়াও রিমান্ডের নামে র‌্যাব সরকারবিরোধীদের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রমুখদের ওপর নির্যাতন এখন আমেরিকা আর ইউরোপে সমালোচিত ও নিন্দিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপ-আমেরিকার মানবাধিকার সংস্খাগুলো অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। উইকিলিকসে র‌্যাবের প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ-মার্কিন ভূমিকা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি আরো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। এমনকি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রমুখদের নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা সম্বìেধ সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। বিষয়টির শুনানি যখন শুরু হবে তখন নিশ্চয়ই বহু লোক বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে বেড়ান, একমাত্র বিএনপি তার সরকারের সমালোচনা করছে এবং সারা বিশ্ব তার ও তার সরকারের প্রশংসা করছে। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশবাসীকেই নয়, নিজেকেও প্রতারণা করছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যার ব্যাপারে ইউরোপ-আমেরিকার নিন্দা-সমালোচনার কথা আগেই বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অনুপস্খিতি, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংস্খাগুলোর দুর্বৃত্তায়ন এবং বিরোধী দলগুলোর ওপর সরকার ও শাসক দলের নির্যাতনের সমালোচনা বিগত বছরাধিক সময়ে খুবই বেড়ে গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের অসংখ্য বন্ধু ও সমর্থক আছেন। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের আক্রোশের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে যে, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠান দুটো বেহাত করে নেয়া হচ্ছে সরকারের গোপন উদ্দেশ্য।

সারা বিশ্বে এখন বাংলাদেশ সরকার কিংবা বাংলাদেশী নীতিনির্ধারকদের প্রশংসাকারী বিশেষ চোখে পড়ছে না­ শুধু ভারতে ছাড়া। যারা সাগ্রহে দিল্লির হুকুম মেনে চলেন, ভারতের মনোরঞ্জনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেন তারা বাহবা পান। অনেকের মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে আবারো ভারতবর্ষকে অখণ্ড করার একটি ভারতীয় কর্মসূচিতে এদেরই কেউ কেউ এখন ইচ্ছুক খেলোয়াড়। সুতরাং ভারতে যে তাদের প্রশংসা হবে, সেটা ধরেই নেয়া যায়। কিন্তু ভারত যে বিশ্ব নয়, সে কথা হয়তো তারা ভুলে গেছেন।

***********************************************************************
%d bloggers like this: