• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,721 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার অভিযোগের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে মতিউর!

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান
বারবার সরকারের ওপর মহল থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা ও সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরও গভীর এক রহস্যময় কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে না তাকে। আনা হচ্ছে না আইনের আওতায়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে একাধিবার। অথচ এরপরও তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে আনা দুরে থাক, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি বা হচ্ছে না। জঙ্গিবাদবিরোধী এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির একাধিক ব্যক্তি বিস্ময়ের সঙ্গে তাদের এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, জনগণের শক্তিতে রাজনীতিতে অভিষিক্ত গণতন্ত্রের দুই নেত্রীকে এই মতিউর রহমান ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার করুণ বিপর্যয় ঠেলে দেন। অথচ আজ প্রেক্ষাপট পাল্টে গেলেও সেই মতিউর রহমানকে স্পর্শ করার সাহস কারোই হয় না। তার পরামর্শের কারণে শূধুমাত্র দুই প্রধান নেত্রীই জেল খাটেননি, দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরাও নির্যাতন আর নানান হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবুও জঙ্গি সহযোগী প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান কী এক রহস্যময় শক্তির আধারে থাকছেন। তাঁকে আজকের গণতন্ত্রের সরকারও জিজ্ঞাসাবাদের সাহস রাখে না।

তারা আরও জানান, বঙ্গভবনে বসে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান গভীর বেদনা নিয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত পত্নী আইভি রহমানের কথা ভাবেন। নিঃসঙ্গ জীবন তাঁর ক্ষয়ে যায়, তবু ওই জঙ্গিদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেনেড হামলার তদন্তকারীরা কিসের জন্য রেহাই দিলেন, তা নিয়ে কৌতূহলী মানুষের প্রশ্নের শেষ নেই। এ বছর ১৯ মে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দীকি প্রথম আলোর মতিউর রহমানের দিকে আঙুল তাক করে র‌্যাব ধ্বংসের চক্রান্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। বলেছিলেন, ওই সম্পাদক জঙ্গিদের সহায়তা করেছেন, জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এমন প্রমাণও তাঁদের হাতে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ওই সম্পাদকের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয় নিয়ে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক হয়রানি করতে চান না বলে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। একজন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার এই বক্তব্য মতিউর রহমানের উদ্দেশ্য এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক আগাম ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছে। সরকারের প্রভাবশালী নৌ-পরিবহনমন্ত্রী এ বছর ২১ আগস্ট গাবতলী বাস টার্মিনালে এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, ২১-এর গ্রেনেড হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাঁর মূল এজেন্ডাই ছিল রাজনীতিকে মেধাশূন্য করা। আর সেই এজেন্ডা নিয়ে তিনি আজও কাজ করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকররা ক্ষেভের সঙ্গে আরও বলেন, সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন এ ধরনের শক্ত অভিযোগ আনেন তখন প্রথম আলো সম্পাদক আরো বেপরোয়া হয়ে অগ্রসর হন। তখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে, মতিউর রহমান কতটা শক্তিশালী? তিনি কি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের চেয়েও শক্তিশালী? তিনি কি দেশে প্রচলিত সকল আইনের ঊধর্ে্ব? সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রীরা যখন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন, জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট, সেই মতিউর রহমান যদি থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তখন সাধারণের মনে অনেক প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। সরকার তার যে প্রতিনিধিদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন, সেই প্রতিনিধিদের বক্তব্য সত্য হলে মতিউর রহমান কেন আইনের ঊধর্ে্ব থাকবেন ?

তারা আরও বলেন, আজ এর সুরাহা হওয়ার সময় এসেছে। কেউ কেউ যদি আইনের ঊধর্ে্ব উঠে যান, যা ইচ্ছে তাই বলতে থাকেন, করতে থাকেন, তাহলে তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন, সবার জন্য সমান আইন। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মতো রক্তাক্ত ও অভিশপ্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত_এমন অভিযোগ উঠলেও প্রথম আলোর সম্পাদককে ধরাছোঁয়ার মধ্যে না আনায় সরকারের কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। দেশে বিরাজমান জঙ্গি তৎপরতা, দেশকে আবারো এক নতুন ষড়যন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার তৎপরতা আর ২১-এর গ্রেনেড হামলার সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্যই তাঁকে আইনের আওতায় আনা আজ জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।


সূত্রঃ
https://i0.wp.com/www.bd-pratidin.com/images/spc_main_logo.gif

বাংলাদেশে যোগাযোগ স্থাপন করেছে আল-কায়েদা!

টিপু সুলতান

https://i2.wp.com/paloadmin.prothom-aloblog.com/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-02-28-18-47-59-080426400-4.jpg

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা বাংলাদেশেও যোগসূত্র স্থাপন করেছে। মূলত বাংলাদেশি ওই সূত্রটির মাধ্যমে আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি)। আল-কায়েদা ইতিমধ্যে জেএমবিকে কিছু আর্থিক সহায়তাও করেছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশি যুবক রাজীব করিম ওই দেশের আদালতে বলেছেন, তিনি এবং তাঁর ছোট ভাই তেহজীব করিম বাংলাদেশের জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা দুই ভাই ‘অনলাইন ফোরামে’ ঢুকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হন। (সূত্র: বিবিসি অনলাইন, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১)।
চার সপ্তাহব্যাপী শুনানি শেষে গতকাল সোমবার ব্রিটিশ আদালত যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমান উড়িয়ে দেওয়াসহ সন্ত্রাসমূলক চারটি অভিযোগে রাজীব করিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ১৮ মার্চ তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। (সিএনএন ও গার্ডিয়ান অনলাইন)
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজীব করিম যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হন। তাঁর ভাই তেহজীব করিম একই মাসে ইয়েমেনে আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন। এই দুই ভাইয়ের সঙ্গে আল-কায়েদার আরব উপদ্বীপের নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সে দেশের আদালতে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশও পেয়েছে।
ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আনোয়ার আল-আওলাকি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওসামা বিন লাদেনের পর সবচেয়ে আলোচিত। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এখন ইয়েমেনের পার্বত্য এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।
জেএমবির আমির সাইদুর রহমানও গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে আল-কায়েদার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন বিষয় আমরা জেনেছি। এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে এ-সংক্রান্তে দেশি কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে, সরকার ব্যবস্থা নেবে। আর বিদেশি কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দেশকে অনুরোধ করা হবে।’

https://i1.wp.com/www.russiablog.org/AlQaedaBlackFlag.gif

আল-কায়েদা

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত জেএমবির সঙ্গে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদার যোগাযোগ গড়ে ওঠে ঢাকার একটি কথিত ধর্মীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এর নাম রিসার্চ সেন্টার ফর ইউনিটি ডেভেলপমেন্ট (আরসিইউডি)। ইয়েমেনে গ্রেপ্তার হওয়া তেহজীবের শ্বশুর আবদুর রশিদ আরসিইউডির চেয়ারম্যান। আর তেহজীবের মতো আরও অন্তত তিন বাংলাদেশি যুবক আল-কায়েদার সম্পৃক্ততার অভিযোগে একই সময়ে ইয়েমেনে গ্রেপ্তার হন। তাঁরা সবাই আরসিইউডির সদস্য। তাঁরা ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা সচ্ছল পরিবারের সন্তান। ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও সবার গ্রামের বাড়ি সিলেট অঞ্চলে।
এঁদের একজন প্রায় সাত মাস পর ইয়েমেনের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। তাঁর নাম মাইনুদ্দীন শরীফ (৩০)। তিনি সম্প্রতি এই প্রতিবেদককে বলেছেন, তেহজীব করিমের মাধ্যমে তিনি আরসিইউডিতে যুক্ত হয়েছিলেন। মাইনুদ্দীন আরসিইউডির যে ঠিকানা দিয়েছেন, সেটা তেহজীবের শ্বশুরের বাসা। মাইনুদ্দীন জানান, তাঁর ভাই রেজোয়ান এখনো ইয়েমেনের কারাগারে বন্দী আছেন।
এর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য হানিফ ওরফে কালামও আরসিইউডির সদস্য ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ আরসিইউডির তৎপরতা সম্পর্কে অনেক তথ্য দেন। তিনি বলেছিলেন, গ্রিন রোড এলাকার রেজোয়ানের বাসায়ও বিভিন্ন সময়ে আরসিইউডির তালিম হতো। তখন রেজোয়ানকে শনাক্ত করা যায়নি। গোয়েন্দা সূত্রটি এখন মনে করছে, ওই রেজোয়ান হলো মাইনুদ্দীনের ভাই।
সেনানিবাসে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে মাইনুদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ: মাইনুদ্দীন শরীফ ইয়েমেন থেকে ঢাকায় ফেরার পর গত বছরের ৬ অক্টোবর তাঁকে প্রভাবশালী একটি দেশের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর গত কয়েক মাসে তাঁকে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দারা আরও কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইয়েমেনে থাকা অবস্থায় মাইনুদ্দীন শরীফের ই-মেইল ও তাঁর কাছে পাওয়া কিছু প্রমাণাদির সূত্র ধরে বিদেশি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কোনো একটি দেশের সেনানিবাসে আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল আল-কায়েদা। সেটি কোন দেশের সেনানিবাস, তা জানতে মাইনুদ্দীনকে সবচেয়ে বেশি জেরা করেছেন ওই গোয়েন্দারা। এ ছাড়া আল-কায়েদার এদেশীয় যোগাযোগের বিষয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে মাইনুদ্দীন বেশির ভাগ প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন বা স্বীকার করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।
মাইনুদ্দীনের সঙ্গে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি কয়েক দফায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দাদের জেরার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তা বলতে রাজি হননি।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, মাইনুদ্দীন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। এরপর তিনি ২০০৩-০৪ সালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং এরপর কিছুদিন ঢাকার ধানমন্ডি লেকহেড গ্রামার স্কুলে গণিত, ভূগোল ও কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে তা স্বীকারও করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ও তাঁর ভাই রেজোয়ান শরীফ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করে ইয়েমেনের ইংরেজি ভাষা শিক্ষাসংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে যান। ইয়েমেনের কোন শহরে ছিলেন—এই প্রশ্নের জবাবে মাইনুদ্দীন বলেন, ‘সেটা আমি বলব না।’
মাইনুদ্দীন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের (টেক্সাস) সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর মার্কিন চাপে ইয়েমেনে আল-কায়েদাবিরোধী অভিযান শুরু হয়। তখন বিদেশি অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ওই হামলায় জড়িত মেজর নিদাল মালিক হাসানের সঙ্গে ইয়েমেনের আনোয়ার আল-আওলাকির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির এক রাতে তাঁকে ও তাঁর ভাই রেজোয়ানকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আল-কায়েদা বা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, জানতে চাইলে মাইনুদ্দীন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’
তেহজীব করিমের গ্রেপ্তার সম্পর্কে মাইনুদ্দীন বলেন, তেহজীব অন্য শহরে থাকতেন, সেখানে গ্রেপ্তার হন। মাস দেড়েক আগে দেশে ফিরেছেন। এখন ঢাকায় নিজ বাসায় আছেন। বাসাটি কোথায় জানতে চাইলে বলেন, ‘তাঁর বাসার ঠিকানা আমি বলব না।’
মাইনুদ্দীন স্বীকার করেন, তাঁর সঙ্গে তেহজীব ও তাঁর ভাই যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়া রাজীব করিমের বন্ধুত্ব ও ই-মেইলে যোগাযোগ ছিল। কী ধরনের যোগাযোগ এবং কীভাবে তাঁদের বন্ধুত্ব হয়, তাও তিনি বলতে রাজি হননি।
তবে মাইনুদ্দীন জানান, তিনি আরসিইউডির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সংগঠনের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদের জামাতা তেহজীবের মাধ্যমে এই সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সেখানে তিনি যেতেন মূলত ধর্মীয় আলোচনা শোনার জন্য। এক এক লেকচারে (আলোচনায়) ৫০ থেকে ৬০ জন করে থাকত বলে জানান তিনি। তাদের বেশির ভাগই ছিল যুবক।
অপর একটি সূত্র জানায়, দেশীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে মাইনুদ্দীন বলেছেন, আরসিইউডিতে তিনি বেশি দিন যাননি। কারণ, তিনি জেনেছেন, ওরা কিছু আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছিল। আরসিইউডির কিছু লোকজন ঢাকা সেনানিবাসের আশপাশের এলাকায় থাকেন। এঁদের মধ্যে একজন ঢাকার বনানী ডিওএইচএসের বাসিন্দা মামুন। তাঁর সঙ্গে ইয়েমেনের কারাগারে দেখা হয়েছে তাঁর।
মাইনুদ্দীন আরও বলেছেন, তেহজীব করিম প্রায়ই বিদেশে আসা-যাওয়া করতেন। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তেহজীবের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এ ছাড়া সাদ্দাম নামের আরসিইউডির গুরুত্বপূর্ণ একজনকে তিনি চেনেন বলে জানান।
মাইনুদ্দীন প্রথম আলোর কাছে সাদ্দামকে চেনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ইয়েমেনে গ্রেপ্তার হওয়া বনানী ডিওএইচএসের মামুনের বিস্তারিত পরিচয় বলতে রাজি হননি তিনি।
অবশ্য আরসিইউডির চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁর জামাতা তেহজীব আরসিইউডির সদস্য ছিলেন না। মাইনুদ্দীন শরীফকেও তিনি চেনেন না।
‘কিন্তু মাইনুদ্দীন তো আরসিইউডির ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য দিয়েছেন’, এ তথ্য জানানোর পর আবদুর রশিদ বলেন, ‘আসলে ধানমন্ডির অফিসটা বন্ধ হওয়ার পর অনেকে আমার বাসায় আসত। তখন তো অনেক ছেলে-টেলে আসত। সবাইকে চিনতামও না। আর এখন সবকিছু ঠিক মনেও থাকে না। হয়তো কখনো কারও সঙ্গে আসতেও পারে।’

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-01/news/134922

বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-৪র্থ খন্ড

Source : Nagorik Blog

এই লেখার ১ম২য়৩য় খন্ডের পর- এই জঘন্য হত্যাকান্ড যখন চলছিল তখন মীর্জা আজমকে অনবরত বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্ট ভাবে কর্ণেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং গুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ জ্ঞাপন করে। কর্ণেল গুলজারকে ঐরুপ বীভৎসভাবে হত্যা করার জন্যে মির্জা আজমের নির্দেশের পিছনে কারন ছিল তার বোনের স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহণ করা। কর্ণেল গুলজার তখন, র্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন। তার নেতৃত্বে মির্জা আজমের বোনের স্বামী জেএমবির প্রধান আবদুর রহমানকে তার গোপন আসত্দানায় র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। কর্ণেল গুলজার ইতিহাসে সিলেট আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাড়াকরা বাড়ী থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও কর্ণেল গুলজার যুবলীগ প্রেসিডেন্ট নানক ও জেনারেল সেক্রেটারী আযমের ব্যক্তিগত আক্রোশের মুখে ছিল উল্লেখ্য যে আওয়ামীলীগ আহুত হরতালের সময় প্রথমবারের মত বাংলাদেশে হরতালে গান পাউডার ব্যবহার করে হোটেল শেরাটনের সনি্নকটে ১১ জন যাত্রীসমেত একটি বিআরটিসি বাস জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার সাথে নানক ও আযমের সম্পৃক্তির প্রমানাদি কর্ণেল গুলজার প্রতিষ্টা করে। শেখ হাসিনা তখন যুবলীগের এই দুই নেতাকে এই মর্মে নির্দেশ জ্ঞাপন করে যে ‘হয় সরকারী ক্ষমতার নিকট বশ্যতা স্বীকার করো; না হলে রাজপথ জনগনের রক্ত রঞ্জিত করে দাও।’ ২০০৮ সালে র্যাবের কাছে আটক থাকার সময় শেখ সেলিম বাস জ্বালানোর সে লোমহর্ষক কাহিনী কর্ণেল গুলজারের নিকট ব্যাক্ত করেন এবং ঘটনা্র সাথে নানক ও আযমের সরাসরি সম্পৃক্তির কথা গুলজারকে জানান। শেখ সেলিমের সে স্বীকারোক্তির অডিও টেপ ইউটিউব এ প্রচার করা হয়। গুলজারকে অমন বীভৎস মৃত্যু ঘটানোর মধ্য দিয়ে নানক আযমরা কেবল যে প্রতিশোধই গ্রহন করেছিল তাই নয় তাদের সেই ঔদ্ধত বাংলাদেশে সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবেও প্রতিষ্টা লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাড়ীতে বিকেলের দোদুল্যমান বৈঠক যখন চলছিল তখন নানক লাউড স্পীকার এ পীলখানা বিডিআর সদর দফতরের তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থানকারী সকল শহরবাসীকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নেবার নির্দেশ প্রদান করে। পরে রাতের দিকে বিডিআর সদর দফতরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ দরকার ছিল ভাড়াটে ও স্থানীয় হত্যাকারীরা যাতে নিরাপদে সরে যেতে পারে। তোরাব আলী ও তার ছেলে অবৈধ অস্ত্রের ডিলার, সন্ত্রাসী লেদার লিটন এর মাধ্যমে বেসামরিক পোষাক পরিচ্ছেদ সরবরাহ সহ হত্যাকারীদের পালিয়ে যাবার খরচাদি প্রদান করা হয়। উক্ত লিটনকে র্যাব এর আটকাবস্থা থেকে তাপস ও নানকের হসত্দক্ষেপে জানুয়ারী মাসে মুক্ত করা হয়। ঐ দিন রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোট যোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয়া হয়। এই পারাপারে হাজী সেলিমের সহায়তায় তার সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করা হয়। হাজী সেলিম এই কাজে পুরোপুরি সমন্বয় সাধনের দ্বায়িত্ব পালন করে। হাজী সেলিমের লোকজন সেই সময় স্থানীয় লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। ঢাকার একটি টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোটে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয় যে বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু কিছু রাজনৈতিক কর্মী তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

হাজী সেলিম ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে যা বিদেশী ভাড়াটে খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক এটা জানার পর সে এন এস আইকে এই মর্মে অবহিত করে যে পীলখানায় কোন ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগ রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ জড়িত। ষড়যন্ত্রের নীল নকশামত উক্ত সাংবাদিককে এনএসআই থেকে বলা হয় যে তিনি যেন আর কারো সাথে বিষয়টা নিয়ে আলাপ আলোচনা না করেন। বিষয়টির সত্যাসত্য যাচাই বা তদনত্দ না করে এনএসআই গোটা বিষয়টি চাপিয়ে যায়।

পরের দিন সকালে সদর দফতরের কিছু বাসাবাড়ী থেকে উদ্ধার করতে ভাগ্যাহত অফিসারদের পরিবার পরিজনকে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মীর্জা আযম এই মর্মে সতর্ক করে দেয় যে তারা যেনো কেেেনা অবস্থাতেই সংবাদ মাধ্যমকে কিছু না বলে কেননা তখনও তাদের স্বামীরা বিদ্রোহীদের হাতে আটক আছে। নতুন করে এই ধরনের ভয়-ভীতি আতংক ভাগ্যাহতদের পরিবার পরিজনের মনে ঢুকিয়ে দেয়া এবং তার সাথে কিছু আশার সংমিশ্রন ঘটানোর পিছনে সেই দু’ব্যক্তির লক্ষ্য ছিল।

(১) পীলখানার অভ্যনত্দরে বর্বর হত্যাকান্ডের পাশাপাশি পরিবার পরিজনদের নির্যাতন, ধর্ষন সহ অন্যান্য অপরাধের খবর যেন দেশবাসী খুব সত্বর জানতে না পারে।

(২) এটা নিশ্চিত করা যে সেনা অভিযান যেন না করা হয় এবং মৃতদেহগুলো সরিয়ে ফেলা সহ রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের সকল চিহ্ন মুছে ফেলার জন্যে যেন প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পাওয়া যায়।

২৬ তারিখ রাতেও নানকের নির্দেশে পীলখানায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। সেই সময় সকল ধরনের প্রমাণাদি নিশ্চিহ্ন করার জন্যে হত্যা করা সেনা অফিসারদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা সহ হত্যার প্রমানাদি মুছে ফেলার কাজে বিডিআর এর হিন্দু জওয়ানদের নিয়োজিত করা হয়। বর্তমানে আটকাবস্থাধীন মনোরঞ্জন নামে এক হিন্দু জওয়ান ঐ কাজে জড়িত ছিল।হিন্দু জওয়ানদের এই জন্যই এই কাজে নিয়োগ করা হয় তেমন আশংকায় যে মুসলমান জওয়ানরা লাশ পুরে ফেলার ব্যাপারটা নাও মানতে পারে। এই রাতে সব কিছু ধুয়ে মুছে সাফ করা সহ বাকী বিদ্রোহীরা নিরাপদে সড়ে পড়ে। সব পরিকল্পনা অতি সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা হয়।

অপরাধ ঢেকে ফেলা দুইদিন পরে তথা ২৭ তারিখে সরকারী সন্ধানকারী দলকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্সযোগে নিহত ও আহতদের পারাপার করতে দেখা যায়। কিন্তু বিডিআর এর প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে ৩ দিন ধরে অপেৰমান বিডিআর এর নিকট আত্নীয় স্বজনদের কাউকেও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কিংবা ভেতর থেকেও কাউকেও বের হতে দেয়া হয়নি। এমন অবস্থা বজায় রাখার মধ্যেও যে অন্য কোন লক্ষ্য লুকায়িত থাকতে পারে এটা শোকাতুর ও হতভাগ্য লোকদের বুঝার কোন উপায় ছিলনা। এটা তাদের নিকট যৌক্তিক বলেই মনে হয়েছে যে ভাগ্যাহত মৃত ব আহতদের যথাযথভাবে সরিয়ে না ফেলা পর্যনত্দ এবং হত্যাকারীদের ধরতে তলস্নাশী অভিযান ও হত্যাকান্ডের প্রমাণাদি সংগ্রহ না হওয়া পর্যনত্দ বধ্যভূমি এলাকায় সাধারনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকাই শ্রেয়। এতবড় ধ্বংসযজ্ঞের পিছনে যে সরকার ও সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পযর্ায়ের কর্মকর্তা জড়িত এটা কারোর পক্ষে আঁচ করা সম্ভব হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআর ইউনিট সমুহ বিদ্যমান উত্তেজনার জন্য সাধারন্যে উদ্বিগ্নভাব স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হতে পারে।

আসলে সেই সময়ও নিঃসন্দেহ জনগণ এটা বুঝতে পারেনি যে সরকার ও সেনাবাহিনীর উচ্চ মহল যারা এমনিতেই একটা বিশেষ সুবিধাভোগী এবং যারা তাদের সেই অবস্থার সুযোগে জাতির সাথে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সেই বিশ্বাসঘাতকতাকে বেমালুম চাপিয়ে রাখার জন্যই ২৭ তারিখও তারা তৎপর থাকে। এই বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য প্রয়োজনছিল গোটা ষড়যন্ত্র বাসত্দবায়নের চাইতে আরও নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর পদক্ষেপ। একই দিন অর্থাৎ ২৭ শে ফেব্রুয়ারী যখন দ্বিতীয় গণকবর আবিস্কারের মধ্যদিয়ে বিদ্রোহীদের নৃশংস মহা অপরাধের মানচিত্র প্রমানিত হতে শুরু করে তখন নানক ডিজিএফআই এর ডাইরেকটর (সিআইবি) ব্রিগেডিআর জেনারেল মামুন খালেদকে এই মর্মে পরামর্শ দেয় যে প্রচার মাধ্যমকে না জানিয়ে কোন রুপ রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান ব্যতিরেকই যেন নিহতদের বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত লাশ অবিলম্বে আত্নীয়স্বজনদের নিকট হসত্দানত্দর করা হয়। নানকের সেই প্রতারনাপূর্ন পরামর্শের কথা সেই সময় উপস্থিত অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি। এমন পরামর্শে ইনি্জিনিয়ারিং কোরের এক অফিসারতো রাগের মাথায় রীতিমত নানককে আক্রমন করতেও সচেষ্ট হয়। অন্য সেনা কর্মকর্তারা তাকে অবশ্য নিবৃত্ত করে। পরিস্থিতি আরও অগি্নশর্মা হয়ে উঠতে পারার আশংকায় নানক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অপেক্ষমান বিডিআর এর নতুন ডিজি বিগ্রেডিআর জেনারেল মঈনুল ইসলামও জেনারেল হেড কোয়াটার এ বসে বসে এই ষড়যন্ত্রের বাকী নীল নকশা বাসত্দবায়নে তৎপর হয়ে উঠে। তিনি পীলখানার ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্য সেনাবাহিনীর একদল অফিসারকে একটি বৈঠকে জড় করেন। তিনি তাদেরকে বলেন যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও সেনাপ্রধান সম্পূনভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। না হলে সেনাবাহিনীর এত জন অফিসার এমনভাবে নিহত হতোনা।

তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে কিছু কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত সেনা অফিসাররা যখন তাদের মতামত উপস্থাপন করতে শুরু করে তখন তিনি তাদেরকে তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে তার নিকট প্রদানের কথা বলে এই মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন যে তিনি তাদের বক্তব্য সেনাবাহিনীর উচ্চ মহলে পেশ করবেন। তিনি সেইসব মতামত অবিকলভাবে তখন সিজিএম পদে কর্মরত লে: জে: আমিনুল করিম এর নিকট দাখিল করে এবং তাদের সাথে সেনাপ্রধানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানায়। মঈনুল পরের দিন সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত সেনা প্রধানের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট অফিসারদেরকে ………..তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের পরামর্শ জ্ঞাপন করে। সেই বৈঠকে অফিসাররা সেনাপ্রধানের মুখের উপর তার কঠোর সমালোচনা করলে বৈঠকে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সেনা নিরাপত্তা ইউনিট এর সহায়তায় আতংকগ্রসত্দ সেনাপ্রধান সভা স্থল ত্যাগ করে। সে বৈঠকের পর পরই পূর্ব নির্ধারিত জানাযায় অংশপ্রহনের জন্যে সেনাপ্রধানকে তার পরিচ্ছেদ বদল করতে আসতে হয়। পরিহাসের বিষয় হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ সেনা অফিসারদের উত্তেজিত করার দায়ে মঈনুল এর বদলে দায়ী করা হয় আমিনুল করিমকে। তাকে অবিলম্বে চাকুরী থেকে বরখাসত্দ করা হয়। একজন সম্মানীয় দেশপ্রেমিককে সেনাবাহিনী থেকে হটিয়ে মঈনুল বিডিআর পুনর্গঠনে তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে মশগুল হয়ে পড়েন।

সরকারের বিরুদ্ধে সেনা অফিসারদের উস্কিয়ে দেয়ার কল্পিত ষড়যন্ত্রের তদনত্দের সাথে মইনুল করিমকে জড়ানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভ্যনত্দরে সক্রিয় বিদ্রোহের হোতাদের যোগসাজসে সরকার আরও একটি ঘটনাকে সঙ্গোপন করে রাখে। ঘটনাটি ছিল ঐ দিন উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ পীলখানায় হত্যাযজ্ঞে নিয়োজিত বিদেশী কিলারদের অতি নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে ১৮ই ফেব্রুয়ারী থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারী পর্যনত্দ সোহেলকে তার অফিস কিংবা জনসমুক্ষে দেখা যায়নি। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে এই মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে ২৫ ও ২৬ শে ফেব্রুয়ারী সে তার পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিল। এটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। সে ১৮ই ফেব্রুআরী গোপনে ভারত সফরে যায় এবং দুই বা তিন দিন পর সে ফিরে এসে পরিকল্পনা মোতাবেক ২৫ তারিখ রাতে বিদেশী ভাড়াটে খুনীদের বিমানযোগে নিরাপদে বিদেশে পার করে দেয়ার কাজে সহায়তা করে। ২৮ তারিখ সন্ধায় সেনাবাহিনীর একটি পরিবহন হেলিকপ্টারে করে সোহেল তাজ সিলেট যায় এবং সে রাতেই ওসমানী বিমান বন্দর থেকে একটি বেসামরিক বিমানে সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। সেনাবাহিনীর লে: ক: শহীদ সে হেলিকপ্টার চালায় যে কিছুদিন পর নিহত হয়। সে ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম সহ একটি রহস্যময় হেলিকপ্টার দূর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের সনি্নকটে তারা নিহত হয়। হেলিকপ্টার বিধসত্দ হওয়ার ঘটনাটি ছিল নাশকতামূলক। সোহেল তাজ এর দুষ্কর্ম গোপন রাখতে নিরাপরাধ শহীদকেই কেবল হত্যা করা হলোনা; সেই সাথে হত্যা করা হলো আরো একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে।
পরবর্তীতে ডিজিএফআই এর ব্রিগেডিআর জেনারেল মামুন খালেদকে দায়িত্ব দেয়া হয় সেই সব অফিসারের তালিকা প্রনয়নের জন্য যারা সেনাকুঞ্জের বৈঠকে সেনাপ্রধানের সামনে দাড়ীয়ে অভিযোগ জানানোর সাহস দেখিয়েছিল। এমন ৫০ জন অদ্ভূত অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়; যাদের অনেককে ইতিমধ্যে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে আর বাকীদের ঢাকার বাইরে গুরুত্বহীন পদ সমূহে বদলী করা হয়।

পীলখানা হত্যাযজ্ঞ থেকে যে কয়েকজন নিরাপদে বেরিয়ে আসে তাদের মধ্যে ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: ক: শামস একজন এবং তাকেই কেবলমাত্র টেলিভিশনে উপস্থাপন করা হয় এবং সাধারন্যে তিনি আকস্মাৎ একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মিডিয়া সমুহে তিনি তার ভাই ভাগ্যাহত অফিসারদের হত্যাকান্ড ও তাদের অত্যাচার যন্ত্রনা সম্পর্কে কেবল গীত গেয়েই ক্ষানত্দ হলেন না; তিনি বলে দিলেন যে সকল অফিসারকে ২৫ তারিখ সকাল ১১টার মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার চাক্ষুস বর্ণনা প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান কতৃক সেনা হসত্দক্ষেপ ছাড়া বিদ্রোহ দমনের গৃহীত নীতির যৌক্তিকতা নিরুপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ সেনা অফিসাররাতো ১১টার মধ্যেই নিহত হয়ে যায়। অতএব তার পর বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনী এগিয়ে গেলে আরো কিছু জীবন হানী ও রক্তপাত ছাড়া আর কি হতো? এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাাঙ্গাতরা বিদ্রোহ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহিত বুদ্ধিদ্বীপ্ত সিদ্ধানত্দের প্রশংশাস সারা দেশকে মাতোয়ারা করার জজবায় মেতে উঠে। প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান কর্ণেল শামস এর প্রদত্ত ভাষ্যের ঋন খুব দ্রুতই পরিাশোধ করে। তাকে এলিট এস এফ এফ এ বদলী করা হয়।
বিদ্রোহ সম্পর্কে গঠিত সেনা তদনত্দ টীম শুরু থেকেই বিদ্রোহের ভিন্ন চিত্র পেতে শুরম্ন করে। তারা এটা বের করে ফেলে যে পীলখানা বিদ্রোহীদের মূল উৎস কর্ণেল শামস এর ৪৪ ব্যাটালিয়ান এবং উক্ত ব্যাটালিয়ানের কোন কমান্ডিং অফিসারকে তথা কর্ণেল শামস মেজর মাহাবুব এবং মেজর ইসতিয়াক কে হত্যা করা হয়নি।

কিংবা তদের অফিসও অন্যান্য নিহত অফিসারের অফিস এর ন্যায় লন্ড ভন্ড করা হয়নি। তদনত্দে আরও গুরুতর যে তথ্য ফাস হলো তা হচ্ছে মিনিট কয়েক পূর্বে বিডিআর এর ৫ নং গেট এর সনি্নকটে কর্ণেল শামস কে একদল বিডিআর সেনাকে কি যেনো ব্রিফিং করতে দেখা যায়। যখন কেউ একজন চিৎকার দিয়ে উঠে যে অফিসাররা সৈনিক থেকে আলাদা হয়ে যাও তখন সে খুব তাড়াতাড়ি তার ব্রীফিং সমাপ্ত করে দ্রুত সরে পড়ে। ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ানের গ্রেফতার কৃত বিদ্রোহীদের কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদে এই মর্মে উল্লেখ করেছে যে বিদ্রোহ পরিকল্পনার ব্যাপারে কর্ণেল শামসকে জিজ্ঞাসা করা হোক। তারা পরিকল্পনার কথা কিছুই জানেনা বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। সেনা তদনত্দ বোর্ড এই ব্যাপারে কর্ণেল শামসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চাইলে প্রধানমন্ত্রির অফিস সে অনুমতি প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করে।
আবার বিডিআর এর যোগাযোগ ইউনিট এর কোন অফিসারও নিহত হয়নি। এর অধিনায়ক কর্ণেল কমরুজ্জামানকেউ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনা তদনত্দ বোর্ডের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর অফিস প্রত্যাখান করে।

সেনা তদনত্দের প্রাথমিক পর্যায়ে র্যাবের নিম্ন পদস্থ অফিসাররা যখন বিদ্রোহের আগে পরের সন্দেহভাজনদের ফোন কল রেকর্ড পরীক্ষা শুরু করে তখন এমন অনেক তথ্য তারা লাভ করে যার মধ্যে বিডিআর হত্যাযজ্ঞের সাথে আওয়ামীলীগ নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। আওয়ামীলীগ নেতা তোরাব আলী বিদ্রোহের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিদেশে কারো সাথে তাদের পরিচয় গোপন করে ব্রিগেডিআর জেনারেল হাসান নাসির এর বেনামে বহু চিঠি অনেক সেনা কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করে। এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে হাসান নাসিরকে খুব দ্রুতই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। নিয়মিত যোগাযোগ করতো কিংবা সরকার সাহায্য না করায় বিদেশের সে ফোন ও তার সাথে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও হদিস বের করা সেনা তদনত্দ বোর্ডের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এমনিতর ঘটনা সমুহের অন্যতম একটি উল্লেখ্য ঘটনা হচ্ছে ২৪ শে ফেব্রম্নয়ারী ফোনে ডিএ ডি তৌহিদের সাথে নানকের ২০৪ মিনিটের কথোপকোথন। এই কথোপকোথন ও নানকের আরো কিছু দোষনীয় কার্জকর্মের প্রমাণ পওয়া যায় এবং ২৫শে মার্চ রাতে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন পীলখানায় অস্ত্র সংবরণ নাটক মঞ্চস্থ করছিল তখন নানক কি করছিল তা জানার জন্য নানককে সেনা তদনত্দ বোর্ড জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে নানক তা থেকে বাঁচার জন্যে হটাৎ বুকের ব্যথার ভান করে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তী হয়। এবং দ্রুত সেখান থেকে সিঙ্গাপুর চলে যায়। হত্যাযজ্ঞের দিন কয়েকপর ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব মেনন এক অনির্ধারিত সফরে ঢাকায় আগমন করে এবং জরুরী ভাবে প্রধানমন্ত্রী ও সেনা প্রধানের সাথে গোপন শলা পরামর্শে মিলিত হয়। এদিকে সেনা তদনত্দ বোর্ড ঘটনা তদনত্দে নানকের সাথে কথা বলা দরকার এটা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখান করেন। শুধু তাই নয় ব্রিগেডিআর জেনারেল হাসান নাসির যিনি সেনাতদনত্দ বোর্ডের সদস্য ছিল এবং তিনি নানককে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল বিধায় তাকে সেনা তদনত্দ টীম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। নানক যখন জানতে পরলো যে তাকে জিজ্ঞাসা বাদ না করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে এবং তাকে আইনের উর্দ্ধে রাখা হবে তখনই সে দেশে ফিরে আসে। আর অত্যনত্দ পরিশ্রমী ও দ্বায়িত্ববান অফিসার নাসিরকে প্রতিহিংসার শিকার হতে হলো।

র্যাবের আরেকটি কল রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল মুকিম সরকার (সিও ২৫ রাইফেল ব্যাটেলিয়ন, পঞ্চগড়) যিনি পিলখানায় দরবারে যোগ দিয়েছিলেন এবং অক্ষতভাব বেচে গিয়েছিলেন, তাকে ২৫ তারিখ রাত সাড়ে ন’টায় সুবেদার মেজরকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ” আমাদের নির্দেশ হলো সৈনিকদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। যারা পালিয়ে গেছে তো গেছে– আপনারা ডিএডি সাহেবকে নিয়ে ভাল থাকেন; আর কোন বাহিনী যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারে । ডিএডি সাহেবকে এনাদের সাথে কথা বলতে বলবেন–। ” যা ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসাবে তাপসের ঘোষণার কিছু পরে হয়েছিল। স্পষ্টভাবেই সরকার এ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল; তবে সে কোন আদেশ দিয়েছিল? ঘটনা হচ্ছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামস্ ও কামরুজ্জামানের মত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার অক্ষত ছিল বলে বোঝা যায়।

তাদের প্রাথমিক তদন্তকালে ভাড়াটে বিদেশী খুনীরা যে জাল ইউনিফর্ম পরিধান শেষে ফেলে গিয়েছিল তার প্রস্তুকতকারী দর্জি ও দর্জির দোকান র্যাবের কর্মকর্তারা খুজে পেয়েছিল। সে সকল খুনীদের পিলখানা থেকে পলায়নে ও এয়ারপোর্টে যাবার কাজে ব্যবহৃত এমবুলেন্স ও মাইক্রোবাস সম্পর্কে তারা তথ্য নিতে পারত। মাইক্রেবাসগুলোতে ভূয়া নম্বর প্লেট ছিল এবং সেগুলোর চালক ও মালিকদের খুজে বের করা কঠিন ছিল। তবে নিদেনপক্ষে তারা এ ঘটনা বুঝতে দিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের একজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সামাল দিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মেডিকেল ক্লিনিক থেকে এমবুলেন্স সরবরাহ প্রশ্নসাপেক্ষ ছিল।
পিলখানা হত্যাকান্ডের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করলে ডিজি ডিজিএফআইয়ের ফজলে আকবর ব্যক্তিগত ব্রিফিংয়ে ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা বাদ দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর জন্য তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দানের কথা জানান। কিছু জুনিয়র কর্মকর্তা গুঞ্জন করতে থাকেন, যারা বিরোধী বলে চিহ্নিত তাদেরকে দু্রত ডিজিএফআই থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়; বাকীদের কাছে সংবাদটি অক্ষুণ্ন থাকে। মার্চের শুরু থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুন খালেদের নেতৃত্বে ডিজিএফআই টিম সকল টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন যাতে অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে আসতে না পারে।

র্যাবের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মজিদ এবং মেজর হামিদ বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার দৃঢ় প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন। মজিদকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল এম.পির ঘনিষ্ট আত্মীয় মেজর আজিমকে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক করা হয়েছিল, একইসাথে হামিদকে র্যাব থেকে বদলী করা হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়ে আজিম, যিনি পরবর্তী পদে পদোন্নতি লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত ছিলেন, মেজর আতিককে পিলখানা হত্যাকান্ডের সাথে জেএমবি, বিএনপি অথবা অন্য কোন সামরিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেন। তাছাড়া মজিদ ও হামিদের সংগৃহীত সকল অবৈধ রূপে প্রতীয়মাণ আলামত তিনি ধ্বংস করে ফেলেন।

সে সময়ে নানকের উপরস্থ এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রকাশ্যে বিদ্রোহের সাথে জেএমবি বা কোন স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের যোগসাজশের প্রমাণ না পাওয়ার জন্য আর্মি তদন্ত বোর্ডকে তিরস্কার করেন। আজিমের নেতৃত্বে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা মোকদ্দমাটি অনুসরণ করতে থাকে। হঠাৎ মাওলানা আব্দুস সোবহানকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে র্যাবের হেফাজতে রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রী যাকে তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান দু্রত দাবী করেন যে, বিদ্রোহে কিছু ইসলামী সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে। আজিমের পরিকল্পনা ছিল মাওলানা সোবহানকে চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা জবানবন্দি নেয়া যে, হত্যাকান্ডে ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত রয়েছে। সে সময় ঢাকার একটি দৈনিকে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্ত্রীর দাবীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি ছিল যথার্থ; যাতে হত্যাকান্ডে সাথে ইসলামী জঙ্গীর জড়িত থাকার বিষয়টি সরকারকে পরিত্যাগ করতে বলা হয়। তখন আব্দুস সোবহানকে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পরে কয়েকজন দলীয় সদস্য নিয়ে সে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে সরকারের সাথে সংহতি প্রকাশের ঘোষণা দেন।

TO BE CONTINUED…

%d bloggers like this: