• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 315,721 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

নীতিহীন সংবাদপত্রঃ দেশ জাতি রাষ্ট্রের স্বার্থ উপেক্ষিত যেখানে

মুহাম্মদ আমিনুল হক

‘সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’, ‘সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ’, ‘সংবাদপত্র গণতন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার’ এরকম অনেক কথাই দেশে দেশে প্রচলিত। এ কথাগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের কল্যাণে সংবাদপত্রের অনবদ্য ভূমিকার কারণে। সংবাদপত্রের কল্যাণে অনেক রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র বিদায় করে পেয়েছে গণতন্ত্রের স্বাদ। জালিম সরকারের মসনদ প্রকম্পিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সমাজের প্রায় প্রত্যেকটি খাতের উন্নয়নে অবদান রেখেছে এই সংবাদপত্র।

কিন্তু সময়ের আবর্তে সংবাদপত্রের ঐসব সোনালী ইতিহাস মুছে যেতে বসেছে এক শ্রেণীর নীতি বিবর্জিত, স্বার্থান্বেষী, নষ্ট সংবাদপত্রের কারণে। যাদের কাছে নীতি নৈতিকতার কোন মূল্য নেই। নেই দেশীয় স্বার্থের কোন মূল্য। ব্যক্তি, দল ও কোম্পানীর গোলামী করাই এদের মূল কাজে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্র-পত্রিকা পড়ে কোন মানুষের পক্ষে সত্য তথ্য উদঘাটন করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্বব্যাপী তথ্য সন্ত্রাসের ঢেউ বাংলাদেশী মিডিয়ায়ও লেগেছে দারুণভাবে। এখানে নিউজ হয় সিন্ডিকেটেড। নিজস্ব মতাদর্শের বাইরে অন্য মতাদর্শের পজিটিভ কোন নিউজ সেটা যত বড় হোক না কেন সাংবাদিকদের চোখে তা তো পড়েই না বরং তাদেরকে দেশ-জাতির কাছে ছোট করার সর্ব রকম প্রচেষ্টা থাকে প্রতিনিয়ত। তবে এরা নিজ মতাদর্শের ব্যাপারে একশত ভাগ কমিটেড। তাদের পন্থী একটি ইঁদুরেরও কিছু হলে তা নিয়ে তাদের মাতামাতির শেষ থাকে না। একটি নন ইস্যুকে ইস্যু বানানো আবার ইস্যুকে নন ইস্যু বানানো তাদের পক্ষে কোন ব্যাপারই না।

সংবাদপত্রের এই নীতিহীন পথচলার কারণে আমাদের জাতীয় স্বার্থ আজ হুমকির মূখে, সাম্রাজ্যবাদ আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে, গণতন্ত্র বিদায়ের পথে ও অপশক্তিরা সবখানে তাদের আসন পাকাপোক্ত করছে। শুধু কি তাই? সংবাদপত্রের চরম আদর্শহীনতার কারণে খোদ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বার্থ পর্যন্ত থাকছে উপেক্ষিত। সংবাদপত্র জগতের এমন দেউলিয়াত্ব দেখে দেশপ্রেমিক হিসেবে চরমভাবে লজ্জিত ও শঙ্কিত হই। কেননা যেখানে সংবাদপত্রের এমন দূর্দশা হয়; যেখানে কেউ সত্য জানতে পারে না, সেখানে মানবতা ও গণতন্ত্রের নিশ্চিত মৃত্যু ঘটে। নিম্নের কয়েকটি বিষয়ে আমাদের সংবাদপত্রগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে যে কোন বিবেকবান পুরুষ হতভম্ভ হবেন।

১৬ ই জুন সংবাদপত্রের কালো দিবসঃ

জানার কোন সাধ্য নেই: ১৬ ই জুন ফজরের নামাজ আদায় করেই প্রত্যেকদিনের মত ইন্টারনেটে পত্রিকা ঘাটতে শুরু করলাম। এই দিনটি সংবাদপত্র জগতের বিশেষ দিন হওয়াতে কোন পত্রিকা কিভাবে নিউজ করে সেটা দেখার মানসে খুব মনেযোগ সহকারে ইত্তেফাক, ইনকিলাব, প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, কালের কন্ঠ, সকালের খবর, সংগ্রাম, আমার দেশ ও নয়া দিগন্তসহ প্রায় সব জাতীয় পত্রিকা ঘাটাঘাটি করতে থাকলাম। সংবাদপত্রের কালো দিবসের সংবাদ তালাশ করতে গিয়ে অধিকাংশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত কোন নিউজ দেখতে পেলাম না। এতে খুব একটা বিরক্ত ও রাগান্বিত হইনি। কারণ দুটি। এক: পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমি আগ থেকেই ধরে নিয়েছিলাম যে, গণতন্ত্রের ফেরীওয়ালারা ও বর্তমান সরকারের চরম গোলামেরা এ সম্পর্কে মনের ভুলেও কোন খবর ছাপাবে না। দুই: তবে এতটুকু আত্মবিশ্বাস ছিল যে, অন্তত দু একটি পত্রিকা এ সম্পর্কে জাতিকে খবর না দিয়ে পারবে না; যারা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশী মূল্য দেয়। আমার অনুমান মিথ্যা হয়নি। ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে একমাত্র আমার দেশ পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা বের করে এ সম্পর্কে আদ্যোপান্ত তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। প্রথম পাতায় গুরুত্ব সহকারে খবর ছাপা হয়েছে। সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়তেও বিষদভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়া দিগন্ত কোন বিশেষ আয়োজন না করলেও কালো দিবসের খবর, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়তে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

https://i2.wp.com/www.amardeshonline.com/img/amardesh.png

https://i2.wp.com/www.dailynayadiganta.com/images/logo.gif

তবে বিস্মিত হয়েছি চটকদার চটকদার শ্লোগানওয়ালা প্রগতিশীল পত্রিকাগুলোর নির্লজ্জ নিশ্চুপতা দেখে। ১৯৭৫ সনের ১৬ ই জুন মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারের বগলের তলায় রেখে বাকী সংবাদপত্রগুলোকে মুহূর্তেই কবর দেয়া হল; অসংখ্য সাংবাদিকের জীবনে নেমে আসল চরম অনিশ্চয়তা; গণতন্ত্রের প্রধান হাতিয়ারকে ধ্বংস করা হল অথচ এ সম্পর্কে নব প্রজন্মকে এতটুকু জানানোর কোন দায়বোধ তাদের মধ্যে জাগ্রত হল না। দল ও স্বার্থের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে তারা কিভাবে এ খবর জাতিকে জানাবে? এ তো লজ্জার খবর। এই খবর জানালে তো আওয়ামী লীগের বদনামী হয়ে যায়। এ কি করে সম্ভব? সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছি ইত্তেফাকের অবস্থা দেখে। তৎকালীন সময়ে ইত্তেফাক পত্রিকার ওপর থেকেও কম ঝড় যায়নি; অথচ পত্রিকাটি এখন একদম চুপ। নিজ মতাদর্শের গোলামী এখন এমন পর্যায় পৌছে গেছে যে, পত্রিকার সাংবাদিকদের উপর আঘাত আসলেও তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করতে রাজি নয় সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটি।

https://i2.wp.com/new.ittefaq.com.bd/addons/themes/ittefaq/img/logo.jpg

স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। পত্র-পত্রিকা হচ্ছে স্বাধীন মত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। সেই প্রধান মাধ্যমটির অস্তিত্ব বিলীন হলে তো গণতন্ত্র কল্পনা করা যাবে না। রক্ষা হবে না দেশীয় স্বার্থ। অতীব দু:খের বিষয় হচ্ছে- আমাদের সংবাদপত্রগুলো তাদের নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে চান না। তারা জাতিকে অতীতের কঠিন ইতিহাস মনে করিয়ে বর্তমানেও যাতে এমন বিপদে পড়তে না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক করতে চান না। তাদের এই হীন মানসিকতার কারণেই চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করতে পেরেছে সরকার। যমুনা টেলিভিশনের পরীক্ষামূলক সম্প্রচারও বন্ধ হয়েছে। দৈনিক আমার দেশকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। অসংখ্য সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভারতকে ভূমি হস্তান্তরের খবরঃ

পত্রিকায় খবর নেই: আমাদের বাংলাদেশে দেশ প্রেমিকের অভাব নেই। মিছিল মিটিং ও শ্লোগানে দেশ নিয়ে কত কথা। ‘এক ফোটা রক্ত থাকতে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও অন্যকে দখল করতে দেব না’, ‘দেশের জন্য জীবন দেব‘, ‘দেশকে মায়ের মত ভালবাসি’ ইত্যাদি বাক্য শুনতে শুনতে তো আম জনতার কান ব্যথা হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টা। দেশ নিয়ে ভাবেন এ রকম মানুষ খুবই কম। গত ২১ জুন দৈনিক আমার দেশনয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রথম পাতায় যথাক্রমে “সিলেট সীমান্তে জনতার প্রতিরোধে এবার রক্ষা পেল ৫০ একর জমি” “জনতার প্রতিরোধ :

গোয়াইনঘাটে বাংলাদেশের ভূমি আবার ভারতের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া ভন্ডুল”। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জনগণকে না জানিয়ে গোপনে ভারতকে বাংলাদেশের জমি হস্তান্তরের খবর যেকোন বিচারে লিড নিউজ পাওয়ার দাবী রাখে। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমি রক্ষার দায়িত্ব নিশ্চয়ই সরকারের। তাদের রয়েছে সেনা বাহিনী, রয়েছে বর্ডার গার্ড। সরকারের দায়িত্ব হীনতায় কিংবা তাদের মদদে যখন দেশের মাটি ভারত কেড়ে নিচ্ছেলো তখন দেশ প্রেমিক জনতার প্রতিরোধে তা ভন্ডুল হয়ে যায়। এ সময় উচিত ছিল আমাদের জাতীয় মাধ্যমগুলোতে এ সম্পর্কে লিড নিউজ করা। তাহলেই বোঝা যেত সংবাদপত্রগুলো দেশকে ভালবাসে, দেশ রক্ষায় তাদের কত আন্তরিকতা। কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রায় সকল জাতীয় পত্রিকায় এ সম্পর্কে কোন নিউজ দেয়া হয়নি। অথচ ঐ দিন ভারতীয় সেনা প্রধানের নিউজ সকল পত্রিকার প্রথম কিংবা শেষের পাতায় ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতীয় সেনা প্রধানের খবর আমাদের জাতীয় স্বার্থের খবরের চেয়ে বড় হয়ে দাড়িয়েছে। যারা দেশ রক্ষার প্রহরী হিসেবে পরিচিত; সেই সংবাদপত্র যদি সরকারের দেশ বিরোধী গোপন তৎপরতা সম্পর্কে জনগনকে সজাগ করতে না পারেন তাহলে এরচেয়ে দূর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

https://i1.wp.com/www.bdinn.com/wp-content/uploads/2011/06/bangladeser-songay-bharo.jpg

https://i2.wp.com/29.media.tumblr.com/tumblr_ljrggiRgA61qelvyvo1_500.jpg

জাতীয় চেতনার প্রতীক নজরুল উপেক্ষিত আমাদের সংবাদপত্রে: কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। কালজয়ী ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ যেমনিভাবে তাঁর সাহিত্য দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন; তেমনিভাবে ধন্য করেছেন তাঁর দেশপ্রেম, সততা, মানবতাবোধ, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা দিয়ে। তাঁর লেখনীতে দেশের কথা, গরিবের কথা, জালিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা, মানুষের মনে সাহস যোগানোর কথা ও সাম্যের কথা ফুটে উঠেছে সাবলীলভাবে। কিন্তু আমাদের জাতীয় এ সম্পদ উপেক্ষিত এদেশের মিডিয়া জগতে। নজরুলকে নিয়ে ততটা মাতামাতি নেই যতটা আছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে। আমাদের দেশে এ বছর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত মাতামাতি হয়েছে তার সিকিভাগও হয়নি তার নিজভূমে। রবীন্দ্রনাথের জন্মসার্ধশত বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় লিড নিউজের শিরোনাম ছিল ‘রবীন্দ্রময় দেশ’। নি:সন্দেহে কবি রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবি কিন্তু তাঁকে নিয়ে যে স্তুতি গাওয়া হয় তা কি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ে না? বিশেষ করে জাতীয় কবিকে উপেক্ষা করে যখন এটা করা হয় তখন তো তা বেশ বেমানান লাগে বৈ কি? আমাদের গুণীজনকে আমরা যদি মূল্যায়ন না করতে পারি তাহলে অন্যরা করবে কিভাবে? কিন্তু আমাদের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বিষয়টি ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক এড়িয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা দেশত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে। পত্রিকাটি এ বছরের মে মাসের শেষ ১৫ দিন প্রথম পাতায় বাম পাশে এক কলাম জুড়ে ‘চির উন্নত মমশীর’ নামে ধারাবাহিকভাবে নজরুলের উপর বিজ্ঞজনদের লেখা ছাপিয়েছে। দৈনিক আমার দেশের সাহিত্য সাময়িকীতেও গুরুত্বের সাথে নজরুলকে তুলে ধরা হয়েছে। নজরুলকে তুলে ধরতে গিয়ে পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথকেও ভুলে যায়নি। যথাযথ মর্যাদায় তাঁর সম্পর্কে নিউজ কভার করেছে পত্রিকাটি।

দুটি বর্বরতাঃ

একটির খবর আসে আরেকটির খবর আসে না: দুটি জঘন্যতম বর্বরতার ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশে। একটি হল- ২০০৪ সনের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা। আরেকটি হল- ২০০৬ সনের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে জীবন্তমানুষ হত্যা করার ঘটনা। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত বিধায় বাস্তব কারণেই বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোন বিচার-আচার করবে না, এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে, যেখানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই সেখানে ঐ ঘটনার ন্যায় বিচার কল্পনা করা যায় না। কিন্তু পত্রিকাগুলো তো আর সরকার নয় কিংবা কোন পক্ষের নয়। তাদের কাজ সমাজের সকল ন্যায় অন্যায় মানুষের সামনে তুলে ধরা। মানবতার খাতিরে বিরোধী কেউ হলেও তাকে এড়িয়ে না চলা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের জাতীয় পত্রিকাগুলো ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম ঘটনাকে সম্পূর্ন এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তারও দু’বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের আরেক বর্বরতাকে নিয়ে পত্রিকাগুলোর বিস্তর লেখালেখি চলছে এখনো। এক গবেষণায় দেখা গেছে ২০১০ সনের ২৮ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ, নয়া দিগন্ত ও সংগ্রাম ছাড়া আর কোন জাতীয় পত্রিকা পল্টনের বর্বরতার কোন নিউজ করার সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। অথচ আওয়ামী সরকারের ঘোর সমালোচক পত্রিকাসহ সকল পত্রিকা ২০০৪ সনের ২১ আগস্টের খবর গুরুত্বের সাথে ছাপিয়েছে। কোন কোন পত্রিকা একাধিক লিড নিউজ, কভার স্টোরি ও ফলোআপ রিপোর্ট করেছে। সংবাদপত্র নাকি সমাজের দর্পণ? সমাজের সকল সত্য ঘটনা তুলে ধরা নাকি সংবাদ পত্রের কাজ? তাহলে একটি ঘটনাকে হাই লাইট অন্য ঘটনাকে ডিম লাইট করার উদ্দেশ্য কী? মানবতাও কি বর্ণ, গোত্র ও দলের কাছে বন্দি হয়ে গেল? তাই যদি হয় তাহলে ‘অসংকোচ প্রকাশের দূরন্ত সাহস’, ‘আংশিক নয় পুরো সত্য’, ‘পনের কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন’ ‘Your right to know’ ইত্যাদি মিথ্যা শ্লোগানের আশ্রয় নেয়ার দরকার কি? জাতির সাথে এ ধরনের প্রতারণা আর কতদিন চলবে?

আমাদের জাতীয় পত্রিকাগুলোর নৈতিকতা নিয়ে এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র লীগ যে অস্ত্রবাজি, মারামারি, হত্যা ও লুট করছে তা ঐসব প্রগতীশীল পত্রিকার নজরে সন্ত্রাসী কিংবা জংগিবাদী কার্যক্রম হিসেবে পরিগণিত হয় না; কিন্তু ইসলামী সংগঠনগুলোর নিছক মিছিল মিটিংকে ঠিকই তারা সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গী কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত করতে কুন্ঠাবোধ করে না। কয়েকদিন পর পর ঢাবি, চবি, জাবি, ইবি ও রাবিতে ছাত্রলীগের নিয়মিত অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। সর্বশেষ রাবির এক হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের রুম তল্লাশি করে ব্যাপক অস্ত্র উদ্ধার হলেও এ নিয়ে মিডিয়ার চোখ প্রায় অন্ধ। গদ বাধা ও দায়সারা কিছু সংবাদ প্রকাশ করেই ক্ষ্যন্ত। অথচ এই একই মিডিয়া রাজশাহীতে ফারুক হত্যাকান্ডের পর একের পর এক আজগুবি ও মিথ্যা রিপোর্ট করে সরকারের মাথা খারাপ করে ফেলেছিল। সারাদেশে শুরু হয়েছিল শিবির নিধন কর্মসূচী। দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানই কেবল ঝুঁকি নিয়ে মানবতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তিনি ‘ওরা মানুষ নয় শিবির’ নামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

সংবাদপত্রের এই দেউলিয়াত্ব দেখে আমরা দেশ প্রেমিক জনতা খুবই শঙ্কিত। কেননা যেখানে সরকারের কোন নীতি নৈতিকতা নেই, বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, প্রশাসনের বেহাল দশা সেখানে যদি সংবাদপত্রও বিলীন হয়ে যায় তাহলে আমাদের সাগরের অতল গহবরে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সংবাদপত্র যদি সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ আর অগণতান্ত্রিক শক্তির সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে তাহলে এদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না এ কথা হলফ করে বলা যায়। আমরা তাই সকল সংবাদপত্রকে অনুরোধ করছি- আপনারা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিউজ করুন। সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগনের পাশে দাঁড়ান। দলীয় গোড়ামীর উর্ধ্বে উঠে সকলের জন্য কাজ করুন। কোন অপশক্তি আপনাদের ক্ষতি পারবে না।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

http://www.sonarbangladesh.com/articles/MuhammadAminulHaque
 

সূত্রঃ

https://i0.wp.com/www.sonarbangladesh.com/images/sbheader_village_sun.jpg

 

বিজয়ের মাসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে চলবে ভারতীয় ছবি

বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘এ যে ভারি রঙ্গ যাদু, এ যে ভারি রঙ্গ’, রঙ্গ নয়তো কী ! বেছে বেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি মুক্তি চুড়ান্ত করা হলো? একে তো স্যাটেলাইটের কল্যাণে বোকা বাক্সে অবাধে দেখানো হচ্ছে ভারতীয় ছবি। এবার ধুঁকতে থাকা চলচ্চিত্র শিল্পকে বিজাতীয় করার আকাঙ্খায় প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রদর্শণের পাঁয়তারা, তাও মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই।

সকল যুক্তি-আপত্তি তুচ্ছ করে চলতি বছরের জুলাইতে আইনের ফাঁক দিয়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শনের জন্য আমদানি করা হয় তিনটি ভারতীয় ছবি। ‘জোর’, ‘সংগ্রাম’ ও ‘বদলা’ নামের এ তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি বেশ কয়েকদিন আগে পেয়েছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ডিসেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে ছবি তিনটি একে একে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এইসব ছবির আমদানীকারক ও এজেন্টরা ভারতীয় ছবিগুলো মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে এখন শেষ মুহূর্তের কথাবার্তা বলছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোরের অভিজাত কয়েকটি সিনেমা হলে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বাংলা ছবি ‘জোর’ মুক্তি দেওয়ার জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ছবি প্রদর্শণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমদানীকারক ও পরিবেশকরা আরো ৯টি ভারতীয় ছবি আমদানীর প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। একই আইনের আওতায় অনাপত্তি পত্র পাওয়ার যোগ্য বলিউডের সুপারহিট ছবিগুলোর মধ্যে আছে দিলওয়ালা দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, কাভি খুশি কাভি গম, কাভি আল বিদা না কেহনা, মাই নেম ইজ খান, ওম শান্তি ওম, থ্রি ইডিয়টস ও দাবাং।

ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রদর্শনের ব্যাপারে শোনা যায়, নানা মুনির নানা মত। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেখে নেওয়া যাক, প্রায় ৩৯ বছর পর কোন প্রক্রিয়ায় ছবিগুলো দেশে এসেছে এবং প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ভারতীয় ছবি আমদানী হলো

Flim

দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থ রক্ষায় স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ভারতীয ছবি প্রবেশের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি নীতিমালার বাধা নিষেধ তুলে নেয়। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দেশীয় চলচ্চিত্রের পরিচালক-প্রযোজক ও শিল্পী-কলাকুশলীরা প্রবল আপত্তি জানান এবং আন্দোলন গড়ে তোলেন। চলচ্চিত্রশিল্পী, কলাকুশলী ও  নির্মাতাদের এই আপত্তির মুখে সরকার ভারতীয় ছবি আমদানির ওপর পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে।

সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমদানিকারক ও প্রদর্শকরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে উল্লেখিত সময় যেসব ছবি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়, সেসব ছবিকে তথ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দেয়। এই অনাপত্তিপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানী করা হয়। পরবর্তীতে ছবি তিনটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর এখন এগুলো মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগেই ঋণপত্র খোলার অজুহাত দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আরো ৯টি ভারতীয় ছবি আমদানীর।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন শুরু থেকেই ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে হুশিয়ারী জানানো হয়েছে, যেসব সিনেমা হলে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন করবে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে এসব সিনেমা হলে বাংলাদেশী ছবি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ভারতীয় ছবি আমদানী ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদশর্নের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ। কিছুদিন আগে এই পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা সবসময় সুবিধাভোগী। তাঁরা কখনোই লোকসান দেন না। একটি ছবির ব্যবসা খারাপ হলেও তাদের কোনো লোকসান দিতে হয় না। অথচ প্রযোজক লোকসান দিয়েও ছবি তৈরি করেন। সেখানে প্রদর্শকেরা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র আনতে চান।

পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য

বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রর্দশনের জন্য ভারতীয় ছবি আমদানী প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এসব আলোচনা-সমালোচনা থেকে নির্বাচিত কিছু উক্তি তুলে ধরা হলো।

‘বাংলাদেশের ছবির প্রযোজকরা বলেছেন, ভারতীয় ছবি বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ছবির বারোটা বেজে যাবে। প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারব না। আইন করে আমাদের প্রতিযোগিতার বাইরে রাখতে হবে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও আমাদের প্রটেকশন দিয়েছেন, ইত্যাদি। সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট বলে যে কথাটি আছে আমাদের দেশে চিত্র নির্মাতা সেটা জানেন না। এই দেশের আইন হলো আনফিটকে সারভাইভ করার সুযোগ দেওয়া। এরচেয়ে হাস্যকর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না।’ –কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ

‘ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র আমাদের দেশে আসা মানে, আমাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি আছে, সেটুকুও শেষ হয়ে যাওয়া।’ – নায়করাজ রাজ্জাক

‘পাকিস্তানে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের ফলে সে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প রুগ্ন হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সুযোগ দেয়া এ দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা হবে আরো করুণ। আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের অস্তিত্ব হবে হুমকির সম্মুখিন।’ – চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম

‘এদেশে বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে এফডিসি নির্মাণ করেছিলেন, সেটাও আর থাকবে না।’ – নায়ক আলমগীর

‘দুই দেশের মধ্যে একটা বিনিময়চুক্তি হতে পারে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে তারা বাংলা ছবি নেবে, তবেই আমরা তাদের দেশ থেকে বাংলা ছবি আনতে পারি। হয়তো সেখানে বছরে কয়েকটি হিন্দি ভালো ছবি আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে চলচ্চিত্র বিনিময়ে অবশ্যই ভারসাম্য থাকতে হবে।’ – চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম

‘সেন্সর পাওয়া ছবিগুলো প্রদর্শনে কোনো আইনগত বাধা নেই। শিগগিরই আমরা ভারতীয় ছবির প্রদর্শনী শুরু করতে পারব। বন্ধ হওয়া প্রেক্ষাগৃহগুলো আবারও চালু হবে।’ – চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কেএমআর মঞ্জুর

‘সিনেমা হলের ট্যাক্স, বিদ্যুৎ খরচ, স্টাফদের বেতন এবং অন্যান্য খরচ হিসেব করলে এখন কোনোভাবেই সিনেমা হল মালিকরা ব্যবসা করতে পারছেন না। কালেভদ্রে দু’একটি সিনেমা ব্যবসা করলেও এতে সিনেমা হল বাঁচবে না। সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করার জন্য নতুন করে সিনেমা হল মালিক লগ্নি করতে চান না। এমনিতে লোকসান, তারপর আবার লগ্নি? সরকার সিনেমা হলের ট্যাক্স কমালে হয়তো কিছুটা সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু সরকার ট্যাক্স কমানোর পক্ষে কোনো আশ্বাস দেয়নি। যে কারণে সিনেমা হলকে বাঁচাতে আমরা ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রদর্শনের পক্ষে।’
চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির নেতা ও সিনেমা হল মালিক সফর আলী ভূঁইয়া

‘দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলের প্রজেক্টর মেশিন খারাপ। জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে করে প্রিন্টেরও ক্ষতি হচ্ছে। পর্দা পরিষ্কার করা হয় না বলে ছবি ঘোলা দেখা যায়। সাউন্ড সিস্টেমের কোনো উন্নতি হয়। সিনেমা হল মালিকরা কোনো রকমে দায়সারাভাবে সিনেমা প্রদর্শন করছেন। সাধারণ দর্শক না বুঝে আমাদের গালমন্দ করছে। একই সিনেমা আপনি পূরবী বা আনারকলিতে দেখে যদি মধুমিতা বা বলাকায় আবার দেখেন তাহলে পার্থক্যটি সহজেই বোঝা যাবে। পারিবারিক দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হল মালিকদেরই কোনো উদ্যোগ নেই। শুধু সিনেমার মানের দোহাই দেয়া হচ্ছে!’  – পরিচালক ও পরিচালক সমিতির মহাসচিব এফ আই মানিক

অবস্থা পর্যবেক্ষণ

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করছেন, উল্লেখিত  ভারতীয় ছবিগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের বিষয়টি একধরণের পর্যবেক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা দেখতে চাচ্ছে, ভারতীয় ছবিগুলো কীভাবে গ্রহণ করে বাংলাদেশের দর্শকেরা। যদি ছবিগুলো বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখে, তবে আমদানিকারক আর পরিবেশকরা এটি নিয়মিত রাখতে গ্রহণ করবেন জোর পদক্ষেপ। নির্মাতা-পরিচালক- শিল্পী পরিবেশকরা মনে করছেন, বড় মাছ যেমন ছোট মাছ গিলে খায়, তেমনি ভারতীয় ছবিও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হলে তা ধ্বংশ করে দিবে দেশীয় চলচ্চিত্রকে। কারণ বিনিয়োগ আর বাজার, দু দিক থেকেই ভারতীয় ছবির ধারে কাছে নেই আমাদের চলচ্চিত্র। এ এক অসম প্রতিযোগিতা।

টেস্ট কেস হিসেবে হলেও বিজয়ের মাসে কেনো প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি মুক্তি দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নটিই এখন জোড়ালো হয়ে ওঠেছে। একইভাবে যদি ভাষা আন্দোলনের মাস আগামী ফেব্রুয়ারিতে যদি প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি ছবি মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে জাতীয় চেতনা বলে থাকলোটা কী!

সূত্রঃ  https://i1.wp.com/www.banglanews24.com/images/common/logo-bn.gif

“আবারও বাংলাদেশকে অবমাননা করা হল ভারতীয় মুভিতে”

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-snc7/314425_201104246633428_172596859484167_481673_766497745_n.jpg

হ্যালো ডার্লিং এর পর হাম তুম শাবানা’য় বাংলাদেশকে অবমাননা করা হল।পূর্বে বাংলাদেশের আমাদের জাতীয় সঙ্গীত,জাতীয় পতাকা অবমাননার দৃশ্য আমরা দেখেছি। এবার আবার নতুন করে বাংলাদেশকে অবমাননা করল ভারত। বাংলাদেশকে যেভাবে অবমাননা করা হয়েছে—-
Hindi Movie Hello Darling Wallpapers photos, pictures, wallpapers

হ্যালো ডার্লিং` ছবিটিতে জঘন্যভাবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে। `হ্যালো ডার্লিং` ছবিতে প্রধান তিন নারী চরিত্র সেলিনা জেটলি, দিব্বিয়া দও, গুল ফানাগ তাদের বস জাভেদ জাফরির কাছে বিভিন্নভাবে সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠে। সেলিনা জেটলি জাভেদ জাফরীর জন্য কফি বানাতে গিয়ে ভুলে র‌্যাট কিলার মিশিয়ে দেয়। চেয়ার থেকে পড়ে জাভেদ জাফরি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কিন্তু প্রধান তিন নারী চরিত্র হাসপাতালে গিয়ে অন্য একটি লাশকে জাভেদ জাফরি ভেবে মনে করে কফি খেয়ে জাভেদ জাফরির মৃত্য হয়েছে। তাই লাশটি তারা বের করে আনে হাসপাতাল থেকে। এই দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে জাভেদ জাফরি প্রধান তিন নারী চরিত্রকে ব্ল্যাকমেইল করে বিছানায় নিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করে। ছবির শেষে এসে সব ফাঁস হয়ে যায় আগমন ঘটে কোম্পানির মালিক সানি দেওলের। তিনি জাভেদ জাফরির উদ্দেশ্যে বলেন,

‘আমাদের কোম্পানির একটি অফিস বাংলাদেশে আছে এবং ওখানে তোমার মত লম্পট, দুশ্চরিত্র বসের প্রয়োজন’।

এর মানে কি? ভারতে নারীদের যৌন হয়রানি না করে বাংলাদেশে চলে যাও ওখানে গিয়ে যা করবে তাই জায়েজ!

যে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের সাথে ২ লাখ নারীর অত্যাচারিত হওয়ার ইতিহাস আছে, সেই দেশের নারীদের জন্য `হ্যালো ডার্লিং` ছবির জাভেদ জাফরির মত চরিত্র দিয়ে অত্যাচার করতে পাঠানোর ঘৃন্য মানসিকতার পাশাপাশি জাভেদ জাফরি এবং তানিয়া (জাভেদ জাফরির কুকর্মের সহযোগী) বাংলাদেশে ট্রান্সফারের কথা শুনে `বাংলাদেশ` শব্দটি এমন বিকৃত ভংগিতে উচ্চারণ করে যে বাংলাদেশ মানেই জাহান্নাম। চোখে মুখে চরম অবজ্ঞা ফুটিয়েও শেষে বাংলাদেশে আসতে রাজী হওয়ার পর `বাংলাদেশ` শব্দটি স্ক্রিনে ভেসে উঠে। এরপর বাংলাদেশের অফিসে বসে জাভেদ জাফরী নারীর প্রতি ইঙ্গিতমূলক আচরণ করে মন্তব্য করতে গিয়ে দেখে যে বাংলাদেশীর সাথে কথা বলছে সে আসলে সমকামী।

 


ভারতের হীন চরিত্রের বিবরণ আমি দিয়েছি। সুতরাং ভারতের মত দুঃশ্চরিত্র দেশের এই অবমাননায় আমাদের দেশের তেমন কিছু আসে যায় না। এটি তো সেই ভারত যার জাতীর পিতা গান্ধি-ই ছিল একজন চরিত্রহীন লোক যে কিনা নগ্ন হয়ে নগ্ন মেয়েদের সাথে শুয়ে থাকে। আর এই গান্ধির সর্ব শেষ উত্তরসূরি রাহুল গান্ধী তো বন্ধুদের নিয়ে গন-ধর্ষণে লিপ্ত থাকে। কিছুদিন পর সে নাকি প্রধানমন্ত্রীও হবে। আজ আমি এই নিউজের পরিবর্তে ভারতের হিন্ধুদের দ্বারা খ্রিষ্টান নানের(সন্যাসি) ধর্ষণের খবর দিতে গিয়ে এই খবর দিলাম।

https://i2.wp.com/media.washtimes.com/media/image/2011/03/30/20110330-182148-pic-203246048_s640x502.jpg

Mahatma Gandhi (মহাত্মা গান্ধি)

https://i1.wp.com/www.indybay.org/uploads/2007/01/29/rahul.pdf_600_.jpg

পড়ুন – Rahul Gandhi: Involved in Gang Rape

কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ভারতের দিল্লীতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘতে। এদের মত চরিত্র হিনদের কথায় আমাদের কি আসে যায়। কিন্তু খারাপ লাগে যখন শুনি এই দেশের মানুষ বাংলাদেশ অবমাননাকারী ভারতের অপসংস্কৃতি অন্ধের মত অনুসরণ করে। আর ভারতের প্রেমে তারা সর্বদা মগ্ন থাকে এবং এই নোংরা ভারতকে প্রভু মনে। এরাই মুলত আমাদের জাতীয় আত্ন-সম্মান নষ্ট করে।

সূত্রঃ

https://fbcdn-photos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/308234_172609552816231_172596859484167_387961_1940672334_a.jpg

বেনাপোলে দুই বিএসএফ সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বিজিবি

যশোর অফিস ও বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের দুই সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে এক পরিবারের মালামাল তছনছ করেছে। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বিএসএফের ওই দুই সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে। গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’দেশের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আটক দুই বিএসএফ সদস্য বিজিবির হেফাজতে ছিল। আড়াইটায় দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিজিবি সদস্যরা আটক দুই বিএসএফ সদস্যকে ফেরত দিলে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিএসএফের ওই দুই সদস্য হলেন এম কে রবার্ট ও বিজয় সিংহ।
বিজিবি দৌলতপুর ক্যাম্প ইনচার্জ আজিজ আহমেদ জানান, সকালের দিকে ভারতের কালিয়ানী ক্যাম্পের বিএসএফের ওই দুই সদস্য বিনা উস্কানিতে অস্ত্রসহ বেনাপোলের গাতিপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা সীমান্ত সংলগ্ন একটি বাড়িতে ঢুকে মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন বিজিবি দৌলতপুর ক্যাম্পে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের আটক করেন। এ ঘটনায় উভয় সীমান্তে হঠাত্ করেই উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুপুর দুইটা পর্যন্ত আটক বিজিবি সদস্যরা বিজিবি’র দৌলতপুর ক্যাম্প সদস্যদের হেফাজতে ছিলেন।
এদিকে গাতিপাড়া বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েক সুবেদার আবদুুল আজিজ জানান, এম কে রবার্ট ও বিজয় সিং নামে বিএসএফের ওই দুই সদস্য একদল চোরাচালানিকে ধাওয়া করে। চোরাচালানিরা ভারত সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। তাদের পিছু নেয়া বিএসএফ সদস্যরাও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের অস্ত্রসহ আটক করেন।
বিজিবি পুটখালী কোম্পানি হেডকোয়ার্টার ইনচার্জ আজিজুর রহমান জানান, দু’দেশের বিএসএফ ও বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক বিএসএফ সদস্যদের ফেরত দেয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপুর আড়াইটায় বিএসএফ ও বিজিবি’র মধ্যে ওই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন হরিদাসপুর ক্যাম্প কমান্ডার লাল বাহাদুর সিং ও বিজিবির নেতৃত্ব দেন বেনাপোল বিজিবি হেড কোয়ার্টারের কোম্পানি কমান্ডার এমদাদ হোসেন। বৈঠকে আটক বিএসএফের দুই সদস্যকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।
যশোর ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিব আলম পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের আটক দুই সদস্যকে ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সূত্রঃ
https://i2.wp.com/www.amardeshonline.com/img/amardesh.png
%d bloggers like this: