• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 277,514 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

বাংলাদেশের দুর্দশার কারণ

সুনন্দ কে দত্ত-রায়

ইএম ফরস্টারের একটি বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে, দেশ ও কোন বন্ধুকে বেছে নিতে বলা হলে ‘দেশের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো সাহস থাকতে হবে’। সেটাই আজ আমাকে এমন একজন সম্পর্কে লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে যে, যার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশে অনেকেরই শিরঃপীড়া রয়েছে। বাংলাদেশের ঘটনাবলী ভারতের মূল্যায়নের একটি প্রবণতা হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় নীতিতে দেখা। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী একজন ব্যারিস্টার। ৩২ বছর ধরে তিনি সংসদ সদস্য। তিনি বন্ধু হিসেবে স্বীকৃত নন। সে কারণে তিনি দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত হলে সেটাকে স্বাগত জানানো হয়।

এ ধরনের বোকামি আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী নীতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছিলেন। বিশেষ করে নিকারাগুয়ার নির্দয় স্বৈরশাসক সমোজা সম্পর্কে তার উক্তি ছিল- ‘এ সন অব এ বিচ’, কিন্তু ‘আমাদের সন অব এ বিচ’। ভারতের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুরনো হিসাব চুকেবুকে যাবে না। বরং অতীতের আলোকেই সেটা পরীক্ষিত হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও একই কথা।
সেই কালো রাতের বয়োবৃদ্ধ চক্রান্তকারী, যাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, তারা কেউ শুধু আততায়ী ছিল না, তারা দেশটির মনস্তত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করেছে। খোন্দকার মোশ্‌তাক আহমেদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশও সেটাই করেছিল। ১৯৯৬ সালের ২রা অক্টোবরের আগ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের একটি পুলিশ প্রতিবেদন পর্যন্ত ছিল না। জিয়াউর রহমান সাম্প্রদায়িক দল নিষিদ্ধ থাকার বিধান সংবিধান থেকে বিলোপ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র মুছে দিয়েছিলেন। এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন।
অন্য একটি পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি যাদের ভোট টানতে পেরেছিল তার সবটাই কি গোঁজামিল ছিল? বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এখনও ৩২টি সংসদীয় আসনে জয়ী হতে সক্ষম। ১৮ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী যদিও মাত্র দু’টিতে নেমে এসেছে, কিন্তু তারা প্রায় ৬৫ হাজার মাদরাসা স্থাপন করেছে। তারা যতটা না একটি রাজনৈতিক দল তার চেয়ে বেশি এক চিন্তাধারা- যার অনুরণন কখনও কখনও পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের এক শ্রেণীর নেতাকর্মীর মধ্যেও।
শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় বিপ্লব আদর্শবাদীদের অন্তর জয় করতে পারেনি- যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীনতা একটি নতুন সভ্যতার সূচনা ঘটাবে। একদলীয় স্বৈরশাসন, স্বাধীন সংবাপত্রের দলন এবং দক্ষতা নষ্ট করে দেয়া একটি বিচার বিভাগ- সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিল। ১৯৭৪ সালে লরেন্স লিফশুলজ ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমি রিভিউ’তে লিখেছিলেন ‘মুজিবের অধীনে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ছিল নজিরবিহীন’।
এই হলো প্রেক্ষাপট। আমি সাইফুদ্দিন ও হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে ই-মেইল বার্তা পেয়েছি। তারা যথাক্রমে সাকা চৌধুরীর ভাই ও ছেলে। সাকা নিশ্চিত যে তার পিতা মুসলিম লীগ নেতা ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরীকে স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণেই ঢাকার কারাগারে হত্যা করা হয়েছিল। তবে স্বাধীনতা প্রশ্নে তিনিও যে পিতার অনুসারী ছিলেন না, তা না বলাটা ঠিক হবে না।
একটা বিষয় আমি স্মরণ করতে পারি। তখন আমি হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অবস্থান করছিলাম। তার ড্রাইভার অভ্যর্থনা কক্ষে একটি চিরকুট  রেখে যান। অভ্যর্থনাকারী তরুণটি পরে আমাকে বলেছিল, সাকা চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে অনেক মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এটা সত্য কিনা তা আমার জানা নেই। ঢাকা তখন গুজব ও উড়ো কথায় ভরপুর। তবে এসব অভিযোগের বহু আগেই বিচার বিভাগীয় পরীক্ষা হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ, যারা আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতের রোম সংবিধি সই করেছেন। আর তাতে মানবতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের বিচার সম্পর্কে নিয়মকানুন বলে দেয়া আছে। কিন্তু সাকা চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত নন। তাকে একটি অগ্নিসংযোগের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। নয় মাসে আগে সেই মামলাটি দায়ের করা হয়, যখন সেই মামলায় তার নাম ছিল না।
হুমামের চিঠি পড়তে আমার কষ্ট হলো। তাতে লেখা: ‘২০১০ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ১২ সদস্যের একটি দল তার পিতার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে। এবং নির্দয়ভাবে তাকে নির্যাতন শুরু করে। তারা তাকে অব্যাহতভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাদের সঙ্গে আনা যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালায়। তারা অবশ্য সঙ্গে করে একজন চিকিৎসক নিয়েছিল। তার একমাত্র দায়িত্ব ছিল এটা নিশ্চিত করা যে তিনি যাতে সংজ্ঞাহীন না হয়ে পড়েন। আর দরকার হলে যাতে তাকে চাঙ্গা করতে পারেন। তিনি তিনবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং প্রতিবারই ইনজেকশন দিয়ে তার সংজ্ঞা ফেরানো হয়।’
আরও বর্ণনা এরকম: ‘প্রায় ১০ ঘণ্টা নির্যাতনের পর আদালতে তাকে নেয়া হয়, কিন্তু তার রক্তে ভেজা জামাকাপড়ও তাকে আরও পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে পাঠাতে বিচারককে নিবৃত্ত করেনি।’
সালাহউদ্দিন দাবি করেছিলেন,

১৯৭৩ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাজউদ্দিন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের তার অন্যান্য সহকর্মীর পরামর্শ দিয়েছিলেন যে তাদের  জন্যও একদিন আসবে। তাই কারাগারে যেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। সেটা এসেছিল বর্বরোচিত নিষ্ঠুরতায়।

এ ধরনের প্রতিশোধপরায়ণ হত্যাকাণ্ডের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব না হলে সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন কখনওই বাস্তবায়িত হবে না।

লেখক প্রবীণ ভারতীয় সাংবাদিক, কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার  সাবেক সম্পাদক।

Source : http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=4948:2011-03-13-16-39-34&catid=51:2010-09-02-11-25-57&Itemid=86

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: