• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 277,514 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

নারী নিয়ে বাড়াবাড়ি, বন্ধ করুন তাড়াতাড়ি

সম্প্রতি আবার ও কিছু মাথামোটা বুদ্ধিজীবি নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে কোরআন সুন্নাহর বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে এবং গোটা নারী জাতিকে কোরআনের প্রতিপক্ষ রুপে দাঁড় করানোর হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আর এটা বুঝানোর চেষ্টা করছে যে মহান স্রষ্টার চেয়ে তারা নারীদের প্রতি বেশী দরদী। অথচ তাদের এই কথা জানা নেই যে কোরআন তথা ইসলাম ধর্মই দিয়েছে নারীকে সর্ব্বোচ সম্মান। যা দেখে পশ্চিমা বিশ্বে দিন দিন মহিলারা ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে। তারা আজ যে নারী উন্নয়ন ও সমধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করছে, তার চেয়ে ও অনেক বেশী অধিকার ও সম্মান নারীকে সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে ইসলাম দিয়েছে।

“নারী উন্নয়ন নীতিমালা” শিরোনামে যে অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে তাহলো নারীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তিতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যা কোরআনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে পাকে ঘোষনা করেন” এক পুত্র সন্তানের অংশ হবে দুই কন্যা সন্তানের অংশের সমান।[ সূরা নিসা, আয়াত:১১]। এই আয়াতে যদি ও নারীর অংশ কম মনে হয় পক্ষান্তরে সমগ্র দিক বিবেচনা করলে নারীর অংশই বেশী। কেননা ইসলাম নারীর উপর কোন প্রকার অর্থনৈতিক দায় দায়িত্ব অর্পন করেনি। এমন কি তার নিজের দায়িত্ব ও তার উপর অর্পন করা হয়নি। বিয়ের পূর্বে পিতা, বড় ভাই এবং বিয়ের পর স্বামীর উপর তার অর্থনৈতিক দায় ভার বার্তায়। অথচ একজন ছেলেকে সংসারের সকল প্রকার দায় ভার বহন করতে হয় এবং স্বামীর উর্পাজনে স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে এর বিপরীতে স্ত্রীর উপার্জনে স্বামীর কোন অংশ থাকে না, স্ত্রী যদি খুশি হয়ে দেয় তা ভিন্ন কথা। এমনকি স্ত্রী উপার্জন করলেও স্বামীর সাধ্য অনুযায়ী স্ত্রীর অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে স্বামীকে।

আর তারা যে সমঅধিকারের কথা বলে তা ইসলাম নারীকে প্রদান করেছেন সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে এমনকি তারচেয়ে অনেক বেশী অধিকার ও নারী জাতিকে প্রদান করেছে ইসলাম। যেমন: আল্লাহ পাক সূরা বাকারার ২২৮ নং আয়াতে ঘোষণা করেন ”পুরুষের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে তেমনি স্ত্রীদের ও অধিকার রয়েছে পুরুষের উপর”। রাসূল সা: বলেন আল্লাহ ও তার রাসূল সা: এরপর সবচেয়ে বেশী মর্যাদা মায়ের। তিনি অরো বলেন পিতার চেয়ে মায়ের অধিকার তিনগুন বেশী। (বুখারী)

এখানে সমঅধিকার নয় বরং নারী জাতিকে তিনগুণ বেশী অধিকার দেয়া হয়েছে পুরুষের চেয়ে। রসূলুল্লাহ সা: আরো বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। ( তিরমিযি)। তিনি আরো বলেন যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তান লালন পালন করে, আমি এবং সে একত্রে এই ভাবে জান্নাতে প্রবেশ করব। এই বলে তিনি হাতের দুটি আঙ্গুল একত্রিত করে দেখালেন। (তিরমিযি) ইসলাম প্রদত্ত নারীর মর্যাদা ও অধিকার জানতে পড়ুন: সূরা নিসার ১, ৪, ৭, ২৪, নং আয়াত এবং সুরা লোকমান এর ১৪ সূরা আত-তাকভীর এর ৮-৯নং আয়াত।

অন্যধর্মে নারীর মর্যাদা: হিন্দু ধর্মে নারীকে পাপ ও ধ্বংসের মূল উৎস বলা হয়েছে, মনুসংহিতায় নারীকে দাসী ও স্বামীকে দেবতা বলা হয়েছে। এই ধর্মে স্বামীর সাথে স্ত্রীর সহমরণের বিধান ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল। আবার কোন কোন ধর্মে নারীকে নরকের দরজা, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র, মানব জাতির দু:খ কিংবা অসৎ প্রলোভনের ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আর যাদেরকে নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠর জনক বলা হয় সেদেশের নারীদের অধিকার ও উন্নয়নের একটি চিত্র তুলে ধরা হল: ১৯৯০ সালে নিউজ ইউকের জরিপ অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সুসভ্য জাতির দাবিদার আমেরিকায় প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজন নারী শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হয়। প্রতি ৬ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিতা হয়, প্রতি ১ ঘন্টায় ১৬ জন নারীকে ধর্ষণের মোকাবিলা করতে হয়। ১৯৭৭ সালে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু নিউ ইয়র্ক শহরে ৭০ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়।

কয়েক দিন আগে পালিত হল শততম নারী দিবস। নারী দিবসের একটি সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেছিলেন নারীদের সমধিকার প্রতিষ্ঠা লক্ষে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে, নারী পুরুষের বৈষম্য দুর করা হবে। একজন পুরুষ শ্রমিক কাজ করে যে মজুরি পায় ঐ কাজটি করে একজন নারী শ্রমিক পায় তার অর্ধেক মজুরি। এখানে ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। নারী শ্রমিকের জন্য মাত্র দশ, বার হাজার টাকায় বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এখন প্রশ্ন হল মাননীয় মন্ত্রী যে কথা গুলো বললেন এর কোনটির মাঝে নারীর মর্যাদা আছে? নারী কেন শ্রমিকের কাজ করবে? কেন সে অর্থপার্জন করতে বিদেশে পাড়ি জমাবে? নিজের পরিবারের নারীদের বেলায় কি তিনি এগুলো মেনে নিবেন? যদি না মেনে নেন তবে অন্য নারীর ক্ষেত্রে সমঅধিকারের দোহাই দিয়ে তা কেন করবেন।

এখানে একটি গল্প না বলে পারছিনা এক ছাত্র তার শিক্ষককে প্রশ্ন করল স্যার মোল্লা মৌলোভীরা বলে মেয়েদের সাথে প্রেম করা বৈধ নয়। অসলে কি তাই? স্যার উত্তর দিলেন আরে ঐ মোল্লারা প্রেম ভালবাসার মর্ম কি বুঝবে শোন প্রেম ভালবাসা আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর, প্রেম না থাকলে পাখিরা গাইত না, ফুলেরা ফুটত না, নদীতে সৃষ্টি হতনা তরঙ্গমালা, থাকতনা সাঁঝের জোসনা, মেঘের শুভ্রতা। প্রেম ছিল, আছে , থাকবে অনন্তকাল। ছাত্র খুব মনযোগ সহকারে আবেগ ঝড়া কথাগুলো শুনল। স্যার যখন থেকে গেলেন তখন ছাত্র বলল, স্যার একটা কথা বলি রাগ করবেন না। স্যার বললেন বল রাগ করব কেন? ছাত্র বলল স্যার আমি আপনার মেয়ে কমলাকে ভালবাসি , আমি ওকে ছাড়া বাঁচব না। স্যার তো ওর কথা শুনে রেগেমেগে আগুন হয়ে গেলেন। ছাত্র বলল স্যার একটু আগে তো আপনিই প্রেম ভালবাসার কত সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন এখন রাগ করছেন কেন? স্যার বলল এটাতো অন্যদের বেলায় আমার মেয়ের ক্ষেত্রে নয়। অনুরুপ ভাবে মন্ত্রী সাহেব ও একই কথা বলবেন এই সমধিকার ও মর্যাদা নিজের পরিবারের নারীদের ক্ষেত্রে নয়।

যারা নারীদের প্রতি অতি দরদি হয়ে কোরআনের বিপক্ষে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কোমড়ে গামছা বেঁধে নেমেছেন তাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ১) এদেশে এখন ও অসংখ্য পতিতালয় রয়েছে যেখানে নারীরা দেহ ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করছে আবার আমাদের নারী প্রধান মন্ত্রীরাই এই কাজের লাইসেন্স দিয়েছে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করছেন না কেন? ২) এখন ও গ্রাম বাংলায় অসংখ্য নারী যৌতুকের বলিতে পরিনত হচ্ছে, যৌতের বিরুদ্ধে কেন আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন না। ৩) অসংখ্য যুবতী নারী এসিডের শিকার হচ্ছে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন না কেন? ৪) কয়েক মাস আগে বি,এন,পির হরতালে কিভাবে নারীকর্মীদের লাঞ্চিত করা হল, পুলিশ নামের এক লম্পট দিন দুপুরে অসংখ্য জনতার উপস্থিতিতে একজন নারীর বুকে হাত দেয়ার মত জঘন্য কাজটি করতে ও দ্বিধাবোধ করেনি যা মিডিয়ার বদৌলতে সারা বিশ্ববাসী দেখেছে এর প্রতিবাদ কেন করেননি? এসব কি আপনাদের চোখে পড়েনা নাকি তখন অন্ধ হয়ে যান। তখন আপনাদের প্রতিবাদী কন্ঠ কোথায় থাকে? কোথায় থাকে আন্দোলনের ডাক? এরকম অনেক প্রশ্নর উত্তর আপনারা দিতে পারবেন না। আর এসব বিষয়ে আপনারা আন্দোলন করবেন ও না কারণ এসব ক্ষেত্রে আন্দোলন করলে তা কোরআনের পক্ষে হয়ে যাবে। আর আপনারা তো আন্দোলন করবেন কোরআন সুন্নাহর বিপক্ষে নারীদের দাঁড় করানোর জন্য।

নারীর সাথে আমাদের সকলের নাড়ীর সম্পর্ক। তাই আমরা সকল ক্ষেত্রে একজন নারীকে একজন পুরুষের তুলনায় অনেক বেশী মর্যাদা/সম্মান প্রদান করে থাকি যা আমাদের ধর্মের ও শিক্ষা। একজন নারী বোন, মা, স্ত্রী, দাদী, নানী, কন্যা সকল ক্ষেত্রেই বেশী সম্মানের দাবীদার। এই নারীদের ইসলাম ধর্মই সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদান করেছে। তাই নারীদের ধর্মের বিপক্ষে দাড় করিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন সমর্থন যোগ্য নয়। বরং নারীদের ইসলাম যে অধিকার ও সম্মান প্রদান করেছে তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করা উচিৎ।

[তথ্যসূত্র: আওয়াজ, মাসিক পৃথিবী, শীর্ষ নিউজ, দিগন্ত নিউজ]

লেখক: সৌদি আরব প্রবাসী
E-mail: Lokmanbd22@yahoo.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: