• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 277,514 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

ভারত রাগ হয়ে গেছে

Source : Daily Sangram

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ভারতের চাওয়ার চাইতে অধিক অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছে। ভারতের ব্যাপারে সম্ভবত না বলতে পারে না শেখ হাসিনার সরকার। এমন কি ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোও সোল্লাসে বলেছে যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে একেবারে উজাড় করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কাকাবাবুদের এখন আর চাইতেই হয় না। তার আগেই শেখ হাসিনার সরকার তাদের সব কিছুই দিয়ে দিচ্ছে। তাতেও কাকাবাবুদের খাঁই মেটে না। তাদের আরও চাই। আরও চাই। এখানে দেশের স্বার্থের কী হল, অতো সব বিষয় ভাবনারও বোধ করি সরকারের সময় নেই। না চাইতেই যা পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে কাকুরা এতো কিছু চাইতে শুরু করেছেন যে সরকারের প্রায় দিশেহারা হওয়ার অবস্থা।

রাষ্ট্রের কী হল না হল ভারতকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জেদ ও লাভালাভ অনেকখানি নিশ্চিত হয়েছে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নিজের জেহাদ ঘোষণায় ভারতের মৌন সম্মতি মিলেছে। কারণ ইউনূসের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে ক্ষমতায় আসীন করা হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন সে কথা মনে রাখেন তার ঐ বক্তব্য থেকে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার ভোটের মাধ্যমে নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাধিকবার বলেছেন যে, তেল-গ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চাননি বলে ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় আসীন হতে পারেননি। তবে তিনি খোলাসা করে বলেননি যে, এবার ক্ষমতায় আসীন হতে তারা এসব প্রভুকে কী কী দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এটাও তো সত্য যে, ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসীন বিএনপি তেলগ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দেননিঅর্থাৎ তারা জিতবেন না জেনেও তেল গ্যাসের বিনিময়ে তাদের ক্ষমতায় বসাবার একটি ষড়যন্ত্র তখনও ছিল। বিএনপি তথা চারদলীয় জোটকে ঐসব প্রভুদের ধার ধারতে হয়নি। তারা প্রকৃতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন। ধর্মের ঢাক এভাবে আপনাআপনিই বেজে ওঠে।

আর সম্ভবত সেকারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারতকে কেবল দিয়েই যেতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। কিন্তু ফ্যাসাদ বেঁধেছে এক শ’ কোটি ডলার ভারতীয় ঋণ নিয়ে। এই ঋণচুক্তি যখন করা হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ১১শ কোটি টাকার রিজার্ভের ওপর বসে তা’ দিচ্ছিল। পড়েছিল অলস টাকা। বিনিয়োগ নেই, ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানি নেই। কোন চিন্তাভাবনাও নেই। রাখাল গভর্নর সে টাকা নিয়ে যখন বিপাকে, তখন সরকার ভারতের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি সুদে এক শ’ কোটি ডলার ঋণ নিল। এ ঋণের পয়সায় যা কিছু কাজ হবে, তার সব কিছুই হবে ভারতের স্বার্থের অনুকূলে। ইট-পাথর-রড-সিমেন্ট-লোকজন সব কিছুই আসবে ভারত থেকে। ভারতের যা নেই, তাও জোগাড় করে দেবে ভারতই। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকবে না। আমাদের লোকেরা সম্ভবত সেখানে কুলি-মজুরের কাজ পাবে। কিংবা হতে পারে, কুলি-মজুরও আসবে ভারত থেকে।

https://i2.wp.com/upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/c/c3/Sheikh_Hasina.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারকে কীভাবে ক্ষমতায় আসীন করা হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন সে কথা মনে রাখেন।

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হয়েছে। সেই ট্রানজিট পথে ভারতের ভারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার জন্য এই ঋণ। ভারত যখন ট্রানজিটের রাস্তাঘাট ব্যবহার করবে, তখন ঐ পথে বাংলাদেশের কাকপক্ষীও চলতে পারবে না। রাষ্ট্র আমার, ভূমি আমার, ঋণ নিয়েছি আমি। সে ঋণ শোধও করতে হবে আমাকেই। তারপরও আমি আমার নিজস্ব ভূ-খন্ড ব্যবহার করতে পারব না। ভারতের এমন শর্তের কাছে শেখ হাসিনা সরকার আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু তাতে বিপদ হয়েছে ভারী। এখন ভারত রকেটের দ্রুততায় ঐ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

https://i1.wp.com/www.weeklyvoice.com/wp-content/uploads/2010/09/Manmohan-Singh_57.jpg

মনমোহন সিংয়ের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরকালে শেখ হাসিনা ভারতকে আর কি কি সুবিধা দিবেন সেটি তিনি ছাড়া তার অফিসের ঘনিষ্ঠ কেউই সম্ভবত জানেন না

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত যখন দিল্লীতে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী কাকাবাবু প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন ফের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে চাপ দেয় ভারত। আর পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই চাপের অংশ হিসেবেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফর কেবলই পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। গত বছরের শেষাশেষে মি. সিংয়ের ঢাকা সফরের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ধীরগতি হওয়ায় সে সফল বিলম্বিত করে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বোঝাবার চেষ্টা করছেন যে, ভারতের সঙ্গে তার সখ্যতা কত গভীর। চাপ সৃষ্টির কারণও তাই। সম্পর্কের গভীরতাকে যদি ব্যবহার করতে চাও, তাহলে ভারতের অনুকূলে করিডোর কার্যক্রম দ্রুততর করো। এর আগে গতবছর জানুয়ারীতে শেখ হাসিনার দিল্লী সফর ঘোষণার পর ১৩ মাস বিলম্বিত হয়েছিল। এই সফরের আগেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার কৌশলগত স্বার্থ চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল। তারপর আসে ৫১ দফা যৌথ ইশতেহার। এই ইশতেহারে বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল একটি ধারাও নেই। মনমোহন সিংয়ের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরকালে শেখ হাসিনা ভারতকে আর কি কি সুবিধা দিবেন সেটি তিনি ছাড়া তার অফিসের ঘনিষ্ঠ কেউই সম্ভবত জানেন না। এদিকে শুকনো মওসুম শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু বহুল ঢাক পেটানো পানি বণ্টন চুক্তির কোন সম্ভাবনাই নেই।

উপরন্তু ভারত শতবার কথা দিয়েছে যে, সে দেশের বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারত কোন বাধা সৃষ্টি করবে না। সেজন্য ৬১টি পণ্যের তালিকাও করা হয়েছিল। কিন্তু তার কোন পণ্যই ভারত তার দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। শেখ হাসিনার সরকার হয়তো আশা করেছিল যে, ভারতকে সবকিছু উজার করে দেয়ার বিনিময়ে যদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করা যায়, যদি ভারতের অনুকূলে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য কমিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটা বলেই হয়তো জনগণকে প্রবোধ দেয়া যেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারও কোন সুরাহা হচ্ছে না। এছাড়া ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন ট্রানজিট ফি দিতে অস্বীকার করে বসেছে। ট্রানজিটের লাভ সম্পর্কে বোগি আওয়াজকারীরা একযোগে বলছিল যে, ভারতকে ট্রানজিট করিডোর দিলে বাংলাদেশ প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার ফি পাবে, লাভবান হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, শত শত কোটি ডলার তো দূরের কথা, ফি বাবদ ভারত এক পয়সাও দিতে রাজি নয়। ভারতের এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন বাংলাদেশ ভারতের সুবিধার্থে ফেনী নদীর উপরে ভারতকে সেতু নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। এই সেতু নির্মিত হলে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে আমাদের সুদর্শনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, ছিটমহলসহ সকল ঝুলে থাকা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এমনকি ভারতকে এ কথা বোঝাতে পারছেনা যে, সরকারের উপর এত চাপ সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত ভারতের অনুকূলে যাবে না। জনগণ, সরকার তো বটেই, একসময় ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে ও রুখে দাঁড়াবে।

ভারতের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মহলেও অনুকূল প্রভাব ফেলেনি। সরকার অনুগত ও সরকারের ঢাক বাদনকারী ব্যবসায়ীরা এখন দেখছে যে, ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রকল্প থেকে তাদের এক পয়সাও লাভবান হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। শুরুতে তারা হয়তো ভেবেছিলেন যে, এধরনের অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হলে তা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ফলে এই চুক্তি ও তার বাস্তবায়নের ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। আমলাতন্ত্রসহ সকল মহলে এখন আলোচনা একটাই। ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর দিলে কি লাভ? কারণ এই প্রকল্পের ইট-সিমেন্ট-রড পর্যন্ত ভারত থেকে আনতে হবে। এমনই এক দাসখত লিখে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকার এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও শেয়ালের রা-য়ের মতো ভেবেছে। তাদের ধারণা ভারতকে সবকিছু কোন বিনিময় ছাড়াই দিয়ে দেয়া বিষয়টি সকল আওয়ামী লীগারই সমর্থন করবে। ট্রানজিট ফি দিতে ভারতের অস্বীকৃতি এবং সরকারের তা মেনে নেয়া, এমন কি আওয়ামী লীগাররাও ভাল চোখে দেখছে না। সাধারণ মানুষ একে দেখছে বাংলাদেশ বিরোধী ভারতীয় চক্রান্ত হিসেবে। এখন বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের প্রটেক্টরেট ভুটানেরও নিচে চলে গেছে। যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ শেখ হাসিনা নিয়েছেন, তার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক পয়সাও লাভ হবে না। বাণিজ্য হবে না। কর্মসংস্থান হবে না। সবটুকু লাভ লুটে নেবে ভারত। আর ভারতের এই লাভের জন্য আমাদের সুদসহ পরিশোধসহ পরিশোধ করতে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। শেখ হাসিনার ক্ষমতার উন্মত্ত মোহে এই বাস্তবতা ভুলতে বসেছে যে, তাদের এই অবস্থান রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে। এদেশের মানুষ কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশ বিরোধী এত বড় চক্রান্ত মেনে নেবে না। তারা রুখে দেবেই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: