• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 288,807 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

পিলখানা হত্যাকান্ডঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ভারতীয় ষড়যন্ত্র [অধ্যায়-২]

[১ম খন্ড] -এর পর

৩. ঘটনা-পরবর্তী ভারতীয় প্রতিক্রিয়া

বিডিআর হেডকোর্য়াটারে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরপরই ভারতীয় রাষ্ট্র সংশি−ষ্ট ব্যক্তিবর্গের উক্তি থেকে শুরু করে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি এবং সে দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরগুলো যে কোন ব্যক্তিকে উদ্বিগ্ন করার জন্য যথেষ্টনির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে।

৩.১ ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোভাব বলে দেয় যে তারা এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে:

#ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/pranabmukherjee.jpg?w=300

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিডিআরকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

#“…এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি একাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে”। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নেতাদের বৈঠকে একথা বলেন, যা আউট লুক-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়।

https://i2.wp.com/omsnewsbd.com/wp-content/uploads/2011/02/1278693921031.jpg

শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষা করার প্রয়োজন কেন ভারতের? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ২৫ফেব্রুয়ারীর ঘটনার পর বিডিআর এর যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ভারত শেখ হাসিনার মাধ্যমে করাতে চায়। এমনকি সম্ভব হলে তারা নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সংস্কারও করতে চাইবে।

৩.২ ভারতের সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। এই প্রস্তুতি সম্পর্কে মিডিয়ায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

https://i2.wp.com/www.mysarkarinaukri.com/files/images/Logo%20-%20Indian%20Army%20-%201.jpg

বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো

১.ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজী দৈনিক Hindustan Times এ গত ২ মার্চ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের পরপরই বাংলাদেশে humanitarian intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। পত্রিকাটি জানায় যে, বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী (আইএএফ) IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। আসামের জোরহাটে অবস্থিত ভারতের সবচাইতে বড় বিমান ঘাটিকে এই সহায়তা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

২.বিএসএফ এর একজন ডাইরেক্টর জেনারেলের উক্তি থেকেও ভারতের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গত ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এই সঙ্কট (শুরু) হবার পর, আমরা ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত আমাদের সকল সৈন্যদল ও অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”

https://wakeupbd.files.wordpress.com/2011/02/bsf_logo.gif?w=289

ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছিল

৩.বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানা যায় ঘটনার পরপরই সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্যের পাশাপাশি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ব্লাকক্যাট মোতায়েন করে। একই সাথে সমস্ত সীমান্ত জুড়ে রেডএলার্ট জারি করে।

৪.ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায় ভারত সরকার মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-কে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছে

স্বাভাবতই প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিডিআর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহকে ঘিরে ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্রের এতো প্রস্তুতি কেন। আর যাই হোক এই বিদ্রোহ কোনভাবেই ভারতের জন্য নিরাপত্তা হুমকি ছিলো না। আর তাছাড়া যে বিদ্রোহের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা (প্রধানমন্ত্রীর সংসদে প্রদত্ত ভাষ্য অনুযায়ী) প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, যে জন্য তারা সেনা অফিসারদের রক্ষায় দ্রুত সামরিক অভিযানে না গিয়ে ৩৬ ঘন্টা যাবত হত্যাকারীদের সাথে একের পর এক বৈঠক করে ধীর স্থিরতার সাথে রাজনৈতিকভাবে সামরিক বিদ্রোহ দমন করলেন, সেই বিদ্রোহের গুরুত্ব বা ভয়াবহতা ভারত সরকারই বা কিভাবে বুঝে  ফেললো ? এছাড়া এ দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যে কোন বিদ্রোহ দমনে এ দেশীয় দক্ষ সেনাবাহিনীই যথেষ্ট, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তাহলে, ভারতের মিশন কী? বাংলাদেশের বর্তমান বন্ধু সরকারকে রক্ষা করা? বাংলাদেশের সরকারকে রক্ষা করবে ভারতীয় বাহিনী। কেন? আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নেই?  নাকি প্রধানমন্ত্রী তাদের বিশ্বাস করেন না?

৩.৩ ভারতের মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

২৭ ফেব্রুয়ারীর পূর্ব পর্যন্ত এদেশের জনগণও পুরোপুরিভাবে তথাকথিত এই বিদ্রোহের আসল রূপ বুঝতে পারেনি। অথচ পুরো সময়ে ভারতীয় মিডিয়া ছিল অত্যন্ত তৎপর:

https://i0.wp.com/news.xinhuanet.com/english/2009-02/27/xin_232020627170629681248.jpg

আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো?

১.বিডিআর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তার নিহত হবার সংবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল এনডিটিভিতেই সর্বপ্রথম প্রচার করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে দুই দিনেও শাকিল আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারেনি, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ঘন ঘন বিডিআর হেডকোর্য়াটারে যাতায়াত করে হত্যাকারীদের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করেও যেখানে গণহত্যার খবর পায়নি, সেখানে সুদূর ভারতে বসে ভারতীয় মিডিয়া ১২ জন অফিসারের নিহত হবার বিষয়ে কি করে নিশ্চিত হলো? তাহলে কি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা বিডিআর হেডকোর্য়াটারের ভেতরে অবস্থান করছিলো?

২.ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী ভারতের বিখ্যাত ম্যাগাজিন আউটলুকে বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৩.ঘটনার পরপরই ভারতের প্রিন্ট মিডিয়ায় বিডিআরকে একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বাহিনী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪.আর আনন্দবাজার, টেলিগ্রাফ এর মত পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আক্রমণ করে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রচার করেছে। এমনকি বিডিআর-এর ঘটনায় জঙ্গী কানেকশন ভারতীয় মিডিয়াই প্রথম আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে একই ধরণের কথা আমরা এদেশের মন্ত্রীদের মুখে শুনতে পাই।

https://i0.wp.com/www.bangladeshrifles.com/--BDR_Logo-medium.jpg

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বি. রমন ২৭ ফেব্রুয়ারী বলেন ভারতের প্রতি বিডিআর সদস্যদের বৈরী মনোভাব বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা।

৪. সরকারের ভূমিকা

৪.১ ফেব্রুয়ারী ২৫-২৬

পরিস্থিতির বিশ্লে−ষণ থেকে বুঝা যায় ঘটনার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেএতো বড় ঘটনার পরিকল্পনা চলছিল আর সরকার তা জানে না, একথা মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশি−ষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কেন শুরুতেই অনভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে যারা কতিপয় বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? অথচ তারা সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সরকার কি উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলো? যে ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তারা দেড় দিন ধরে লাশ গুম, ব্যাপক লুটতরাজ ও সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের উপর নির্যাতন করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকালে বিডিআর সদর দপ্তরের আশেপাশের লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রকৃতপক্ষে কি ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়নি? সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে? যেসব বিদেশী নাগরিক আইডিসহ ধরা পড়েছিল, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল কেন? বিমানে করে কারা পালালো? দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তারা এই রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। দেশবাসী ও সেনা কর্মকর্তাদের এই সব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

https://i0.wp.com/barta24.net/uploads/editoruploads/sahara-khatun-on-mobile-phone.jpg

সাহারা খাতুন ২৫ ফেব্রুয়ারী অস্ত্র জমা নিলেন, তারপরও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাইরে গেল কিভাবে?

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বললেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট…”।

https://i0.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2010/11/21/2010-11-21__fro22.jpg

সেক্টর কমান্ডার লে. জে. মীর শওকত এক টকশোত বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী আসতে পনের মিনিট, বিদ্রোহ দমন করতে পাঁচ মিনিট...” এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেনারেল অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন।

লে. জে. শওকত অনেকবার এর আগে সেনা বিদ্রোহ, বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমন করেছেন। একই ধরণের কথা আরো অনেকেই বলেছেন। তাহলে আধা ঘন্টার সামরিক সমাধানের পরিবর্তে ৩৬ ঘন্টার তথাকথিত রাজনৈতিক সমাধান হলো কেন? এর আগে জনাবা সাহারা খাতুন ও নানক সাহেব কয়টি বিদ্রোহ দমন করেছেন? ধানমন্ডির এমপি তাপস সাহেব মিডিয়ায় বললেন, ‘চমক আছে’! কী চমক? বাষট্টি সেনা কর্মকর্তার লাশ? নাকি সকল হত্যাকারীর পলায়ন! এখানে আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন যে বিদ্রোহের সংবাদ জানার পর তিনি সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করে জেনেছেন সেনাবাহিনী আসতে দুই ঘন্টা লাগবে? কোনটা সত্য? আধা ঘন্টা না দুই ঘন্টা? রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নাকি ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকিয়েছেন। আসলে কি তাই? প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে ১৪ জন মিটিং করেছিল, তারা সবাই কি গ্রেফতার হয়েছে? তাদের তালিকা কোথায়? অনেকে বলেছে সরকার দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এর তুলনা করা যেতে পারে এভাবে – অপারেশন সাকসেস্‌ ফুল, কিন্তু রোগী মারা গিয়েছে। বাস্তবতা হলো বিদ্রোহ দমন করা যেত, দমন করা হয়নি। সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচানো যেত, বাঁচানো হয়নি।

আমরা বীর সেনা কর্মকর্তা হারালাম, বিডিআরের চেইন অব কমান্ড ধ্বংস হলো, হত্যাকারীরা পালালো -এইসব কারণেই সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

৪.২ ঘটনা পরবর্তী সরকারের ভূমিকা

যে মন্ত্রী তথাকথিত বিদ্রোহীদের সাথে দর কষাকষি করেছে সে জাতির সামনে বলেছেন যে, বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পিছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং এই ষড়যন্ত্র বাস্ত বায়নের জন্য লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি সকল তদন্ত শুরু হবার আগেই এবং ঘটনার দুই দিনের মাথায় প্রকাশ্য সমাবেশে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে তবে কি তিনি আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতেন। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এখন সরকার ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের কথা বলে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিডিআরের ঘটনায় বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা অসংলগ্নতায় পরিপূর্ণ এবং বাস্তব ঘটনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। যেমন তিনি বলেছেন সরকারকে বিব্রত করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে অথচ জনগণের কাছে পরিষ্কার যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, সকাল ১১টার মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এটা জেনে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দু’দুবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহের পিছনে বৈধ কারণ রয়েছে

https://i1.wp.com/neawamileague.com/elements/joy.jpg

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়

যেভাবে তথাকথিত বিদ্রোহীরা প্রথম দিন টিভি ক্যামরার সামনে এসে তাদের দাবী দাওয়ার কথা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছিল, একই প্রক্রিয়াই সজীব জয় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন

ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসেছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও বৃটেন বাংলাদেশের ঘটনার তদন্ত করবে। অথচ এই মার্কিন-বৃটিশরা সারা বিশ্বে মুসলিম নিধনে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, এরা সবাই সরকারকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে এই বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার সাথে সংশি−ষ্ট ভারত ও ভারতের এদেশীয় দোসরদের ভূমিকার দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে।

সরকার মিডিয়াকে দায়িত্বশীল আচরণের কথা বলে এখন সত্য প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের একটি অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছে যাওয়ায় সরকার ঐ ওয়েব সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। হিযবুত তাহ্‌রীর, বাংলাদেশ এই ঘটনার বিশে−ষণ করে ভারতকে দায়ী করায় ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করায় সরকার ৩১ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। জনগণ এমনকি সেনা অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কিছুই হয়না আর রাষ্ট্র রক্ষার জন্য রাজপথে নামলে হয় মামলা আর হয়রানি!

সরকার জনগণের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে দায়িত্বশীল হতে বলছে, অথচ তারা অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা দেখেছি সরকারের স্তাবকেরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছে, জঙ্গিবাদকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, এমনকি সরকারের বয়স মাত্র পঞ্চাশ দিন ইত্যাদি বলে ঘটনার দায়দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তদন্ত কমিটির কোন রিপোর্ট প্রকাশ না হতেই সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও মিডিয়া জঙ্গী গোষ্ঠীদেরকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা শুরু করেছে। আবার একই মন্ত্রী পরবর্তীতে বলছে যে জঙ্গীরা ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীও এই ঘটনার সাথে জড়িত।

যেখানে ভারতে কিছু ঘটলেই ভারত সরকার পাশ্ববর্তী দেশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে, সেখানে সরকার পরিকল্পনা করেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেণের উপসংহারে এসে আমরা বলতে পারি যে এই তথাকথিত বিদ্রোহ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যার সাথে ভারত এবং সরকারের ভিতরে ও বাইরের ভারতীয় দোসর শক্তিসমূহ সংশি−ষ্ট। সেনাবাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের হত্যাযজ্ঞে লাভবান হবে মুশরিক শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের দোসররা। বিভিন্ন দাবির আড়ালে বিডিআর এর চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড থেকে বিডিআরকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনক্‌শা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়বে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা-বিডিআর এর যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অথবা বাংলাদেশ রাইফেল্‌স এর যে কোন দুর্বলতা অথবা এই দুই প্রতিরক্ষা বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারত। ……..(চলবে)

 

2 Responses

  1. following two links give newspaper report on a party named hizb ut tahrir who lunch challenging activities on two years completion of 25th February against hasina accusing her for pilkhana massacre along with RAW & CIA:

    http://jugantor.us/enews/issue/2011/02/24/news0148.php

    http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=24&date=2011-02-28

  2. Reblogged this on Dopinion.org.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: