• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 293,954 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

সীমান্ত বিরোধ শেষ হবে কবে

Source : সাপ্তাহিক ২০০০

অপূর্ব শর্মা

undefined

যুগ যুগ ধরে চলে আসা সীমান্ত বিরোধ কবে শেষ হবে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ভূমি জরিপ শুরু হলে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ভূমি সমস্যার সমাধান হবে এমন আশায় বুক বাঁধেন সীমান্ত এলাকার লোকজন। কিন্তু একাধিক স্থানে শুরুর পরপরই জরিপ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আদৌ সীমান্ত সমস্যার সমাধান হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিলেটে সীমান্ত সমস্যার মূল কারণ বিরোধপূর্ণ জমি। ভূমির দখল নিয়ে বিডিআর-বিএসএফ অসংখ্যবার মুখোমুখি হয়েছে। ঝরেছে রক্ত, ঝরেছে প্রাণ। সমস্যা সৃষ্টি হলে যথারীতি আয়োজন করা হয় পতাকা বৈঠকের। বৈঠকে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করে এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে বিডিআরকে আশ্বস্ত করে। কিন্তু এ আশ্বাস আর টেকে না। গুলির আওয়াজ শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় সীমান্তবাসীকে। গুলিবিনিময় শুরু হলে তাদের ছাড়তে হয় ঘরবাড়ি।

বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সিলেটের সীমান্তবর্তী ১০টি উপজেলার ১৭টি এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ দশমিক ১০ একর। এর মধ্যে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকূল মৌজায় উত্তরকুল বিওপির পাশে ১৩৫২/১১ এস সীমান্ত পিলার থেকে ১৩৫২/১২ এস খুঁটি পর্যন্ত ১৬ একর, রসুলপুর ও খলাদাপনিয়া মৌজায় বিয়ারাইল বিওপির পাশে ১৩৪৩ নং পিলার থেকে ১৩৪৭/১০ এস পিলার পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৯১ একর, গজুকাটা মৌজায় ১৩৫৭ নং পিলার থেকে ১৩৫৭/১৬ নং পিলার পর্যন্ত ১ দশমিক ৪৪ একর, বিয়ানীবাজার উপজেলার বড়গ্রাম মৌজায় ১৩৫৯ নং পিলারের কাছে ৩ একর, ছাতক উপজেলার সোনালীচেলা বিওপির পাশে সামারগাঁও মৌজার ১২৩৯ নং পিলার থেকে ১২৩৯/৪ এস পিলার পর্যন্ত ১২ দশমিক ৯০ একর, শ্রীপুর মৌজায় ১১ দশমিক ৯০ একর, জকিগঞ্জের আমলসীদ সীমান্তে ১৩৫৪/১১ থেকে ১৩৫৫/১ সীমান্ত পিলার পর্যন্ত ৩০ একর, জৈন্তাপুর শ্রীপুর সীমান্তে ১২৮১ পিলার থেকে ১২৮৪ নং পিলার পর্যন্ত ৪৯৩ একর, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার পাল্লাথল মৌজায় ১১৬৯/২ এস সীমান্ত খুঁটি থেকে ১৩৭৩ নং খুঁটি পর্যন্ত ৮৩০ একর, লাতু সীমান্তে ১৩৬৭/৫ এস সীমান্ত খুঁটি থেকে ১৩৬৭/৯ এস খুঁটি পর্যন্ত ৪৩ একর, কমলগঞ্জের খুরমা সীমান্তের পাশে ১৯০৪ নং পিলার থেকে ১৯০৫ নং পিলার পর্যন্ত ২৫০ একর, কুলাউড়ার লাঠটিলা সীমান্তে ১৩৯৭ নং পিলার থেকে ১৪০৭ নং পিলার পর্যন্ত ৫৯৯ একর, শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান সীমান্তে ১৯৩৫ নং পিলার পর্যন্ত ৬৫০ একর, হবিগঞ্জের বাল্লা সীমান্তে খোয়াইচরে ১৯৬৩/৮ পিলার থেকে ১৯৬৩/১১ পিলার পর্যন্ত ২০ একরসহ ৩ হাজার ৩৫০ দশমিক ১০ একর বিরোধপূর্ণ ভূমি রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিএসএফের শেল্টারে ভারতীয়রা বিরোধপূর্ণ ভূমিতে চাষাবাদ করে ফসল ফলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিলেই বাধছে সংঘর্ষ।

বিরোধপূর্ণ এই ভূমি নিয়ে সীমান্তে প্রতিবছরই বিডিআর-বিএসএফ বন্দুকযুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। প্রতিবার সংঘর্ষের সময় হাজার হাজার রাউন্ড গুলিবিনিময় হচ্ছে উভয় দেশের সীমান্তরীদের মধ্যে।

সিলেটের জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ডিবির হাওর, শ্রীপুর, তামাবিল, প্রতাপপুর, সোনারহাট, বিছনাকান্দি ও লালাখাল সীমান্ত এলাকায় ভূমি সমস্যা প্রকট। ভারতের সঙ্গে এ নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধ চলে আসছে কয়েক যুগ ধরে। ভারতীয় খাসিয়াদের দাবিÑ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের পূর্ব পুরুষের অনেক ভূমি রয়েছে। খাসিয়ারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে জোরপূর্বক জমিতে হালচাষ, পাকা ধানা কেটে ও বিল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ-এর সহযোগিতায়। কারণে-অকারণে ভারতীয়রা বাংলাদেশি জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে হতাহতও করছে। গত বছরের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্তে বিডিআর ও বিএসএফ-এর মধ্যে একাধিকবার গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

গত ৩ ডিসেম্বর বিরোধপূর্ণ তামাবিল সীমান্তে ১২৭১/১-১ সাব পিলার সংলগ্ন ছড়ার পশ্চিম পাশের বাংলাদেশি ভূ-খ-ের প্রায় দেড়শ গজ অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে ভারতীয়রা। তারা এ সময় বাংলাদেশের প্রায় ১ একর জমি দখল করে কেটে নেওয়া ধান গাছের গোড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে জবর দখল করা ওই জমিতে লাউ চাষের জন্য প্রায় ৭০/৮০টি গর্ত করে। ঘটনার পর বিডিআর-এর তামাবিল ক্যাম্প কমান্ডার এবং বিএসএফ-এর ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএসএফ-এর প থেকে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পর গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়।

চলমান এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যেই বিরোধপূর্ণ ভূমি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিডিআর ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত এলাকার ভূমির বিরোধসহ বেশকিছু বিষয়ে উভয় দেশ একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সিদ্ধান্তের প্রেেিত গত ২৯ নভেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড সার্ভে জরিপ কমিশনের যৌথ বৈঠক থেকে সীমান্তের ভূমি জরিপ শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় যৌথ ভূমি জরিপ কার্যক্রম। জরিপ কার্যক্রম চলাকালে গত ১৪ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্তে ৩শ একর বাংলাদেশি জমি বিএসএফ দখলের অপচেষ্টা চালায়। এতে করে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিডিআর রেড অ্যালার্ট জারি করে। এদিন রাত পৌনে ১১টায় স্থানীয় লোকজন বিএসএফকে ধাওয়া করলে তারা সীমান্তের ওপারে চলে যায়। এ কারণে এ সীমান্তে ভূমি জরিপ বন্ধ রয়েছে। তবে তা কবে শুরু হবে এ ব্যাপারে সঠিক কোনো ধারণা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ফলে এ সীমান্তে বিরোধ নিষ্পত্তি কবে হবে এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: