• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 291,391 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

বড়লেখা সীমান্তে যৌথ জরিপ ভূমি হারাতে পারে বাংলাদেশ

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের প্রায় ৫শ বিঘা ভূমি দখল করে নিয়েছে। ম্যাপ পাল্টে এবং দুদেশের সীমানা নির্ধারক পিলার উপড়ে ফেলে দখলে নেয়া হয়েছে এই জমি। সম্প্রতি বিডিআর এবং বিএসএফ যৌথ সীমানা জরিপের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ সময় বাংলাদেশ এ জমি ফেরত চাইলে বিএসএফ কোনো রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে এ ৫শ বিঘা জমি এখনো বাংলাদেশের দখলে আসেনি। এ জমি ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তপে দরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। অপরদিকে জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে যৌথ সীমানা জরিপ শুরু হয়েছে। এ জরিপের ফলে পাহাড়ের ৭শ একর ভূমি ভারতের দখলে চলে যাবে, এ ভাবনায় চিন্তাগ্রস্ত এ পাহাড়ের অধিবাসীরা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে সীমানা নির্ধারণের সময় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা সীমান্তের ন্যাশনাল টি কোম্পানির চাম্পারায় চা বাগানের পাশে একটি ক্যানেলে পোঁতা হয় সীমানা পিলার। কিন্তু সে ক্যানেলের পাশেই বাংলাদেশের ভেতরের কিছু ভূমি ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। এসব ভূমি ব্যবহার করত সেখানকার অধিবাসীরা। পরবর্তী সময়ে ওই অধিবাসীরা ভারতে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে থেকেই ওই জমি ফসল ফলানোর কাজে ব্যবহার করতে থাকে। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ওই ভূমির কোনো খোঁজ করেনি। এ সুযোগে বিএসএফ এ ভূমি দখলে নিয়ে নেয়। বিএসএফ সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশিদের ভারতের চন্দননগর গ্রামে পুনর্বাসন করে এবং  মূল ক্যানেল অর্থাৎ সীমান্ত পিলারের ৫-৬শ বিঘা ভূমি দখলে নেয় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাম্পারায় চা বাগানের সীমান্তের মূল ক্যানেলের সব সীমানা পিলার তুলে ফেলে। বিএসএফ মূল ক্যানেলের অনেকটা ভরাট করে তাদের সীমানায় নিয়ে সে জমি ভারতের চন্দননগরের জনগণকে উন্মুক্ত করে দেয়। তখন তৈরি করা হয় তাদের মনগড়া একটি সীমান্ত ম্যাপ। উন্মুক্ত জমিতে ভারতীয় বাসিন্দারা অবাধে প্রবেশ করে সেখানে বনায়ন ও ধানসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ করতে থাকে।

এ ব্যাপারে বিডিআর ১৪নং ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল হুদা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তের পুরনো ম্যাপের সঙ্গে যখন ভূমির সরেজমিনের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন এ জায়গা নিয়ে বেশ গবেষণা করতে হয়। সম্প্রতি বিডিআর নিশ্চিত হয় ভারতের দখলে থাকা প্রায় ৫শ বিঘা জমি বাংলাদেশের। এ বিষয়টি বিএসএফকে জানালে বিএসএফ এ ভূমি তাদের বলে দাবি করে। এ অবস্থায় বিষয়টি যৌথ জরিপ চালানোর অপোয় পড়ে থাকে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিডিআর ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে বিষয়টির মীমাংসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুদেশের সীমানা জরিপ শুরু হয়। জরিপকালেই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার চাম্পারায় চা বাগানের পাশে ভারতের চন্দননগরের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৫শ বিঘা জমি বাংলাদেশের বলে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি বিডিআর ১৪নং ব্যাটালিয়নের প থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের মেইন পিলার ১৯০৫-এর অভ্যন্তরে ওই ৫শ বিঘা ভূমিতে এক সময় বাংলাদেশিদের অনেক বাড়ি ছিল। কয়েক বছর আগে ওই বাসিন্দাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে বাড়িঘর তৈরি করে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলার বড়লেখা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাথারিয়া পাহাড়ের প্রায় ৭শ একর ভূমি ভারতের দখলে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করাছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া সীমান্ত থেকে জরিপ কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান এ জরিপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে পালাথল সীমান্তের খাসিয়াপল্লীসহ আশপাশ এলাকায়।

সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া সীমান্তে অবস্থিত পালাথল পানপুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ ভূমি জরিপ পুঞ্জির ৩ শতাধিক খাসিয়া পরিবারকে আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন জরিপে হয়তো এ ভূমি ভারতের দখলে চলে যাবে। এ ভূমি তাদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। এ ছাড়া এখানে আছে খাসিয়া পানপুঞ্জির খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি কবরস্থান, একটি মাজার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার পশ্চাৎপদ বড়লেখা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তের ১৩৬৯ নং মেইন পিলার থেকে ১৩৭৪ নং মেইন পিলার পর্যন্ত প্রায় ৭শ একর পাহাড়ি ভূমি শতাধিক বছর ধরে পালাথল পানপুঞ্জির খাসিয়ারা এদেশের ভূমি হিসাবে ভোগদখল করে আসছে। ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান শাসনামল শেষ করে বাংলাদেশের প্রায় চার দশকে কোনোদিন এখানে জরিপ হয়নি। এ ভূমিটুকু বিএসএফ ভারতের ভূমি বলে কোনোদিন দাবিও করেনি। এসব ভূমিতে বাংলাদেশি আদিবাসী খাসিয়ারা পানসহ নানা ফসলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ ছাড়া রয়েছে খাসিয়াদের শত শত কবর, হযরত কালা শাহ (রা.) নামে একজন পীরের মাজার, স্কুল ও গির্জা।

গহিন অরণ্যের পালাথল পানপুঞ্জির মন্ত্রী লোকাস বাহাদুর বলেন, ‘পালাথল পাহাড়ে ইউরেনিয়াম, খনিজ তেল, কয়লাসহ নানা মূল্যবান খনিজ পদার্থ রয়েছে। এ সব মূল্যবান সম্পদের দিকেই মূলত দৃষ্টি পড়েছে ভারতের।
স্থানীয় খাসিয়ারা জানান, যৌথ জরিপ কাজে অংশ নেয় বাংলাদেশি সার্ভেয়ার মোশারফ হোসেন ও ভারতের সার্ভেয়ার ডি.কে সাইকার নেতৃত্বে দুদেশের দুটি দল। জরিপ এখনো চলছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: