• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 277,514 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

পাল্টেছে হত্যাকান্ডের ধরন ও গল্প

Source : সাপ্তাহিক ২০০০

আব্দুল্লাহ্ নূহ

undefined
একটি সাম্প্রতিক ঘটনা
১০ অক্টোবর কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ির নলকোলায় ৪ চরমপন্থিকে স্থানীয় জনগণ পিটিয়ে হত্যা করে। সচরাচর বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসী নিহত হয়। কিন্তু ১১ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার বরাতে পাওয়া এ হত্যাকা-ের ঘটনার গল্পটি একটু ভিন্ন। এখানে গল্পটি এ রকমÑ ‘পুলিশ জানায় গতকাল রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি এমএল জনযুদ্ধের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল পোড়াদহ এলাকার এক কাপড় ব্যবসায়ীকে আইলচারা মোড় থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন চরমপন্থিদের ধাওয়া

করে। সাগর, রবিউল, সিরাজুল ও রেজাউল নামের চার চরমপন্থিকে পাটিকাবাড়ি এলাকায় ধরে গণপিটুনি দেয় এবং মেরে ফেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটটি হাতবোমা, একটি দেশি বন্দুক, একটি এলজি গান ও বন্দুকের চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।’
ঘটনাস্থল
সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনাস্থল সম্পর্কে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পোড়াদহের আইলচারা মোড় থেকে পাটিকাবাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন, কেউই জানেন না কারা এ ‘গণপিটুনি’ দ্বারা হত্যা করার ঘটনায় জড়িত ছিল। ঘটনাটি আসলে কী জানতে চাইলে করিম মৃধা নামের আইলচারার স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘কী কইরি বুইলবো আমাগের কেউই তো যাইনি। কেমুন কইরি, কারা মাইরলু তা কিডা জানে? এসব পুলিশিরই সাজানো আরেকটা গল্প হবি।’ গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে গ্রামবাসী কীভাবে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া করে এসে গণপিটুনি দিল? তারা কেন এতটা পথ পুলিশের সাহায্য না নিয়ে তাড়া করল? কেন পুলিশকে খবর দিল না? বোমা, এলজির মতো অস্ত্র যাদের হাতে তাদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র গ্রামবাসী এগিয়ে যাওয়ার সাহসই বা কীভাবে পেল? এমন সব অস্ত্র হাতে থেকেও চরমপন্থিরা প্রতিরোধ করল না কেন? কেউ আহত হলো না কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরো একটি প্রশ্ন জাগে, ‘এটাও কি তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের সাজানো গল্পের একটি ভিন্ন রূপ?’

ক্রসফায়ারের দুটি গল্প
এদিকে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে র‌্যাব ও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকা-ের কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু হত্যাকা- র‌্যাব, পুলিশের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি কিংবা আক্রোশ মেটানোর জন্য করা হয়েছে। যেমনÑ

ঘটনা-১
৩ মে ২০১০-এ কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুরউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আলীমের হত্যাকা-। নিহত আব্দুল আলীম কুষ্টিয়া জগতি চিনিকলের মওসুমি শ্রমিক ছিলেন এবং কৃষিকাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি তিন বছর বয়সী একটি কন্যা ও এগারো বছর বয়সী একটি পুত্রের জনক। আব্দুল আলীমের হত্যাকা-ের কয়েকদিন পর তার স্ত্রী আনজু বেগম একটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে অভিযোগ করে বলেছিলেন, এএসআই গোলাম মোস্তফা প্রায়ই তার স্বামীর কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করত। আব্দুল আলীম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ভয় দেখানো হতো, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। এমন একটি পরিস্থিতিতে গোলাম মোস্তফার দাবি করা ২ লাখ টাকার মধ্যে  দরিদ্র কৃষক আব্দুল আলীম ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে গোলাম মোস্তফাকে দেন। অবশিষ্ট টাকা তার দেওয়ার সাধ্য নেই বলে অক্ষমতা প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফা অবশিষ্ট টাকার দাবি ধরে রেখে হুমকি অব্যাহত রাখে। বাধ্য হয়ে আব্দুল আলীম প্রতিকার পাওয়ার আশায় মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম মেহেদী হাসানকে ঘটনাটি জানিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। উপরন্তু তিনিও গোলাম মোস্তফার দাবিকৃত টাকা পরিশোধের তাগিদ দেন। সেই সঙ্গে বলে দেন টাকা না দিলে যা হবে বলা হয়েছে তা হবে এবং এজন্য প্রস্তুত থাকতেও বলে দেন।
তারপরের ঘটনা র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধের গল্পের দৌলতে পত্রিকার মাধ্যমে আমাদের জানা। কিন্তু আনজু বেগমের দাবি ছিল পুলিশ তার স্বামীকে হত্যা করে নাটক সাজিয়েছে এবং এ মর্মে বিচার দাবি করে আনজু বেগম ১৯ জুলাই ২০১০-এ কুষ্টিয়ার সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ নথিভুক্ত করেন।

ঘটনা-২
২৬ জুলাই ২০০৮ নাটোরের সিংড়া থানার সার ব্যবসায়ী আনসার আলীকে পুলিশ হত্যা করে ক্রসফায়ারের নামে। আনসার আলীর পিতা রজব আলীর ১৭ আগস্ট ২০০৮-এ দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অন্যসব ঘটনার মতো ক্রসফায়ারের গল্প সাজানো হয়েছে।’ নিহত আনসার আলীর পিতা রজব আলীর দায়েরকৃত এই মামলায় তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিক সাইদ, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আশরাফুল হক এবং সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বক্করসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আনসার আলীকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ক্রসফায়ারের নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মামলাটি গ্রহণ করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্তকালে প্রতিবেদনে বের হয়ে আসে ক্রসফায়ারের সাজানো গল্পের সত্যতা।
তদন্তে জানা যায়, ২৩ জুলাই ২০০৮ রাত ৯টা-১০টার দিকে সার ব্যবসায়ী আনসার আলীকে পুলিশ তার নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সিংড়া থানায় নিয়ে যায়। ২৬ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবা রজব আলীসহ অন্য আত্মীয়রা থানায় গিয়ে আনসার আলীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় অফিসার ইনচার্জ সবাইকে বলেন, ২৭ জুলাই আনসার আলীকে আদালতে চালান দেওয়া হবে।
আত্মীয়রা চলে আসার পর ওই রাতেই থানা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কাকিয়ান জঙ্গলে নিয়ে আনসার আলীকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরদিন সিংড়া থানার এএসআই জসিমউদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে বর্ণনা করা হয় এভাবে, ‘পুলিশের একটি টহল দল কাকিয়ান জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আনসারসহ অন্য ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে টহল দলের সদস্যরাও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আনসার মারা যায়।’ কিন্তু আনসার যে আগে থেকেই থানা হেফাজতে ছিলেন এ তথ্য গোপন করা হয় মামলাতে।
বিচার বিভাগীয় তদন্তে বলা হয় আনসারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই হত্যা করে লাশ কাকিয়ান জঙ্গলে ফেলা হয়েছিল। আনসার ক্রসফায়ারে মৃত্যুবরণ করেননি। বরং তাকে গ্রেফতারের পর থানা হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, ‘পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আনসার ২৫ কিলোমিটার দূরে কাকিয়ান জঙ্গলে অন্য ডাকাতদের সঙ্গে মিলিত হলেন কীভাবে?’


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: