• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 285,308 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

২ বছরে আমাদের মন্ত্রিসভা

Source : Shaptahik

শুভ কিবরিয়া

নবম সংসদ নির্বাচনে ভূমি ধস দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার গঠনকালে সবার আগ্রহ ছিল এবার কাদের জায়গা হয় মন্ত্রিসভায় তা দেখার। কেননা, ইতোমধ্যে ঘটে গেছে ১/১১ নামের রাজনীতির এক জটিল অধ্যায়। ভেতরে ভেতরে অনেক ওলটপালট হয়েছে। কথিত সংস্কারবাদীরা দলের মধ্য থেকেই দুই বড় নেত্রীকে মাইনাস করতে চেয়েছে। তাই ১/১১ উত্তর এই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে আমজনতার কৌতূহল ছিল অধিক। প্রধানমন্ত্রী সেই কৌতূহল নিবৃত করেছেন অধিকতর চমক দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী, ৪৪ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ৫ নারীকে জায়গা দেন। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তুলে দেন নারীদের হাতে। এই মন্ত্রিসভা নিয়ে অনেক কথা হয়। শেখ হাসিনা এই চমকের মন্ত্রিসভার ওপর আস্থা রাখেন। অনেকে এই মন্ত্রিসভাকে ‘কচিকাঁচার মন্ত্রিসভা’ আখ্যা দিলেও শেখ হাসিনা খুশি থাকেন তার সহকর্মীদের নিয়ে।
এই মন্ত্রিসভার দুই  বছর পূর্ণ হতে চলেছে। মন্ত্রিসভার বেশ ক’জন সদস্য কথা ও কাজ দিয়ে দুই বছর সরব রেখেছে মিডিয়া।
দুই বছরে সরকার অনেক নতুন চ্যালেঞ্জিং ইতিহাস সৃষ্টিকারী কাজ করেছেন। আলোচনা ও সমালোচনা দুই আছে মন্ত্রিসভা নিয়ে।
কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়ে আগের মতোই উজ্জ্বল মতিয়া চৌধুরী। নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। নতুন শিক্ষানীতি চালু, সঠিক সময়ে বিনামূল্যে বই সরবরাহ, দুটি নতুন পরীক্ষা চালু (পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণী) তাকে একজন জনবান্ধব মন্ত্রী হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। আইনমন্ত্রী শফিক আহমদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল তৈরিসহ এ সংক্রান্ত কাজে যথেষ্ট স্থিরতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।
ভালো বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও ড. ইউনূস বিতর্কে দোটানায় ছিলেন বছর শেষে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরব থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম কাটেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটা শক্তিমান তা টের পেয়েছে বিরোধী দল। তবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে যে হৈ চৈ হচ্ছে তার মোকাবিলা কিভাবে করবে সরকারÑ সেটাই এখন দেখার বিষয়। যোগাযোগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীই শক্তিমান। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই দুই মন্ত্রী যে কোনো বিরোধিতা  দক্ষতার সঙ্গেই সামলেছেন।
এ রকম যোগ্যতার বাইরে কথক মন্ত্রীদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান সারাবছর নানা বিষয়ে স্ববিরোধী কথা বলেছেন কাজের চাইতে বেশি। এসব কথা কখনো মানুষকে বিনোদন দিয়েছে। কখনো করেছে বিরক্তও। তবুও তারা থামেননি। বছরজুড়েই নানাভাবে, নানা প্রসঙ্গে বক্তব্যমুখর থেকেছেন।
এই মন্ত্রিসভায় সাতজন উপদেষ্টা আছেন মন্ত্রীর মর্যাদায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। তাদেরকেই সমীহ করে চলেছে দেশের প্রশাসন সকল অর্থেই। ক্ষমতাবান উপদেষ্টাদের প্রায় সকলেই সাবেক সামরিক ও বেসামরিক আমলা।
মন্ত্রিসভায় একজন দপ্তরবিহীন প্রতিমন্ত্রী আছেন। যিনি নিজে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেননি বলেই মন্ত্রির তালিকায় তার নাম এখনো ঝুলছে।
এসব মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রীর বহরে বেশ ক’জন সদস্য আছেন যারা সারাবছর থেকেছেন অনুজ্জ্বল। কথা ও কাজ কোনোটাতেই তাদের ঔজ্জ্বল্য চোখে পড়েনি। বরং তাদের এই নীরবতা অনেক গল্পের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়ে এসে কর্মহীন, আলোচনাহীন থাকবার প্রথা ভাঙতে চেয়েছেন অনেক অপ্রথাগত কাজ দিয়ে। এই অনুজ্জ্বল আলোচনাহীন মন্ত্রীদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

২.
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)-এর একটি অনুষ্ঠান। পানিসম্পদ বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শুরুর প্রারম্ভে কথা ছিল নির্ধারিত একজন শিক্ষার্থী প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সভাপতিসহ আলোচকবৃন্দ। শিক্ষার্থী প্রধান অতিথিকে ফুল দিতে গিয়ে ফুল দিয়ে আসে পাশের জন বিশেষ অতিথিকে। এ নিয়ে হাসাহাসি, কথা চালাচালি হয়। শিক্ষার্থীর নির্বুদ্ধিতা, প্রধান অতিথি না চেনা, এসব নিয়ে নানান কথা হয়। সেই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও বিব্রত হন। তাদের প্রশ্ন, কেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রীকে চিনবেন না, বুয়েটের একজন শিক্ষার্থী?
বিষয়টি ভাববার মতো। প্রশ্ন উঠতেই পারে কীভাবে একজন মন্ত্রীকে দেখেই চেনে একজন অচেনা মানুষ?
প্রথমত তিনি যদি খুব পরিচিত মুখ হন, প্রতিদিন নানাভাবে তাকে মিডিয়ায় দেখা যায়, অথবা তার সুকাজ বা অকাজ দ্বারা তিনি খ্যাতিমান বা বিতর্কিত হলে তাকে সহজে চেনা যায় মিডিয়ার মাধ্যমে। নিশ্চয়ই শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়াকে চিনতে অসুবিধা হয় না কারো। এমনকি মানুষ চেনা শুরু করা শিশুরাও তাদের চিনে ফেলে সহজেই। প্রতিদিন দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে, জানা হয়ে যায় ইনিই শেখ হাসিনা, ইনিই বেগম জিয়া।
আজকের একজন তরুণ নিশ্চয়ই সাহারা খাতুন বা ডা. দীপু মনিকে চিনতে ভুল করবেন না। নিশ্চয়ই নানা বিষয়ে নানান কথা বলা, মিডিয়ায় কথা বলে সেই কথা রাখতে ব্যর্থ হওয়া, মন্ত্রী ফারুক খানকে চিনতে অসুবিধা হবে না একজন তরুণ বা তরুণীর। কিন্তু খুব সচেতন, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিভাবাপন্ন একজন তরুণ বা তরুণী কি চিনবেন দেশের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে এমন কোনো উদ্যম, উদ্যোগ, কর্মযজ্ঞে গত দুই বছরে কি তাকে পাওয়া গেছে? বরং তিনি ছড়া লিখেছেন সংবাদপত্রে, ছড়া পড়েছেন মন্ত্রিসভার মিটিংয়ে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তৈরি করবে যে সরকার, তার তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী যদি ‘ছড়া’ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে সেটা কি মানানসই লাগে!

৩.
এই মন্ত্রিসভায় একজন মহিলা সদস্য আছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। দক্ষিণের জেলা থেকে আসা শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত এই প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে সারাবছর মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কোনো কাজে দেখা যায়নি। আমলাদের হাতে নিজ মন্ত্রণালয় ছেড়ে তিনি এলাকার তদ্বির নিয়ে নানা  মন্ত্রণালয়ে ঘুরেছেন বলে খবর বেরিয়েছে সংবাদপত্রে।  বিগত এক বছর এই মন্ত্রণালয়ের সমস্যা  নিয়ে হৈ হৈ রৈ রৈ, মারদাংগা, ভাঙচুর, রিমান্ড, গ্রেফতার কম হয়নি। কিন্তু তাকে এই শ্রমসমস্যা সমাধানের কাজে পাওয়া গেল কই? প্রশ্ন তো উঠতেই পারে এ রকম মন্ত্রীর হাতে গুরুত্ববহ এই মন্ত্রণালয় কতটা নিরাপদ?
একজন মন্ত্রী আছেন যিনি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সহকর্মীদেরও পাত্তা দেন না। দু’চোখে সাংবাদিকদের দেখতে পারেন না। আমলাদের সঙ্গেও তার সাংঘর্ষিক সম্পর্ক। ইতোমধ্যে নিজ মন্ত্রণালয়ে চড়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করেছেন। ‘সবজান্তা’ এই মন্ত্রীর হামবড়া ভাব ইতোমধ্যে নানান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের একজন সংস্কৃতিসেবী কর্মবীর সবসময় বলেন, বাংলাদেশের শক্তি হচ্ছে ‘কালচার’ আর ‘এগ্রিকালচার’। সরকারের উচিত এই দুই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানো। মনোযোগ দেয়া। এখানে থাকা দরকার শক্তিমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব। খুশির খবর এগ্রিকালচার বা কৃষিতে আমরা একজন মতিয়া চৌধুরী পেয়েছি। যিনি সৎ, কাজ বোঝেন, কৃষি জানেন, রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে প্রশাসনিক নেতৃত্বের ওপর দক্ষতার সঙ্গে চালাতে পারেন। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ দাতাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করার শক্তি রাখেন, আবার আমলাতন্ত্রের সকল প্যাঁচকে নিজের মতো করে চালাতে সক্ষমতার ঝুঁকিও নিতে পারেন। মন্ত্রণালয় এবং দল-দুটোকে এক না করেই সফলভাবে কাজ করেন।
এগ্রিকালচারের এই সাফল্য ‘কালচারে’ একেবারেই অনুজ্জ্বল। সেখানে বরাদ্দ কম, কার্যক্রম শূন্য। পাঠকদের জন্য কুইজ রাখা যেতে পারে, এই  মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে?
তাকে কি চেনেন?
নামে না চিনলেও কাজে কি চেনেন?

৪.
পানিসম্পদ  মন্ত্রণালয় এ বছর খুব আলোচনায় এসেছে টিপাইমুখ বাঁধ, অভিন্ন নদী সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে। অথচ প্রায় নীরব থেকেছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়। তাকিয়ে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ওখানকার অহি পাবার পর। এখানে একজন প্রতিমন্ত্রীও আছেন। কুইজের প্রশ্ন হতে পারে, তার নাম কি?
এমনই অনুজ্জ্বল, কার্যক্রমহীন থেকেছে এই মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
শিক্ষক ও ব্যবসায়ী পেশা থেকে আসা এই মন্ত্রী মহোদয় কেন এতবড় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন তা নিয়ে বিস্ময় আছে। নিন্দুকেরা বলে, মন্ত্রীর নিজের বিস্ময়ও নাকি কম নয় এই মন্ত্রিত্ব পাবার বিষয়ে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক দপ্তর, অধিদপ্তর আছে। এগুলোর কোনোটাতেই তার কথা টেকে না। ওপরের ওহিতেই চলেন এসব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। হয়ত কাজ কম মন্ত্রীর হাতে। তাই সাংবাদিকদের একবার বলেই ফেলেছিলেন, ‘ভারত থেকে এত পানি এনে কি হবে? পানি তো সব বঙ্গোপসাগরেই চলে যাবে’।
নিজ জেলায় গিয়েছিলেন মন্ত্রী মহোদয়। উত্তরবঙ্গের এই শান্ত জেলা অশান্ত করে এসেছিলেন এই বলে, এ জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশে নিয়োগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগে ছাত্রলীগের ছেলেদেরই নেয়া হবে। সব জায়গায় অগ্রাধিকার পাবে ছাত্রলীগ। এই সংবাদ ঢাকার একটি দৈনিকে পাঠিয়েছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক। মূল অফিসের কর্তাব্যক্তিরা বিশ্বাস করতে পারেন নাই এই নির্বিবাদী, নিরীহ মন্ত্রীর সাহসী উচ্চারণ। পরে ওই সংবাদের ভিডিও ফুটেজ পাঠালে স্থানীয় সাংবাদিকের সংবাদটি গুরুত্বসহ সংবাদপত্রে ছাপা হয়।
এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের অবস্থাও তথৈবচ। সংবাদপত্রের শিরোনামে এসেছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিকে নিজের গানম্যান পাঠিয়ে উঠিয়ে আনার চেষ্টার খবর দিয়ে। এমডির অপরাধ প্রতিমন্ত্রীর একটি বদলির তদবির ছিল । তিনি দ্রুততার সঙ্গে তা আমলে নেননি।

৫.
ধর্ম ও ক্রীড়া দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বছর বাংলাদেশে বসবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। অথচ এই মন্ত্রণালয় পেয়েছে এমন একজন মন্ত্রীকে, যার চাইতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, বোর্ডের চেয়ারম্যানরাই সমুজ্জ্বল, শক্তিমান। তাদের ঝাঁকুনিতেই কাহিল এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উজ্জ্বল হন চাঁদ দেখার দিনে অথবা হজের সময়। মিডিয়া জগতে প্রচলিত আছে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কথায়। মন্ত্রীর চাইতে তিনিই  নাকি শক্তিমান।
আইন মন্ত্রণালয় এবার খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নানা কারণে। তবে শান্ত স্থিতধী আইনমন্ত্রীর চাইতে অস্থির, অধিকতর ক্রিয়াশীল আইন প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় এসেছেন নানাভাবে। প্রথমত দুই বিচারকের চাকরি খাওয়া ও ফেরত দেয়া, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বিব্রত করা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে সারা বছর অহেতুক অপ্রয়োজনীয় কথা বলা,  রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার, শেষে আইন সচিব নিয়োগ নিয়ে বাড়াবাড়ি।
এসব তাকে বেশ আলোচনায় রেখেছে।
বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড এবং শাসনকাল, দুর্নীতি নিয়ে খুব সরব থেকেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতই জানে, তাকে নিয়ে অন্যরা কি অভিযোগ তুলবেন। বর্তমানের খবর হচ্ছে আইন প্রতিমন্ত্রীর নিজ পরিবারের সদস্যরা বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স পেয়েছেন। উচ্চপদস্থ সরকারি পদেও বসেছেন তারই আনুকূল্যে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, জনস্বার্থে। এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী দুই ধারার লোক।  দুজনেই সক্রিয়। ফলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলেছে সারা বছর। প্রধানমন্ত্রী কেনো এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এ রকম বিপরীতমুখী ধারার দুজন লোককে দায়িত্ব দিলেন, তা খুব বড় প্রশ্ন। এমনিতেই স্বাস্থ্য এবং পরিবার-পরিকল্পনা এই দুই বিভাগের দ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ বহু বছর ধরে এই মন্ত্রণালয়কে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছে। চিকিৎসকদের দলীয় রাজনীতি এই মন্ত্রণালয়ের বড় রোগ। এসব অভ্যন্তরীণ ক্ষত থাকার পরও দুই কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তির হাতে মন্ত্রণালয় তুলে প্রধানমন্ত্রী কার ‘নিরাময়’ চাইলেন বোঝা মুশকিল!
আবার এই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীও আছেন। নিযুক্তির পর নিজ এলাকায়, ‘তোরণ বহর’ দ্বারা সংবর্ধিত হয়ে সংবাদপত্রের নেগেটিভ  সংবাদের শিরোনাম হওয়া ছাড়া আর কখনো আলোচনায় আসেননি তিনি। ক্ষমতাবান উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর দাপটে ম্রিয়মাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাজটা করার। সেখানেও অনুজ্জ্বল তিনি।
সমাজকল্যাণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অনুজ্জ্বল থেকেছেন সারা বছর। জিএম কাদের বা দিলীপ বড়–য়া খুব সচকিত, সচল এমন বলা যাবে না। বরং ভিন দল থেকে এসে আওয়ামী মন্ত্রিসভায় টিকে থাকার সংগ্রামেই রত থেকেছেন সারা বছর।
সমাজের কি কল্যাণ বয়ে এনেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের  মন্ত্রী মহোদয় তা তিনিই ভালো জানেন। তবে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে এনজিওরা বিশেষত গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক দেশের উপকারের চাইতে অপকার করেছে বেশি এই তত্ত্ব ও বক্তব্য সারাবছর জোরের সঙ্গেই দিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয় নৌ মন্ত্রণালয় থেকে অপসারিত হয়ে এসেছেন এই মন্ত্রণালয়ে। নতুন মন্ত্রী হিসেবে অনুজ্জ্বল থেকেছেন। চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মেয়র গ্রুপের আধিপত্য রুখতেই সমস্ত শক্তি বিনিয়োগ করেছেন।
কুইজের প্রশ্ন হতে পারে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে, তার নাম ও কাজ কি?

৬.
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সফল হতে পারেনি বিলক্ষণ। হারানো শ্রমবাজার ফেরত আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর বেহাই বলে মন্ত্রীমহোদয় হয়ত অনেক বাড়তি সুবিধা পান সর্বক্ষেত্রেই কিন্তু অভিবাসন কর্মসংস্থান কূটনীতিতে তার তেমন সাফল্য চোখে পড়েনি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সারা বছরই আলোচনায় থেকেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা। ঘড়ির কাঁটা বদলানো, সাগরের তেল-গ্যাস ইজারা দেয়া, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ বানানো নীতিমালা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দায়মুক্তির আইন বানানো ইত্যাদি, অনেক বিতর্কে এবং সংঘাতময় কাজ এসেছে তার হাত ধরে।
এ সময় নেয়া তার নানা উদ্যোগ আগামী বছরজুড়েও বিতর্ক অব্যাহত রাখবে।
অভিযোগ আছে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানির স্বার্থ দেখেন এই জ্বালানি উপদেষ্টা। এ রকম অভিযোগের পরও এই খাত চালানোর জন্য তিনিই কোনো প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সেটি এক গভীর রহস্যই বটে!
এখানে প্রতিমন্ত্রী বদল হয়েছে এক বছরে। বর্তমান প্রতিমন্ত্রী সামরিক আমলা হিসেবে অতীতে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান চালিয়েছেন চেয়ারম্যান হিসেবে। সে সময় সেখানে তার নিজ জেলার, নিজ পরিবারের কতজন লোক চাকরি, ব্যবসা পেয়েছেন এই রেকর্ড ঘাটলেই তার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
দাপুটে জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে পাত্তা না পেয়ে তিনিও কাহিল। ডাকাডাকি না থাকলে তিনিও খুব একটা সচল নন এই মন্ত্রণালয়ের কাজে। ডাকলে মিটিংয়ে যান। নইলে যান না।
পরিবেশ থেকে ভূমিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এসেছেন উত্তরাঞ্চলের এক জেলা থেকে পাঁচ পাঁচবার এমপি হিসেবে নির্বাচিত এক দলীয় নেতা। এশিয়া এনার্জির তৎপরতা চলেছে, চলছে তার নির্বাচনী এলাকায়। সকল সংহাতে এশিয়া এনার্জির পক্ষ নেবার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে তিনিও খুব সরব নন।

৭.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার নেত্রী তার ভাষায় সমালোচিত ‘কচিকাঁচার’ মন্ত্রিসভা নিয়েই পার করেছেন এই দুই বছর। প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় বলেছেন, অদক্ষতা বা স্মার্টনেসের  অভাব এই অভিযোগ থাকলেও তার মন্ত্রীরা দুর্নীতিবাজ এ কথা কেউ তাকে বলেননি। প্রধানমন্ত্রীর এই কনফিডেন্স আশাজাগানিয়া ভালো কথা।
‘সততা’ মন্ত্রণালয় চালানোর একমাত্র যোগ্যতার সূচক, এ ধারণাটিও সেকেলে। জটিল ভূ-রাজনীতি আর দুর্বল অর্থনীতির জনবহুল একটি দেশে ‘দক্ষতা’ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুটোর মিশেল ঘটলে তো কথাই নেই।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এটিও ভাবা দরকার মন্ত্রীদের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কেউ তার সামনে যাবেন, সে রকম সুশাসন কি বর্তমান বাংলাদেশ দিতে পেরেছে?
কার ঘাড়ে কটি মাথা আছে !
বিশেষ দ্রষ্টব্য : বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়ে একটি কুইজ পাঠকদের জন্য। স্মৃতি থেকে নাম বলুন তো, চেনেন কি এই মন্ত্রীদের?
ক. প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
খ. প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গ. প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঘ. প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম বিষয়ক  মন্ত্রণালয়।
ঙ. প্রতিমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চ. প্রতিমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয়।
পুনশ্চ : ক. প্রধানমন্ত্রী বরাবর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অভিযোগপত্র দায়ের করেছিলেন। এর তদন্ত হয়নি। বরং তার চাকরি গেছে।
এই সরকারের শুরুতে নির্বাচন কমিশনও এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছিলেন। সরকারি কর্মজীবীদের সাক্ষ্যে অবশ্য ক্ষমতাসীন এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: