• Categories

  • Archives

  • Join Bangladesh Army

    "Ever High Is My Head" Please click on the image

  • Join Bangladesh Navy

    "In War & Peace Invincible At Sea" Please click on the image

  • Join Bangladesh Air Force

    "The Sky of Bangladesh Will Be Kept Free" Please click on the image

  • Blog Stats

    • 280,359 hits
  • Get Email Updates

  • Like Our Facebook Page

  • Visitors Location

    Map
  • Hot Categories

গবেষণা: মুক্তিযুদ্ধে একাধিক বীরত্বসূচক খেতাব

Source : সাপ্তাহিক ২০০০

 

মুহাম্মদ লুৎফুল হক

মানব সভ্যতার ইতিহাস যত পুরনো, যুদ্ধের ইতিহাসও তত পুরনো। আর যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য স্বীকৃতি প্রদানও ততই পুরনো। দেশ বা জাতির কাছে যুদ্ধেেত্র সাহস ও বীরত্বের একটি ভিন্ন মর্যাদা সব সবসময়ই ছিল ও আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের একেবারে সূচনাতেই (মে ১৯৭১) বীরত্বসূচক কাজের স্বীকৃতি হিসাবে খেতাব প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যুদ্ধের তীব্রতা, মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাব, খেতাব বিষয়ে আরো বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশের অপো প্রভৃতি কারণে খেতাব প্রবর্তনের প্রথমদিকে সেক্টর ও ইউনিট থেকে সুপারিশ প্রেরণে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাধীনতাযুদ্ধকালে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের খেতাব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেও স্বাধীনতা উত্তরকালে বাকি সবার খেতাব প্রক্রিয়া সম্পন্ন

হয়। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার কারণে ৬৭৬ জনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের গেজেট প্রকাশিত হয়, এদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৭, বীরউত্তম ৬৮, বীরবিক্রম ১৭৫ এবং বীরপ্রতীক ৪২৬ জন। বিজ্ঞজনদের মতামত যে খেতাব প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে খেতাব প্রদানের সব কর্মকা- সমাপ্ত করে গেজেট প্রকাশ করা পর্যন্ত প্রায় ৩১ মাস সময় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হলেও পুরা প্রক্রিয়াটি যথাযথ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে খেতাব প্রদান বিষয়টি অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একই ব্যক্তির একাধিক খেতাব। এ বিষয়ে সরকার থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। খেতাব প্রাপকের কাছেও বিষয়টি অস্পষ্ট।
ভিন্ন যুদ্ধে বা সামরিক অভিযানে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য সৈনিকরা একাধিক বীরত্বসূচক খেতাব পেতে পারেন ইতিহাসে এ ধরনের অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। অনেক যোদ্ধা বা সৈনিক তার দীর্ঘ সামরিক জীবনে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ৪-৫টি পর্যন্ত বীরত্বসূচক খেতাব পেয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ভিন্ন অভিযানের জন্য একাধিক বীরত্বসূচক পদকও পেয়েছেন। ব্রিটেনে চারজন সৈনিক সে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব মিলিটারি ক্রশ চারবার পেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ স্বদেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাবও একাধিকবার পেয়েছে। Captain Arthur Martin-Leak, Captain Noel Godfrey Chavasse, MC, MB এবং Captain Charis Hazlett Upham ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব (ভিক্টোরিয়া ক্রশ) দুবার করে লাভ করেন। কোনো কোনো খেতাব প্রাপ্তির েেত্র পূর্বশর্ত হিসাবে উল্লেখ থাকে যে ওই খেতাব পাওয়ার জন্য প্রাপককে তার এক ধাপ নিচু খেতাবটি পেতে হবে। যেমন জার্মানির সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব নাইটস ক্রশ অব দি আয়রন ক্রশ উইথ গোল্ডেন ওক লিফস, সোর্ডস অ্যান্ড ডায়মন্ডস পেতে হলে তাকে এর আগের চারটি বীরত্বসূচক খেতাব পেতে হবে। আবার কোনো কোনো দেশে একই খেতাব দ্বিতীয়বার পাওয়ার পদ্ধতি নেই।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বাহিনীর জন্য খেতাব প্রচলনকালে একাধিক খেতাব প্রাপ্তির কোনো নীতিমালা না থাকলেও পরে সশস্ত্র বাহিনীর নীতিমালায় একাধিক খেতাব প্রাপ্তির বিষয়ে উল্লেখ আছে। সশস্ত্র বাহিনীর খেতাব বিষয়ে সাধারণ নীতিমালা অনুযায়ী সৈনিক একবার বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত হওয়ার পর পুনরায় একই বীরত্বসূচক খেতাব বা তা অপো ওপরের যে কোনো বীরত্বসূচক খেতাব পেতে পারেন। তবে কেউ একই খেতাব একাধিকবার পেলে তিনি ওই খেতাবের জন্য প্রযোজ্য একটি পদক পরিধান করেন এবং রিবনের ওপর একটি বার সংযুক্ত করেন। এই বার দ্বারা বোঝা যায় যে প্রাপক একই খেতাব একাধিকবার পেয়েছেন। এছাড়া কেউ যদি একই শ্রেণী, ধারা বা বিন্যাসের (ঙৎফবৎ) মধ্যে পূর্বে প্রাপ্ত খেতাব অপো উচ্চপদের খেতাবপ্রাপ্ত হন তবে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ খেতাবটি বলবৎ থাকবে এবং পূর্বে প্রাপ্ত নিচু পদের খেতাবটি বাতিল হয়ে যাবে। নীতিমালায় ব্যবহৃত বাক্যটিতে বলা হয়েছে “The recipient of a higher award within the same order shall be deemed to have vacated the lower award”.
স্বাধীনতাযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজনের সুপারিশনামা সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মজুদ আছে, তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন আহাম্মদের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। ক্যাপ্টেন হাফিজের অন্তত দুটি সুপারিশনামা সেনাসদরে মজুদ আছে, যা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই বাংলাদেশ বাহিনী সদর দপ্তরে পাঠানো হয় (একটি আগস্ট ১৯৭১-এ এবং অপরটি সম্ভবত ডিসেম্বর ১৯৭১-এ)। এ সুপারিশনামাগুলোয় ক্যাপ্টেন হাফিজের চারটি বীরত্বসূচক বা সাহসিকতাপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা করে সাইটেশন প্রদান করা হয়, এর মধ্যে দুটি ঘটনায় লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করে সুপারিশ করেন। এ ধরনের আরো কিছু পরিচিত মুক্তিযোদ্ধার (যেমনÑ মেজর শাফাত জামিল, মেজর জাফর ইমাম প্রমুখ) একাধিক সাইটেশন ও সুপারিশনামা ল্য করা যায়। কিন্তু তাদের কাউকে একাধিক খেতাব প্রদান করা হয়নি। কারণ বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ সময়কে একটি যুদ্ধ হিসাবে ধরে অথবা আলাদা অপারেশন বা ক্যাম্পেইন হিসাবে চিহ্নিত না করে মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সার্বিক অবদান বিবেচনা করে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধে একই ব্যক্তির পে দুটি খেতাব পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চে পত্রপত্রিকায় খেতাবপ্রাপ্তদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আগস্ট মাসে খেতাবপ্রাপ্তদের মূল তালিকা প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের হস্তগত হয়। প্রতিরা মন্ত্রণালয় তালিকায় কিছু গরমিল দেখতে পায়। এর মধ্যে অন্যতম গরমিল ছিল কিছু খেতাবপ্রাপ্তের নাম একাধিকবার উল্লেখ হওয়া। ডিসেম্বর ১৯৭৩-এ বিষয়টি প্রতিরামন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আনা হলে তিনি তা আবার নিরীা করতে বলেন। তদন্তাধীন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বিষয়টি নিরীা করে একাধিকবার উল্লিখিত নামগুলো ঠিক করেন। তিনি পুরো বিষয়টি একদিনের (১৯৭৩ সালের ১১ ডিসেম্বর) মধ্যেই সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করেন কর্নেল মঞ্জুর। ধারণা করা যায় যে এত অল্প সময়ে খেতাব তালিকার সব ভুল শোধরানো সম্ভব হয়নি, কিছু ত্র“টি থেকেই যায় এবং চূড়ান্ত তালিকায় (১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বরে প্রকাশিত গেজেটে) কয়েক জনের নাম দুবার করে মুদ্রিত হয়। তবে এদের কোনো সাইটেশন, সুপারিশনামা না থাকায়  বোঝা যায় না যে, তারা কোন কোন যুদ্ধে কী কী বীরত্বসূচক কাজের জন্য এই খেতাব পেয়েছেন। যে কয়েক জনের বিষয়ে এ ভুল হয়েছে বলে মনে করছি এবং নজরে এসেছে তাদের নাম ও সম্ভাব্য কারণ নিচে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হলো। একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলা দরকার যে, উল্লিখিত মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন এবং একাধিক খেতাব পাওয়ার নিয়ম থাকলে অনেকের সঙ্গে তারাও তা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। খেতাবপ্রাপ্তের নামের তালিকায় একাধিকবার নাম থাকার বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে খেতাবপ্রাপকদের ত্র“টিপূর্ণ পদ্ধতিতে নির্বাচন, দাপ্তরিক বা কারিক্যাল ভুল বা মুদ্রণ বিভ্রাটের জন্য হয়েছে। এর সঙ্গে খেতাবপ্রাপ্তের অবদানের কোনো সম্পর্ক নেই।
গেজেটে বর্ণিত ক্রমিক নং বীরউত্তম-৫৫-এ উল্লিখিত ৬৭৯৮১ সাব লেফটেন্যান্ট আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (Abdul Wahid Chowdhury) এবং ক্রমিক নং বীরবিক্রম-১৩৩-এ উল্লিখিত সাবমেরিনার আবদুল ডব্লিউ চৌধুরী (Abdul W Chowdhury) ১ নং সেক্টর একই মুক্তিযোদ্ধা। এই দুটি অ্যান্ট্রি সৈনিক নং পদবি/পদ এবং নামের মধ্যে পার্থক্য আছে। এ ছাড়াও দুটি সুপারিশ দুটি সূত্র থেকে এসেছিল। বীরবিক্রম সুপারিশ আসে ১ নং সেক্টর থেকে (Abdul W Choudhury, Ex Navy) আর বীরউত্তম খেতাবের জন্য সুপারিশ আসে নৌবাহিনী থেকে (No.67981 (BN110) Sub Lt Abdul Wahid Chowdhury Camp C2P হিসাবে)। আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর সুপারিশনামা বা সাইটেশন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা যায় যে, আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর সুপারিশ দুই উৎস থেকে আসা, নামের বানানগত পার্থক্য এবং পদ/পদবির ভিন্নতা থাকায় ভুলক্রমে খেতাবপ্রাপ্তের তালিকায় তার নাম দুবার এসেছে। ২০০৪ সালে নতুনভাবে প্রকাশিত বাংলা গেজেটে ঠিকানা একই থাকলেও পুনরায় দুই নামে দুই জায়গায় খেতাব দেখানো হয়েছে (ক্রমিক নং-৬২ ও ২০৮)।
গেজেটে বর্ণিত ক্রমিক নং বীরউত্তম-২৯-এ উল্লিখিত বিজেও ২৬৫০৭ সুবেদার আফতাব আলী (BJO-26507 Subedar Aftab Ali) এবং ক্রমিক নং বীরপ্রতীক-৬৩-এ উল্লিখিত সুবেদার আফতাব হোসেন, ১১ নং সেক্টর (Subedar Aftab Hussain, 11 Sector) একই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭২ সালের ১২ আগস্ট সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে সেনাবাহিনীর অধীনের সব ইউনিট ও সদর দপ্তরকে চিঠির মারফত খেতাবের সুপারিশ প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পত্রের প্রাধিকারে ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট জয়দেবপুর থেকে আরো অনেকের সঙ্গে 3978315 Subedar Aftab Hussain-এর নাম বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য সুপারিশ করে সেনাসদরে প্রেরণ করে। এই চিঠি মেজর আমিন আহমেদ চৌধুরী স্বার করেন। একই প্রাধিকারে ১৯৭২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৪৪ ব্রিগেড সদর দপ্তর কুমিল্লা থেকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে NYA Sub Aftab Hussain-এর নাম বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য সেনাসদরে প্রেরণ করে। এই চিঠি স্বার করেন লে. কর্নেল মুহাম্মদ আবু তাহের। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত তালিকায় ১১ নং সেক্টরের অধীনে 3978315 Subedar Aftab Ali-কে (Hussain পরিবর্তিত হয়ে) বীরউত্তম খেতাব প্রাপক এবং Sub Aftab Hussain-কে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এভাবেই দুই অ্যান্ট্রিতে দুই নাম গেজেটে প্রকাশিত হয়। ধারণা করা যায় যে দুটি উৎস থেকে সুপারিশ প্রেরণ, সৈনিক নং ও নামের পদবির তফাতের কারণে নিরীা পরিষদের দৃষ্টিতে বিষয়টি ধরা পড়েনি। ফলে চূড়ান্ত তালিকায় দুবার নাম ছাপা হয়েছে। সুবেদার আফতাব আলীর কোনো সুপারিশনামা বা সাইটেশন পাওয়া যায়নি। ২০০৪ সালে বাংলায় নতুনভাবে প্রকাশিত গেজেটে দুটি নাম সংশোধন করে একই নাম (আফতাব আলী) এবং একই ঠিকানা উল্লেখ করে দুবারই (ক্রমিক নং-৩৬ ও ৩১৩) দেখানো হয়েছে।
বিডিআর কর্তৃপ থেকে জানা যায় যে, সেনাবাহিনীর তালিকায় বর্ণিত ক্রমিক নং বীরবিক্রম – ৩৭ এ উল্লিখিত এন ওয়াই এ নায়েব সুবেদার আবুল মালেক (NYA Naib Subedar Abdul Malek, late EPR HQ No. 3 Sector) এবং এক্স ইপিআর তালিকায় বর্ণিত ক্রমিক নং বীরপ্রতীক – ১৮৭-এ উল্লিখিত বিজেও- ১০৮১ নায়েব সুবেদার আবদুল মালেক চৌধুরী (BJO-1081 Naib Subedar Abdul Maleque Choudhury) একই মুক্তিযোদ্ধা। বীরবিক্রমে উল্লিখিত নায়েব সুবেদার আবদুল মালেকের খেতাব মুক্তিযুদ্ধকালেই ৩ নং সেক্টর থেকে সুপারিশ করা হয় এবং অনুমোদিত হয়ে ১৯৭২ সালের ৬ এপ্রিল গেজেট দ্বারা প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১০৮১ নায়েব সুবেদার আবদুল মালেক চৌধুরীর নাম আবার ৬ নং সেক্টর থেকে সুপারিশ করা হয় এবং অনুমোদিত হয়ে নতুন গেজেটে (১৯৭৩ সালে) প্রকাশ হয়। ধারণা করা যায়, ভিন্ন সেক্টর থেকে পৃথক সময়ে সুপারিশ, ব্যক্তিগত নম্বরের ভিন্নতা এবং নামের বানান ও পদবির অমিল থাকার কারণে নিরীা বোর্ডের নজর এড়িয়ে তার নাম খেতাব তালিকায় দুবার মুদ্রিত হয়েছে। ২০০৪ সালে বাংলায় প্রকাশিত গেজেটে দুই জায়গায় (ক্রমিক নং ১১২ ও ৪৩৭) দুই ঠিকানার (এক ক্রমিকে বর্তমান এবং অপর ক্রমিকে স্থায়ী ঠিকানার ) উল্লেখ পাওয়া যায়। নাম ও পদবি এখনও ত্রুটিপূর্ণ রয়ে গেছে।
গেজেটে বর্ণিত ক্রমিক নং বীরপ্রতীক – ৩৯১-এ উল্লিখিত জাহিরুল হক মুন্সি (Zahirul Haque Munshi) ও ক্রমিক নং বীরপ্রতীক – ৪০০-এ উল্লিখিত মোঃ জহরুল হক মুন্সি, পিতা মোঃ আবদুল গফুর মিয়া (Md. Jahurul Haque Munshi, S/O Md Abdul Ghafoor Mia) একই মুক্তিযোদ্ধা। পূর্বে বর্ণিত সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের ১৯৭২ সালের ১২ আগস্টের পত্রের প্রেেিত ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট জয়দেবপুর থেকে Zahirul Haque Munshi এবং ১৯৭২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে ৪৪ ব্রিগেড সদর দপ্তর কুমিল্লা থেকে Md. Jahurul Haq Munshi-এর নাম বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের ২৪ মার্চ প্রতিরামন্ত্রী অনুমোদিত চূড়ান্ত তালিকায় ১১ সেক্টরের অধীনে Zahirul Haque Munshi (ক্রমিক নং- ২০) ও Md. Jahurul Haq Munshi, S/O Md Abdul Ghafoor Mia (ক্রমিক নং- ২৯)-এর নাম পাওয়া যায়। ৪৪ ব্রিগেডের সুপারিশ ও চূড়ান্ত অনুমোদন তালিকার ২৯ নং ক্রমিকের ঐধয় বানান গেজেট প্রকাশের সময় ক্রমিক নং-৪০০ তে ঐধয়ঁব হয়ে যায়। মোঃ জহিরুল হক মুন্সীর কোনো সুপারিশনামা বা সাইটেশন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা যায় যে, মোঃ জহিরুল হক মুন্সীর নামের বানানগত ভিন্নতা, একটিতে পিতার নাম না থাকা ও দুই উৎস থেকে সুপারিশ আসার ফলে ভুলক্রমে খেতাবপ্রাপ্তের তালিকায় তার নাম দুবার এসে গেছে। ২০০৪ সালে নতুন করে বাংলায় প্রকাশিত গেজেটে একটিতে নাম কমান্ডার জহিরুল হক মুন্সি (ক্রমিক নং ৬৪১) ও অপরটিতে কমান্ডার জবিরুল হক মুন্সি (ক্রমিক নং ৬৫০) উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঠিকানা একই দেখান হয়েছে।
গেজেটে বর্ণিত ক্রমিক নং বীরপ্রতীক – ৩৯০ এ উল্লিখিত এটিএম খালেদ (A T M Khaled) এবং ক্রমিক নং বীরপ্রতীক ৪০৩-এ উল্লিখিত এটিএম খালেদ, পিতা-গোলাম মওলা (A T M Khaled, S/o Golam Moula) একই মুক্তিযোদ্ধা বলে জানা যায়। সুবেদার আফতাব আলী ও জহিরুল হক মুন্সির মতো এটিএম খালেদের নাম বর্ণিত দুই সূত্র থেকে সুপারিশ করা হয়। এ েেত্র কোনোটিতেই পিতার নাম উল্লেখ ছিল না। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত তালিকায় একটি নামের সঙ্গে পিতার নাম উল্লেখ করা হলেও অপরটিতে পিতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ধারণা করা হয় যে দুই সূত্র থেকে সুপারিশ ও পিতার নামের কারণে নিরীা বোর্ডের দৃষ্টি এড়িয়ে গেজেটেও দুবার নাম মুদ্রিত হয়। ২০০৪ সালের বাংলা গেজেটে নাম দুবার (ক্রমিক নং ৬৪০ ও ৬৫৩) মুদ্রিত হলেও একটিতে ঠিকানাবিহীন উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পূর্বে বর্ণিত ১৬ ইস্ট বেঙ্গল ও ৪৪ ব্রিগেডের সুপারিশপত্রের উভয় তালিকাতেই ৬ জনের নাম উল্লেখ ছিল, এর মধ্যে উপরে বর্ণিত তিনজনের নাম গেজেটে দুবার মুদ্রিত হলেও বাকি তিনজনের (সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মিজানুর রহমান, করপোরাল হেলালুজ্জামান ও এসএসি জয়নাল আবেদিন) নাম গেজেটে একবার করে মুদ্রিত হয়। এ ধরনের আরও দুই-একজন একাধিক খেতাবধারীর নাম বিচ্ছিন্নভাবে শোনা যায় তবে তাদের পে বা বিপে কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকায় এখানে উল্লেখ করা হলো না।
দলিলপত্র দ্বারা প্রমাণ হয় যে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্তের সার্বিক অবদানের জন্য। খুব কম েেত্রই খেতাবপ্রাপ্তের সুনির্দিষ্ট বীরত্বপূর্ণ কর্মের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। সেনা গ্রন্থাগার এবং সেনাসদরে রতি অল্প কিছু সাইটেশনও এ বক্তব্যকে সমর্থন করে। কোনো কোনো সুপারিশনামায় ভিন্ন সময়ে সংঘটিত একাধিক সুনির্দিষ্ট সাহসিকতাপূর্ণ কাজ বা ঘটনা উল্লেখ করে একটি বা একবার খেতাবের সুপারিশ করা হয়েছে। এতেও বোঝা যায় যে খেতাবপ্রাপ্তের একক বা বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মের জন্য বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়নি বরং সার্বিক অবদানের জন্য খেতাব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও যখন কাউকে একই খেতাব দ্বিতীয়বার প্রদান করা হয় তখন খেতাব বা পদকের পাশে বার শব্দটি সরকারি আদেশ প্রকাশকালে সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকে। বর্ণিত ব্যক্তিদের েেত্র তা লেখা হয়নি। সাইটেশন অনুযায়ী অত্যন্ত অল্প সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্তকে সুনির্দিষ্ট অপারেশনের জন্য খেতাব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছিল। এতেও প্রমাণ হয় যে একাধিকবার খেতাবপ্রাপ্তির বিষয়টি পদ্ধতিগত ত্র“টি অথবা একটি দাপ্তরিক ভুল বৈ অন্য কিছু নয়। তবে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও অন্য কোনো যুদ্ধ বা অভিযানে বীরত্বসূচক কাজের জন্য সেনাবাহিনী এবং বিডিআর-এর তিন সদস্য একাধিকবার খেতাব পেয়েছেন। যেমন বিডিআর (ভূতপূর্ব ইপিআর)-এর সৈনিক ২৭১১ হাবিলদার মালু মিয়া মুক্তিযুদ্ধে ৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বসূচক কর্মকা-ের জন্য বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত হন। তার নাম ১৯৭৩ সালের গেজেটে বিডিআর তালিকায় ক্রমিক নং ১৯১-এ উল্লেখ আছে। একই ব্যক্তি ১৯৭৬ সালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে আহত হন এবং বীরবিক্রম খেতাব পান। স্বাধীনতার পর লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম রাজশাহী (১৯৭২) ও পার্বত্য চট্টগ্রামে (১৯৭৮) দুটি পৃথক অপারেশনের জন্য দুবার বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত হন। অনারারি ক্যাপ্টেন আবুল হাসেমও দুবার বীরত্বসূচক খেতাব পেয়েছিলেন। এই দুটি খেতাবের মধ্যে প্রথমটি ১৯৬৫ সালে বেদিয়ান সেক্টরে পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য, আর এটি ছিল তামঘায়ে জুররাত। এ ছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরবিক্রম খেতাব পান।স্বাধীনতাযুদ্ধে একাধিকবার বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা প্রদান করা উচিত। এখনও সংশ্লিষ্ট প্রায় সব ব্যক্তি জীবিত আছেন এবং দলিলপত্রও খোঁজ করলে পাওয়া যাবে।

lutful55@gmail.com

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: