অবশেষে কি মার্কিন কূটনীতিতে সূর্যোদয় হলো? বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীগুলোর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বিগত দু’বছরে বিশ্বব্যাপী একটি বহুল আলোচিত প্রসঙ্গ। লন্ডন-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্খা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নিউইয়র্ক-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশী ও বিদেশী মানবাধিকার সংস্খাগুলো এবং কর্মীরা মূলত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করেছেন এবং প্রতিকার দাবি করেছেন। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক বার্ষিক রিপোর্টেও এসব হত্যার সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার কিছু হয়নি।
ঢাকার সরকারের মন্ত্রীরা, বিশেষ করে দুর্মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার মিথ্যা কথা বলেছেন, দাবি করেছেন যে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং ঘটছে না। কিন্তু দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই তথাকথিত ক্রসফায়ারে হত্যার খবর বেরোচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী র্যাবের ক্রসফায়ারে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। র্যাবও এ জাতীয় প্রায় সাড়ে ৬০০ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু যেসব বিদেশী শক্তি নানা ধরনের মদদ দিয়ে বর্তমান সরকারকে গদিতে বসিয়েছে এবং টিকিয়ে রাখছে এসব অবৈধ হত্যা বন্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা তারা করেনি। বস্তুত কোনো রকম উচ্চবাচ্যই তারা করেনি।
এমতাবস্খায় হঠাৎ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি মুখ খুলেছেন। রোববার ২ জানুয়ারি তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর হাতে যারা মারা গেছে, তাদের বিষয়ে মানুষের জানার অধিকার আছে, সরকারের উচিত এসব হত্যাকাণ্ড সম্বন্ধে তদন্ত করা।
বাংলাদেশে যে এসব বিচারবহির্ভূত হত্যা ঘটছে, রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি কি সেটা নতুন করে আবিষ্কার করলেন? বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও নিয়মিত এসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তা ছাড়া ভরসা করে বলতে পারি, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে খবরাদি ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্যও যথেষ্ট কর্মচারী আছেন। মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন সরকার যদি যথেষ্ট চাপ দিত, তাহলে বাংলাদেশ সরকার যে তাতে কান দিত না, এমন কথা বিশ্বাস করা কঠিন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান দু’টি সমর্থক দেশের একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া যে প্রক্রিয়ায় এ সরকার ক্ষমতা পেয়েছে তাতে জেমস মরিয়ার্টি ও তার পূর্বসূরি হ্যারি টমাস ভারতের দুই হাইকমিশনার বীনা সিক্রি ও পিনাক চক্রবর্তীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের মানুষের জানা আছে।
বাংলাদেশের মানুষের অবশ্যই সন্দেহ হবে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আকস্মিক বোধোদয়ের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। উইকিলিকস ব্লগ সম্প্রতি ফাঁস করে দিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা র্যাবকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জেরা করার টেকনিক সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং এ ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তারাও ভূমিকা রাখছেন।
আরো কিছু তথ্য এ ব্যাপারে প্রাসঙ্গিক হবে। ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত গত বছর বিনইয়ামিন মোহাম্মদ এবং আরো কয়েকজনকে কয়েক লাখ পাউন্ড করে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করেছে। বিনইয়ামিন মোহাম্মদের জন্ম ইথিওপিয়ায়। তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং স্খায়ী বসতির অনুমতি পান। ২০০২ সালে পাকিস্তানে বেড়াতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিনইয়ামিন অভিযোগ করেন যে, তাকে জেরা করার সময় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্খিতিতে তার ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। প্রথমে মরক্কোয় সিআইএ’র গোপন ঘাঁটিতে তাকে জেরা ও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে কিউবার উপকূলে গুয়ানতানামো মার্কিন বন্দিশিবিরে আটক রাখা ও নির্যাতন করা হয়।
মোট সাত বছর বন্দী থাকার পর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং বিনইয়ামিন ব্রিটেনে ফিরে আসেন। তার মতো অন্য আরো যে ডজনখানেক লোক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতাও অনুরূপ। সবাই অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসী সন্দেহে তাদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়, কিন্তু তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে প্রমাণ করা যায়নি। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’র গোয়েন্দাদের সাথে সহযোগিতা করেছিল।
অতীতের বহু অপকর্ম
মার্কিন ও ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যে সনাতনী। এ এলাকার সামরিক গুরুত্ব এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এ দু’টি শক্তি অতীতে বহু অপকর্ম করেছে। বিশেষ করে ১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেকের সরকারকে উৎখাত করে শাহের স্বৈরশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানিরা কখনো ব্রিটিশ ও মার্কিন ভূমিকাকে ক্ষমা করতে পারেনি। ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সাহায্য আর উসকানিতেই সাদ্দাম হোসেন ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেছিলেন বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। আট বছর স্খায়ী এ যুদ্ধে প্রায় এক কোটি ইরানি মারা গিয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের ২০ মার্চ আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ইরাক আক্রমণ করে। সে অবৈধ যুদ্ধের দুটো কারণ ছিল। প্রথমত, ওয়াশিংটন ইরাকি তেলের নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিল। দ্বিতীয়ত, ইসরাইল মনে করছিল যে, সাদ্দাম হোসেন তাদের আধিপত্যবাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই তেলআবিব আর ওয়াশিংটন সাদ্দাম হোসেনকে গদিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরব বিশ্বে মার্কিনবিরোধী মনোভাব সর্বজনীন হয়ে দাঁড়ায় ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে সরে যেতে ইসরাইলের অস্বীকৃতি এবং এ ব্যাপারে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থনের কারণে। দীর্ঘদিনের ব্যর্থ প্রতিবাদ অরণ্য রোদনে পরিণত হওয়ায় সত্তর দশকের শুরুতে ফিলিস্তিনিদের একাংশ ইসরাইল ও মার্কিনবিরোধী সন্ত্রাস শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপে জায়োনিস্ট লবি ও তাদের দোসররা প্রকৃত কারণ চাপা দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচার চালায় যে, ইসলাম ধর্মের ইহুদি ও খ্রিষ্টানবিরোধী বৈরিতাই এসব সন্ত্রাসের জন্য দায়ী। তারা অন্তর্নিহিত সমস্যাটির সমাধানের পরিবর্তে ক্রমেই আরো বেশি ইসলামবিরোধী তৎপরতা চালায়। বিচিত্র নয় যে, আরব বিশ্বের ক্রোধ আর ঘৃণা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
ইসলামবিরোধী যুদ্ধ
নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) সন্ত্রাসের পরপরই ইসরাইলের দু’জন নেতা এহুদ বারাক আর বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপ আর আমেরিকায় প্রচার করে বেড়ান যে, ‘ইসলামি সন্ত্রাস জুডিয়ো-খ্রিষ্টান সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সে মিথ্যা বিশ্লেষণ লুফে নেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তান আর ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন এবং তাদের বশংবদ দেশগুলো ‘ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনে ও ইউরোপের আরো কোনো কোনো দেশে মুসলিম নির্যাতন শুরু হয়ে যায়। ইসলামবিরোধী রাজনীতিকরা ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচারণা শুরু করেন। কোনো কোনো দেশে হিজাব ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়, টুপি-দাড়ি পরিহিতদের অকারণে নির্যাতন ও হয়রানি শুরু হয়।
পাকিস্তান, আফগানিস্তান, এমনকি পূর্ব আফিন্সকার কোনো কোনো দেশে সফররত ব্রিটিশ মুসলিম নাগরিকদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়, ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় সিআইএ বিভিন্ন দেশে তাদের গুপ্ত নির্যাতন ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। সংশ্লিষ্টদের অনেককে পরে গুয়ানতানামো শিবিরে নিয়ে বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রাখা ও নির্যাতন করা হয়। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ হয়েছে যে, আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের ব্যাপারে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা মার্কিনিদের ছাড়াও পাকিস্তান ও উত্তর আফিন্সকার কোনো কোনো দেশের গোয়েন্দা বাহিনীকে মদদ দিয়েছে।
নাইন-ইলেভেনের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার অনুগত বহু দেশের সাথে ‘ইসলামি সন্ত্রাস’ দলন করার চুক্তি করেছে। ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্খা নেয়ার বিনিময়ে সেসব দেশকে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হচ্ছে। সেসব দেশে এর পরিণতি হচ্ছে মারাত্মক।
নজির মোটেই ভালো নয়
নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে পাকিস্তান। মাঝে মাঝে দুয়েকটা নির্বাচিত সরকার হলেও পাকিস্তান প্রায় সময়ই সামরিক শাসনাধীন ছিল। রাজনীতিকদের অনেকে সামরিক শাসকদের সাথে সহযোগিতাকে লাভজনক বিবেচনা করেছেন। সংগঠনের অভাবে অন্যদের গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু জমিয়তে ওলামা এবং আরো দুয়েকটি ধর্মীয় দল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সুসংগঠিত হয় এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। জেনারেল পারভেজ মোশাররফের দীর্ঘ সামরিক শাসনের সময় ধর্মীয় দলগুলোর শক্তি সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই ধর্মীয় দলগুলোকে ইসলামি সন্ত্রাসের সাথে সমার্থক করে দেখেন। এ শক্তিগুলোকে দমনের উদ্দেশ্যে বুশ প্রশাসন পারভেজ মোশাররফের সরকারকে ১২ বিলিয়ন (১২০০ কোটি) ডলার অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দেয়। মোশাররফ সরকার ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্যাতন শুরু করে, এমনকি সেনা ও বিমান বাহিনীকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। ধর্মীয় দল ও গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়। আফগানিস্তানের তালেবান ও আলকায়েদা গোষ্ঠীগুলো তাদের সাথে হাত মেলায়। পরিস্খিতি এখন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গত তিন-চার বছরে মার্কিন হেলিকপ্টার বহর এবং পাইলটবিহীন ড্রোন বিমান প্রায়ই পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ চালাচ্ছে। কিন্তু বিদ্রোহীদের তৎপরতা তাতে বেড়েছে, কমেনি।
বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে মার্কিন তাগিদে ধর্মীয় দলগুলোর ওপর সরকারি অভিযান সমাধানের বদলে জটিলতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। একটা দৃষ্টান্ত আলজেরিয়া। সে দেশে ১৯৯২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো জয় লাভ করে। কিন্তু মার্কিন তাগিদে সরকার নির্বাচন বাতিল করে এবং ধর্মীয় দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে। সেসব দল তখন সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয়। ১৮ বছর ধরে আলজেরিয়ায় ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সরকারি সেনাবাহিনীর খণ্ডযুদ্ধ চলছে এবং তাতে এক লাখেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আত্মপ্রতারণা
বাংলাদেশেও এখন ইঙ্গ-মার্কিন (এবং ভারতীয়) প্রভাবে সরকার ধর্মীয় দল ও গোষ্ঠীগুলোর ওপর অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। সে যুদ্ধে র্যাব একটা প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে হয়। সুতরাং বিচিত্র কিছু নয় যে, র্যাবকে প্রশিক্ষণ (হয়তো বা অস্ত্র সরবরাহে) যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন সাহায্য দেবে। পাকিস্তান, আলজেরিয়া প্রভৃতি দেশে পশ্চিমাদের এবং তাদের স্খানীয় আজ্ঞাবহদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি, বাংলাদেশেও হবে বলে আশা করার কারণ নেই। ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সরকার সব রাজনৈতিক বিরোধিতা নির্মূল করার কাজে র্যাবকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ছাড়াও রিমান্ডের নামে র্যাব সরকারবিরোধীদের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রমুখদের ওপর নির্যাতন এখন আমেরিকা আর ইউরোপে সমালোচিত ও নিন্দিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপ-আমেরিকার মানবাধিকার সংস্খাগুলো অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। উইকিলিকসে র্যাবের প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ-মার্কিন ভূমিকা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি আরো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। এমনকি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রমুখদের নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাবের প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা সম্বìেধ সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। বিষয়টির শুনানি যখন শুরু হবে তখন নিশ্চয়ই বহু লোক বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে বেড়ান, একমাত্র বিএনপি তার সরকারের সমালোচনা করছে এবং সারা বিশ্ব তার ও তার সরকারের প্রশংসা করছে। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশবাসীকেই নয়, নিজেকেও প্রতারণা করছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যার ব্যাপারে ইউরোপ-আমেরিকার নিন্দা-সমালোচনার কথা আগেই বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অনুপস্খিতি, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংস্খাগুলোর দুর্বৃত্তায়ন এবং বিরোধী দলগুলোর ওপর সরকার ও শাসক দলের নির্যাতনের সমালোচনা বিগত বছরাধিক সময়ে খুবই বেড়ে গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের অসংখ্য বন্ধু ও সমর্থক আছেন। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের আক্রোশের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে যে, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠান দুটো বেহাত করে নেয়া হচ্ছে সরকারের গোপন উদ্দেশ্য।
সারা বিশ্বে এখন বাংলাদেশ সরকার কিংবা বাংলাদেশী নীতিনির্ধারকদের প্রশংসাকারী বিশেষ চোখে পড়ছে না শুধু ভারতে ছাড়া। যারা সাগ্রহে দিল্লির হুকুম মেনে চলেন, ভারতের মনোরঞ্জনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেন তারা বাহবা পান। অনেকের মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে আবারো ভারতবর্ষকে অখণ্ড করার একটি ভারতীয় কর্মসূচিতে এদেরই কেউ কেউ এখন ইচ্ছুক খেলোয়াড়। সুতরাং ভারতে যে তাদের প্রশংসা হবে, সেটা ধরেই নেয়া যায়। কিন্তু ভারত যে বিশ্ব নয়, সে কথা হয়তো তারা ভুলে গেছেন।